somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

এ্যাবস্ট্রাক সময়

২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব
Click This Link

শেষ পর্ব...


পাপড়ি মা,
মা আমার, নিলিমের বুক থেকে কষ্টের হাহাকার ভরা একটি চিৎকার বেড়িয়ে এলো আপনা আপনি।
আমার মায়ের জীবনের সাথে তুলনা করলে কিসের কমতি রিনির জীবনে? মায়ের মতোন একটা জীবন পেলে কি করত রিনি? ভেবে কোন তল, কোনদিক পায় না নিলিম। বুক ভারী হয়ে আসে যন্ত্রনায়। কি চায় মানুষ, কি চায়?
এত ভালো থাকার, এত সুখ দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাও রিনির সব কিছুতে অসন্তুষ্টি।
ছোট বেলায় ক’য়েকবার ঈদে দাদু বাড়ি গিয়েছে নিলিম। দাদু বাড়ি বললেও আসলে বড় চাচীর আদর যতেœ তার কাছেই থাকা হতো । মায়ের সাথে বড় চাচীর খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক। অসম দুই বয়সের, অসম দুই সমাজের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্যটা ছিল খুব গাঢ়।
বাড়ি যাওয়ার আগে ঝগড়া হতো। বাবা কিছুতেই যেতে চাইতেন না। মায়ের আগ্রহে যাওয়া হতো । কয়েক বার বাবাকে রেখে মা আর নিলিম একাও গিয়েছে।
মায়ের যাওয়ার কোন জায়গা ছিল না। মা যে সোসাইটির মানুষ তারা মায়ের জীবনটাকে মেনে নিতনা । কলেজের কলিক বা ইউনির্ভসিটির বন্ধুরা বাবাকে উন্মাদ ছাড়া কিছু ভাবত না। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিলো, মা এ জীবন থেকে বেরিয়ে যাক, নতুন করে জীবন শুরু করুক। তারা মার মর্ম বেদনা অপলব্ধি করতে পারত না। বাবার প্রতি মায়ের এই যে মমত্ব, ভালোবাসা, মা নিজের জীবনে কিছু না পেয়েও এই মানুষটাকে সারা জীবন ভালোবেসে গেলেন। বাবার এই অবুঝপনাকে অগলে রাখলেন, ভালোবেসে গেলেন। একটি মানুষের ক্ষয়ে যাওয়া বুকে ধারণ করলেন। ভার হওয়া হৃদয়ের বেদনা হালকা করার জন্য বছরে দু’ বান্ধবি একবার মিলিত হতেন, অনেক গল্প করতেন, হাসতেন, পরামর্শ করতেন। বাড়িতে থাকার ওই কটাদিন যখন মা বড় চাচীর সাথে কাটাতেন তখন তাকে খুব উজ্জল দেখাত। দুই বান্ধবীর গল্পের সময় পাশে বসে থাকত ছোট্ট নিলিম। ওদের এলোমেলো গল্প, স্মৃতিচারণ, নিলিমের শুনতে ভালোলাগত খুব।

চাচী প্রায়ই বলতেন আমি এবার ঢাকা যাবো কিন্তু কখনোই চাচীর ঢাকা আসা হলো না। নিলিম যখন বারো বছরের তখন হঠাৎ একদিন খবর পেলো বড় চাচী মারা গেছেন। সেই প্রথম নিলিমের মৃতমানুষ দেখা । এত আদরের এত কাছের এক জন মানুষ এমন চুপচাপ শুয়ে আছেন দেখে নিলিমের মৃত মানুষ সম্পর্কে যে একটা ভয়ের ধারনা ছিল সেটা একবারে চলে গেলো। আর সেই শেষ নিলিমের বাড়ি যাওয়া। মার জীবনের একমাত্র সঙ্গী হারিয়ে গেলেন। একাকী মা নিরব মা আরো একা হয়ে গেলেন। নিলিম মার এই কষ্টগুলো উপলব্ধি করত। মা কে শেয়ার করতে চাইত কিন্তু মা তাকে নিজের দুঃখ কথা শুনাতে চাইতেন না। মায়ের সব সওয়া জীবন আর বাবার সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন এ দুই অস্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যে বাস করতে গিয়ে নিলিমের মধ্যে গড়ে উঠেছিল সুন্দর স্বাভাবিক জীবন যাপনের আগ্রহ। সাজানো ছিমছাম জীবন পরিকল্পনা।

ছোট বেলা থেকে নিলিম সব সঠিক ভাবে করার প্রচেষ্টায় সচেষ্ট ছিল।

এত বুঝে চলার পরও আজ কেন তার রিনির সাথে সদা সমস্য তৈরি হচ্ছে, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না নিলিম। নিলিমের বিয়ের পর মা নিজেকে নিলিমের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিলেন। নিলিমের বুক ভেঙ্গে যায় কষ্টে যখন মা বলেছিলেন, নিলিম এখন তুমি আলাদা একটা বাসা নেও। বউএর সাথে একদিন ও মা থাকেন নাই। একাকী মা আরো একাকী হয়ে নিজের মধ্যে গুটিয়ে গেলেন।

বাড়ির পেছনে এই লেইকটার পাশে একটু খোলা জায়গা। আজকাল প্রায়ই নিলিমের রিনির সাথে ঝগড়া হচ্ছে আর বাড়িতে দমবন্ধ লাগায় নিলিম আকাশের নিচে খোলা হাওয়ায় বেরিয়ে পরছে।
আধ ভাঙ্গা চাঁদের হালকা আলোয় উঁচুনিচু টিলামতন জায়গায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ নিলিম হোঁচট লেগে হুমরি খেয়ে পরে গেলো। প্রাথমিক বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠতে গিয়ে টের পেলো তার নিচে একটি মেয়ে শুয়ে আছে। মেয়েটির গায়ে হোঁচট লেগেই সে পড়ে গেছে। কিন্তু মেয়েটি এমন র্নিবিকার শুয়ে আছে কেন। এত বড় মানুষ ওর গায়ের উপর পড়ল কোনই শব্দ করল না তো । হঠাৎ কিছু বুঝতে পারার একটা বিদ্যুৎ প্রবাহ বয়ে গেলো নিলিমের মাথায়। শিড়দাঁড়া বেয়ে নেমে আসছে ঠান্ডা স্রোত। খুন, কেউ মেরে এখানে ফেলে গেছে মেয়েটিকে।

তাড়াতাড়ি পালাতে হবে এখান থেকে। একনিমিশ মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ সয়ে যাওয়া অন্ধকারে দেখতে পেলো উজ্জল ফর্সা মিষ্টি একটি মেয়ের মুখ ওর ঠিক মুখের নিচে।
ডান হাত ছড়িয়ে আছে পাশে যেন এখনি তুলে রাখবে নিলিমের পিঠে।
হঠাৎ একটি টর্চ লাইটের আলো এসে পড়লো নিলিমের গায়ের উপর । তারপরই কথা বলে উঠল কে কে ওখানে?
এগিয়ে এলো আলো ও কণ্ঠস্বর। এবারে কষ্ঠস্বরটা বিকৃত হলো একটু, আরে এত রাইতে কি করতেছেন এখানে ? এ্যাঁ কথা কন না কেন?
নিলিমের গায়ে একটা কাঁপুনি উঠছে। ও নিজেও বুঝতে পারছে না এমন কেন হচ্ছে?
ও তো কোন দোষ করে নাই। ও কিছুই করে নাই, জানেও না কিছু। হোঁচট লেগে পড়ে গেছে । কিন্তু ওর নার্ভাস লাগছে, ভিষণ নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে। মুখে কথা আসছে না।
লোকটা কাছে চলে এসেছে আলোতে এখন নিলিমের নিচে মেয়েটি কে ও দেখা যাচ্ছে।
লোকটা চিৎকার দিয়ে উঠল আরে একি এযে মাইয়া লইয়া শুইয়া রইছে মাঠের মাঝে? কি ভাই, বাড়ি ঘর নাই? নাকি পথের মাইয়া? যান তাইলে আপনের শেষ হইলে চইলা যান, আমরাও ফাউ একটু মৌজ কইরা লই।
লোকটা তাহলে একা না । সাথে কয়জন আছে একজন, দুইজন, অনেক? নিলিম বুঝতে পারছে না কি করবে? ওর শরীর অষাঢ় হয়ে যাচ্ছে। ও নড়তে পারছে না। এতক্ষণে টের পেলো শরীরের নিচে মেয়েটির শরীর অসম্ভব ঠান্ডা। সেই শীতলতা ছড়িয়ে পড়ছে ওর শরীরে। ও কি উঠে এক দৌড়ে পালিয়ে যাবে? পালাতে পারবে কি? না, ও পালাবে কেন? তাতে ওদের সন্দেহ বাড়বে । বরঞ্চ ও যা সত্যি তাই বলবে, ও পড়ে গিয়েছে।
একি ভাই উঠেন না যে লোকটার গলা কর্কষ হয়ে উঠল।
আচ্ছা অনেক লোক না হলেও দুজন তবে একটা লোক কথা বলছে কেন?
নিলিম কিছু ভাবার আর অবকাশ পেলো না কেউ একজন ওর পিঠের উপর র্শাট খামচে ধরেছে, অন্য হাতে ওর হাত ধরে এক ঝটকায় উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে দিল।
নিলিম দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না। হাঁটু ভেঙ্গে পরে যেত লোকটা ওকে ধরে না রাখলে।
এই মাইয়া ওঠো!
অসহিষ্ণু লোকটা র্টচ লাইটের আলো ফেলে মেয়েটির মুখের উপর । সুন্দর মিষ্টি একটি মুখের অভাষ এক পলকের জন্য ভেসে যায় নিলিমের চোখের সামনে। এমন সুন্দর মেয়েটিকে মেরে ফেলতে পারলো কোন পাষন্ড? কি দোষ করছে মেয়েটি? মেয়েদের দেখলেই তো ভালোলাগে। কি সুন্দর ফুলের মতো আর কি স্নিগ্ধ, নরম কোমল হয় মেয়েরা । নিলিমের জানা সব মেয়েরাই ওর দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদার, অত্যন্ত ভালো। তারা কখনো কারো ক্ষতি কারক নয়। হাজারো প্রশ্নের ভীড় জাগে নিলিমের মাথায়।
এই যে ভাই আপনার র্গাল ফ্রেন্ডরে ডাকেন- নিলিমরে তাড়া লাগায় লোকটা।
হালায় আরামের চোটে ঘুমাইয়া পরছে মনে হয়, স্বদোক্তির মত বলতে থাকে লোকটা।
নিলিমের মাথায় একটু খানি চিন্তা শক্তি ফিরে আসে, ভাবে লোক গুলোকে যদি কোন ভাবে এখান থেকে সরিয়ে দেয়া যায় তো লোক গুলো যাওয়ার পর ও সরে পরবে এখান থেকে।
নিলিম কথা বলার চেষ্টা করে । মুখে কথা ফোটে না।
জ্বীব দিয়ে ঠোঁট চেটে ভেজানোর চেষ্টা করে, কণ্ঠ তালু পর্যন্ত শুকনো খটখটে হয়ে গেছে, শ্বাস আটকে আসছে। তবু জোর করে নিলিম মুখ খোলে। ঘসঘসে একটা শব্দ বার হয় প্রথমে ওর মুখ দিয়ে। কোন কথা বুঝা যায় না। শব্দ শুনে লোক দুটো ওর দিকে তাকায়।
কি কইবেন, কন ডরাইছেননি কালো বিশ্রী চেহারায় খেকখেক করে ওরা হাসে।
নিলিমের গলা দিয়ে এবার সহজ একটু কথা বার হয়
না বলছিলাম, আপনার যান আমরা চলে যাচ্ছি।
হ যামু আমরা যামু, তো ভাবীসাবে কি রাতের ঘুম এখানে ঘুমাবো নাকি? ডাকেন উনারে উঠান, তারপর আমরা যামু কি কস হামিদ্যা ?
হ ওস্তাদ।
হাঁসের মতন ফ্যাসফ্যাসে গলায় এতক্ষণে সঙ্গের লোকটি কথা বললো
না লজ্জা পাচ্ছেতো তাই বলছিলাম।
লজ্জা পাচ্ছে? এমন খোলা জায়গায় বেশরমের কাম করতে লজ্জা লাগেনা, বেগনা পুরুষের সামনে চিৎ হইয়া শুইয়া রইছে নড়ে না চড়ে না কাপড় ঠিক করে না, লজ্জা পাচ্ছে না। আর শরীর তুলতে লজ্জা পাইব। কি বুঝান এ্য কি বুঝাইতে চান?
এই মেয়ে! এই বেটি ওঠ্ । ওঠ কইলাম একক্ষণি। ভিষণ রকম হুঙ্কার দিয়ে উঠলো লোকটি।
সাথে সাথে এগিয়ে গিয়ে র্টচলাইটের আলো ফেলে নিরীক্ষণ করতে থাকলো মাথা থেকে পা পর্যন্ত।
নিলিমের শিরদাড়া বেয়ে ভয়ের ঠান্ডাা স্রোতটা আবার নামতে থাকে। একি ঝামেলায় জড়িয়ে যাচ্ছে সে। সন্ধ্যা থেকে খুব সুন্দর একটা সময় কাটাচ্ছিলো রিনির সাথে বেশ ফুরফুরে মন নিয়ে।
অনেকদিন রিনিকে নিয়ে বাইরে যাওয়া হয়নি । তাই নিজেই আয়োজন করে ছিলো আজ ঘুরতে যাবে। শেষ বিকেলের রোদ গায়ে মেখে রিকসা করে গোধূলী পর্যন্ত এদিক ওদিক খানিক ঘুরে বেড়ালো রাস্তার পাশ থেকে বাদাম,চটপটি, কিনে খেলো, কোন কারণ ছাড়া বেইলী রোডের, টাঙ্গাইল শাড়ী কুটির থেকে দাম দিয়ে একটা শাড়ী কিনে দিল রিনিকে। মহিলা সমিতিতে একটা নাটক দেখলো দুজনে মিলে। এরপর দেশি স্টাইলের একটি দোকানে একমাসের বাজারের দাম দিয়ে দুজনে খেয়ে বাড়ি ফিরল। চেঞ্জ করে শুয়ে পরতে যাচ্ছিল নিলিম । রিনি এসেই ড্রয়িং রুমে টিভি চালিয়ে বসে পরেছিলো।
নিলিম যেতে যেতে ডাকলো রিনিকে আসো শুয়ে পড়ি।
হঠাৎ করে রিনির অস্বাভাবিক কন্ঠস্বর ওকে অবাক করে দিলো।
-কেন তোমার ইচ্ছায় সারাক্ষন চলতে হবে নাকি?
-কেন কি হলো?
-কী বিষয়টা কী? এতযে ঘুরালে,খাওয়ালে, শাড়ী কিনে দিলে এর কারণ কী?
নিলিমের মুখে কোন কথা আসে না। একি ভলো মনে সব করলো তার জবাবদিহি করতে হবে কেন? রিনির সাথে ব্যবহার নিয়ে ও কেন সন্দেহ করছে।
রিনি গজগজ করে অনেক কিছু বলে যাচ্ছে যার মাথমুন্ডু কিছুই নিলিম বুঝতে পারছে না।
এবার মনে পরল বেড়ানোর সারাটা সময় রিনি গম্ভীর ছিল। খুব উচ্ছাসিত হয়ে উঠে নাই কখনোই।
বিয়ের আগের রিনি আর পরের রিনির এই পার্থক্যটা বিশাল ভাবে চোখে পরছে আজকাল নিলিমের । বাস্তব ভিত্তিক কোন কারণে, কোন চাওয়া পাওয়া নিয়ে ঝগড়া হলে নিলিম ধরতে পারত রিনির চাহিদা। কিন্তু কোন বিষয় থেকে কোন কারণে ও ক্ষেপে যাচ্ছে যা বুঝা নিলিমের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
রিনির গজগজানির মধ্যে দরজা চাপিয়ে দিয়ে শুয়ে পারেছিল নিলিম, কিন্তু মারমুখি রিনি এসে ও কে ধাক্কিয়ে, টেনে উঠিয়ে বসালো, কি আমার কথা শুনতে ইচ্ছা করে না, না? আমি কথা বলছি আর তুমি এসে শুয়ে পড়ছো, এত সাহস, আমাকে ইগনর করো? কেন কেন কি করেছি আমি তোমার?
এ সব ভিত্তিহীন কথার কি জবাব দিবে নিলিম বুঝে পায় না বলে রিনি এখন তুমি শান্ত হও কালকে কথা বলব।
না কাল নয় আজ, এক্ষন,এই মুহুর্তে বলো আমাকে কেন তোমার এত অবহেলা ? আমি কথা বলতে চাচ্ছি, বলছো আজ নয় কাল? কার জন্য সময় তোমার?
কি বলছে রিনি ও কি পাগল হয়ে যাচ্ছে।
নিলিম অস্থির হয়ে ওঠে, অধর্য্য হয়ে যায় পাগল পাগল লাগে, সহ্য করতে পারে না আর বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে।
হন হন হাঁটতে হাঁটতে এই অবস্থার শিকার। এখন আবার কিসের মধ্যে জড়িয়ে যাচ্ছে সে।
নিলিমের এই সময়টা কি রাহুর গ্রাসে পরেছে? শান্তিপূর্ণ ঘরে অকারণ অশান্তি হচ্ছে। এখন আরাম করে সুন্দর বিকেলের ভালোলাগা আবেশে জড়িয়ে আরো ভালোলাগায় ডুবে যাওয়ার কথা কিন্তু কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ওর ভাগ্য।
যাক, ভাগ্য যে দিকে ভাসাবে সেদিকেই ভাসবে এখন নিলিম । ওর কোন নিয়ন্ত্রন নেই আর কোন কিছুর উপর।
হামিদ্যা, বেটিরে টাইনা উঠা দেখি। লোকটার হুঙ্কারে নিলিমের ভাবনা টুটে গেলো ।
হামিদ্যা ছুটে গেলো মেয়েটা কে উঠাতে
একক্ষুনি টের পাবে মহিলা মৃত কি হবে এখন? না আমিতো ভাবব না আর আগাম কিছু ।
ভাগ্যের হাতে শিকার দেখি ভাগ্য কোথায় নিয়ে যায়।
ওস্তাদ, ফ্যাস ফ্যাসে গলায় বিকট চিৎকার করলো হামিদ্যা
কিরে কি হইছে এমুন সর্বনাষা চিল্লান দিস কে রে, মাইয়া মানুষ না পেতনী ধরছোস?
হু পেতনীওই ওস্তাদ, তাইনে তো মরা।
ঠিক দেখছোসনি
হু, দেখইন আপনে দেখইন
লোকটা র্টচ লাইট জ্বালিয়ে এগিয়ে যায় মেয়েটার কাছে, লোভনীয় একটি হাত এগিয়ে যায় মেয়েটির শরীরের দিকে। ছুঁয়ে দেখে সত্যি মৃত কিনা ? এরপরই প্রচন্ড একটি চিৎকারে এসে দাঁড়ায় নিলিমের সামনে।
দেখে তো ভালো মানুষ মনে হয় আসলে তো আস্ত একটা হারামজাদা, নিলিম কিছু বুঝে ওঠার আগে টের পায় ঠাস ঠাস করে ওর দুগালে চড় মারাল লোকটা এবং সাথে সাথে হামিদ্যা কে ওর্ডার করলো পুলিশ কে জানাতে।
অসাঢ় অনুভুতি নিয়ে বসে আছে নিলিম। মৃত মহিলার পাশে খোলা মাঠের উপর। কত সময় গেলো কে জানে। পাশে বশে লোক দুটো বিচ্ছিরি গন্ধের বিড়ি টানছে, মাঝে মাঝে একটা বোতল থেকে কি যেনো ঢকঢক করে মুখে ঢালছে, বোটকা গন্ধে গা গুলাচ্ছে। পুলিশকে খবর করেছে পুলিশ আসার অপেক্ষায় বসে আছে ওরা। নিলিম কে আটকে রাখার মহান দ্বায়িত্ব নিয়েছে লোক দু’টো।
রিনি কি এখনও টেলিভিশন দেখছে? নাকি শুয়ে পড়েছে? নিলিমের জন্য উদ্বিগ্নতায় কি অস্থির পায়চারি করছে, আর আরো বিরক্ত আরো রাগে ফুসছে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া কি ভাবে করবে রিনি। আচ্ছা ওর হয়েছে কি
ওর ঐ মায়াময় ভালোবাসায় কোমল হৃদয় কোথায় গেলো । ও এমন সন্দেহবাতিক গ্রস্থ হয়ে উঠছে কেন দিন দিন। নিলিম একই রকম আছে অথচ রিনি প্রতি পদে পদে ওর ভুল ধরছে। নিলিম যা করে সবটাই ভুল। ভেতর থেকে গুমরে উঠে ।
আ হ.. এমন একটা শব্দ বেরিয়ে আসে নিলিমের বুক চিরে। শব্দের সাথে সাথে ঠোট ফাঁক হয় আর তখনি টের পায় ঠোঁটের কোনায় রক্ত ঝরছে প্রচন্ড ব্যাথায় মুখ বিকৃত হয়ে উঠে।
হেড লাইটের তীব্র আলো লাগে নিলিমের চোখে ও দেখে কয়েকজন লোক নামে জিপ থেকে তাদের চেহারা বুঝতে পারেনা গাড়ীর হেড লাইট সরাসরি ওর মুখের উপর জ্বলছে। লোক দুটো এগিয়ে যায় আপ্যায়নের ভঙ্গিতে, স্যার এসে গেছেন আসেন স্যার আসেন এই দেখেন ভালো মানুষের চেহারা লইয়া মানুষ কত খারাপ কাম করতে পারে। আমরা আইয়া না পরলে স্যার আপনার অনেক কঠিন হইতো এই ভালো মানুষের পোলারে ধরা । দুএক মিনিটের হের ফের হইলে স্যার হালায় পগারপার হইয়া যাইত।
অফিসার নিলিমকে প্রশ্ন করছেন সামনে দাঁড়িয়ে। আলো শব্দ, ভীতি, উদ্বিগ্নতা সব মিলিয়ে বোঁ বোঁ করছে নিলিমের মাথার ভিতর। অফিসারের প্রশ্ন কিছুই ওর মাথার ভিতর ঢুকছে না। ক্লান্তি, ক্লান্তি, নিঃসার নিস্তেজ লাগছে সারা শরীর অসাঢ় হয়ে যাচ্ছে । অফিসার প্রশ্ন করে করে উত্তর না পেয়ে ধৈর্য রাখতে পারছেন না।ওকে বুঝি মারছে এলোমেলো লাঠির বারি পড়ছে নিলিমের সারা শরীরে,
ও মাঠের উপর লুটিয়ে পড়ে।
পরদিন প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় হেডিংয়ে ছাপা হয়। নিলিমের সংগঠিত খুনের কাহিনী। কোন কোন পত্রিকায় কিভাবে খুনি ধরা পরেছে তার রগরগে বর্ণনা দেয়া হয়। সেই লোক দুটো আজকে দিনের হিরো হয়ে গেছে। টেলিভিশনের পর্দায় ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে তাদের অসম্ভব কুৎসিত চেহারা, কালো ঠোঁটে অসংখ্য দাগ সম্বলিত দাঁত বের করে, বুক ফুলিয়ে যতটা সম্ভব রং চড়িয়ে বলে যাচ্ছে তাদের বীরত্বের কথা।
হাতে নাতে ধরা পরা খুনি থানা হাজত, কোর্ট ঘুরে চালান হয়ে গেলো জেলখানায়।

রিনি এত বেশী ভালোবাসা পেয়েছিল যার মূল্য উপলব্ধির গভীরতা ওর ছিল না। আর তাই সে কোন ভাবেই নিলিমের জীবনে এই হঠাৎ উদ্ধুদ্ধ ঘটনাকে সবার মতো অবিশ্বাসের চোখেই দেখে।নিলিমকে সার্পোট তো করেই না বরং আর দশটা মানুষের অবিশ্বাসের দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়েই চলে যায় নিলিমের জীবন থেকে দূরে ফিরে তাকায় না আর কোন দিন।

অ্যাবস্ট্রকট সময়ের পাকে চক্রে দোল খেতে থাকে নিলিমের জীবন
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:০৮
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×