কাহিনী যেভাবে প্যাঁচ খেতে লাগলো
রাজিব বলল, আমাগো ভিসা দিবো প্লাস দুই কাপ চা খাওয়াইবো।
রাজিবের কথায় ভরসা পেয়ে আমি ভারতীয় দূতাবাসে পাসপোর্স জমা দিলুম।
যাবো আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার কোনও দূতাবাস নেই, কাছাকাছি আছে দিল্লিতে। অতএব আর্জেন্টিনা যাওয়ার আগে একবার ইন্ডিয়ায় ঢুঁ মারতে হবে আর্জেন্টাইন ভিসার জন্য। ওদিকে ট্রাভেল এজেন্ট জানালো, ঢাকা টু বুয়েন্স আয়ার্স রাউন্ড ট্রিপ টিকেটের দাম পড়বে দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। আমি পেটে হাত দিয়ে বসে পড়লাম। গত দুই মাস যাবৎ কোনও কারণ ছাড়াই আমার পেট ব্যাথা করছে । একবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম, ডাক্তাররা শুরুতে বললো , লিভার গেছে। পরে পরীক্ষা করে দেখা গেল, লিভার পুরো পরিষ্কার, টু ঝামেলা নেই। এরপর ডাক্তাররা আরেকটি টেস্ট করতে দিলেন, পেটের ক্যান্সার টাইপের। আমি হাসপাতাল থেকে জোরপূর্বক রিলিজ নিয়ে বাইরে এসে সিগারেট ধরালাম। সেই থেকে মাঝে মধ্যেই পেট ব্যাথা। কাজেই ট্রাভেল এজেন্টের কথা শুনে আমি মাথায় হাত না দিয়ে পেটে হাত দিয়ে বসে পড়লাম। ক্ষীণ স্বরে বললাম , দেখেন তো ইন্ডিয়া থেকে আর্জেন্টিনা যাবার সস্তা কোনও উপায় আছে কিনা ?
ট্রাভেল এজেন্ট দিন দুই গবেষণার পর জানালো , পাওয়া গেছে। বোম্বে থেকে সাউথ আফ্রিকান এয়ারলাইন্সের একটা প্লেন যায়, খরচ এক লাখ দশের কিছ্টুা কম।
তাই সই। ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেললাম। আগে যাবো দিল্লি। বাই রোডে। আর্জেন্টিনার ভিসা নিয়ে সেখান থেকে ট্রেনে বোম্বে। বোম্বে থেকে প্লেনে আর্জেন্টিনা। আবার ফিরবোও একই পথে।
কে জানে এই ভ্রমণ পরিকল্পনায় এতো দুর্ভোগ ছিল । টিমে ছিলাম আমরা চারজন। খরচের কথা চিন্তা করে একজন কেটে পড়লো। অতএব ভারতীয় দূতাবাসে এই ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে দাঁড়ালাম আমরা তিনজন।
ভারতীয় দূতাবাসে এখন লাইনে দাঁড়ানোর যুগ শেষ । নেট থেকে ই টোকেন নিয়ে এপয়েন্টমেন্ট করতে হয়। আমরা ডেট পেলাম দিন সাতেক পর। তার চাইতে বড়ো কথা, ভারতীয় দূতাবাসের ওয়েব সাইট থেকে জানা গেল, আমরা যে ধরণের ভিসা চাচ্ছি, মানে ডাবল এন্ট্রি ট্রানজিট ভিসা, তা মোটামুটি অসম্ভব। ট্রানজিট ভিসার জন্য যে দেশে যাবো সেই দেশের ভিসা লাগে। কিন্তু বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার দূতাবাস না থাকায় সেই ভিসা জোগাড় করার কোনও উপায় নাই। আবার কোনভাবে যদি ট্রানজিট ভিসা পাই, তাহলে আমরা সেখানে তিনদিনের বেশি থাকতে পারবো না। বাই রোডে কলকাতা থেকে দিল্লি, তারপর সেখান থেকে ট্রেনে বোম্বে, আমাদের দরকার মিনিমাম পাঁচ দিন। কিন্তু পাঁচ দিনের ট্রানজিট ভিসা দেবার নিয়ম নাই। নানা প্যাঁচ। ওদিক দিয়ে টিকিট কনফার্ম না করায় টিকিটের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে, এক লাখ ত্রিশে এসে ঠেকেছে। তিনজনের মধ্যে একজনের ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হল না। রইলাম বাকি দুইজন।
এর মধ্যে রাজিব ভরসার কথা শোনালো। ইন্ডিয়ান এম্বেসিতে ওর বিশেষ পরিচিত একজন আছে, তাকে বিষয়টা জানানো হয়েছে, তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। রাজিবের ভাষ্য অনুযায়ী ভিসা তো পাবোই সাথে দুই কাপ চা খাওয়ানোর কথা।
যথা সময়ে আমরা ভিসা ডেলিভারির নেয়ার জন্য দাঁড়ালাম, বিকেলের চা না খেয়েই।
আমি ভিসা পেলাম। ঠিক যেভাবে চেয়েছি, ডাবল এন্ট্রি, পাঁচ দিনের থাকার বিশেষ অনুমতি এবং বাই রোড অথবা বাই এয়ার সব ধরণের এন্ট্রি পয়েন্ট দিয়ে ঢোকা কিংবা বের হওয়া । কিন্তু রাজিব যে ভিসা পেল, তা না পেলেই ভালো ছিল। ওকে টুরিষ্ট ভিসা দেয়া হয়েছে সাত দিনের জন্য।
চা দু’ জনের কেউই পেলাম না।
অতএব ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল।
( চলবে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


