অপু আর আমি - 1
২৯ শে জুলাই, ২০০৬ দুপুর ২:০৩
অপু আর আমার প্রথম কবে দেখা হয় মনে নেই। ইনজিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের প্ল্লেগ্রুপের প্রথম ক্লাসে হয়ত। সেটার কোন স্মৃুতি নেই, থাকার ঠিক কথাও না। তারও বেশ পরে, হয়ত ক্লাস টু বা থ্রিতে ভাল ছবি আঁকিয়ে হিসেবে ওর পরিচিতি বাড়ল। একবার আমার একটা ছোট্ট Bunny মাথার ক্লিপের ছবি এঁকে দিয়েছিল মনে আছে। আরেকবার একটা বাঘের ছবি, আরো একবার একটা সিল মাছ। এরপর ক্লাস ফোরে এসে যখন দু'জনেই ক্লাস ক্যাপ্টেন হিসেবে বন্ধুত্ব বাড়ল, তখনকার একটা ঘটনা আমার ছোট্ট মনে খুব দাগ কাটল। কোন ডিসপ্লের জন্য অপু সেবার সাদা রঙের কাগজের কতগুলো পাখি বানিয়েছিল। ডিসপ্লে শেষে সেগুলো সবাই কাড়াকাড়ি করে নিয়ে নিল - আমি একটাও পেলাম না। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। অপু কি ভাবল কে জানে! পরদিন ক্লাসের এক ফাঁকে আমাকে একটা খুব সুন্দর না না রঙ করা একটা পাখি দিল। অন্যগুলোর থেকে ভিন্ন, অনেক বেশি সুন্দর। That is the first time anyone had ever made me feel special. পাখিটা আর সিল মাছের ছবিটা এখনো আমার কাছে আছে।
অপু বরাবরই অন্যদের থেকে অন্যরকম ছিল। ছবি আঁকত দুর্দান্ত। আমাদের কাছে সে সময় সেটা বেশ একটা বড় ব্যাপার ছিল। ড্রয়িং এর নাম্বার দিয়ে প্রতি পরীক্ষাতেই বেশ ফাটিয়ে দিত। চুপচাপ নিজের মত থাকে। ক্লাস ফোরে হঠাৎ কি হল - একটা দেয়াল পত্রিকা শুরু করল। নামেই দেয়াল পত্রিকা - বাস্তবে এক পেইজের মধ্যে কিছু ছড়া, কার্টুন আর জানার কথা।নাম ছিল 'হাসি'। নিজেই সেটার ছবি আঁকত আর হাতে লিখত। সেটায় লেখা দেবার জন্য তখন আমাদের সে কি উৎসাহ!
ওর সাথে বেশ বন্ধুত্ব হল সেবার। আমরা দু'জন ভীষণ অন্যরকম। আমি অতি চঞ্চল, কোনখানেই এক মিনিটও চুপ করে বা স্থির হয়ে থাকতে পারি না - আর অপু পুরো উলটা, নিজের মত চুপচাপ আছে যেন বোমা মারলেও কোন পরিবর্তন হবে না। একবার একসাথে রাশান কালচারাল সেন্টারে গিয়েছিলাম একটা চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায়, সাথে আরো দু'জন বন্ধু। বেশ মজা হয়েছিল।
ক্লাস ফোরের পরে আবার হঠাৎ একটা গ্যাপ। কেন মনে নেই। বন্ধুত্ব আবার জোড়া লাগল ক্লাস সেভেনে গিয়ে, 1991 সালে। সে সময়টা খুব ইন্টারেস্টিং একটা সময় ছিল। ঐ সময় নানা ব্যান্ডের আত্মপ্রকাশ আমাদের বন্ধুত্বে একটা বড় ভূমিকা রেখেছিল। অদ্ভুত একটা সময়!
সে গল্প আরেক দিন।
[ছবি: 2004 সালের 21শে ফেব্রুয়ারি, আর্ট কলেজ, ঢাকা। স্কুল জীবনের সব ছবি ঢাকায় রয়ে গেছে।]
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:৩৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অরূপ বলেছেন:
হমম..
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
আচ্ছা এই পোষ্টটার কোন নাম নেই কেন?
মাশীদ বলেছেন:
হা হা ! হাত সুন্দর নাকি? থ্যাংক য়ু।এখন দু'জনেই somewhereinblog এ আছি।
নামটা ভুলবশত বাদ পড়েছিল বলে দু:খিত।
কালপুরুষ বলেছেন:
ভবাল লাগলো পড়ে। প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে,
আমার'ই দুয়ারো প্রান্তে..
সেতো হায় মৃদু পায়...
এসেছিল পারিনি তা জানতে....
প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে....
হাসান বলেছেন:
আর পারছি না গুরুসেই নর্াসারী থেকে শুরু ...
এত অল্প লিখলে চলবে, বেশি বেশি করে লিখতে হবে।
অতিথি বলেছেন:
খাইছে ।
অতিথি বলেছেন:
সুন্দর লেখা ,ভাল লাগল।
অঃরঃপিঃ বলেছেন:
তুই তো পিচ্চি কালেই ট্যাটনা আছিলি, অপুর মতো ভালো মানুষটার মাথা তখন থাইকাই চিবাইসছ
ওই বয়সেই ব্যাপক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। তোরতো বিসিএস দিয়া প্ল্যানিং কমিশনে চাকরি নেয়া উচিত আছিল
হযবরল বলেছেন:
শিশুকাল ছিল ভাল, যৌবন কেন আসিল ও ও.......।চোখ খুলবার পর থেকে তোমাকেই দেখেছি, এখনো দেখেই যাই তোমাকে।
জটিল প্রেমের, কঠিন লেখা।
অতিথি বলেছেন:
অপু এখন কোথায় মাশীদ আপু। আমারো স্কুল ফ্রেন্ডদের খুব ভালো লাগে, বড় হয়ে গেছি, তারপরও ওদের কথা িভাবি। খুব ভালো লাগল।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
এত আগে থেকে পরিচয়! তোমরা ইচ্ছা করলেই সুপার গ্লু-র মডেল হতে পারো। এত লম্বা সময় ধরে জোড়া লেগে থাকার রহস্য কি?
অতিথি বলেছেন:
আপনার লেখা পড়ে আমারও লিখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু তার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ক্লাস সিক্স-এ। এখন কোথায় আছে জানিনা।বেশ ভালো লাগলো আপনার লেখা। পুরাতন কিছু মনে পড়ে গেল হঠাৎ করে।
অতিথি বলেছেন:
উপরওয়ালা যাকে দেয়, ছপ্পড় ফুঁড়ে দেয়। ঔং নমঃ নমঃ শান্তি শান্তি। পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখি হোক।
অতিথি বলেছেন:
মাশীদ, আপনার লেখা পড়েই কিছু লাইন মিলে ছোট্ট একটা কবিতা হয়ে গেলো। তাই হঠাৎ-2 আপনাকে দিলাম।
ঝরা পাতা বলেছেন:
অপু ভাই!!!!!!!!!!!! ছুপা রুস্তমমমমম!!!!!!!!!!!! মধু চোরা া া া া া া া া াা ...............................
অরূপ বলেছেন:
হে হে হে...
ভাসমান বলেছেন:
আমি একটা ছিনেমা বানামু ভাবতাছি এই গল্প দিয়া। নাম দিমু পিরিতের আঠালের কাটা।নয়িকারা এপ্লাই করেন। নায়ক আমি নিজেই।
অতিথি বলেছেন:
ভাসমান 1:1 প্রেম কাহিনিতে কয়টা নায়িকা লাগবো?মাশিদ আপু, অপু ভাই খুব ভাল লাগলো। আপনাদের দুইজন শুভেচ্ছা।
দয়া কইরা "হুমমমম" টা বাদ দিলে হয়না
ধানসিঁড়ি বলেছেন:
এতো দিন পর এলেন, আপনি এতো নিষ্ঠুর কেন? নাকি অপুদার সাথে যেমন ক্লাস ফোর থেকে সেভেন পর্যন্ত লুকোচুরি খেলেছেন তেমনি সামহোয়ারেও বহুদিন পরে পরে হানা দেন।অনেকেই আপনার অভাবটা তীব্রভাবে অনুভব করি।
অপুদা সহ আসুন না নিয়মিত আবার।
অতিথি বলেছেন:
ব্লগের মিষ্টি কাপলটার মিষ্টি কাহিনী ... চমৎকার!!তো, অরূপ বাবু,
আপনার ভার্সনটাও তো পড়ার ইচ্ছে হয় ...
অতিথি বলেছেন:
আমি সেকেন্ড করছি টু সাইডস অফ আ লাভ স্টোরী । আসলেই বেশ ইন্টারেস্টিং হবে ।
কাশফুল বলেছেন:
অনেকদিন পর কেমন আছেন ?
পোষ্টটি পড়ার পর হারিয়ে গিয়েছিলাম স্কুল জীবনের নীল রংয়ের এক স্মৃতিতে । একদিন ক্লাশে সবাই জেদ ধরল রেজালট ভালো করায় চকলেট খাওয়াতে । যে বেশি জেদ ধরেছিল সে আমার খুবই প্রিয় একজন । অথচ তার ভাগ্যে চকলেট আর জুটলোনা । অনেকেই ওকে চকলেট দিতে চাইলো কিন্তু ও আর নিলোনা । আমিতো ওখানেই শেষ । কত বুঝালাম আর কাজ হলোনা । এই যে কথা বন্ধ করল স্কুলের বিদায় দিনেও ওর সাথে আর কথা বলতে পারলামনা । আশা করি ভালোই আছে । এবার দেশে গেলে চেষ্টা করব কথা বলার । হয়ত এতদিন পর শান্ত আগের মত অশান্ত হয়ে উঠবেনা ।
অনেক ধন্যবাদ এরকম একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য । পরবর্তী পোষ্টের অপেক্ষায়..............
অতিথি বলেছেন:
ওরে বাবা, এত লম্বা প্রেম? এই পোস্ট পড়ে মনে হল, পৃথিবী আসলেই গোল! ভাল থেকেন সব সময়!
শাহানা বলেছেন:
দারুন তো, দুজন যে দুজনকে পছন্দ করেন সেটা খুব ছোট বেলা থেকেই টের পেয়েছিলেন।
মাশীদ বলেছেন:
ধন্যবাদ সবাই। সবার মন্তব্য পড়েই খুব মজা পেলাম। কাশফুল ভাই, আশা করি দেশে গেলে আবার কথা হবে। অপু আর আমারো এরকম প্রায়ই হত। কঠিন ঝগড়া আবার কঠিন ভাব। পরে লিখব সে সময়ের কথা।
আজকাল লেখার সময় তেমন পাই না। এমনিতেও মাথায় লিখবার মত তেমন কিছু আসে না। সবাই অনেক লেখে, তাই পড়ে আর মাঝে মাঝে কমেন্ট করেই তো দিবি্ব আছি!
অতিথি বলেছেন:
কালপুরুষ ভাই, ওদের ক্ষেত্রে গানটা একটু ভিন্ন হবে।প্রেম একবারই এসেছিল চুপ কইরা
আমাকে রাইকা গেছে কাইত কইরা!!
অতিথি বলেছেন:
ভালো লেখা। পড়েছি আগেই, মন্তব্য করতে দেরী হলো। পরবতর্ী কিস্তি গরম গরম পরিবেশন কর। বেশি দেরী করিস না।
সারিয়া তাসনিম বলেছেন:
তারপরে কি ?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














