শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে একটি মামলা অব্যাহত থাকবে। তবে এ মামলাটি সকল আসামীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে না। শুধু সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে। আমরা সবাই আশা করেছিলাম, আজকের মধ্যে সকল মামলার অবসান হবে। ক্যাম্পাসে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। কিন্তু এ ঘোষণার পর আবারও অজানা শংকা বেজে উঠলো। ক্যাম্পাসে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে কি না সে নিয়ে সন্দেহের ডালপালা আবার গজাতে শুরু করলো। একই সাথে হোসেন জিল্লুর রহমানের মতো তারকা অর্থনীতিবিদের জন্যও ভেবে শংকিত হলাম। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি স্পর্শ কাতর জায়গা। এ জায়গাটিকে বুঝতে না পারার দায়টা কেন যেন বইতে হয়। খুব ভালভাবে। এড়াবার উপায় থাকে না..........
শিক্ষা উপদেষ্টা দায়িত্ব নিয়েই বলেছিলেন, খুব দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা হবে। এবং অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য সম্মানজনকভাবে। নতুন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও একই কথা বলেছেন। সেসব বক্তব্য শুনে আমরা খুব আশান্বিত হয়েছিলাম। শিক্ষা উপদেষ্টার এ ধরনের ঘোষণার কুটকৌশলমূলক বিরুধীতায় মত্ত হয়েছিল শুধু মাত্র জামাত-শিবির সমর্থক মিডিয়াগুলো। এ একটি মাত্র বিষয়নিয়ে আইনের শাসনের কার্যকারিতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নানা কুট প্রশ্ন তুলেছিল। অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সহ গোটা জাতি চেয়েছিল এবং এখনও চাচ্ছে বিষয়টির দ্রুত সমাধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি। যে পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারও তার অন্য সব গুরুত্বপূর্ণ কাজে অনেক বেশি মনোনিবেশ করতে পারবে। কিন্তু সবার প্রত্যাশার বাইরে যে রায় হয়েছে এবং দ্রুত গতিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষকদের মুক্তি দেয়া হয়েছে তাতে সবাই হতাশ হয়েছে। সরকারের যদি পরিকল্পনাই থেকে থাকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আদেশের মাধ্যমে তাদের মুক্তি দেয়া হবে তাহলে সরকার আগেই এ মামলার কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে পারতো এটাই অভিজ্ঞজনদের অভিমত। তাছাড়া যে রাষ্ট্রপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদ ছিনতাইয়ের মাধ্যমে গোটা জাতিকে আজাকের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছেন সে রকম একজন মানুষের কাছ থেকে ক্ষমা নেয়ার বিষয়টিও ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় ও গোটা জাতির জন্য সম্মানজনক নয়। ফলে এ বিষয়টি একটি কালিমা হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
আমরা বিশ্বাস করতে চাই শিক্ষা উপদেষ্টা আন্তরিকতার সাথে এবং গভীর বিশ্বাসের সাথেই আগের ঘোষণাটি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার গতকালের ঘোষণা আমাদের হতাশ করেছে। আমরা ক্ষব্ধও হয়েছি। আমরা জানি না ইতোমধ্যে এমনকি হয়েছে যার ফলে সরকারকে আবার এ মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রবাহের গতি পথ আবার নতুন কোন সংকটটের দিকে এগুচ্ছে কি না এ প্রশ্নটি আবার নতুন ভাবে দেখা দিয়েছে। যা আমরা কোন ভাবে চাই না। চাইতে পারি না। শিক্ষা উপদেষ্ট নিশ্চই বিষয়টি উপলব্দী করতে সক্ষম হবেন। সরকারের অন্যান্য নীতি নির্ধারকরাও বুঝতে পারবেন। সে আশাই করছি। এতে সামগ্রিকভাবে সরকারই লাভবান হবে। এ সরকারের সফলতা আমরা সবাই মিলে দেখতে চাই একটি গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। গোটা জাতি সে অপক্ষোই আছে। আর সে জন্যই প্রয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংকটের দ্রুত অবসান।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



