গত কয়েকদিন ধরে বেশ তুষারপাত হচ্ছে .... শুনতে পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯৫ সালের পরে এই সময়ে এ অন্চলে এমন তুষারপাত হচ্ছে ..... দেখতে যদিও বড়ই মনোরম লাগছে কিন্তু কে জানতো এর মাঝেই পেতে হবে অন্যতম সেরা শিক্ষা - উপকার করতে গেলে আছাড় খেতে হয়
গতকাল রাতে দু বন্ধু মিলে বাসায় হেটে আসছিলাম গুটি গুটি পায়ে, কাছেই গিয়েছিলাম তাই কেউ গাড়ি নেইনি.... হেটেই পথ পাড়ি দিচ্ছিলাম .... ওদিকে তখন ফ্রিজিং টেম্পারেচারের কারনে দিনের বেলা গলে যাওয়া তুষারের পানি পুনরায় রাস্তায় নিজের অবস্হান কে সুদড় করে ফেলছিল .... কোথাও কোথাও এগুলো জমে যাওয়ার পরেও এমনই স্বচ্ছ থাকে যে লাইটপোষ্টের আলোয় তা ঠিক মতো বুঝে ওঠা যায়না সেখানে বরফ জমে আছে কি না ... সেই সাথে খুবই পিচ্ছিল হয়ে পড়ে জায়গা গুলো ....
ফেরার একটু তাড়া ছিল আমার কারন বাসায় একজন অপেক্ষা করছিল .... তাকে বলেছিলাম ৩০ মিনিটের ভিতরে ফিরবো ..... তাই মনের ভিতরে একটু জলদি বাসায় পৌছানোর তাগাদা অনুভব করছিলাম কিন্তু জমে থাকা নচ্ছড় বরফ গুলোর জন্য জলদি হাটতেও পারছিলাম না .....এমন সময়, বাসার প্রায় কাছেই এসে পড়েছি - জায়গাটা রাস্তার কোনা হওয়াতে একটু অন্ধকার ছিল ... সামনে থেকে সাইকেলের রাস্তা দিয়ে এক আধা-বৃদ্ধ ভদ্রলোক চালিয়ে আসছিল ..... বাঁকের কাছে এসে বাম দিকে টার্ন নিতে গিয়েই .... " সড়াৎ ".... সাইকেল একদিকে উনি চলে গেলেন আরেক দিকে .... বেচারার পড়ে যাওয়া দেখে এবং তার পরের যন্ত্রনায় চিৎকার শুনে বড় মায়া লাগলো ....সাথের বন্ধুটির দিকে একবার তাকাতেই বুঝে গেল কি করতে হবে এখন .... হিতাহিত জ্ঞানশুন্য উপকারকারী হতে গিয়ে জলদি পা চালালাম ..... এবং তার ফলাফল টা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পেয়ে গেলাম .... যখন দেখি ঐ বৃদ্ধ প্রায় আমার হাতের নাগালের মধ্যে এসে গেছে কিন্তু আমার পা- বাবাজী কথা শুনছে না .... অন্ধকারে ঠিক কোন জাগায় পা দিয়েছি সেটা নিজে না বুঝতে পারলেও , আমার পা ঠিকই বুঝতে পেরেছিল জায়গাটা বিপদজনক .... এ জন্য সঙ্গত্যাগের নিমিত্তে সে আমাকে ফেলেই সামনে এগিয়ে যেতেই আমার অবশিষ্টাংগ ধপাস করে লুটিয়ে রাস্তাকে আলিঙ্গন করলো .... একই সাথে খুব পাশেই শুনলাম আরো কয়েকটি আওয়াজ ..... ওরে ওরে ওরে ..... ভাই ধরেন আমারে ..... এবং " ধপাস "
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



