পরথমে কিলিয়ার কইরা নেই, M.Z.I. মানে হইলো আমগো মুহাম্মদ জাফর ইকবাল.... ঘটনা হইলো আজকাল ব্লগ খুললেই জাফর ইকবাল... কয়দিন পর পর হের প্রতি নতুন নতুন ব্লগারগো বেপক আগ্রহ বাইড়া যায় আর বিরাট বিরাট ঘবেষনা পুষ্ট বাইর হয়... আফসোস এরম ঘবেষনা যদি কেউ দেশের বিভিন্ন অবহেলিত সেক্টরগুলো নিয়া কর্তো তাইলে হয়তো এতোদিনে এই সামু ব্লগাররাই দেশের চেহারা বদলায়া দিবার পারতো...
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল - এই নামটার সাথে পরিচয় অনেক দেরী করে, ক্লাস ফাইভে কিংবা সিক্সে। কপোট্রনিক সুখ দু:খ দিয়ে শুরু। যাউকগা সেইসব প্যাচাল পাইড়া লাভ নাই, একটা মজার ঘটনা বলি। সেই ৯৩-৯৪ সালের কথা, চিটাগাংএ থাকতাম তখন। ছোটো ভাই পিচ্চিকালেই বিড়াট জিনিয়াস হয়া গেলো আর নানা বেসরকারী বৃত্তি পাইতে লাগলো। তো হের লগে গেছিলাম জামাতের মদদপুষ্ট এক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে। বৃত্তির লগে লগে একগাদা লিফলেট, পুস্তিকা। বাসাই আইনা দেখি আমগো পরফেসর গুলাম সাবের সম্পাদিত বই, একটার মাঝে আবার বিবাহপরবর্তি রতিক্রিয়ার কিন্চিত নিয়মকানুন লিখা আছে
দেখেন জাফর ইকবাল কি আকামটা করলো, চটি বই না লিখা বরং হেয় পুলাপাইনগো লিগা লিখা ফেললো "আমার বন্ধু রাশেদ".... কি অদ্ভুত একটা বই, মনে পরে সারা রাত পড়েছিলাম, শেষ হয় না, পরদিন সকালে আবার লুকায় বই নিয়া পড়ার টেবিলে বসছি... কি শিহরণ জাগানো শেষ পাতা... শেষ লাইন " রাশেদ তুই কাঁদিস না প্লিজ".... মনে পড়ে এখনও আমার চোখ দিয়ে টপ টপ পানি পড়ছে, আম্মা এসে অবাক হয়ে গেছেন, কি না কি হলো... সব শুনে বলে ধ্যুত বোকা, বই পরে কেউ কাঁদে.... আর কেউ কাঁদে কিনা জানি না, আমি সহস্রবার বইটা পড়েছি আর সহস্রবার কেঁদেছি... ছোট্ট একটা ছেলের প্রতি মমতায় যেমন চোখ আদ্র হয়েছে তেমনি রাজাকারদের নির্মমতায় মুঠি শক্ত হয়েছে... আফসোস এমন বইকে হয়তো আজকাল কেউ কেউ ফ্যান্টাসী বলে উড়ায় দিবেন, বলবেন এমনটা হয়নি কখনো....
আমগো ব্লগের অনেকে হেরে দেখতে পারে না... কয় হেয় নাকি হাবিজাবি লিখে .... কি আর কমু, জাফর ইকবাল রে মাইনাচ... হেয় কি বিশাল আকাম করে শুনেন, হেয় ছুড ছুড পুলাপাইনগো দেশের কথা কয়, মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনায় -- ঠিক যেমনটা শোনানোর কথা মা-বাবার, ঠিক যেমনটা শেখার কথা পরিবারে... আফসোস আমাদের দেশেরই গুটিকয়েক পরিবার তখনও দেশের বিপক্ষে ছিলো, আজও প্রজন্মান্তরে সেই হানাদারদের দোসরতা টেনে এনেছে... এদের মনে ভয়, শিশুরা এইসব হাবিজাবি পড়ে অবাক হবে, ভাববে পরিবারে কি শিখলাম আর এখানে কি বলছে... আহারে জাফর ইকবাল কি সর্বনাশটা করলো এই জাতির
সর্বনাশ করছে ভালো কথা, কিন্তু একেবারে ইতিহাসে হাত !!!! সেই ইতিহাস যা আওয়ামী লীগ আসলে হয় এক রকম আবার বিএনপি আসলে সব বইপুস্তকের ভাষা বদলে গিয়ে হয় আরেক রকম। ধৃষ্টতার সীমা নেই এই লোকটির, সে কিনা সেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পুস্তিকা বের করে... কে এই জাফর ইকবাল? কি তার যোগ্যতা? কোন দলের লোক যে ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করতে যাবে... আরে বেটা তুমি হইলা প্রফেসর মানুষ, ফিজিক্স নিয়া থাকবা.. নাইলে ভাই এর মতো সস্তা বিনোদন বানাবা... জাতির কোথায় কি সব্বোনাস হইলো তাতে তুমার কি? ৭১ এ নিজের বাপের লাশ কবর খুঁড়ে নিজ হাতে বের করছিলা, এতেও তোমার শিক্ষা হয় নাই????
শিক্ষা যে হয় নাই তা তো ভালো ভাবেই বুঝা যায়... একই লোক আবার নামছে পুলাপাইনদের গিয়ান বিতরনে। আরে বাবা ছুড ছুড পুলাপাইনগো লিগা তুমার এতো দরদ কেন? কোথাকার কি একটা সংখ্যা "পাই" হের আবার দিবস, হের আবার রহস্য??? পোলাপাইন বই খুইলা সুত্র মুখস্ত করবে, অনুশীলনের পাঁচ দশটা অংক নোটবই দেখে সলভ করে কমন পড়লে পাশ করবে নাইলে ফেল.... জাফর ইকবাল আর আরও কতগুলা পাগল মিলা করলো কি এই পুলাপাইনগো মাথায় অংকের ভুত ঢুকায় দিলো
এইসব করতে গিয়া হেয় নাকি আবার কেলাশে ঠিক মতো যায় না, গবেষনা করে না.... কস কি মমিন !!!! হেয় পরফেসর মানুষ, পড়ালিখা শিখাইবো, হেয় বাচ্চা পুলাপাইন নিয়া করে কি??? তাজ্জব কথা হইলো যেই কয় হেতে ক্লাস নেয় না, কই শুনছেন জিগাইলে কয় মাইনসের মুখে শুনছি....
বেবাকডি কয় হের মাথা খারাপ... আরে মাথা খারাপ না হইলে কি আর কেউ সায়েন্স ফিকশন লেখে? কই কোন গ্রহ থিকা অ্যালিয়েন না কে আইলো সেইডা দিয়া আমার কি লাভ? কিংবা কাঁচ সমুদ্র বইতে এক বীরাঙ্গনার ছেলের গল্প শুইনা আমাগো কি লাভ? এই বেটা পরফেসর পরফেসরের মতো থাকে না কেন? একখান পুরান বই দাগাইয়া বেবাক প্রাইভেট ভার্সিটিতে ক্ষেপ মারে না কেন? দশ বারোটা কপি পেষ্ট জার্নাল আর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় উচ্চশিক্ষা নিয়া দেশে আইসা তার জোরে প্রাইভেটে লাখ দেড় লাখ বেতনে জয়েন কইরা পোলাপাইনরে আবোল তাবোল একটা কিছু শিখাইলেই তো মারহাবা.... আমাদের বাচ্চাকাচ্চাদের স্বপ্ন দেখানোর উনি কে????
কেউ কি বলবেন এতো অপরাধের পরেও উনাকে বাদ দিলে আমাদের চারপাশে স্বপ্ন দেখানোর মানুষ আর কে আছে???? এই হতভাগ্য জাতির সামনে স্বপ্ন দেখানোর মানুষের এতো অভাব কেনো বলতে পারেন????
অন্য কারও কংকালে শেওলা গজাক আর না গজাক, আমাদের বিবেকের কংকালের শেওলা ছাড়াবে কে
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



