somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিয়ে খাবার সাধ/:)/:)

০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


--বাবা তুমি কি আমার সাথে বিয়ে বাড়িতে যাবে?
--হ্যাঁ, মা যাব। বিয়ে বাড়িতে কি থাকে?
--বিয়ে বাড়িতে বর আর বউ থাকে।
--ওখানে আমরা কি করবো?
--আমরা বর দেখব, বউ দেখব, ঘুরবো গল্প করবো বিয়ে দেখব আর মজার মজার খাবার খাব।
-- ওখানে অনেক মজা হবে তাই না মা ? আমরা কখন যাব?
--এই এক্ষুনি যাব। চল সবাই রেডি হয়ে নেই।

সবাই মিলে রেডি হয়ে ডিজিটাল সময় নয়টায় বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হলাম। আধা ঘন্টার মধ্যেই কমিনিউটি সেন্টারে পৌছে গেলাম। কমিনিউটি সেন্টারের ভিতরে ঢুকেই মনে হলো আরে এ কোথায় এলাম।:| এত মনে হছে পহেলা বৈশাখের বট তলায় এসে পরেছি। এটাকে বড় কোন রাজনৈতিকদলের মহাসমাবেশ ও বলা যেতে পারে।পহেলা বৈশাখের বটতলা বললাম কারন চারিদিকে সুসজ্জিত নারী-পুরুষ। আর সবার মাঝে উৎসব উৎসব ভাব। চারিদিকে মানুষ আর মানুষ। বসবার জায়গাতো নেই দাঁড়াবার জায়গা পর্যন্ত নেই। পরিচিত মুখ খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম ছেলের বাবাকে। উনি সম্পর্কে আমার দুলাভাই হন। দুলাভাই বললেন --খাবারের ব্যাবস্থা দোতলায়। চল, দোতলায় যাই।

দোতলার সিঁড়ি কোন দিকে? সামনে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না মানুষ ছাড়া। জানুকে বললাম-- সিঁড়ি কোন দিকে?
জানু বলল --দুলাভাইয়ের পিছন পিছন চলো তাহলেই সিড়ি পাবে। এক হাত দিয়ে জানুর শার্ট ও অন্য হাত দিয়ে মেয়ের হাত ধরে অন্ধের মত হাঁটতে লাগলাম। একটা জায়গায় এসে দেখি মানুষের উচ্চতা বাড়ছে, বুঝলাম যে এখনেই সিঁড়ি।

সর্বনাশ!!!! এই সিঁড়ি দিয়ে উঠব কি ভাবে। সিঁড়ির দোরগোড়ায় এসে মনে হচ্ছে রমনার বট মূলের আড্ডা শেষে রমনার গেটে এসে পরেছি। এক হাতে শাড়ি ও অন্য হাতে মেয়েকে ধরে আস্তে আস্তে উঠছি। মনে হছে মানুষের চাপে সিঁড়িটা না ভেঙ্গে পরে। মেয়েটা ভিড়ে ঠিক মত হাঁটতে পারছে না। একপাশে দাঁড়িয়ে শাড়ি কোমরে গুঁজে মেয়েকে কোলে তুলে নিলাম। উপরের দিকে তাকিয়ে জানুকে খোঁজার চেস্টা করলাম। কারন ছয় বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে শাড়ি পরে সিঁড়ি ভেঙ্গে ভিড় সামলিয়ে উঠা আমার জন্য বেশ কষ্ট সাধ্য। জানু কে তো খুঁজে পেলাম না, পেলাম ছেলেকে । কারন সে তার বাবার ঘাড়ের উপরে । এত কষ্টের মধ্যেও হেসে ফেললাম। যাক এক সময় দেখি আমি দোতালার ডাইনিং হলে এসে পরেছি।

ওখানে তো দেখি মহাযজ্ঞ। লোকে লোকারন্য। প্রতিটি টেবিল ভর্তি এবং প্রতিটি চেয়ার ধরে লোক দাঁড়িয়ে আছে। আর্থাৎ খাওয়া শেষ হলেই চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাক্তি ঐ চেয়ারে বসবে। সিট দখল আর কি?
জানি না কিভাবে যে দুলাভাই একটা টেবিলে আমাদের বসার ব্যাবস্থা করে দিলেন। কিন্তু আমাদের চার জনের জন্য তিনটি চেয়ার। ছেলেকে কোলে নিয়ে বসলাম। ছেলে দেখলো তার আপু চেয়ারে বসেছে তাই এবার তার চেয়ার লাগবে। বাচ্চার জেদ শুরু হল সে চেয়ারে বসবেই। কিছুতেই বুঝতে চাইছে না। বুঝলাম এত লোকের গ্যাঞ্জামে ও অস্থির হয়ে গেছে। দুটো চেয়ার একত্রিত করে দুজনের মাঝে ছেলেকে বসিয়ে খেতে বসলাম। এবার প্লেট সমস্যা। টেবিলে একটা প্লেট বেশী দরকার। সেই প্লেট আর আসে না এবং শেষ পর্যন্ত আসেওনি। বাচ্চার প্লেট থেকেই আমি খাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিসমিল্লাহ বলে যেই এক লোকমা মুখে তুলেছি সাথে সাথে ছেলে বলল -- মা আমি হিসু করবো। কি বিপদ??X( এর চেয়ে বড় বিপদে মনে হয় আমি আমার জীবনে পড়ি নাই।!! /:)
বললাম-- বাবা একটু পরে যাব। এখন খাও। এই দেখ মুরগির রান। খাও।:D
ও বলে --আমি হিসু করবো।:-* ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক ওদিক অসহায়ের মত তাকালাম। এখান থেকে উঠলে আর জায়গা পাব না আর এই ভিড়ে কোথায় খুঁজবো টয়লেট আর কোথায় নিয়ে যাব ওকে হিসু করাতে? ছেলে কাঁদ কাঁদ হয়ে বলছে --আমি হিসু করব:((।!!

মুসকিল আসান এর মত এই সময় এসে হাজির হলো ছেলের মা ও বড় বোন। ছেলের বোনকে বললাম --উদ্ধার কর মা শেলী।:) শেলী আমার ছেলেকে নিয়ে কাকে যেন দিয়ে আসল। আমি আরাম করে খেলাম।:P খাওয়া শেষ হয়ে গেল ছেলে তো ফেরে না।
---শেলী আমার ছেলেকে যার কোলে দিয়েছ তাকে ফোন কর। ছেলেকে নিয়ে আসুক।
শেলী বলল --আমি তো তার ফোন নাম্বার জানি না। /:)
মানে???? কি বলে শেলী ?? এই শেলী তুমি যার কোলে ছেলেকে দিয়েছ তাকে চেনো তো?:-* শেলী বলে-- মুখ চিনি নামটা ঠিক মনে নেই। তবে আমাদের আত্মিয়। আমার আত্মারাম খাঁচা ছাড়া।:-* আমার এখন চিৎকার করে কাঁদা শুধু বাকি। জানু উঠে গেল ছেলেকে খুঁজতে। এই সময় ছেলে আমার সহাস্য বদনে ফিরে এল। যাক, অসংখ্য ধন্যবাদ দিয়ে তাকে বিদায় করলাম।

ছেলেকে খেতে বসালাম। ছেলে একটা টিকিয়া আর মুরগির রোস্টটা খেল। আর খেল এক প্লেট জর্দা। যাক ছেলের আমার খাওয়া হয়ে গেছে । নিশ্চিন্ত মনে ওখানে যে দুই একজনের সাথে দেখা হল তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে এলাম। বর বউ আর দেখা হলো না ।
শুতে শুতে রাত বারটা বেজে গেল। বিছানায় শুয়ে বুকের উপর ছেলেকে নিয়ে ঘুম পারাচ্ছি। পাশে মেয়েটা কি সুন্দর ঘুমিয়ে পরেছে। হঠাৎ ছেলে আমার বুকের উপর উঠে বসে বলল --মা আমিতো আজ ভাত খাইনি।
--আব্বু আজ ভাত খেতে হবে না । তোমার পেটতো ভরে গেছে। আমরা যে বিয়ে বাড়ি থেকে খেয়ে এলাম।।
--না আমি ভাত খাইনি তো। বাবাকে বলি, আমি ভাত খাইনিতো।
ছেলে বিছানা ছেড়ে ওর বাবার কাছে চলে গেল।
--বাবা আমি ভাত খাইনি তো।
---তুমি ভাত খাবে ??
---হ্যাঁ খাব।
জানু ফ্রিজ খুলে খুঁজে দেখল ভাত নেই। আমরা দু জনে মিলে যত বোঝাই ছেলে ততই বলে আমি শুধু ভাত খাব। বিস্কিট , কলা, ডিম,পাউরুটি, মাছ, দুধ খাও ?? না আমি ভাত খাব??? X((আমি ভাত খাব? X((আমি রাতে ভাত খাইনি তো আমি ভাত খাব!! X((X((

ভাব দেখে মনে হচ্ছে উনি কত খান ?? খাওয়া নিয়ে তার কোন ঝামেলা নেই?? মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল। ওর বাবা না থাকলে দিতাম দুইটা মার লাগায়, X( মার খেলে ঠিকই শুয়ে ঘুমাতো?? কি আর করা আবার ভাত রান্না করা হল। আর আমি অবাক হয়ে দেখলাম ও কোন ঝামেলা না করেই এক প্লেট ভাত মাছ দিয়ে খেয়ে ফেলল। আর কত গল্প তার। একসময় জিজ্ঞাসাও করলো --মা বিয়ে বাড়িতে বর বউ কোথায়? তুমি যে বলেছ বিয়ে বাড়িতে বর বউ থাকে। আর বিয়ে তো দেখলাম না।?? মজাতো নাই খালি লোক আর লোক।:-/

ছেলের কথার আর কি উত্তর দেব??? এত মানুষ কিন্ত তাদের জায়গাদেবার মত স্থান নেই!!??
ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী??!!
বিয়ে বাড়িতে স্বপরিবারে যেয়ে খাবার সাধ আমার ষোল আনা উসুল হল।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৯
৬১টি মন্তব্য ৬১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×