সকাল সাতটার বাজার ঠিক এক মিনিট আগে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালাম। সহজেই হানিফ কাউন্টার চেনা গেল। কিন্তু অন্যরা কোথায় গেল? প্রথমে ফোন দিলাম জুয়েলরে, ওই মিয়া , তুমি কই?
জুয়েল বললো, তুমি কই? আমি তো হানিফ কাউন্টারে।
বলে কি! হানিফের আরেকটা কাউন্টার আছে নাকি? কাউন্টার থেকে বের হয়ে আশপাশে খুঁজে মোট সাতটা হানিফ কাউন্টারের সন্ধান পেলাম। এদিকে আমরা মানুষও সাতজন, বলাবাহুল্য, একেকজন একেকটা কাউন্টারে বসে অন্যদের ফোন দিচ্ছে, তুমি কই?
বাসে উঠলাম। সবার হাতে ডিজিটাল ক্যামেরা। কারও কারও বা একাধিক। এই অধমের আছে একটা , সাইজে সবার চেয়ে ছোট। পুরো মানবিক বোধসম্পন্ন ক্যামেরা, কখন কাজ করবে আর কখন করবে, সেটা নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেয়।
বাসে উঠেই ক্লিক করলাম, ছবি উঠলো। যমুনা সেতুর উপর যেই উঠলাম, শাটার চাপ দিলাম , ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেল। আবার অন করে, আবারও চাপ, আবারও বন্ধ।
সেতু পার হবার পর আবারও ক্যামেরা ঠিকঠাক কাজ শুরু করলো।
সেতুর ওইপারে একটা হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে বাস থামলো।
রেস্টুরেন্টে বসে প্রস্তরযুগে বানানো রুটি কিংবা গোল রাবার কিছুক্ষণ চিবালাম। রুটির সাথে যে ভাজিটা দেয়া হয়েছে, সেটি খেতে সেইরকম। এই ভাজি পিরিচে করে নিয়ে খাটের নিচে রেখে দিলে বাসার সব ইঁদুর মরে সাফ হয়ে যাবার কথা।
চা বাদে সাতজনের রুটি ভাজি, বিল এল , চারশ কত টাকা যেন!!! চুতমারানিরা ভালই ব্যবসা শুর করছে।
এমন সময় সুপারভাইজার এসে খুবই বিনয় ঢেলে বলল, স্যার, আপনারা অনুমতি দিলে গাড়িটা ছাড়তে পারি।
এই সুপারভাইজারের প্রেমের কারণ , টিকিটে লেখা, এসপি সাহেব, কুষ্টিয়া। ক্ষমতা প্রয়োগ করতে সবসময় ভালো লাগে। আমি বললাম, একটা সিগারেট খেয়ে নেই, তারপর দেখি।
বাস দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ, আমি প্রায় সঙ্গমের কাছাকাছি আনন্দ পেলাম।
[চলবে]
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




