somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউনুস একটা গালির নাম!!!

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অধ্যাপক ইউনুস...ড. ইউনুস...দুর্নিতীবাজ ইউনুস...সোজা বাংলায় চোর ইউনুস। তবে তাকে চোর বললে আবহনমান বাংলার সিদ কাটা চোর কিংবা পকেট মার-রা আবার আন্দোলন করতে পারেন আমার বিরুদ্ধে।

তবে শুধু ইউনুসই চোর নন...আজ যারা তার বিরুদ্ধে নরওয়ের সরকারি টিভি চ্যানেলে তথ্যচত্রি প্রচার করল, তারা ইউনুস এর চেয়েও বড় চোর। এ চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে আজ থেকে ১২ বছরেরও আগে। কিন্তু নোরাড এতদিন নিশ্চুপ ছিল কেন? নোরাড যখন জানতই যে ইউনুস তাদের দেয়া ৭০০ কোটি টাকা (১০ বিলিয়ন ডলার) যথাযথভাবে ব্যবহার করেনি, তখন তারা কেন তাকে নোবেল প্রাইজ দিল? উল্লেখ করা দরকার, নোবেল কমিটিকে যারা অর্থায়ন করে তাদের মধ্যে টেলিনর, ডানোন, নোরাড অন্যতম। এবং তাদের জোর তদবির এর কল্যানেই ইউনুস পেল শান্তিতে নোবেল পুরস্কার।

নোবেল এর অর্থনীতি বিষয়ক কমিটি যখন তাদের অবস্থান বোঝাল, ইউনুস এর গ্রামীণ ব্যাংক এর কাজ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক কোন অবস্থান ফেলতে পারেনি। তাই এক্ষেত্রে তাকে নোবেল দেয়া যাবে না। প্রকারান্তরে সংশ্লিষ্ট কমিটি এটাই বোঝাল, ইতোপূর্বে যাদেরকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে ইউনুসকে দিলে তাদের অবমাননা করা হবে। ইউনুস সাহেবকে যারা পুষত (নোরাড, টেলিনর, ডানোন ইত্যাদি) তারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে শান্তিতে নোবেল দেয়ার ব্যবস্থা করে।

গ্রামীণ ব্যাংক হচ্ছে রাষ্ট্রিয় আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান। আর যে সংস্থার নামে টাকা নিয়েছেন সেটি (গ্রামীণ কল্যাণ) তার ব্যক্তিগত। তফাৎটা বোঝা দরকার। যে টাকা গ্রামীণ ব্যাংক মানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে সে টাকা নিজের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ইউনুস দুর্নিতী করেছেন, এ আর নতুন করে বলার মত কিছু না।

কিন্তু আজ নরওয়ে টেলিভিশন (রাষ্ট্রীয়) যে খবর প্রচার করল, সে চুরির কথা তারা ১২ বছর আগেই জানত। এতদিন প্রচার করে নি কেন, সেটা ভাবুন। কারণ তখন প্রচার করলে গ্রামীণ ফোন এর বাজার ও অবস্থান তৈরি করতে পারত না। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করতে পারত না। যখন তাদের পথ পরিস্কার হয়েছে তখনই তারা ইউনুস এর চুরির ঘটনা প্রকাশ করল। ডানোন বাংলাদেশে আসতে পারত না। ইউনুস এর মাধ্যমে এরকম আরও অনেক বহুজাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে ঢুকেছে। যারা এরই মাঝে দেশের গরিব মানুষকে রক্তচোষা জোক এর জেকে ধরেছে।

এরকম বললে হাজারটা বলা যেতে পারে। প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় আামি এখানে আনু মুহম্মদ এর গত শনিবার (তথ্য চিত্র প্রচার হবার আগের) এর ফেস বুক এর ওয়াল পোস্ট কপি করে দিলাম:
"গরীবদের কথা বলে নরওয়ের টেলিনর বাংলাদেশের মোবাইল শিল্প দখলে নিয়েছে। 'গরীব শিশুর শক্তির জন্য' বগুড়ার দই শিল্পকে বিপর্যস্ত করে জার্মান ডেনন 'শক্তি দই' বানাচ্ছে। গরীবদের পানি দেবার নামে ফরাসী ভিওলিয়া নতুন সাম্রাজ্য খুলছে। বাংলাদেশের পানি দখলে নিয়ে বহুজাতিক বাণিজ্য এখন চকচকে সম্ভাবনা। গরীবদের
নামে আরও নানাবাণিজ্য প্রজেক্ট তৈরির পথে। সামাজিক ব্যবসা!"


যে সাংবাদিক এ তথ্যচিত্র প্রচার করেছেন তিনি ডেনমার্ক এ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য ২০০৭ সালে পুরস্কার পেয়েছেন। বোঝা যাচ্ছে এরা ঝানু সাংবাদিককেই বেছে নিয়েছে। কোন অখ্যাত সাংবাদিককে দিয়ে নরওয়ের সরকারি টেলিভিশন তথ্যচিত্র নির্মাণ করবে না। এটা হয়ত বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন বাংলাদেশের (বাসস) এর সাংবাদিক ক'দিন আগে চীনের গুয়াংজুতে ল্যাপটপ চুরি করে ধরা পড়েছেন।

ইউনুস এর সমর্থনকারীরা এটাকে ইউনুস এর বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র হিসাবে প্রচার করছেন। আমি এক্ষেত্রে কিছুটা একমত পোষন করি। তবে কিন্তু তার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করতে হবে। ঘটনা আজ তেকে ১২ বছর আগের। এতদিন নোরাড, টেলিনর, নরওয়ে, নেদারল্যান্ড, সুইডেন দুর্নিতির এ ঘটনা জানার পরও কেন চুপ ছিল?

কারণ এ সময়ে তারা (নরওয়েসহ অন্যান্য দেশ ও দাতা সংস্থা) ইউনুসকে ব্যবহার করে তাদের ব্যবসার প্রসার করেছে। আমাদের দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে গ্রামীণ ফোন নামে টেলিনর। এরা দুর্নিতী করার কারণে জরিমানাও দিয়েছে। ইউনুস এর মত চোরই এ ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আর এখন সেই গ্রামীণ ফোনই তথা টেলিনরই ইউনুস এর বিরুদ্ধে এ তথ্যচিত্র প্রচার করে। অনেকের মতে, ক'দিন আগে টেলিনর এর প্রধান বাংলাদেশ ঘুরে যায়। সে এসে এখানকার গ্রামীণ ফোন কর্তাদের গ্রীণ সিগনাল দিয়ে যায় কি হতে যাচ্ছে।

এমনিতেই বাংলাদেশে এনজিওদের বিরুদ্ধে অনেক কথা প্রচলিত। এনজিওরা গরিবদের নামে টাকা এনে মেরে খায়। ইউনুস এর ঘটনা সে বিষয়টিকে আরও প্রতিষ্ঠিত করবে। কিন্তু সমস্যায় পড়বে যারা সত্যিকার অর্থে ইতিবাচক কিছু কাজ করছে। ছোটখাট এনজিওগুলো সমস্যায় পড়বে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউনুসের কোন ভূমিকা আদৌ আছে কিনা-এ বিষয়ে আমার সংশয় আছে। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক এনজিও এক্ষেত্রে ভাল কিছু ভূমিকা রয়েছে। পোলিও- ম্যালেরিয়া দূরীকরণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে এনজিওদের ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।

কিন্তু আমাদের মিডিয়া এসবের বাইরেই থেকে যাবে। যাদের হাতে গণমাধ্যম আছে তাদের দুর্ণিতী নিয়ে দুর্ণিতী দমন বু্্যরো কিছু বলবে না। গণমাধ্যমও কম বেশি এসব দুর্ণিতীর সঙ্গে জড়িত। আমি বলছি না সাংবাদিকরা সবাই দুর্ণিতী করে। অধিকাংশ সাংবাদিকই এখন পর্যন্ত সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেখেছি, দুই নেত্রীর (শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে দুর্নিতীর অভিযোগ উঠার পরই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, আর গ্রামীণ ফোনসহ কয়েকটি মোবাইল কোম্পানির দুর্নিতী প্রমাণিত হওয়ার পরও এসব কোম্পানির কাউকে গ্রফতার করা হয়নি। তারা শুধু জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যায়। যা তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের কথিত দুর্নিতী বিরোধী অভিযানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল।

সাংবাদিকতা করতে গেয়ে দেখেছি, (যদিও আমি এ বিটের ছিলাম না) ইউনুস বা তার গ্রামীণ ব্যাংক এর বিরুদ্ধে কোন সংবাদ আমাদের সম্পাদক সাহেবরা ছাপাতে চাইতেন না।

আমার কথার সারমর্ম হল, ইউনুস চোর। আর যারা তার চুরির খবর প্রকাশ ও প্রচার করেছে তারাও চোর। কিন্তু এর মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আবারও খারাপ হল। এর দায় কী ইউনুস নেবে?

বিষয়টা এমন, নোরাড আর ইউনুস এর যোগসাজস: দায় বাংলাদেশের গরিব মানুষের।

পুনশ্চ:, "দালাল", "রাজাকার" এর মত "ইউনুস" শব্দটাও এখন একটা গালি!!! (অন্য ইউনুস নামধারী ভাইয়েরা ক্ষমা করবেন!!)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ২:১৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×