অফটপিক দিয়ে শুরু করিঃ
গত বছর গাজীপুর কড্ডা এলাকায় ভাওয়াল কলেজের সামনে এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে (দিগন্ত স্যুয়েটার) ভূতের উপদ্রব দেখা যায়। মেয়েরা টয়লেটে গেলে মাঝে মাঝে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। তবে কেউ টয়লেটের ভিতরে অজ্ঞান হয় না। টয়লেট থেকে বের হয়ে চিৎকার দিতে দিতে বের হয়ে আসে। তারা নাকি টয়লেটের ভিতরে ভূত দেখেছে- এই কথা বলে তারা জ্ঞান হারায়। মাঝে মাঝে রাতে যে সিকিউরিটি গার্ড ডিউটি করে দিনে সে ফ্যাক্টরীর অশিক্ষিত শ্রমিকদেরকে বলছে, “রাতে এখানে মাঝে মাঝে ভূত দেখা যায়।
এসব কথা শুনে ওই অল্পশিক্ষিত গার্মেন্টস শ্রমিকের কী অবস্থা হয়? তাদের একটা বড় অংশ পরদিন থেকে কাজে আসে না। না আসার কারন ঐ ‘ভূত’। কে ভূতের আস্তানায় চাকরি করবে? গার্মেন্টসের শ্রমিকদের চাকরির অভাব নাই তারা ইচ্ছা করলেই চাকরি নিতে পারে। যেহেতু চাকরীর অভাব নেই তাই সে কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চাকরি করতে আসেব? দুইদিন পরে পুলিশ ১০জন “ভূত” গ্রেপ্তার করল। অবাক হলেন!? আমরা অবাক হই না।
আমি সাভারে থাকি। সাভার এলাকায় প্রচুর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী আছে। এই এলাকার লোকদের মুখে এইসব ভূতের কাহিনী অনেক শুনেছি। যেহেতু গার্মেন্টসে অভিজ্ঞ শ্রমিকের সংকট তাই এলাকার কিছু টাউট বাটপার টাইপের লোক শ্রমিক কালেকশন করে থাকে। বিনিময়ে শ্রমিক প্রতি তারা এক হাজার টাকা পেয়ে থাকে। যেহেতু সবাই ভালো গার্মেন্টসে চাকরী করতে চায় তাই সেই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী থেকে দক্ষ শ্রমিক আনা সম্ভব হয় না। তাই সেইসব ‘টাউট বাটপার’ নামকরা ফ্যাক্টরীগুলোতে ‘ভূতের আতংক’ সৃষ্টি করে। তারা ওই গার্মেন্টসের কিছু অসৎ শ্রমিক ভাড়া করে। যাদের কাজ হল সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে ভূতের আতংক সৃষ্টি করা। তারা প্ল্যান করে টয়লেটে যায় এবং চিৎকার করতে করতে বাইরে দৌড়ে আসে। দলের বাকী শ্রমিকগুলো তাদেরকে সাপোর্ট দেয়- তারাও একদিন ভূত দেখেছিল। তবে শিউর হয় নাই। আজ শিউর হলো (!!)
এরপর শুরু হয় সাধারন শ্রমিকদের মাঝে গুঞ্জন। আসলে নিশ্চয়ই এই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে ভূত আছে। গত বছর দিগন্ত গার্মেন্টসে গুজব উঠেছিল সেখানে ভূতের আছরে অনেকে পাগল/অসুস্থ হয়েছে। কতৃপক্ষ দ্রুত হুজুর ডেকে মিলাদ পড়ান। আর র্যাব ডেকে ‘ভূতের’ সন্ধান করান। এই ঘটনা শুধু দিগন্ত গার্মেন্টস না, এর আগের বছরে কোনাবাড়ীর নামকরা স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপেও হয়েছিল। সেখানে নাকি রাতে গলাকাটা মানুষকে নাকি হাঁটতে দেখা গিয়েছিল।
মেইন টপিকঃ
গত বছর সামুর একজন ব্লগার ‘নীল আকাশের দুঃখ’র একটা পোষ্ট ছিল তার মায়ের চিকিৎসার ব্যাপারে। চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার। আরো দুই লাখ টাকা প্রয়োজন। সামুর ব্লগারদের ঐক্যবদ্ধ ডাকে সাড়া দিয়ে সামু কর্তৃপক্ষ ‘নীল আকাশের দুঃখ’র পোষ্টটিকে স্টিকি করেন। পোষ্ট স্টিকি করা হল, এখন টাকা কালেকশনের ব্যাপার। ‘নীল আকাশের দূঃখ’র ছোট ভাই থাকে ময়মনসিংহ শহরে আর নীল আকাশের দুঃখ তখন ভারতে মা’কে নিয়ে চিকিৎসায় ব্যাস্ত। তাদের কোন পরিচিত লোক ঢাকায় থাকে না। একটা ব্যাংক একাউন্ট দেয়া ছিল পোষ্টটিতে।
কিন্তু সমস্যা হল আমাদের মত ছাত্র যারা অনেকেই টিউশনি করে চলি, তারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ২০০, ৩০০ বা বেশী হলে ৫০০ টাকার বেশী দেয়ার ক্ষমতা রাখিনা। এই টাকা নিয়ে ব্যাংকে যেতেও কেমন যেন লাগে! তাই অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও টাকা দিতে পারি না। দুই নম্বর সমস্যা হল- ওই ব্লগারের যদি ঢাকায় কোনো কন্টাক্ট থাকত তাহলে ঢাকায় হাতে হাতে টাকা দিয়ে আসতে পারতাম সেটা যদি ১০০ টাকাও হয়। কিন্তু সেরকম কোন লোকও ছিল না। অনেকে সেই স্টিকি পোষ্টে কমেন্ট করে ব্লগারকে জিজ্ঞেস করেছেন আপনাকে কীভাবে টাকা পাঠানো যায়। ব্লগার তার ছোট ভাইয়ের মোবাইল নাম্বার দিল। নাম হিমেল। হিমেলকে ফোন করলাম। শুনলাম হিমেলের এইচ.এস.সি’র টেস্ট পরীক্ষা চলছে, তার পক্ষে এখন ঢাকায় আসা সম্ভব নয়।
অনেকে তাকে জিজ্ঞেস করল টাকা কি ফ্লেক্সি লোডের মাধ্যমে পাঠানো যাবে। হিমেল হয়ত ফ্লেক্সিলোডের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথা জীবনে প্রথম শুনল! বেচারার পরীক্ষা চলছে, এত কিছুর ব্যবস্থা কীভাবে করবে? আবার তার মা আর ভাই দেশের বাইরে। বাড়ীও দেখে শুনে রাখতে হয়। কী বিপদ! কী করা যায়, কীভাবে ছোটখাট অংকের টাকা পাঠানো যায়? নাকি টাকা পাঠাতে পারব না। সংশয়ে ছিলাম।
তখন সামুতে দেখলাম ‘লালসালু’ নামের এক ব্লগার যিনি সাধারণত মজার মজার ছড়া লেখেন তিনি একটা পোষ্ট দিয়েছেন- নীল আকশের দুঃখের মায়ের জন্য টাকা কালেকশন চলছে। তিনি সেই পোষ্টে ওনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে বললেন- কেউ ছোটখাট অংকের টাকা পাঠাতে চাইলে ওনার সাথে যোগাযোগ করেন। পোষ্টেই জানতে পারলাম উনি শ্যামলীতে থাকেন। অনেক ব্লগার ইতিমধ্যে তাদের মোবাইল নাম্বার দিতে লাগলেন ‘লালসালু’র সাথে যোগাযোগ করার জন্য। অনেকে লালসালুকে ফোন করলেন রাতেই (পরে ওনার মুখ থেকে শোনা)। আমি সকালে ফোন করলাম। শুনলাম উনি মাঝে মাঝে সাভারেও ডিউটি করেন। পরদিন ওনার সাথে সাভারে দেখা করলাম।
অনেক ব্লগারের অফিস ধানমন্ডি, অনেকের মহাখালী, অনেকের গুলশান এবং অনেকের উত্তরা। সবাই টাকা দিতে চায় কিন্তু সমস্যা হল সবারই আমার মত ‘ছোট এমাউন্ট’। আবার লালসালুর অফিস উত্তরায়। উত্তরাবাসী ছাড়া আর বাকী লোকগুলো কীভাবে টাকা পৌঁছাবেন লালসালুর কাছে? লালসালু সেই ব্যবস্থাও করলেন। কোন কোন ব্লগারের কাছে নিজে গেলেন আবার কোন কোন ব্লগারের কাছে ‘মাসুম’ নামের ওনার এক সহকারীকে পাঠালেন। সেই লোক ব্লগ না লিখেও অনেক ব্লগারের মাঝে পরিচিত হয়ে গেলেন। আমি এখানে ব্যক্তি হিসেবে লালসালুর মহানুভবতার কথা বলতে চাচ্ছি।
দুই তিনদিন আগে লালসালুর ব্লগে গিয়ে দেখলাম সেখানে কোনো পোষ্ট নেই! বোকা হয়ে গেলাম আমি!! তিনি ড্রাফট করে রেখেছেন সব।
ওনাকে জেনারেল করা হয়েছে। হয়ত এর জন্য অভিমান করেই তিনি সকল পোষ্ট ড্রাফট করেছেন। শুধু তিনি না, ব্লগের অনেক ব্লগারই তাদের সকল পোষ্ট ড্রাফট করেছেন। নিশ্চয়ই এর কারণ আছে।
ব্লগের কিছু নিয়ম কানুনের বরখেলাপের কারণে নাকি ওনাকে জেনারেল করা হয়েছে। আমি ওনার সেই পোষ্ট দেখেছি। যদিও ওই পোষ্টে আপত্তিজনক কিছু মন্তব্য ছিল কিন্তু এর চেয়ে অনেক খারাপ পোষ্ট, মন্তব্য ব্লগে শত শত আছে। পার্থক্য হল কারো কারো জন্য সামুর নীতিমালা মানা হয় আর কারো কারো জন্য কোনো নীতিমালা নেই।
সেইদিন লালসালুর পোষ্টে এমন অনেকের মন্তব্য দেখেছি যারা মাত্র একমাস আগে ব্লগে একাউন্ট খুলেছে আর এই পোষ্টের পক্ষে বিপক্ষে কমেন্ট করেছে। আমি ব্লগে একাউন্ট খোলার পরে তিনমাস লেগেছে প্রথম পাতায় এক্সেস পাওয়ার জন্য আর তারা কীভাবে কোনো পোষ্ট ছাড়া সেইফ হয়ে যায়! তারা আবার লালসালু সম্মন্ধে নেগেটিভ কমেন্ট করছেন।
আমার সবচেয়ে বেশী দুঃখ লেগেছে যখন দেখেছি ‘আমার প্রিয় ব্লগার-১,২ এবং ৩) সিরিজের ছড়াটি তিনি ড্রাফট করেছেন। অনেক ব্লগারের নাম দিয়ে তিনি ছড়াটি লিখেছিলেন। লালসালুকে অনুরোধ করব আপনি আপনার পোষ্টগুলো আবার প্রকাশ করুন, প্লিজ। আর আপনি ফিরে আসুন। আমার মতো যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের ডাক শুনুন। আপনার বিরুদ্ধে যারা লিখছে তাদেরকে সাধারন ব্লগার চিনেই না। যারা ওনার বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদেরকে অনুরোধ করব- পারলে ওনার মত মজার ও সুখপাঠ্য একটা ছড়া লেখে দেখান।
আবার অফটপিকঃ
দেশে ব্লগ সাইটের সংখ্যা এখন অনেক। ব্লগারদের ব্লগ লেখার অনেক জায়গা আছে কিন্তু যার শুরু সামুতে, আমার বিশ্বাস যে সামুতে লেখা শুরু করেছে, সে সামু ছাড়তে পারবে না। এটা হল সামুর একটা আকর্ষণ। এই আকর্ষণ ছাড়া অসম্ভব। বাকী যে ব্লগ সাইটগুলো আছে তার মধ্যে দুই একটি ছাড়া বাকীগুলো অচল। যে দুই একটি মোটামুটি চলে সেগুলোও সামুর জনপ্রিয়তার ধারে কাছেও নেই। তারা কি ব্লগ সাইট খুলে বসে আছে?
তাদের হয়ে কাজ করছে সামুর কিছু ব্লগার। তাদের কাজ হল কোন ব্লগারের যদি হিট বেশী থাকে তাহলে তার পিছনে লাগা। তাকে একসময় “ছাগু” ঘোষণা করা হয়। তার উপর সংঘবদ্ধ মাইনাস। রিপোর্ট আসে। তার বিরুদ্ধে বিষেদাগার ছড়ানো হয়। ওইসব ব্লগারদের কাজ হল সামুর জনপ্রিয় ব্লগারদেকে ‘শিবির’ ‘মগবাজারী’ প্রমাণ করা। এতে সাধারণ ব্লগাররাও তাদের ফাঁদে পড়ে। যে ব্লগ সাইটগুলো মোটামুটি চলে তাদের মধ্যে একমাত্র ‘আমার ব্লগে’ কোনো মডারেশন নাই (আমার জানা ভুল হতে পারে)। ‘আমার ব্লগে’ রেজিষ্ট্রেশন করেই পোষ্টানো যায়।
সামুর কোনো ব্লগার যদি ‘ভূতের’ ফাঁদে পা দেয় আর তাদের ছাগু ডাকার প্রতিবাদে উল্টা পাল্টা কিছু লিখে তাহলে তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়। পরিনামে সে জেনারেল কিংবা ব্যান হয়। যে লোক ব্লগের মজা পেয়ে যান তিনি কখনো ব্লগ ছাড়বেন না। তিনি ব্যান হওয়ার দিনই আরেক ব্লগ চলে যাবেন এবং সামুতে একটা নতুন নিক খুলবেন। যেহেতু সামুতে আম ব্লগারদের প্রথম পাতায় এক্সেস পেতে দুই তিন মাস সময় লাগে তাই ওই ব্যান কৃত ব্লগার সামুর বদলে আমার ব্লগেই বেশী বেশী লেখালেখি করবেন।
এটা অনেকটা স্বীকৃত যে ‘আমার ব্লগ’ হল ‘আওয়ামী ব্লগ’। মডুদের একটু ভেবে দেখার জন্য বলছি যে যেসব ব্লগারদেরকে ‘শিবির’ ‘ছাগু’ ইত্যাদি অপবাদ শুনতে হল তারা দলে দলে ‘আমার ব্লগ’এ যাচ্ছে। তারা যদি সত্যিই শিবির করতেন তাহলে আমার ব্লগে গেলেন কেন?
মূলটপিকঃ
কর্তৃপক্ষের কাছে নিবেদন এই যে আপনি লালসালুকে ‘জেনারেল’ থেকে ‘সেইফ’ করে আমাদের বাধিত করবেন।
আর লালসালুর কাছে নিবেদন এই যে, আপনি আপনার সকল পোষ্ট প্রকাশ করুন। আপনার পোষ্টগুলো অনেকের প্রিয়তে রয়েছে। অনেক পোষ্টে ৫০ টার উপরে প্লাস রয়েছে। এই পোষ্ট এখন ‘আম ব্লগারদের’ পোষ্ট। আমাদের অনুরোধ শুনুন প্লিজ। ব্লগে আপনার প্রচুর ভক্ত। আপনার পোষ্টে মাইনাসের চেয়ে প্লাসের সংখ্যা অনেকগুন বেশী আপনার হিট ৮ মাসে দেড় লাখ!!! যা কম সময়ে সর্বোচ্ছ হয়তো বা...
বুঝতে পেরেছেন আপনি আমাদের কাছে কতটা জনপ্রিয়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



