ইংল্যান্ডের অষ্টম এডওয়ার্ড প্রেমাস্পদকে পাওয়ার জন্য সিংহাসন ত্যাগ করেছিলেন একথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কী সেই কাহিনী তা কি জানি? ঘটনাটা সংক্ষেপে এরকমঃ
১৯৩১ সাল। এডওয়ার্ড তখন যুবরাজ। সে সময় তিনি লিস্টারশায়ারে এক বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যান। সেখানে তখন অবস্থান করছিলেন আমেরিকান সিম্পসন দম্পতি। মিসেস সিম্পসনের নাম ছিল ওয়ালিস। ওয়ালিসের সঙ্গে বন্ধুর বাড়িতে যুবরাজের আলাপ হয়। ওয়ালিস কথা-বার্তায়, হাস্য-রসিকতায় অত্যন্ত পটু ছিলেন। যুবরাজ তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে মুগ্ধ হন। তাদের সম্পর্ক এক সময় ঘনিষ্ঠতায় রুপ নেয়। শেষমেশ যুবরাজ সিদ্ধান্ত নেন ওয়ালিসকে তিনি বেয়ে করবেন। তবে একথাও চিন্তা করেন, রাজ পরিবার পার্লামেন্টের সমর্থন হয়তো পাবেন না।
ইতিমধ্যে যুবরাজের পিতার মৃত্যু হয়। যুবরাজ এখন ইংল্যান্ডের সম্রাট।
ওদিকে, ওয়ালিসও বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এ সময় ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিস্টার বলডউইন পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে তার মতামত পরিষ্কার জানিয়ে দেন। সম্রাটের আকাক্সিক্ষত বিয়েতে পার্লামেন্ট সম্মতি দেবে না।
‘এই বিয়ে আমি করবই,’ একথা বলে অষ্টম এডওয়ার্ড সিংহাসন ত্যাগ করেন। ১৯৩৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি ইংল্যান্ড ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান। এবং সেখানে গিয়ে প্রেমিকা ওয়ালিসকে বিয়ে করেন।
কিছু তথ্য
১. ইংরেজ সাহেবদের দেশে বেশি প্রচলিত পদবি হলো স্মিথ। ফরাসীদের ক্ষেত্রে মার্টিন। চিনাদের চ্যাং। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে সবচেয়ে বেশি যে নাম শোনা যায় বা দেখা যায়, সেটা হলো মহম্মদ।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্টের ছাব্বিশতম প্রেসিডেন্ট থিয়োডোর রুজভেল্টের (১৮৫৮-১৯১৯) ডাক নাম ছিল টেডি। তার শখ ছিল ভালুক শিকার করা। ভালুক মারতে গিয়েই তার সামনে পড়ে যায় এক ভালুকের বাচ্চা। তার মন চায়নি বাচ্চাটিকে মারতে। কেউ কেউ বলেন, বাচ্চা ভালুক মারলে লাভ হবে না বলেই তিনি বন্দুক নামিয়ে রেখেছিলেন। কারণ যাই হোক খবরটি ফলাও করে ছাপা হয়েছিল মার্কিন পত্র-পত্রিকায়। কার্টুনও বের হয়ে যায়। ঘটনাটি নিছক একদিনের খবর হয়েই শেষ হয়ে যাবার কথা, কিন্তু মার্কিনীরা উদ্যেগী জাত। কেউ কেউ এই সাধারণ ঘটনায় ব্যবসায়িক গন্ধ পেলেন। এবং কিছুদিনের মধ্যেই বের করে ফেললেন ভালুক ‘পুতুল’। নাম হলো তার টেডি বা ‘টেডি বিয়ার’।
৩. একটি শহর যেখানে অগ্নিকাণ্ড হয় না। বস্তুত সে শহরে দমকলই নেই। শহরটি হলো লা-পাজ। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার রাজধানী। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ হাজার ফুট উঁচু এই শহরে উচ্চতার কারণে বাতাসে অক্সিজেন কম।
৪. হাইরোগ্লিফিক্সকে বলা যেতে পারে চিত্র ভাষা। বহু যুগ আগে যখন বর্ণমালা আবিষ্কৃত হয়নি তখন কিছু কিছু সভ্যতায়, যেমন- মিশরীয় সভ্যতা, মায়া সভ্যতা বা আজটেক সভ্যতায় বক্তব্য বোঝানো হত ছবির মাধ্যমে। একেকটা ছবির বক্তব্য বা ভাষা ছিল একেক রকম। হাইরোগ্লিফিক্সের মধ্যে মিশরীয় হাইরোগ্লিফিক্স’ই বেশি খ্যাত।
(সংগৃহীত)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



