সেকালে বিয়ে হত বর বধু টেরও পেতনা । উভয় পক্ষের মুরুব্বিরা দিন ক্ষণ ঠিক করত ।বিয়ের আগে ছেলে মেয়ে কেউ কাউকে দেখতওনা । মুরুব্বিরা দেখত ।সেযুগে বর কনে উভয়েই মা-বাবা কিংবা মুরুব্বিদের একান্ত বাধ্যগত ছিল । তাদের কথায় কত বেহুলা লখিন্দরের মত নির্গুণ স্বামীকে বরণ করে নিয়েছে । বেছে নিয়েছে নিশ্চিত গ্লানির জীবন । আবার অনেকে লোহার চাল দিয়ে ভাত রান্না করেছে । অনেকে বাঘ আর কুমিরের সাথে লড়াই করেছে ।
আমি অত আগের কাহিনী টানব না । আমি আমাদের সমসাময়িক এবং পরবর্তি সময় মিলিয়ে বিয়ের তিনকাল বর্ণনা করব । আসুন আমরা সংক্ষেপে দেখে নেই বিয়ের তিনকাল ।
১.
পাত্র পক্ষ পাত্রসহ পাত্রী দেখত । নানান কিসিমের প্রশ্ন করত ।পাত্রী পছন্দ হলেই বিয়ে । পাত্রকে পাত্রীর পছন্দ হল কিনা এ ধরনের কোন বিষয়ই সে সময় ছিলনা । অর্থাৎ পরীক্ষার সম্মুখীন হত শুধু পাত্রী ।মৌখিক পরীক্ষা । কখনো প্রায়োগিক পরীক্ষাও দিতে হতো । যেমন- একটু হেটে দেখাওতো ! এটা ওটা রেঁধে খাওয়াওতো ! ইত্যাদি ।
২.
এর পরের কাল চলছে এখন । পাত্ররা যেমন পাত্রীর পরীক্ষা নেয় পাত্রীরাও পাত্রের পরীক্ষা নেয় ।এখন আর প্রায়োগিক পরীক্ষায় কাউকে পড়তে হয়না ।এখন পরীক্ষা হয় মৌখিক এবং লিখিত । রিখীত পরীক্ষায় পাশ হলে তবেই মৌখিক পরীক্ষা । অর্থাৎ সুন্দর করে একটা বায়োডাটা বানাতে হয় । পাশাপাশি একটা চমৎকার ছবি থাকা চাই ।এই লিখিত পরীক্ষায় যখন পাশ মিলে তখন আসে দেখার পালা । বাসায় কিংবা কোন রেস্টুরেন্টে চলে দেখা পর্ব ।ও হ্যাঁ , লিখীত পরীক্ষায় কিন্তু উভয়কেই পাশ করতে হয় (মোটামুটি শিক্ষিত পরিবারে)।সাক্ষাতে যদি পছন্দ হয়- অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষায় যদি পাশ মেলে তাহলে বর কনে দুজনের মধ্যে চলে কিছুদিন মৌখিক পরীক্ষার পালা । এভাবেই বর্তমানে অধিকাংশ বিয়ে সংঘটিত হচ্ছে ।
৩.
কিন্তু অবিভাবকেরা এতেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেননা ।কারণ বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্যভাবে ।তাহলে কেমন হবে ভবিষ্যতের বিবাহ ? আমার এক বন্ধু বলছেন, ভবিষ্যতে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা দিয়েই তবে বিয়ের পিড়িতে বসতে হবে ।তার মতে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষাটা হবে সেক্সুয়াল ।কারণ অনেককে দেখা যায় ঐ কর্মে সমস্যা আছে ।তবে আমি মনে করি ভবিষ্যতের বিয়ে কিন্তু একটা মহাযজ্ঞ সাধনের মতই ব্যাপার হবে ।যেমন-
ক. বিয়ের আগে বিভিন্ন ধরনের ব্লাড টেস্ট করতে হবে ।কোন ধরনের খারাপ কিছু পাওয়া গেলে বিয়ার ইচ্ছা খতম ।
খ. যন্ত্র মানব বা মানবীর সাথে কিংবা অন্য কোনভাবে ফিজিক্যাল ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে । অন্যথায় খায়েশে আয়েশ হবেনা ।আবার বিয়ে যেহেতু সন্তান উৎপাদনের একটি অন্যতম মাধ্যম তাই সেই ক্ষমতা আছে কিনা- সেটারও টেস্ট হতে পারে ।
গ.সংসার টিকবে নাকি ভেঙ্গে যাবে সে জন্য ছয় মাস বা এক বছরের ডেমো সংসার করা দরকার হতে পারে ।আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর বিশেষজ্ঞরা রায় দিবে যে, সে বিয়ে করার উপযুক্ত হয়েছে কিনা ! কিংবা তার পক্ষে আদৌ কোনদিন বিয়ে করা সম্ভব কিনা !
ঘ.বিয়ে করার ইচ্ছে হলেই কেউ বিয়ে করতে পারবেনা । তাকে এ জন্য দরখাস্ত করতে হবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বরাবর । সেই কর্তৃপক্ষ তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রেখে রায় দিবে তিনি বিবাহের যোগ্য । এই যোগ্যদের তালিকা থাকবে ।যোগ্যরা নিজেদের মধ্যে খোঁজ খবর নিয়ে নিজের পছন্দমত কাউকে বিয়ে করবে ।
আমি আমার জানা এবং ধারনা থেকে বললাম । এবার আপনারা বলতে শুরু করুন । দেখি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় বিয়ের ত্রিকাল দর্শন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




