আমার প্রিয় পোস্ট

গণতন্ত্র হল এমন এক অস্তিত্বহীন মদ, যাতে সবাই মাতাল, কিন্তু কেউ কখনো পান করে নি।

ভাষা বিজ্ঞানের ধাঁধাঁ-১: বংশ-পরিচয়হীন উত্তর-পূর্ব এশিয় ভাষাটি

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:২৯

শেয়ারঃ
0 0

পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার ভাষা রায়েছে। এর মধ্যে অনেক ভাষা বিলুপ্তপ্রায়। আবার অনেক ভষা স্বগৌরবে তার প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়িয়ে চলছে। এই সব প্রভাবশালী ভাষাগুলোকে যায়গা করে দিয়ে আনেক ভাষা বিলুপ্ত হতে চলেছে। ভাষাবিলুপ্তির এই হার পশু-পাখি বিলুপ্তির হারের চেয়ে বেশি। মানুষের যেমন আত্মীয় স্বজন আছে, থাকে পরিবার, বাবা-মা, ভাই-বন্ধু ইত্যাদী, তেমনি ভাষারও রয়েছে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বংশ পরিচয়। ভাষাবিজ্ঞানীরা ভাষার অতীত ইতিহাস পর্যালোচানা করে, তাদের শব্দকোষ ব্যকারণ বিশ্লেষণ করে ভাষাগুলোর কয়েকটি পরিবার চিহ্নিত করেছেন। তবে সব ভাষাবিজ্ঞানী ভাষাপরিবারগুলোর সংখ্যা নির্ণয় করতে গিয়ে একমত হতে পারেন নি। যার কারণে একেক ভাষাবিজ্ঞানীর তালিকায় ভাষা পরিবারের সংখ্যা একেক রকম। তবু এইসব দ্বিমতের পরও বারটি ভাষা পরিবার সর্বজনসম্মত।
এই তালিকার সবচে বিস্তৃত ভাষা পরিবারটির নাম ইন্দো-ইউরোপীয় (Indo-European) ভাষা পরিবার। এই পরিবারটির বিস্তৃতি দক্ষিণ র্পূর্ব এশিয়া হতে ইউরোপের পশ্চিম প্রান্তে একেবারে আইসল্যান্ড পর্যন্ত। আর ইউরোপীয় বসতকারীদের মুখ ধরে এই ভাষা পরিবার ছড়িয়েছে উত্তর-দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, আফৃকা আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপসমূহ পর্যন্ত। সহজভাবে সারা বিশ্বেই বাস এই পরিবারের সদস্যদের। বাংলা, ইংরেজী, আফৃকি, ফার্শী এই পরিবারের অন্যতম সদস্য। সবচে’ বেশি বেশি লোক এই পরিবারের ভাষাগুলোতে কথা বলে। ভাষাভাষী লোকসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা পরিবারটির নাম চীনা-তিব্বতী (Sino-Tibetan)। মান্দারিন (চীনা) এবং থাই এই পরিবারের সদস্য।
সেমিটিক-হেমিটিক (Semitic-Hemitic): এই ভাষা পরিবারের দুটি শাখা সেমিটিক ও হেমিটিক। অনেক ভাষা বিজ্ঞানী এই শাখা দুটোকে স্বতন্ত্র পরিবার হিসেবে দেখিয়েছেন। আরবী ও হিব্রু এই পরিবারের সদস্য।
দ্রাভিড়ীয় (Dravidian): ভারতের দক্ষিণাঞ্চল ও শ্রীলংকার ভাষা এই পরিবারের সদস্য।
বান্টু (Bantu): পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকার প্রায় সব ভাষা এই পরিবারের সদস্য।
তুর্কী-মোঙ্গল ও মাঞ্চু (Turk-Mongol & Manchu): এই ভাষা পরিবারটিকে এক নামে ‘আলটাইক’ (Altaic) ভাষা পরিবার বলা হয়। এর তিনটি শাখা। অনেক ভাষা বিজ্ঞানী এই তিনটি শাখাকে স্বতন্ত্র ভাষা পরিবার মনে করেন।
ককেশিয়ান (Caucasian): নামেই বলে দিচ্ছে এটি ককেশান অঞ্চলের ভাষা। এই পরিবারের একটি ভাষা আজ টিকে আছে।
ফিনো-উগ্রিক (Finno-Ugric): উত্তর ইউরোপের ভাষা পরিবার। মধ্য ইউরোপের হাঙ্গেরীয়ান ভাষা এই পরিবারের সদস্য।
অস্টৃক (Austric): এই পরিবারের বিস্তৃতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল হতে ভারত পর্যন্ত। এর দুটি প্রধান শাখা রয়েছে। আফৃকার মালাগাসী, ইন্দোনেশীয়া ও মালয়শিয়ার ভাষা এই পরিবারের অন্যতম সদস্য।
এস্কিমো (Esquimo): গ্রীনল্যান্ড সহ উত্তর মেরু অঞ্চলের মানুষের ভাষা এই পরিবারের সদস্য।
হাইপারবোরিয়ান (Hyperborean): পূর্ব রাশিয়ার অল্প কয়েকটি ভাষা এই পরিবারের সদস্য।
আদি আমেরিকান (American Indian): উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসীদের প্রায় সব ভাষা আটটি শাখায় বিভক্ত এই পরিবারের সদস্য।

কিন্তু বিভিন্ন কারনে কয়েকটি ভাষা এই পরিবারগুলোতে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হয় নি। কোন কোন ভাষা বিশ্লেষণ করে কোন পরিবারে ফেলা যায় নি, কোনটির সমগোত্রীয় সকল ভাষা বিলুপ্ত হওয়ায় সেই ভাষাটিকে তুলনা করে কোন পরিবারভুক্ত করা যায় নি। এমনি একটি বিচ্ছিন ভাষা রয়েছে এশিয়ার উত্তর-পূর্ব প্রান্তে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দ্বীপে। এক সময় ভাষাটি বহুল ব্যবহৃত হত। কিন্ত অন্য ভাষার প্রভাবে যে জাতির ভাষা তারা নিজেরাই এই ভাষায় কথা বলা কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি বিপন্ন ভাষা। বেশি দিন হয়তো বাকী নেই ভাষাটির ইতিহাসের জাদুঘরে স্থান নেয়ার।

প্রশ্ন ১: উত্তর-পূর্ব এশিয়ার এই বংশ-পরিচয় হীন ভাষাটির নাম কি (বিলুপ্ত হবার আগেই চটপট বলে ফেলুন)?
প্রশ্ন ২: এই ভাষার কথক জাতিটি কোন কোন দেশে বাস করে?


সবাই ধাঁধাঁ দিয়ে নাকাল করছে। এইবার আমিও মাঠে নামলাম, দেখব কত ধাঁধাঁয় কত উত্তর। মাভেরিক ভায়ের কাছ থেকে ধাঁধাঁ'র এই ধারণাটি ধার করে ধাঁধাঁ'র ধারায় যুক্ত হলাম।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ধাঁধাঁভাষা ;
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২২
সাদাকালোরঙিন বলেছেন: এটাকি পাপুয়া নিউগিনি বা ওশানিয়ার কোন ভাষা ?
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১১

লেখক বলেছেন: উত্তর দিকে যেতে হবে। পাপুয়া নিউগিনি বা ওশানিয়া তো দক্ষিণে। বলা হয়েছে এশিয়ার উত্তর-পূর্ব প্রান্তে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দ্বীপে। আর একটু ভেঙ্গে দিলে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম পাড়ে।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৩

লেখক বলেছেন: ভাবতে থাকুন। তার চে' ভাল খুজতে থাকুন।

৩. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৪৪
'লেনিন' বলেছেন: পলিনেশিয়ান নাকি ফিলিপিনো? শেষেরটি হবার একটি সম্ভাবনা রয়েছে।
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৫

লেখক বলেছেন: পলিনেশিয়াতো দক্ষিণে, আর ফিলিপিনো ভাষা কি বিপন্ন? তাছাড়া ফিলিপিনো ভাষা বংশ পরিচয়হীন না।

৪. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১১
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আইনু গোত্রের ভাষা নাকি?

কিছু হিন্টস টিন্টস দিন, একটু মাথা ঘামাই
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৬

লেখক বলেছেন: 'আইনু গোত্রে' কতগুলো ভাষা আছে?

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২৭

লেখক বলেছেন: যেহেতু উত্তর দিয়েই ফেলেছেন তাই বলছি আইনু কোন ভাষাগোত্র না, এটি একটি ভাষা।

৫. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৬
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: মাথায় আসলো আইনু ... তারপর আইনু নিয়া দিলাম গুগল সার্চ ... এখন তো দেখি আপনার দেয়া রোগের লক্ষণের ;) সাথে মিলা গেছে ... বিলুপ্তপ্রায় প্লাস, উতপত্তি নিয়ে চার-পাঁচটা অরিজিনের ব্যাপারে হাইপোথেসিস আছে
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৮

লেখক বলেছেন: আর একটু আত্মবিশ্বাসের সাথে বলুন। দ্বিতীয় প্রশ্নটিকে অবহেলা করবেন না।

৬. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আইনু ল্যাংগুয়েজ -- একটাই ... এখন শুধু ট্যুরিস্টরা বেড়াতে গেলেই আইনু বুড়িরা স্টেজে নেচে-গেয়ে শোনায় ... এর বেশী তার আর কিছুই বাকী নেই :(
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:২১

লেখক বলেছেন: গুগল মামাকে নিয়া আর পারা গেল না, মানুষকে মাথা খাটাতে দেয় না, কে যেন গুগলের এই দিকটি নিয়ে পোস্ট দিয়েছিল। হ্যা 'আইনু'ই। আপনার উত্তর সঠিক। এবার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিন।
পরে আইনু সম্পর্কে জানাব।

৭. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৩২
ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: এথনোলগের তালিকায় পেলাম ৪০টি বিছিন্ন ভাষা আছে যা কোনো পরিবারভুক্ত নয়। ভাষাভাষীর দিক দিয়ে উত্তর-পূর্ব এশিয়াতে বিলুপ্তপ্রায় ভাষা বলতে "আইনু ইতাক"। জাপানের হোক্কাইদো দ্বীপের ১৫ জন (সূত্র: Click This Link) লোক এ ভাষায় কথা বলে; লিখে কাতাকানার সাহায্যে।
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৪২

লেখক বলেছেন: হ্যা। দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া গেল। ভাষার নাম আইনু। আর আইনু ভাষায় 'ইতাক' শব্দের আর্থ 'ভাষা'। পূর্বে আরও কয়েকটি দ্বীপে এই ভাষা থাকলেও বর্তমানে আছে শুধু হোক্কাইডো দ্বীপে। আর হোক্কাইডো জাপানের দ্বীপ।

৮. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫৬
ইশতিয়াক জিকো বলেছেন: আর আইনু মানে মানুষ।

উইকিপিডিয়া ভুক্তি: http://en.wikipedia.org/wiki/Ainu_language

আইনু থেকে ইংরেজি অভিধান: Click This Link

আইনুভাষী মানুষ নিয়ে: Click This Link

আইনু ভাষায় একটা গান শুনতে পারলে বেশ হতো। (http://en.wikipedia.org/wiki/Ainu_music)

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৭

লেখক বলেছেন: লিংকগুলোর জন্য ধন্যবাদ। কিছুক্ষণ আগে আমি এর কয়েকটি ঘুরে এসেছি। আরও ভাল হত যদি আপনি নিজেই কিছু বর্ণনা লিখতেন। আমার খাটুনি বেচে যেত। এই একটি জিনিস আমি খেয়াল করেছি পৃথিবীর অনেক জাতির নামের অর্থ 'মানুষ'। অর্থাৎ খেয়াল করবেন সবাই নিজেদের মানুষ বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু যুগে যুগে আভিজাত্যের তকমা পড়া কিছু লোক তাদের মানুষ বলে স্বীকার করতে কুন্ঠা বোধ করে।

কি লোভ দেখাইলেন, আমারোতো আইনু গান শুনতে ইচ্ছে করছে।

৯. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:০৭
তনুজা বলেছেন: ++++, প্রিয়তে রাখলাম, তথ্যের জন্য
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:১০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। সম্ভবত এই প্রথম আমার কোন পোস্ট কারো শোকেসে গেল। অবশ্য শোকেসে যাবার মত ভাল লেখা আমি লিখিও নি।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৮১৮৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আয়নার মতো মানুষ

আপনি একজন নিরাপদ ব্লগার

: কন কি! আমার চারদিকে কত বিপদ!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ