আমার দিনলিপি

আমার প্রিয় পোস্ট

profile image
জেনকে বোঝা কঠিন, এর মানে এটা বোঝা যে এটা বোঝার জন্য নয় ; জেনকে বোঝা সহজ, এর মানে এটা না-বোঝাই হলো এটাকে বোঝা। 

ওইপার

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৫

একদা এক বৌদ্ধ তরুণ গৃহে প্রত্যাবর্তনের পথে প্রশস্ত এক নদীর তীরে এসে পৌঁছাল। নিরাশাকরোজ্জ্বল মনে সম্মুখস্থিত বৃহৎ প্রতিবন্ধকতার পানে বিস্ফারিত নয়নে তাকিয়ে সে ঘণ্টাকালব্যাপী ভেবে উঠল যে, কী বিশেষ উপায়ে সে এত বড়ো বাধাটি ডিঙোবে। কিন্তু নিরুপায় সে যখন ভ্রমণেচ্ছা সাঙ্গ করবার সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেল, তখনই নদীর ওইপারে এক মহজ্জনকে...

পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

এক টুকরো সত্য

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৩

একদিন মারা নামের এক দুর্বত্ত তার পরিচারকসহ গ্রামবাসীদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সে হণ্টনধ্যানরত এক লোককে দেখল, যার মুখে পানোন্মত্ত বিস্ময়, যে কিনা তক্ষুনি মাত্র সামনে মাটিতে কিছু একটা খুঁজে পেয়েছে। ‘ওটা কী?’, পরিচারক জানতে চাইলে মারা বলল, ‘এক টুকরো সত্য’।

‘কেউ একজন কোনো সত্য খুঁজে পেলে একজন দুষ্টলোক হিসেবে আপনি কি...

পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

কিছুই নেই

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৯

ইয়ামাওকা তেসু নামের এক তরুণ জেনছাত্র এক শিক্ষক থেকে আরেক শিক্ষকের কাছে ছুটে বেড়াচ্ছিল। একদিন সে শকোকু মন্দিরে গুরু ডকুওনের নিকট হাজির হলো।

নিজের সিদ্ধির প্রমাণ দিতে সে বলল, ‘সর্বোপরি মন, বুদ্ধ ও চেতন প্রাণী বলতে কিছুই নেই। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্যের প্রকৃতি হলো শূন্যতা। কোনো বাস্তবোপলব্ধি নেই, প্রবঞ্চনা নেই, পরমজ্ঞানী নেই, নেই...

পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

প্রাণীর স্বভাব

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৯

দুজন ভিক্ষু নদীতে তাদের গামলা ধৌত করার সময় একটি বিছাকে জলে ডুবে যেতে দেখলেন। একজন দ্রুত বিছাটিকে তুলে তীরে রেখে এলেন। এ কাজ করতে গিয়ে ভিক্ষু হুলের গুতাও খেলেন। ফিরে এসে তিনি গামলা ধোয়ায় মন দিলে আবারো বিছাটিকে ডুবে যেতে দেখলেন। আবারও ভিক্ষু বিছাটিকে রক্ষা করলেন এবং পুনর্বার হুলের গুতা...

পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

অনূদিত জেনগল্প ৩৪ : অকেজো জীবন

১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৩

এক কৃষক দিনে দিনে এমনই বুড়িয়ে যান যে মাঠের কাজে যোগ দেবার সক্ষমতা পুরোপুরিই হারিয়ে ফেলেন। তিনি তাঁর সময় কাটাতে থাকেন কেবল বারান্দায় বসে থেকে। তাঁর পুত্র মাঠে কাজ করতে করতে মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখে যে বুড়ো বারান্দায় বসে আছেন তো আছেনই। পুত্র নিজে নিজেই ভাবে, 'ব্যাটা একদম অকেজো অইয়া...

পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

অনূদিত জেনগল্প ৩৩ : সরাইখানা

২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:২৭

এক প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক একদিন রাজপ্রাসাদের সদর দরজায় এসে পৌঁছলেন। কোনো দ্বাররক্ষকই তাঁকে থামাবার চেষ্টা করল না। তিনি তাঁর ইচ্ছেমতো ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং সোজা সিংহাসনে আসীন রাজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

রাজা তৎক্ষণাৎ তাঁকে চিনতে পেরে বললেন, 'আপনার জন্যে আমি কী করতে পারি ?'

'আমি এই সরাইখানায় খানিক বিশ্রাম নিতে চাই', সাধক...

পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

অনূদিত জেনগল্প ৩২ : বাগানে একটি কচ্ছপ

২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫৮

দাইজুর মঠে এক ভিক্ষু একটি কচ্ছপ দেখতে পেয়ে দাইজুকে জিজ্ঞেস করল, 'সকল জীবই তাদের হাড় ঢেকে রাখে মাংস ও ত্বক দিয়ে। কিন্তু এই জীবটি কেন তার মাংস ও ত্বক হাড় দিয়ে ঢেকে রাখে?' দাইজু তাঁর পা থেকে একটি স্যান্ডেল খুলে নিলেন এবং কচ্ছপটিকে তা দিয়ে ঢেকে দিলেন।

পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

অনূদিত জেনগল্প ৩১ : ভালোবাসলে মন খুলে বাসো

১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫০

বিশজন ভিক্ষু ও এশুন নাম্নী একজন সন্ন্যাসিনী কোনো এক জেনগুরুর সাথে দলীয়ভাবে ধ্যানচর্চা করত।

এশুন ছিল খুবই সুদর্শনা, যদিও তার মাথা ছিল কামানো এবং পোশাক সাদাসিধে। ভিক্ষুদের কয়েকজন গোপনে তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন তো ব্যক্তিগত সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়ে রীতিমতো এক প্রেমপত্রই লিখে বসে।

এশুন এ পত্রের কোনোই জবাব দেয়...

পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

অনূদিত জেনগল্প ৩০ : ঈশ্বরের খোঁজে

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৩

নদীতীরে ধ্যানস্থ থাকা অবস্থায় এক নির্জনবাসী সন্ন্যাসীকে এক যুবক প্রস্তাব দেয় যে, 'আমি আপনার শিষ্য হতে চাই।' 'কী হেতু ?', সন্ন্যাসী জানতে চান। যুবক মুহূর্তখানেক ভেবে বলে, '...কারণ আমি ঈশ্বরকে খুঁজে পেতে চাই।'

সন্ন্যাসী লাফ দিয়ে উঠে যুবকটির ঘাড় ধরে এক ধাক্কায় নদীতে ফেলে দেন এবং মাথাটা পানির নিচে চুবিয়ে...

পোস্টটি ৮ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

অনূদিত জেনগল্প ২৯ : অকুতোভয়

২০ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:২৯

জাপানের সামন্ত শাসনকালে যখন গৃহযুদ্ধ (১৮৬৩-১৮৬৮) চলছিল, তখন সহসাই এক দখলদার বাহিনী এক শহরে প্রবেশ করে শহরের নিয়ন্ত্রণ করায়ত্ত করে নিল। কেবল জেনগুরুকে বাদ দিয়ে ওই শহরের একটি নির্দিষ্ট মহল্লার সব মানুষ সেনাপ্রবেশের পূর্বেই নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেল। বৃদ্ধ জেনগুরুর কেমন বুকের পাটা তা দেখতে জেনারেল স্বয়ং জেনমন্দিরে গিয়ে হাজির...

পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি



    পরের পাতা >>

 


মিতভাষী

ব্লগার পরিসংখ্যান

  • পোস্ট করেছেন: ৪২টি
  • মন্তব্য করেছেন: ১২৪টি
  • মন্তব্য পেয়েছেন: ১৮২টি
  • ব্লগ লিখেছেন:  ২ বছর ৪ মাস
  • ব্লগটি মোট  ২০০১৭ বার দেখা হয়েছে

সাম্প্রতিক মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্য করেছি

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

মোট সময় লেগেছে ১.৫৬২৮ সেকেন্ড