এক.
আজ ৮ মার্চ। বিশ্ব নারী দিবস। সারা বিশ্বে ঘটা করে পালিত হচ্ছে দিনটি। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। শহর-গ্রামে সবখানে সরকারি ভাবে, বেসবরকারিভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। পত্রিকাগুলোও বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। দেখে মনে হচ্ছে নারী মুক্তির পথটি অনেকখানি এগিয়েছে। হয়তো এগিয়েছে! কিন্তু কতখানি?
দুই.
এ কতখানি প্রশ্নটি করার কারণ গতকালের মসজিদে মসজিদে ইমামদের বয়ান। আমার বাসা থেকে অন্তত চারটি মসজিদের ইমামের বয়ান শোনা যায়। ইচ্ছে-অনিচ্ছায় এ বয়ানগুলো আমাকে শুনতে হয়। মাঝে মাঝে আগ্রহসহকারে শুনি। গতকালও শুনেছি। চারটি মসজিদেই ইমামের বয়ানের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল-নারীর উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে সমান অধিকার সম্পর্কিত উপদেষ্টা পরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি। যেখানে ইমামবৃন্দ সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার থাকা কেন যৌক্তিক নয় তা তুলে ধরেছেন। শুধু তুলে ধরেই ক্ষান্ত থাকেন নি। উপস্থিত মুসল্লীদের কাছ থেকে তাদের মতের স্বপক্ষে সম্মতিও আদায় করেছেন। বর্তমান সরকার এ রকম একটি কাজ করে 'নাজায়েজ' কাজ করেছেন বলতেও দ্বিধা করেন নি। এ সব যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে তাঁরা মূলত নারী-পুরুষের জৈবিক পার্থক্যগুলোর প্রতি প্রধানত: আলোক পাত করেছেন। পুরুষ নারীর চেয়ে শক্তিশালী, নারী মাঠে-ঘাটে কাজ করে না ইত্যাদি। পুরুষ নারীর চেয়ে শক্তিশালী কিনা এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে ইমাম সাহেবের বয়ান শুনে মনে হয়েছে, পৃথিবীতে হাতির শাসনই যুক্তিযুক্ত। কারন গায়ে-গতরে হাতি মানুষের চেয়েও শক্তিশালী। তাছাড়া পরিবারে যে ভাইটি অন্য ভাইয়ের চেয়ে শক্তিশালী তারও বেশি সম্পত্তি পাওয়া উচিত উক্ত ইমাম সাহেবদের বয়ান অনুযায়ী। তাঁদের পুরো আলোচনায় যত খানি যুক্তি ছিল তার চেয়ে বেশি ছিল একটি আরোপিত সিদ্ধান্তকে বিনা বাক্যে মেনে নেওয়া। আমি জানি না। তবে ধারণা করছি, অন্যান্য ইমাম সাহেবরাও হয়তো একই কায়দায় নারীর উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে সমান অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এবং একই বক্তব্য দিয়েছেন। একই সাথে ধর্মের কথা বলে উপদেষ্টা পরিষদের এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করছেন।
তিন.
একটি অভিন্ন পারিবারিক আইনের জন্য এ দেশের নারী সমাজ এবং নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাসী পুরুষরাও দীর্ঘ দিন আন্দোলন করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা মনে করি উপদেষ্টা পরিষদ এ সিদ্ধান্তুটি নিয়েছে। আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। একই সাথে এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে যারা বিভিন্ন ভাবে অপ্রচার চালাচ্ছে সে প্রক্রিয়াটিরও তীব্র প্রতিবাদ জানাই। প্রথম আলোর সংবাদ সূত্রে আমরা দেখতে পেয়েছি, ইতোমধ্যে ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী জামাতও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ধর্মের মোড়াকে নারী সমাজের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসলটি যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সে দিকে খেয়াল রাখার জন্য আজ ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে সবাইকে অনুরোধ করছি।
সবাইকে বিশ্ব নারী দিবসের শুভেচ্ছা............................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



