somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনূদিত জেনগল্প ১৩ : অপমানের পুরস্কার

০৯ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদা এক দেশে ছিলেন একজন মহান যোদ্ধা। বার্ধক্যপীড়িত হলেও তিনি যেকোনো প্রতিযোগীকে যুদ্ধে হারাতে সক্ষম ছিলেন। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল ওই ভূমির সর্বত্র, এমনকি দূরদূরান্ত অবধি। অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছে ভিড় জমাতেন যুদ্ধকৌশল শিখবার জন্য।

একদিন ওই গ্রামে এক অখ্যাত তরুণ যোদ্ধার আবির্ভাব ঘটল। সে পণ করল, সেই-ই হবে প্রথম ব্যক্তি যে ওই বৃদ্ধকে পরাজিত করবে। শক্তি-সামর্থ্যের পাশাপাশি তার ছিল যেকোনো প্রতিপক্ষকে কালিমা দিয়ে স্বার্থোদ্ধার করবার এক ভূতুড়ে ক্ষমতা। সে অপেক্ষা করত প্রতিপক্ষের প্রথম পদেক্ষেপের। এরপরই সে বিদ্যুৎগতিতে দুর্বিনীত আক্রমণ চালিয়ে তাকে দুর্বল করে দিত। প্রথম পর্যায়ের পরে তার সাথে কখনো কোনো যোদ্ধাই আর টিকে থাকতে পারত না।

ওই তরুণ বিষয়ে অবহিত তাঁর ছাত্রদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বৃদ্ধ শিক্ষক হাসিমুখে তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। শুরুতেই তরুণ যোদ্ধা বৃদ্ধ শিক্ষককে প্রবল টিটকারি করতে লাগল। সে এমনকি তাঁর মুখে ময়লা ও থুথু পর্যন্ত নিক্ষেপ করল। ঘণ্টাকালব্যাপী ওই তরুণ মানুষের জানাশোনার মধ্যে যতরকম গালি আছে, তা প্রয়োগ করে তাঁকে অপদস্থ করল। কিন্তু বৃদ্ধ শিক্ষক নির্বিকার চিত্তে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। একসময় তরুণ যোদ্ধার উদ্যম ফুরিয়ে এলে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। তারই হার হয়েছে এটা বুঝতে পেরে তরুণটি লজ্জায় অধোবদন হয়ে চলে গেল।

নিশ্চয়ই আপত্তিকর কিছু একটা ঘটেছে, যেজন্য তিনি এহেন দুর্বিনীত তরুণের সাথেও যুদ্ধ করলেন না--- এই ভেবে তাঁর সমস্ত ছাত্র তাঁকে ঘিরে ধরল ও জানতে চাইল, 'আপনি কীভাবে এত অপমান সহ্য করতে পারলেন ? কীভাবেই-বা আপনি তাকে দূরে ঠেলে দিলেন ?

'যদি কেউ তোমাকে কোনো উপঢৌকন দিতে আসে এবং তুমি যদি সেটা গ্রহণ না কর, তাহলে ওই জিনিসের মালিকানা তার নিজেরই হয়।' বৃদ্ধ শিক্ষক জবাব দিলেন।

অনুবাদ : জেন সাধু

এ গল্প থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই ?

১.

২.

৩.

৪.

৫.



সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:০৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×