১জুন ২০১০ বুধবার। আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশক হাসমত আলীকে তার বাসা থেকে এনএসআই-এর কয়েকজন সদস্য উঠিয়ে নিয়ে যায়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মাহমুদুর রহমান সেদিন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হাসমত আলীকে পাঁচ ঘন্টা আটক রাখার পর পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। তবে তার কাছ থেকে তারা দুটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে দিয়েছে; যার একটিতে লেখা ছিল ‘আমি আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশক নই। কিন্তু প্রকাশক হিসেবে আমার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।' মাহমুদুর রহমান এসময় সাংবাদিকদের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হাসমত আলীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রাত ১০ টায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে ‘প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাক্টের’ ৭ ধারা অনুযায়ী পত্রিকাটির প্রকাশনা (ডিক্লারেশন) বাতিল করার একটি নির্দেশ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, প্রকাশক হাসমত আলীর প্রতারণা মামলার ভিত্তিতে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলো। প্রকাশনা বাতিলের সরকারি আদেশের অনুলিপি নিয়ে পুলিশ রাত যখন তেজগাঁওয়ে পত্রিকাটির ছাপাখানায় যায় ততক্ষণে পত্রিকাটির দুই হাজার ৭০০ কপি ছাপা হয়েছিল। পুলিশ সেই পত্রিকাগুলো জব্দ এবং ছাপার কাজ বন্ধ করে দেয়।
প্রকাশনা বাতিল হওয়ার পরপরই পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে শত শত পুলিশ আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়ে অভিযান চালায়। কিন্তু পত্রিকার সংবাদকর্মীরা পুলিশকে বাধা দেন। সাংবাদিকদের হঠাতে বিপুল দাঙ্গা পুলিশ নিয়ে আসা হয়। বুধবার রাত দুইটা পর্যন্ত কয়েক দফা পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো সত্ত্বেও কর্মীদের অনড় অবস্থান ও লিফট বন্ধ করে দেয়ার কারণে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। অবশেষে রাত ৩.৪০ মিনিটে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে একটি সাদা জিপে করে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে মাহমুদুর রহমানসহ পত্রিকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ দু’টি মামলা করে। ২ জুন সেই দু’টি মামলায় তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করেন এবং মাহমুদুর রহমানকে জেলে প্রেরণের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে হাসমত আলীর করা যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সে মামলায় আদালত তাকে জামিন দেন। কিন্তু অপর দু’টো মামলায় তাকে কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত থাকায় তিনি পান নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



