somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় ইশতিয়াকের বড়ো চুল , একজন মঈন উ আহমদ এবং একটি আজানা অধ্যায়

১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি শুনেছি, গোল্ড ফিসের স্মৃতিশক্তি মাত্র পাঁচ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। বাংলাদেশীদের স্মৃতিশক্তিও প্রায় একই রকম। পার্থক্য হল, বাঙালি যখন যেটি মনে রাখা দরকার, তখন সে কেবল সেটিই মনে রাখে, বাকিটুকু ভুলে যায়। বিএনপির আমলে শহীদ জিয়ার স্মৃতি মনে পড়ে, আওয়ামীলীগের আমলে সে একই ব্যক্তি জিয়া সংক্রান্ত সমস্ত স্মৃতি সে ভুলে যায়, মনে পড়ে কেবল বঙ্গবন্ধু রিলেটেড স্মৃতির কথা। এই তো আমাদের বাংলাদেশ, এই তো আমাদের বাংলাদেশের মানুষ।

হাওয়া বুঝে পাল তোলায় বাঙালিদের চেয়ে ওস্তাদ আর কেউ নেই।

মঈন উ আহমেদের আমলে চুল নিয়ে ইশতিয়াক একটি সমস্যায় পড়েছিল, কথা সত্য বটে।। তবে পুরো সত্য নয়। এখানে কিছু কিন্ত আছে।

১.ইয়ং ছেলেপুলেরা তাদের বড়ো চুল নিয়ে মোটামুটি সব আমলেই বাটে পড়তে পারে। ইশতিয়াকেরই এক বন্ধু এবং আমার প্রতিবেশি , যার নাম ওয়ালিদ। সে তার বড়ো চুল নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল এবং সেটি অবশ্যই মঈন উ আহমেদের আমল ছিল না। ইশতিয়াকের মতো মেধাবী ছেলে জানে বড়ো চুলের এই সমস্যাটা মইন কেন্দ্রিক নয়, এটি একটি সামাজিক বঙ্গীয় দৃষ্টিভঙ্গিগত সমস্যা। কোন কারণ ছাড়াই বড়ো চুল দেখলে আগের প্রজন্মের লোকদের গা চুলকায়। আমি নিশ্চিত আজ রাতে কেউ পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তার বড়ো চুল নিয়ে দুটি কথা তাকে হজম করতে হবে।
২. ইশতিয়াককে পাকড়াও করা হয় রাতে, নারায়ণগনজ শহরের জন্য সেটি বেশ রাত । রাতের টহল ও হেনস্থা একটি অতি চিরাচরিত ব্যাপার। সেটি কেবল মঈন উ আহেমদ কেন্দ্রিক কোন সমস্যা নয়।ওকে পাকড়াও করেছিল র‌্যাব। র‌্যাবের জন্ম, মঈন উ জন্মের আগে ( মানে মঈন উ তখনও মইন উ হননি) , এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে র‌্যাব এবং র‌্যাবের ক্রসফায়ার দুটিরই কট্টর ফ্যান ইশতিয়াক। সপ্তাহে ছয়দিন ইশতিয়াকের সঙ্গে দেখা হয়, পাঁচ দিনই সে কালো শার্ট পড়ে থাকে। র‌্যাব মার্কেটে আসার আগে কালোর প্রতি ইশতিয়াকের এই প্রবল মোহ দেখা যায় নি।
গভীর রাতে র‌্যাব কোন তরুণকে ধরলে কী করে , সেটি আমি বললে খারাপ শোনা যাবে। বরং র‌্যাবের ফ্যান ইশতিয়াকই এটা ভালো জানে। হেনস্থা করার জন্য বড়ো চুল তুলনাবিহীন উছিলা।
৩. যতদুর মনে পড়ে এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিলেন যিনি তিনি একজন আর্মি অফিসার।

এবার আসল কথাটা বলি। ঐ আমলেই আমি একবার ইন্ডিয়া যাবার আমন্ত্রণ পাই। সাথে ইশতিয়াককে নিতে চাইলে বড়ো বাঁধা হয় , যেটি সেটি হচ্ছে ইশতিয়াকে কোন পাসপোর্ট নেই। একজন দালালকে ধরা হয় আর্জেন্ট পাসপোর্টের জন্য। সে ব্যর্থ হলে আমি নিজে ইশতিয়াককে নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যাই। গিয়ে বুঝি কেন দালাল ব্যর্থ হয়েছে। পাসপোর্ট অফিসে তখনও কিছু দালাল আছে, কিন্তু তাদের কোন ক্ষমতা নেই। গোটা পাসপোর্ট অফিস তখন আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমরা ডাকে সাড়া দিয়ে স্বয়ং পরিচালক মহোদয়া নিজে পাসপোর্র্ট ফরমটি হাতে নিয়ে তৎপর হোন এবং ঐদিন বিকালেই ইশতিয়াক তার পাসপোর্টটি পেয়ে যায়। ঐ পাসপোর্ট পেতে আর কয়েক ঘন্টা দেরী হলে আমরা দুইজন একসঙ্গে স্বপ্নের বোম্বে অবধি যেতে পারতাম না।

আহা , সেদিন আমি আর ইশতিয়াক গোটা মঈন উ আহমেদ গংদের কত প্রশংসাই না করেছিলাম। মনে পড়ে, ইশতিয়াক মঈন আহমেদ গংদের হুংকারে যখন আমাদের সাংবাদিকদের বেতন রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে গেল ( সপ্তম ওয়েজবোর্ড), তখন তুমি- আমি বাংলাদেশের জন্য মঈন উ আহমেদ কতো প্রয়োজনীয়, সেটি নিয়ে কত কথাই না বলেছিলাম।

মঈন উ আহমেদেও পদ্যত্যাগের পর আমাদের স্মৃতি শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মওদুদ আহমেদ বলেছেন, মঈন উ গণতন্ত্রের শত্র“ ছিলেন। তিনি নিজেও যে সবকটি স্বৈর সরকারের মন্ত্রি ছিলেন , কেবল সেই স্মৃতিটুকুই তার মনে পড়ছে না। এখন মঈন বিরোধী স্মৃতি চর্চার মওসুম।

আজ মইন উ বিহীন আমলে তাকে নিয়ে কেবল তোমার আতংকের কথাই মনে হল, আনন্দের এতো বড়ো স্মৃতি তুমি নিশ্চয়ই মনে করতে পারছো না

ভাই ইশতিয়াক তোমার মাথা এবং তোমার মাথার চুল - দুটোই অসামান্য দামী। এই মওসুমে অন্য সবার মতো তুচ্ছ মঈন উ কে জড়িয়ে তোমার দামী মাথা এবং চুলের আর অবমানতা করো না , ভাইয়া।










সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:০০
২৮টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×