somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অকৃত্রিম ভালোবাসা (ছোট গল্প)

৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীতু একা পর্াকের একটা বেঞ্চিতে বসে আছে। এভাবে বসে থাকতে আর ভাল লাগছে না তার। তাছাড়া একা একটা মেয়েকে পর্াকের বেঞ্চিতে বসে থাকতে দেখে অনেকেই যেন কেমন করে চেয়ে থাকে। নীতুর দিকেও দু-একটা লোক অমন ভাবে তাকাচ্ছে। নীতুর অস্বসি- লাগছে। শফিকটা যে কি? কোন দিন ওর আক্কেল বলতে কিছু হবে না। কখনো সময় মত আসে না।

আজও শফিক দেরি করে এল। নীতু কৃত্রিম রাগে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখল। প্রত্যেক দিনের ব্যতিক্রম আজও হল না। শফিক এসে নীতুর রাগ ভাঙানোর জন্য বলল-
- কি ব্যাপার নীতু এক্কেবারে সময় মত চলে এসেছ দেখছি। আমি তো জানতাম আমিই শুধু সময় মত আসি, আর তোমার সময়জ্ঞান বলে কিছু নেই। কিস' এখনতো দেখছি ব্যাপারটা উল্টো তুমিই আসছ সময় মত আর আমারি আসতে দেরি হচ্ছে। অবশ্য আজকে আমি মনে হয় ঠিক সময় এসেছি কোন দেরি করিনি, কি বল?
- কি দেরি করোনি। পুরো তিরিশ মিনিট দেরি করে এসেছ তুমি। তারপর আবার বলছ দেরি করোনি। যাও তোমার সাথে আমার কোন কথা নেই। নীতু এবার আরও রেগে গেল।
- দেরি করেছি কোথায়। আমি তো তোমার পরে এসেছি। এবার ও প্রশংসা করতে শুরু করল-
- নীতু আজকে তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে । মনে হচ্ছে যেন আসমান থেকে সদ্য ডানা ভাঙ্গা একটা পরী উড়তে না পেরে এই র্পাকের বেঞ্চিতে পড়ে গেছে। এমন কথা শোনার পর কোন মেয়ের কি রাগ করে থাকা চলে, নীতুও রাগ করতে পারলনা। বলল-
- তুমি একটা পাগল, কি আমি পাগল, তাহলে তুমিও পাগল।
- না না আমি পাগল হতে যাব কেন, আমিতো পাগলী।
দুজন এক সঙ্গে হেসে উঠল। নীতুর হাসি শফিকের কাছে খুব ভাল লাগে। নীতু মনের আনন্দে এক নাগাড়ে হেসেই চলল।

এভাবে ওদের প্রত্যহ দেখা হত , আর রাগ, অভিমান, হাসি ঠাট্টা সব মিলিয়ে ওদের ভালবাসাটা এক অকৃত্রিম ভালবাসায় পরিণত হয়েছিল। প্রত্যেকদিন শফিক দেরি করে আসত। আর নীতু রেগে যেত। শফিকও ঐ একই কৌশলে নীতুর অভিমান ভাঙাত। কিন' একদিন নীতু এমন অভিমান করল যে, শফিক অনেক চেষ্টা করেও সে অভিমান ভাঙতে পারল না।
দু’বছর পরের ঘটনা,
নীতু প্রত্যহ র্পাকের সেই বেঞ্চিটায় গিয়ে বসে থাকে। আর ভাবে একা একা। আসলে দোষটা ওরই ছিল । কেন সে শফিককে ভুল বুঝেছিল? কেন সে শফিককে নিয়ে ওর মামাতো বোনের সাথে জড়িয়ে একটা বাজে ধারণা মনের মধ্যে স'ান দিয়েছিল । কেন সে শফিককে অপমান করতে গিয়েছিল? শফিক কিন' ওকে কিছুই বলেনি তখন । মুখ বুজে সব অপমান সহ্য করেছে। শুধু যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিল নীতু তুমি ভুল করলে, চরম ভুল। এই ভুলের মাশুল তোমাকে একদিন দিতে হবে। কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে শফিক চলে গিয়েছিল ।
কিছু দিন পর শফিকের মামাতো বোনের যখন বিয়ে হয়ে গেল। তখন নীতু বুঝতে পারল ভুলটা ওরই। শফিক শুধু ওকেই ভালবাসতে পারে। আর কাউকে নয়। এর পর শফিককে নীতু অনেক খুঁজেছে। কিন' পাইনি। সেই থেকে নীতুর মনে একটা অপরাধ বোধ ভর করে । এক অতিচেনা অথচ নাম না জানা কষ্টে ওর বুক ভেঙ্গে যায়। নিজের ভালবাসাকে ও নিজেই গলাটিপে হত্যা করেছে। নীতু প্রতিজ্ঞা করে শফিকের সাথে ওর যদি কখনও দখা হয় তাহলে ও ক্ষমা চেয়ে নিবে। সেই থেকে শফিককে দেখার মিথ্যা আশায় রোজ এই পর্াকের বেঞ্চিতে সে বসে থাকে।
নীতুর সেদিনের সেই আচরণে শফিক খুবই দুঃখ পেয়েছিল এবং মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। শেষে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে বিদেশ চলে গিয়েছিল ওর বড় ভাইয়ের কাছে। গত দুদিন হলো দেশে এসেছে। প্রতিদিনের মত আজও নীতু পর্াকের সেই বেঞ্চিটাতেই বসে আছে। বসে বসে শফিকের কথা ভাবছে কিন' হঠাৎ কিসের শব্দে যেন নীতুর ভাবনায় ছেদ ঘটে। আর তখনই দেখে ওটাকে। নীতুর কাছ থেকে প্রায় দুই গজ দুরে রয়েছে। ভয়ে নীতুর প্রায় আধমরা অবস'া হবার যোগার । চোখ বন্ধ করে ভয়ে চিৎকার করতে গেল, কিন' গলা দিয়ে শব্দ বের হওয়ার পরির্বতে ঘড়ঘড় আওয়াজ বের হলো।
- প্লীজ নড়াচড়া করবেন না আমি দেখছি কি করা যায়। একটি পুরুষ কন্ঠ শুনতে পেল নীতু । ওর কাছে গলাটা খুব পরিচিত মনে হল।
কালো কমপ্লিট স্যুট পরা একটি ছেলেকে দেখা গেল । খুব র্স্মাটভাবে একটা পাতাবাহার গাছের ডাল ভেঙ্গে নিল। তার পর খুব ধীরসি'র ভাবে সাহসের সাথে ডালটির আগাদিয়ে সাপটিকে ছুড়ে পর্াকের পুকুরে ফেলে দিল।

- এবার চোখ খুলুন। ওটা জলঢোড়া সাপ, কামড়ায় না। নীতু চোখ খুলে যা দেখলো তা দেখবে বলে ও কখনও স্বপ্নেও কল্পনা করেনি। ও কয়েক মুর্হুুতের জন্য নিস-ব্দ হয়ে গেল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল-
- শফিক তু..তুমি? আ..আ..আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না!
- আপনি আমার নাম জানলেন কিভাবে। আমাকে চেনেন?
- শফিক তুমি আমাকে চিনতে পারনি ।
- না
- সত্যিই কি?
- হ্যাঁ।
- শফিক, সত্যিই তুমি আমাকে চিনতে পারছ না। আমি নীতু
- নীতু নামে আমি কাউকে চিনতাম বলে তো মনে পড়ছে না। (চলবে)
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×