খবরটা প্রায় সকল পত্রিকায় এসেছে। ড্রিল মেশিন দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা। আমরা কি এখনো মানুষ আছি? যিনি এই কাজটি করেছেন, তিনি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি, সমাজে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। তাহলে আমাদের শিক্ষা কি মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারছে না? রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করতে গিয়ে পরিচালিত ঘৃণা ও হানাহানির বেসাতি কি পারিবারিক জীবনকেও ছুয়ে যাচ্ছে? উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি ১৯৯৮ সালে লংমার্চে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার একজন অভিযুক্ত।
-------------------------------------------------------------------------
ড্রিল মেশিন দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ
পাষণ্ড স্বামী ড্রিল মেশিন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে স্ত্রীকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সহকারী সচিবের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে (২৫) গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাহমিনার পরিবারের অভিযোগ, কয়েক মাস যাবৎ তাহমিনার ও তাদের পরিবারের ওপর তার স্বামীর নানা নির্যাতন চলছে। এর প্রতিকারে থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো তাহমিনার স্বামীর করা মিথ্যা মামলা নিয়ে তাদের পরিবারের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশের এক ডিসি ওই সহকারী সচিবের পক্ষে খিলগাঁও থানাকে কাজ করতে বাধ্য করছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ পরিবারটির বৃদ্ধ সদস্যসহ সবার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলা গ্রহণ করেছে।
তাহমিনার পরিবারের অভিযোগ স্বামী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব জয়নাল আবেদীনের (৪৫) নির্দেশে তার ভাই জামান, আলতাফ ও ভাতিজা রাশেদ, মিতুল ও মাসুম গতকাল বেলা ১১টার দিকে তাহমিনার রামপুরার ২৬/সি উলনের বাসায় আসে। এ সময় ভাতিজারা চাচী তাহমিনাকে ধরে ড্রিল মেশিন দিয়ে মাথায় ফুটো করতে যায় এবং তাকে মারধর করতে থাকে। চিৎকারে প্রতিবেশী ও তার পরিবারের সদস্যরা এসে তাহমিনাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।
জয়নাল আবেদীন এর আগেও আরো একটি বিয়ে করেছিলেন এবং সাত-আট বছর সংসার করার পর স্ত্রীর চরিত্র খারাপ এই অপবাদ দিয়ে বিচ্ছেদ ঘটান। সেই ঘরে তার একটি সন্তান রয়েছে। এ দিকে তাহমিনা-জয়নাল দম্পতির ঘরেও দুই কন্যা রয়েছে। জয়নাল বেশ কয়েক মাস যাবৎ তাহমিনার ভরণ-পোষণও দিত না। সেই সাথে তাহমিনার বিদেশে অবস্থানরত ভাইয়ের পাঠানো টাকা চাইতে গেলে সে তাকে ডিভোর্স দেবে বলে শাসাচ্ছিল। ২০০২ সালে তাদের বিয়ে হয়। দু’জনেরই গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব জয়নাল আবেদীন (৪৫) ১৯৯৮ সালে লংমার্চে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার একজন অভিযুক্ত। এ ব্যাপারে টেলিফোনে জয়নাল আবেদীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করে কেটে দেন। খিলগাঁও থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, তাহমিনার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে তারা একটি মামলা নিয়েছেন। তবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
সূত্রঃ নয়া দিগন্ত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



