হাওয়া বুঝে পাল তোলায় বাঙালিদের চেয়ে ওস্তাদ আর কেউ নেই।
মঈন উ আহমেদের আমলে চুল নিয়ে ইশতিয়াক একটি সমস্যায় পড়েছিল, কথা সত্য বটে।। তবে পুরো সত্য নয়। এখানে কিছু কিন্ত আছে।
১.ইয়ং ছেলেপুলেরা তাদের বড়ো চুল নিয়ে মোটামুটি সব আমলেই বাটে পড়তে পারে। ইশতিয়াকেরই এক বন্ধু এবং আমার প্রতিবেশি , যার নাম ওয়ালিদ। সে তার বড়ো চুল নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল এবং সেটি অবশ্যই মঈন উ আহমেদের আমল ছিল না। ইশতিয়াকের মতো মেধাবী ছেলে জানে বড়ো চুলের এই সমস্যাটা মইন কেন্দ্রিক নয়, এটি একটি সামাজিক বঙ্গীয় দৃষ্টিভঙ্গিগত সমস্যা। কোন কারণ ছাড়াই বড়ো চুল দেখলে আগের প্রজন্মের লোকদের গা চুলকায়। আমি নিশ্চিত আজ রাতে কেউ পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তার বড়ো চুল নিয়ে দুটি কথা তাকে হজম করতে হবে।
২. ইশতিয়াককে পাকড়াও করা হয় রাতে, নারায়ণগনজ শহরের জন্য সেটি বেশ রাত । রাতের টহল ও হেনস্থা একটি অতি চিরাচরিত ব্যাপার। সেটি কেবল মঈন উ আহেমদ কেন্দ্রিক কোন সমস্যা নয়।ওকে পাকড়াও করেছিল র্যাব। র্যাবের জন্ম, মঈন উ জন্মের আগে ( মানে মঈন উ তখনও মইন উ হননি) , এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে র্যাব এবং র্যাবের ক্রসফায়ার দুটিরই কট্টর ফ্যান ইশতিয়াক। সপ্তাহে ছয়দিন ইশতিয়াকের সঙ্গে দেখা হয়, পাঁচ দিনই সে কালো শার্ট পড়ে থাকে। র্যাব মার্কেটে আসার আগে কালোর প্রতি ইশতিয়াকের এই প্রবল মোহ দেখা যায় নি।
গভীর রাতে র্যাব কোন তরুণকে ধরলে কী করে , সেটি আমি বললে খারাপ শোনা যাবে। বরং র্যাবের ফ্যান ইশতিয়াকই এটা ভালো জানে। হেনস্থা করার জন্য বড়ো চুল তুলনাবিহীন উছিলা।
৩. যতদুর মনে পড়ে এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিলেন যিনি তিনি একজন আর্মি অফিসার।
এবার আসল কথাটা বলি। ঐ আমলেই আমি একবার ইন্ডিয়া যাবার আমন্ত্রণ পাই। সাথে ইশতিয়াককে নিতে চাইলে বড়ো বাঁধা হয় , যেটি সেটি হচ্ছে ইশতিয়াকে কোন পাসপোর্ট নেই। একজন দালালকে ধরা হয় আর্জেন্ট পাসপোর্টের জন্য। সে ব্যর্থ হলে আমি নিজে ইশতিয়াককে নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যাই। গিয়ে বুঝি কেন দালাল ব্যর্থ হয়েছে। পাসপোর্ট অফিসে তখনও কিছু দালাল আছে, কিন্তু তাদের কোন ক্ষমতা নেই। গোটা পাসপোর্ট অফিস তখন আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমরা ডাকে সাড়া দিয়ে স্বয়ং পরিচালক মহোদয়া নিজে পাসপোর্র্ট ফরমটি হাতে নিয়ে তৎপর হোন এবং ঐদিন বিকালেই ইশতিয়াক তার পাসপোর্টটি পেয়ে যায়। ঐ পাসপোর্ট পেতে আর কয়েক ঘন্টা দেরী হলে আমরা দুইজন একসঙ্গে স্বপ্নের বোম্বে অবধি যেতে পারতাম না।
আহা , সেদিন আমি আর ইশতিয়াক গোটা মঈন উ আহমেদ গংদের কত প্রশংসাই না করেছিলাম। মনে পড়ে, ইশতিয়াক মঈন আহমেদ গংদের হুংকারে যখন আমাদের সাংবাদিকদের বেতন রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে গেল ( সপ্তম ওয়েজবোর্ড), তখন তুমি- আমি বাংলাদেশের জন্য মঈন উ আহমেদ কতো প্রয়োজনীয়, সেটি নিয়ে কত কথাই না বলেছিলাম।
মঈন উ আহমেদেও পদ্যত্যাগের পর আমাদের স্মৃতি শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মওদুদ আহমেদ বলেছেন, মঈন উ গণতন্ত্রের শত্র“ ছিলেন। তিনি নিজেও যে সবকটি স্বৈর সরকারের মন্ত্রি ছিলেন , কেবল সেই স্মৃতিটুকুই তার মনে পড়ছে না। এখন মঈন বিরোধী স্মৃতি চর্চার মওসুম।
আজ মইন উ বিহীন আমলে তাকে নিয়ে কেবল তোমার আতংকের কথাই মনে হল, আনন্দের এতো বড়ো স্মৃতি তুমি নিশ্চয়ই মনে করতে পারছো না
ভাই ইশতিয়াক তোমার মাথা এবং তোমার মাথার চুল - দুটোই অসামান্য দামী। এই মওসুমে অন্য সবার মতো তুচ্ছ মঈন উ কে জড়িয়ে তোমার দামী মাথা এবং চুলের আর অবমানতা করো না , ভাইয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



