somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা: বেকারত্ব গোছাতে এসে ঋণ গ্রস্ত হওয়া

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোবাইল রিচার্জ ব্যবসায়ীদের চরম দুর্দিন যাচ্ছে। ১০ বছরের অধিক সময় আগে নির্ধারিত কমিশনে বর্তমানে এ ব্যবসাটি চালিয়ে এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রায় সর্বশান্ত। এই ব্যবসাটি খুব সেনশেটিভ ও ঝুকিপূর্ণ। এই ব্যবসায় সব সময় মস্তিষ্ক সজাগ রাখতে হয় এবং সব সময় তৈরি থাকতে হয়। কারণ গ্রাহক মোবাইল রিচার্জ করতে এসে খুব তাড়াহুড়ো করেন। দেখা য়ায় যে তার জরুরী কথা লাইন কেটে গেছে অথবা টাকা রিচার্জ করে গাড়ীতে উঠবে নানান কারণে তাড়াহুড়ো করতে থাকেন। একটু অসচেতন হলে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যেতে পারে। আর ভুল নাম্বারে টাকা গেলে এ টাকা ফেরত আনার কোন উপায় নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে এ ব্যবসার সাথে জড়িত সবাই এনার্জিটিক। এখানে চোখে কম দেখে অথবা বয়স্ক লোক দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এমন একটি ব্যবসা করে আমাদের যুব সমাজ লাভের আশায় লোকসানের হিসাব গুণছে। কারণ প্রতি হাজারে কমিশন ২৭/- টাকা। সেক্ষেত্রে ১০/- টাকা রিচার্জে লাভ হয় ২৭ পয়সা। প্রতিটি রিচার্জে ৪০-৪২ বার বোতাম চাপতে হয়। তার পরে একটি নাম্বারে টাকা রিচার্জ সফল ম্যাসেজ আসে। তাই দেখা যায় যে এটি তরুন ও এনার্জিটিক না হলে ব্যবসাটি চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। এই ব্যবসা করে অনেকে সর্বশান্ত হয়ে জমি বিক্রি করে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে। জনৈক কামাল হোসেন টেইলার্সের ব্যবসা ছিল। ভালো সুবিধা করে ফেলেছিলেন। মোবাইল রিচার্জ এর ব্যবসা সাথে সংযুক্ত করে ৬ মাসের মাথায় দোকান বিক্রি করে বিদেশ চলে গেছেন; এরকম সুরুজ মিয়া তার দীর্ঘদিনের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। জুবায়ের আহমেদ তার বড় ব্যবসার সাথে ফেক্সির ব্যবসাও
জমজমাট ছিল। বর্তমানে তিনি রিচার্জ ব্যবসায় সময় কম দেন। তার অভিযোগ এতে পোষায় না।

মোবাইল কোম্পানীগুলো আমাদের তরুন সমাজের মেধা শ্রমকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। তারা বেকারত্বের সুযোগ নিয়েএ থেকে পায়দা লুটে নিচ্ছে। মোবাইল কোম্পানীগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, লিপলেট সহ যাবতীয় কাজে ব্যয় করছে। অনেক দামি লিপলেট আছে যেগুলো দোকানে এনে ফেলে রাখে যা অতিরিক্ত কাগজ হিসেবে ফেলে রাখা হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তারা হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করলেও ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়াতে অনিহা। এখানে সরকারের নজরদারির নেই এই সুযোগটি তারা নিচ্ছে বলে ব্যবসায়িরা অভিযোগ করেছেন। কারণ মোবাইল কোম্পানী গুলো দুর্ণীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ মাথার গাম পায়ে ফেলে যারা এ ব্যবসায় নিরলস শ্রম দিয়ে যাচেছ তাদের ১০ বছর আগের কমিশন এখন পর্যন্ত বহাল রেখেছে। এটি অমানবিক। টেলিটক, সিটিসেল, একটেল (বর্তমান এয়ারটেল) অন্যান্য কোম্পানীর চেয়ে বেশি কমিশন দিলেও তারা বর্তমানে তা কমিয়ে অন্যদের সাথে সামঞ্জস্য করেছ। বিশেষ করে গ্রামীণ ফোণ কোম্পানীকে মানদন্ড ধরে অন্য কোম্পানী গুলো তাদের কমিশন নির্ধারণ করে।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান- মোবাইল কোম্পানীগুলো অনেক রকম বিজ্ঞাপন দিলে রিচার্জ সম্পর্কিত সচেতনতা মূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করেন না- যেমন, অনেক সময় নেটওয়ার্ক জ্যাম থাকলে টাকা একটু পরে যায় আবার টাকা আগে যায় পরে ম্যাসেজ যায়, আবার অনেকে আছেন নাম্বার মুখস্ত রাখতে পারেন না, তার নাম্বার বের করে দিতে হয়, অনেকে আছেন উচ্চারণ গত সমস্যার কারণে উচ্চারণ ভূল হয় সেক্ষেত্রে লেখা নাম্বারটিও ভুল হয় তিনি তা না দেখে তাড়াহুড়ো করে ছলে যান। ফলশ্রতিতে টাকা অন্য নাম্বারে চলে যায়। দোকানীদের সাথে এসব বিষয়ে প্রায়ই জগড়া হয়। সেজন্য গ্রাহকদের সচেতন করার জন্য অনেক দোকানে লেখা দেখা গেছে-
* আপনার দেয়া নাম্বারটি যাচাই করুন।
* যাচাই ব্যতীত নাম্বারে টাকা পাঠাতে ভুল হলে দোকান মালিক দায়ী নন।
* দ্রুত রিচার্জ সুবিধা পেতে ভুল হলে দোকান মালিক দায়ী নন।

একটি সিমকার্ড এ সরকারকে ভ্যাট দিয়ে মোবাইল কোম্পানীর খরচ প্রায় ২০০০/- (দুই হাজার) টাকার উপরে। কিন্তু তারা সেই সিম কার্ড বিক্রি করে এক শত বা তার কম দামে। তার উপরে আবার বোনাস টক টাইম থাকে ১০০-২০০ টাকা মত এ ছাড়া আরো অনেক লোভনীয় অপার থাকে।

ব্যবসায়িদের সাথে আলাপ করে জানা যায় যে, এই ব্যবসাটির প্রতি তরুণ সমাজের চাহিদা অনেক। তারা প্রথমে জানে না এতে কি পরিমাণ লাভ হয় কিন্তু কিছু দিন ব্যবসা করার পর তারা ঋণগ্রস্থ হয়ে ব্যবসাটি ছেড়ে দেয়। বেকারত্ব ঘুচাতে এসে আবার বেকার হয়ে পড়া এবং তার উপর ঋণের বোঝা সমাজে অসৎ পথে পরিচালিত হতে সহায়তা করছে। এরকম ভাবে মাছুম তার ব্যবসাটি শুরু করার এক মাসের মাথায় ঋণ গ্রস্থ হয়ে ছেড়ে দেয়। তাছাড়া এ সিম পেতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয় এবং অনেক সময় ঘুষ পর্যন্ত দিতে হয়।

অনেক জায়গায় দেখা যায় যে, লাভ কম হয় বলে ১০, ২০,৩০ টাকা রিচার্জে অতিরিক্ত ১/- টাকা নেয়া হয় গ্রাহকদের কাছ থেকে। এতে করে দোকানদারদের সাথে গ্রাহকের প্রায় প্রতিনিয়ত ঝগড়া হয়, এমনকি অনেক জায়গায় ব্যাপক ভাবে সংঘর্ষও হয়েছে।




সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×