তিন মাথাওয়ালা একটা সাপ ফোস করে উঠল। মাঝের মাথাটা একটু বড়। অনেকটা রাজহাঁসের গলার মত লম্বা। চোখটা চক চক করছে। Ñ স্বপ্নটা এ পর্যন্ত দেখার পর ঘুম ভাঙ্গে একরামুল ইসলামের। দু’তিনবার জোরে জোরে নি:শ্বাস নেয় সে। এক গ্লাস পানি এক ঢোকে গিলে ফেললেন। কিন্তু হঠাৎ করে এমন স্বপ্ন দেখার অর্থ কি?
মোবাইল জ্বালিয়ে সময় দেখল সে। রাত পৌনে ২টা। বারান্দায় গিয়ে বসে বসে বসে রাতের নিরবতা উপভোগ করা যায়। কিন্তু এসব আলগা বিলাসীতা তার পছন্দ না। সে কবি-লেখক না, পুলিশ। পুলিশের ওসি। যদিও এ কারনেই শুরূপার সঙ্গে তার মনমালিন্য চলছে।
শুরূপা কিছুতেই পুলিশের চাকুরী মেনে নিতে পারছে না। তাছাড়া পারবেই বা কেন? ওর বাবা শিল্পপতি ইরতাজ উদ্দিন আহমেদ। দুটো চা বাগান, একটা সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর মালিক। তার অধীনে হাজার হাজার কর্মী কাজ করে। তার মেয়ের জামাই হিসেবে সামান্য একজন পুলিশের ওসিকে মেনে নেয়া কঠিন।
শুরূপা বাবার সঙ্গে তার একবার দেখা হয়েছিল। শুরূপাই পরিচয় করে দিয়েছিল।
তেজগাঁয়ের আলীশান অফিস। আধুনিক ডেকোরেশনে সাজানো চেম্বার। এক পাশে এ্যাকুরিয়াম, অন্যপাশে বিশ্রামের সোফা। চেম্বারে এসির শব্দ ছাড়া কোন শব্দ নেই। সেখানে একরামুল বরই বেমানান।
চেম্বারে বসে পঞ্চাশউর্ধ্বো শিল্পপতি। পিছনে তার যুবক বয়সের ছবি। হাসি হাসি মুখে এলএমজির বাটন চাপছেন। বাঁধাই করা এ পুরোনো ছবির নিচে বড় বড় অক্ষরে লিখা মুক্তিযোদ্ধা শিল্পপতি ইরতাজ উদ্দিন আহমেদ, এল এল বি।
পাশে আরো একটা বাঁধাই। তার ছবি নয়। মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট। একটু দূরে একটা আধুনিক শোকেস। সেখানে অনেক শো-পিস রাখা। অধিকাংশই ক্রেস্ট। প্রধান অতিথিকে ফুলপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। ইছামতি পাঠ চক্রের পক্ষ থেকে অভিনন্দন, ইত্যাদি ইত্যাদি। মুক্তিযোদ্ধারা এত শুভেচ্ছা নেয় কেন কে জানে? তারা কি শুভেচ্ছা নেয়ার জন্য যুদ্ধ করেছিল? প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে পায় না একরামুল।
শুরূপার বাবার সঙ্গে কথা হয় পাঁচ মিনিট। ভদ্রলোক দ’ুএকটি শুকনা কথা বলার পর জরুরি মিটিংয়ে চলে যান। সে অসহায়ের মতো কোলড্রিংকস পান করে ফিরে আসে মেছ-এ।
এরপর দু’বছর চলে গেছে। ইতোমধ্যে একরামুল পুলিশের ওসি পদে যোগ দিয়েছে। ট্রেনিং নিয়েছে। চাকুরী করছেন রূপগঞ্জ থানায়।
শুরূপার সঙ্গে সম্পর্কটা খুব বেশি ভালো যাচ্ছে না তার। পুলিশের চাকুরী ছেড়ে দিতে বলে। চাকুরী ছেড়ে তার বাবার চা বাগানে যোগ দিতে হবে। কিন্তু একরামুল এটাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না।
মোবাইলে কথা হয় শুরূপার সঙ্গে। দেখা হয় খুব কম। পুলিশের চাকুরীতে সময় নেই। তারপরও সময় বাঁচিয়ে তার জন্য সময় আলাদা করে রাখে।
রূপগঞ্জ হাই স্কুলের পাশেই বনশ্রী খাল। ও পাশে ঝোপঝাড়। আজ দুপুরের ঘটনাটা ওখানেই শুরু।
মঈনুল নামের এক আট বছরে ছেলে বনশ্রী ঝোপে গিয়েছিল ভেরেণ্ডার বিচি সংগ্রহ করতে। সেখানে সে খুঁজে পায় মানুষের খুলি। খুলি হাতে মঈনুল হেটে হেটে বাজারে ঢুকলে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। বাজারের লোকজন তাকে ধরে বেঁধে রাখলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
মঈনুলকে থানায় এনে বেঁধে রাখে সেকেন্ড অফিসার। একরামুল এসপি সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল হেড কোয়ার্টারে। ফিরে দেখে এই অবস্থা। সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে তাখনই একচোট হয়ে যায় তার। সে বুঝতে পারে না পুলিশ হলে মানুষ এমন বদলে যায় কেন?
আট বছরের একটা ছেলেÑ হতে পারে সে অপরাধী। তাই বলে এমনভাবে তাকে মেরেছে যে নাক দিয়ে তখনো রক্ত ঝড়ছিল। বড্ড অবাক হয় একরামুল।
আমাদের দেশের এমন উদ্ভট ঘটনা কি করে ঘটে কে জানে। সেদিন পত্রিকায় দেখল দুধের শিশুর নামে চার্জশীট বেরিয়েছে। মরা ব্যক্তির নামে ওয়ারেন্ট জারি হয়। কি অদ্ভুত!
মঈনুলকে রুমে নিয়ে আসে সে। ছেলেটা খুব ভয় পেয়েছে। ওকে বিস্কুট চানাচুর খাওয়ায়। থানার অন্যরা আড়ালে এ নিয়ে হাসাহাসি করে। বিকেল ৪টায় একরামুল আসল ঘটনা জানতে পারে।
বিকেল ৫টায় একরামুল যায় বনশ্রী ঝোপে। ওখানেই খুঁজে পায় ইতিহাস। খবর ছড়ে যায় দ্রুত। সাংবাদিক, টিভি মিডিয়া, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ভিড় জমায়। সন্ধ্যার একটু আগে ইউএনও সাহেব টাই-স্যুট পড়ে টিভি চ্যানেলের সামনে বক্তব্য রাখলেন। বদ্ধভূমিতে কত শত মানুষ শহীদ হয়েছে। সেই ইতিহাসের বিষয়ে তিনি চিন্তিত নয়। বরং টিভি ক্যামেরায় তার সাক্ষাৎকার আসছেÑ এ কারণে তিনি আনন্দিত।
সন্ধ্যার পরপরই জানা গেল ইউএনও সাহেবের বাসায় ডায়নামোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। রাত্রে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। সেক্ষেত্রে তার সাক্ষাৎকার দেখা হবে না। তাই এত আয়োজন। তিনবার তিনি নিজে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করেছেন।
সন্ধ্যার পর থেকে খোড়াখুড়ি চলছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসছে। কেউ আসছে কৌতুহল মেটাতে, কেউ আসছে গুজব শুনে। অনেকের ধারনা এসব লাশের পাশে সাপের গর্ত থাকে। সর্পরাজ তার মহামূল্যবান মনি লুকিয়ে রাখে মানুষের মাথার খুলিতে।
মানুষের ভীড়ে পুরো বনশ্রী ঝোপ কানায় কানায় পূর্ন হয়ে গেছে। দুই প্লাটুন পুলিশেরও সামাল দেয়া যাচ্ছে না।
একজন মানুষ একটু দূরে দাড়িয়ে কাঁদছে। ওদের অনেকের বাবা, কারো ভাই, কারো চাচা ৭১-এর ডিসেম্বরে নিখোজ হয়। হয়তো এই বদ্ধভূমিতেই সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষ ঘুমিয়ে আছে। এত বছর পরও মানুষের নাড়ীর টান একটুও কমে যায়নি। চোখের জলের বঙ বদল হয়ে যায়নি। নিরবে ঝরে পড়ছে বোবা বৃষ্টির কান্না।
রমিছা বেগম নামের এক মহিলা মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে। তার স্বামীকে যুদ্ধের সময় ইরু মিয়া ধরে নিয়ে যায়। তারপর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রমিছা বেগম একপলক দেখতে চায় বদ্ধভূমির কঙ্কালগুলোকে। একরামুল নিজে তাকে বদ্ধভূমিতে নিয়ে যায়। পরে এসপি সাহেব এসেই অনেক রাগারাগি করেন তার সাথে। এমন একটা গুরুত্বপূর্ন ঘটনায় সামান্য একজন রমিছা বেগমের কি দাম আছে?
একরামুল এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মহিলার চোখের দিকে। তিন যুগ তিনি স্বামীর প্রতীক্ষ করছেন। তার জীবন যৌবন সবই চলে গেছে কালের মহাসমুদ্রে। হয়তো আজকের দিনের আগেও তিনি তার স্বামীর ফিরে আসার প্রতীক্ষা করতেন।
হাজার মানুষের ভীড়ে কত শত কথা। এই এলাকায় ইরু মিয়া বিড়ি বিক্রি করত। পড়ে পিযুষ বাবুর দোকানে কাজ নেয়। যুদ্ধের সময় পিযুষ বাবুকে মিলিটারীদের হাতে তুলে দিয়ে তার সব সম্পত্তি দখল করে। আবার কেউ বলে, ইরা মিয়া ছিল কসাই। বাজারে কসাইয়ের কাজ করত। তবে একাত্তরে সে রাজাকার ছিল এতে সবাই একমত। কিন্তু যুদ্ধের পর আর তাকে খুজে পাওয়া যায়নি।
এতবড় একটা হত্যাযজ্ঞের মূল নায়ক ইরু মিয়া। তাকে নিয়ে রূপগঞ্জ এলাকায় চলছে নানান গল্প গুজব। এলাকায় বিশিষ্ট মুুক্তিযোদ্ধারাও এসেছেন ঘটনাস্থলে। তাদের কাছেই প্রথম জানা গেল ইরু মিয়ার কথা।
ইরু মিয়া রূপগঞ্জ ছেড়েছেন অনেক আগে। শোনা যায় তিনি এখন অনেক বড় মানুষ। বিশিষ্ট শিল্পপতি। এলাকার সমাজ সেবক।
রাজাকার ইরু মিয়া নিয়ে শাহীনের মাথা ঘামানোর কিছু নেই। এত বছর পর আমরা কোন কিছু নিয়েই মাথা ঘামাতে চাই না। আমরা গা বাচিয়ে চলতে চাই।
আমরা মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করি। আবার তা সংশোধন করি। আবার তালিকা করি।
একরামুল বাসায় ফেরে রাত একটার দিকে। সারাদিনের কান্তি মুছে শুয়ে পড়ে বিছানায়। ঘুমে তার কখনো কোন সমস্যা হয় না। তার অনিদ্রা রোগ ছিল না কখনো। তবু আজ কেন এমন হচ্ছে? কেন সে তিন মাথাওয়ালা সাপ স্বপ্ন দেখে চমকে উঠবে? এসবের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই।
যে বদ্ধভূমি আজ বিকেলে সবাই দেখেছে, সে বদ্ধভূমিতে তার কেউ শুয়ে নেই। তার জন্মও যুদ্ধের পর। এসব নিয়ে মাথা ঘামানো নিছক বোকামী। তবু কেন এতদিন পর তার বুকটা কেঁদে ওঠে?
আরও একটা সিগারেট ধরায় একরামুল। মনে মনে ভাবে নানান ভাবনা। পুলিশ এত আবেগী হলে চলে না। সে একটা থানার ওসি। এখানে চোর-ছ্যাচ্চর আসবে, মামলা হবে, তদন্ত হবে, ঘুষ চলবে, রাজনৈতিক চাপে সত্য মিথ্যে হবে, মিথ্যে সত্য হবে, কালো টাকা সাদা হবে, নিরিহ লোক নির্যাতিত হবেÑ এই তো জীবন।
শুরূপার সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক। কত কত আবেগের ছড়াছড়ি। কত লাল-হলুদ স্বপ্ন। তার উচিত সব কিছু অতিক্রম করে শুরূপাকে নিয়ে ঘরাবাঁধা। এসব সস্তা আবেগ রাস্তায় ছুড়ে ফেলা। কিন্তু সবার মত সব দায় কি আর এড়িয়ে চলা যায়?
একরামুল মোবাইলে কল করল শুরূপাকে। ঘুম জড়ানো কন্ঠে শুরূপা বলে, ‘হ্যালো, এত রাতে, কি ব্যাপার?’
‘এমনি, তেমন কিছু না।’
‘এখনও ঘুমাওনি?’
‘না।’
শুরূপা হাই তুলে।
‘ফোন করেছ কেন?’
‘রূপগঞ্জের বদ্ধভূমির দৃশ্য নিশ্চয়ই টেলিভিশনে দেখেছ।’
‘হ্যাঁ, দেখেছি। সব মিডিয়া বিষয়টাকে ফলাও করে প্রচার করেছে।’
‘তুমি কি জানো এই বদ্ধভূমিতে যারা শুয়ে আছে। তাপদের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে?’
‘আমি কেমন করে জানব?’
‘তোমার বাবার সঙ্গে আমার একটু দেখা করতে হবে।’
‘কি ব্যাপার বলতো? তাহলে আমার প্রস্তাব মেনে নিচ্ছ?’
‘না। তোমার প্রস্তাব মানতে পারছি না। তোমার বাবার চা বাগানের চাকুরির চেয়ে আমার এ চাকুরিটা মন্দ না।’
‘আমার চেয়েও তোমার কাছে সামান্য পুলিশের চাকুরিটা বড়।’
‘তুমি যা ভাব তাই। আমার এ বিষয়ে কোন কমেন্ট নাই।’
শুরূপার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা মানেই ঝগড়ার সুত্রপাত করা। এর চেয়ে কথা কম বলাই ভালো।
সারা রাত তার ঘুম হলো না। শেষরাতে একটু তন্দ্রার মত হলো। এলোমেলো ভাবনায় কেটে গেল সকাল। বদ্ধভূমির কঙ্কালগুলো ভেসে উঠছে চোখের সামনে। এ মানুষগুলোকে কত নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর যারা হত্যা করেছে তারা আছে ধরা ছোয়ার বাইরে।
আমাদের দেশে শহীদের সম্মান দেখোনোর জন্য সৌধ নির্মান হয়েছে। কিন্তু দেশদ্রোহীদের ঘৃনা করার জন্য কোন সৌধ তৈরি হয়নি। এমন একটা সৌধ তৈরী করা গেলে ভালোই হতো। জাতি হিসেবে আমরা তাদের বিচার করতে পারিনি। অন্তত্ব আমরা আমাদের ঘৃনা তো প্রকাশ করতে পারব।
ছয়দিন পর শুরূপার বাবার সঙ্গে দেখা করে একরামুল। ভদ্রলোকের সময় নেই। নেহাৎ বাধ্য হয়ে যেন সময় দিলেন তাকে।
‘তা বল তোমার জন্য কি করতে পারি?’
‘স্যার, কয়েকদিন আগে রূপগঞ্জে একটা বদ্ধভূমি আবি¯কার হয়েছে।’
‘হ্যাঁ, পত্রিকায় দেখেছি। তা আমি কি করতে পারি?’
‘আমি এ বদ্ধভূমি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে চাই। আপনি তো বেশ কয়েকটা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাছাড়া আপনি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা।’
‘কি হবে এসব তথ্য দিয়ে? পুরোনো কাসুন্দি টেনে কি লাভ? দেশ পেয়েছি এখন সবাই মিলে মিলেমিশে থাকি। তাছাড়া তুমি থানার ওসি। নতুন চাকুরি। তোমার ভবিষ্যত নিয়ে ভাবা উচিত।’
‘তা হয় না স্যার। দেশের প্রতি আমার একটা দায়িত্ববোধ আছে।’
‘ঠিক আছে বল তুমি কি সাহায্য চাও?’
‘এ বদ্ধভূমির সবার মৃত্যুর জন্য ইরু মিয়া নামক এক রাজাকার দায়ী।’
শিল্পপতি ইরতাজ উদ্দিন আহমেদ কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলেন। ঠাণ্ডা একগ্লাস পানি খেলেন। তারপর বললেন, ‘তারপর?’
‘যুদ্ধের পর আর তাকে খুজে পাওয়া যায়নি। আমি নথিপত্র ঘেটে দেখেছি আপনি ঐ এলাকায় যুদ্ধ করেছেন?’
‘কে বলেছে তোমাকে এসব?’
‘রূপগঞ্জের পুরোনো কাগজপত্রে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার নাম নেই। তবে এখনকার তালিকায় আপনার নাম আছে।’
‘জানই তো দেশের অবস্থ্ াযার যা খুশি তাই করে। প্রথমে তো আমাদের কমাণ্ডারের নামও বাদ দিয়েছিল। চেন তাকে? মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসাইন। বর্তমানে শ্রমিক লিডার।’
‘উনি তো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। উনি তো আল বদর বাহিনীতে নাকি যোগ দিয়েছিলেন।’
‘দেখ ইয়ংম্যান, তোমার জন্ম হয়েছে যুদ্ধের পর। তুমি এসবের কি বুঝবে। আমরা জানি, কে মুক্তিযোদ্ধা ছিল তা আমরা জানি।’
‘সমস্যাটা তো স্যার ওখানেই। আপনারা এত জানার পরও আমাদের কিছুই জানাতে পারেননি। আমরা বিভ্রান্ত। আমাদের পরের প্রজন্ম তো আরো বেশি বিভ্রান্ত হবে। এখনই যদি আমরা না জাগি তাহলে আপনারা আমাদের চিরকাল অন্ধকারেই রাখবেন।’
‘আমরা তোমাদের স্বাধীন দেশ দিয়েছি। আমরা চাই না তোমরা বিভক্ত হও। সবাই মিলেমিশে থাক। এটাই চাই।’
‘তা হয় না স্যার। সাপকে যত দুধ কলাই খাওয়ানো হোক না কেন, সুযোগ পেলে ছোবল মারবেই। আর মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা নির্ণয় সম্ভব নয়। কারণ অস্ত্র হাতে না নিলেও অনেকে হারিয়েছে তাদের সবকিছু। তারাও মুক্তিযোদ্ধা। আসলে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকার দরকার নেই। আমাদের দরকার রাজাকার তালিকা। এই তালিকার বাইরে সবাই মুক্তিযোদ্ধা।’
‘ও আচ্ছা।’
‘আমি স্যার এদেশের প্রথম রাজাকারের তালিকা বানাব। যদিও জানি এটা শেষ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারপরও শুরু করতে চাই।’
‘তালিকা কি শুরু করেছ?’
‘হ্যাঁ, গত চার-পাঁচ দিনে বেশ কয়েকজনের নাম সংগ্রহ করেছি। যাদের নাম আমি লিখেছি তা সঠিকভাবে জেনেই লিখেছি।’
‘তাই নাকি? দেখি তো তালিকাটা?’
তালিকাটা এগিয়ে দেয় একরামুল। ডায়েরীর পাতায় লাল কালি দিয়ে লেখা একাত্তরের রাজাকারের তালিকা। প্রথম নামটার দিকে তাকান শুরূপার বাবাÑ
১। রাজাকার ইরু মিয়া, রূপগঞ্জ বদ্ধভূমির প্রায় ২০০ বাঙ্গালী হত্যার মূল হোতা। যে এক সময় কসাইয়ের কাজ করত। যুদ্ধের পর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কারণ সে তার পরিচয় পাল্টে এখন মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে। বর্তমানে তিনি একজন শিল্পপতি। তার নাম ইরতাজ উদ্দিন আহমেদ। দুটো চা বাগান, একটা সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর মালিক। এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ তহবিলে তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থ সহায়তা দেন।
একাত্তরের পিশাচ তার দিকে তাকাল। তার রক্তচোখ, নিষ্ঠুর চাহুনি উপেক্ষা করে এক দলা থুথু ছুড়ে মারল একরামুল।
আলোচিত ব্লগ
অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিএনপির আবালীপনা।


চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।