গালফ এয়ারের বিমান। যাবো জার্মানি মাঝখানে বাহরাইনে ঘন্টা দুয়েকের যাত্রা বিরতি।
আমি বসেছি জানালার পাশে। আমার বাঁ দিকে রাজিব। রাজিব ইচ্ছে করেই ওই দিকে বসেছে, কেননা সামনের সিটে এক সাদা চামড়ার মেয়ে বসা, প্রবল শীতের মধ্যেও সে বড় গলার জামা পড়েছে। ওইখানে বসলে ঐ মেয়েটাকে বড় গলার জামা সমেত খুব ভালো দেখা যায়। রাজিব এখনও বিয়েথা করেনি, মেয়ে দেখে বেড়াচ্ছে। পারিবারিকভাবে মেয়ে দেখার অনুমতি দেয়ায় --রাজিব নিদ্ধিধায়, খোলা মনে এবং অপলক চোখে মেয়েটাকে দেখছে। আমিও ঠারেঠুরে উঁকি মারছি, তবে সেটা কামজ কোন কারণে নয়, দায়িত্ববোধ থেকে। হাজার হলেও রাজিব আমার ক্লোজ ছোটভাই!!!! সে কেমন মেয়ে পছন্দ করলো, সে ভালো না খারাপ - সেটা দেখার একটা দায়িত্ব তো আমার আছেই।
বিমান উড়াল দেবার পর , রাতের ঢাকা উপর থেকে সত্যিই দারুন দেখা যায়।
আমার জানালার পানে তাকিয়ে, নানা কারণে খুব মন খারাপ। সকলের নিষেধ রীতিমতো অগ্রাহ্য করে এই কঠিন শীতে জার্মানি যাচ্ছি, মনটা সেই কারণে খানিকটা আশংকিতও। হাঠৎ রাজিব বললো, বস, জানালার পাশে বসমু , আকাশ দেখতে মন চাইতাছে। আমরা আসন বদল করলাম। আমি বসামাত্রই জনৈকা সুগন্ধী ,পৃথুলা বিমানবালা পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেন, তার নিতম্ব কিংবা তার উরু কিংবা নিতম্ব উরু দুটোই আমার গা ছুঁয়ে গেল , ইংরেজীতে যাকে বলে ড্যাশিং। আমার চরিত্র বাংলাদেশের রাজনীতির চাইতেও দূর্বল। কোথায় গেল মনখারাপ, মন উল্টো ভালো হতে শুরু করলো।
রাজিব খর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে। এমন তো কথা ছিল না বস। রাজিবের অনুরোধে আবার আসন বদল করলাম। আমি আবার জানালার ধারে, রাজিব করিডোরে। ঘন্টা দুয়েক পেরিয়ে গেল , কয়েক জোড়া বিমানবালা অসংখ্য বার পাশ দিয়ে হেঁটে গেল। কই, ওই রকম ড্যাশিং আর কই? রাজিবের দীর্ঘশ্বাসে পরিবেশ সত্যিই ভারি হয়ে এলো। এর মধ্যে জানালা দিয়ে দেখা গেল রাতের দুবাই নগরী । অবিশ্বাস্য রকমের সুন্দর। আমি দুবাই নগরী কখনও দেখেনি। প্লেনের জানালায় রাতের দুবাই নগরী - এটা কোন সাধারণ দৃশ্য নয় - এটি শিল্পের চাইতেও মহৎ। প্লেনে বসেই সিদ্ধান্ত নিলাম, এ জন্মে কখনও দুবাইয়ে যাবো না। বাস্তবের দুবাই কখনোই - আকাশের দুবাইয়ের চাইতে সুন্দর হতে পারে না। অযথা মুখ নষ্ট করে লাভ কী?
রাজিব আবারও জানালার পাশে বসার গোঁ ধরেছে। দুবাই দেখার জন্য। জানালার পাশে ও বসামাত্র জানালার ঘন মেঘে ঢেকে গেল , বাহরাইন পৌঁছানোর আগে সেই মেঘ সরলো না।
(চলবে)
( কীভাবে প্যাঁচ খেয়ে আর্জেন্টিনার বদলে জার্মানি যাচ্ছি- সে ইতিহাস গ্রীখ ট্রাজেডীর মতোই দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। ওসব লিখে কারও বিরক্তির কারণ হতে চাই না। )
প্রথম পর্ব এইখানে
(
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


