somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ কারাগার - অনিয়ম (পর্ব - আট) : কারা চৌকা : বন্দিদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কারা চৌকা; কারাগারের রান্নাঘরকে বলা হয়। প্রতিটি কারাগারে চৌকা ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোতে বন্দী সংখ্যা অনুপাতে একাধিক হয়ে থাকে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে সর্বমোট ৫টি চৌকা। জেলা কারাগারগুলোতে ১টি করে চৌকা থাকে। কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোতে একাধিক চৌকা থাকে। কারাগারগুলোর চৌকার দূর্ণীতি এত নিন্ম পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে, এদের দূর্ণীতির কারণে সাধারণ হাজতী ও কয়েদী বন্দীদের অনেকটা না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে। ১৮৬৮ সালের জেলকোড অনুসারে বন্দীদের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে সকালের নাস্তা, দুপুরের ও রাতের খাওয়া। সকালের নাস্তা লক-আপ খোলার পর কাজে যাওয়ার আগে; দুপুরের রাতের খাওয়া লক-আপ করার আগে পরিবেশিত হবে। এটাই বেঙ্গল জেল কোডের ১০৯৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ্য আছে। জেল কোডের ১০৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিম্মক্তো হারে প্রতি বন্দীর জন্য খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে।

সময় খাবারের নাম প্রথম শ্রেণীর বন্দি সাধারণ বন্দি

[দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য একত্রে চাউল ২ ছটাক ১.৫ ছটাক ]


চাউল ১০ ছটাক ৮ ছটাক
ডাল ২.৫ ছটাক ২.৫ ছটাক
সবজি ৪ ছটাক ৪ ছটাক
চাউল ২ ছটাক ১.৫ ছটাক
তৈল ৫/১৬ ছটাক ৫/১৬ ছটাক
লবন ৭/১৬ ছটাক ৭/১৬ ছটাক
মরিচ ১/৩২ ছটাক ১/৩২ ছটাক
আদা ৯/১২৮ ছটাক ৯/১২৮ ছটাক
পিয়াজ ৯/১২৮ ছটাক ৯/১২৮ ছটাক
রসুন ১/৬৪ ছটাক ১/৬৪ ছটাক
গুড় ১/৪ ছটাক ১/৪ ছটাক
মাছ/মাংস ৫ ছটাক ৩ ছটাক

এছাড়া বেঙ্গল জেল কোডের ১১০৬-১১০৯ অনুচ্ছেদে পরিস্কার ভাবে উল্লেখ্য করা হয়েছে রন্ধন পদ্ধতি কি হবে। বেঙ্গল জেল কোড অনুসারে বন্দীদের খাদ্য বরাদ্দ হয় পরিমাণের উপর। এ কথা সত্য যে, যদি জেল কোড অনুসারে সঠিক পরিমাপের খাদ্য বন্দীদের সরবরাহ করা হত এবং রন্ধন পদ্ধতি জেল কোড বর্ণিত নীতিমালা মানা হত তাহলেও বন্দীদের কোন অভিযোগ উঠতনা এবং ততটা মানবেতর জীবন ধারণ করতে হত না।
বর্তমানে বন্দী খাওয়া নিয়ে চলছে কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কয়েদীদের দূর্ণীতির মহোৎসব। খাদ্য ক্রয় থেকে শুরু করে খাদ্য পরিবেশন কাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে রয়েছে দূর্ণীতি। খাবার নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের দূর্ণীতির একটি চাল চিত্র পাঠকদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হলো।
১। একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় প্রতিটি জেলের গুদামের ডেপুটি জেলার হওয়ার জন্য ডেপুটি জেলারদের মধ্যে মরণ-পন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে টাকা প্রদান বা খুঁটির জোড়ে এই দায়িত্বটি নেন গুদামের ডেপুটি জেলার। তার সাথে থাকেন ১জন গুদাম এ্যাসিসটান্ট(অর্থাৎ কারা রক্ষী) ও ১জন কয়েদী রাইটার। তারা খাদ্য গ্রহণ মজুদ ও চৌকায় খাদ্য সরবরাহ করেন এবং চৌকা তদারকী করেন। চৌকায় একজন জমাদার থাকেন তিনমাসের জন্য।
২। যেহেতু বর্তমানে প্রতি জন বন্দীকে ২৯১ গ্রাম সবজি পরিবেশনের মঞ্জুরি রয়েছে। এক্ষেত্রে দূর্ণীতি হয় প্রতিদিন লাউ ও মিষ্টি কুমড়া ওজনে বেশী; দামে কম তাই জেল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন বন্দীদের জন্য লাউ ও মিষ্টি কুমড়া কেনার বিষয়টি বাধ্যবাধকতা মূলক করে ফেলেছে। ৫কেজি লাউ ও জালি রান্না করলে তার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় মাত্র ২কেজি, ৫কেজি মিষ্টি কুমড়া রান্না করলে ৩ কেজি হয়ে যায়। যদি পটল, বরবটি সহ অন্যান্য সবজি ব্যবহার করা হতো তবে বন্দীদের বরাদ্দ হতে বঞ্চিত হতে হতো না। এক্ষেত্রে লাভবান হচ্ছে ঠিকাদার ও ক্রয়কারী কর্মকর্তারা। ঠিকাদার নিম্মমানের লাউ, জালি, মিষ্টি কুমড়া দিয়ে বেশী ওজনের তরকারী সরবরাহ করে । কর্মকর্তা কর্মচারীগণ কম দামে বেশী ওজনের তরকারী ক্রয় করে সরবরাহকারীদের নিকট হতে ফায়দা লুটছে। বনঞ্চিত হয় বন্দীরা।
৩।যদিও বন্দীদের জন্য প্রতিদিন ২৯১ গ্রামসবজিবরাদ্দ হয়; পরিবেশনের সময় দেখা যায় পানি ২০০ শত গ্রাম আর সবজি ৯১ গ্রামমাত্র।
৪। বন্দীদের জন্য যদিও প্রতিদিন মাছ অথবা মাংস পরিবেশনের নিয়ম। রান্নার ও পরিবেশনের সুবিধার্থে একদিন পর একদিন ডায়েট বরাদ্দ রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতি বন্দীর জন্য মাছ ৭২গ্রাম, গরুর মাংস ৭৫গ্রাম, খাশীর মাংস ৬৫গ্রাম প্রদানের বিধান রয়েছে। বাস্তবে দেখা যায় যে, রান্নার পর মাছ দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ৪০ গ্রাম, গরুর মাংস ৬০ গ্রাম, খাশীর মাংস ৫০ গ্রাম।
৫। যদি বন্দীরা মাছ-মাংস তাদের জন্য বরাদ্দ নিয়ে সোচ্চার হন; তখন জেল কর্তৃপক্ষ ব্যখ্যায় বলেন যে, মাছের আঁশ, কাটা বাদ দিয়ে রান্নার পর দাঁড়ায় ৫৮গ্রাম, সেক্ষেত্রে ৫৮গ্রাম ওজনের রান্না করা মাছ কোন বন্দী পেয়েছে বলে মনে হয় না।
৬। গরুর মাংস একদিন পর একদিন ৭৫গ্রাম বরাদ্দ হলেও ৬০ গ্রামের বেশী কোনদিন পাওয়া যায় না; কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় হাড়, নাড়ি, ভুড়ি বাদ দিয়ে রান্নার পর দাঁড়ায় ৬৮ গ্রাম, কাউকে ৬৮ গ্রামও দেওয়া হয় না।
৭। খাশীর মাংস ৬৫ গ্রাম দেয়ার বিধান থাকলেও পরিবেশনের সময় দেয়া হয় ৫০-৫২ গ্রাম, ব্যাখ্যা গরুর মাংসের মতই দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে ৬০ গ্রাম পাওয়ার কথা; তাও দেওয়া হয় না।
৮। সকালের নাস্তায় প্রতি বন্দীর জন্য ১টি রুটি, প্রায় ১.৫ ছটাক আটায় ১টি রুটি দেওয়া হয়। তাও পোড়া ও শক্ত। যদিও ১.৫ ছটাক আটা দিয়ে ২টি রুটি তৈরী হয় অনায়াসে। সেক্ষেত্রে ১টি রুটি চুরি করা হয়।
৯। প্রতিদিন ১.৪ ছটাক গুড় বরাদ্দ থাকলেও সেক্ষেত্রে এত নিন্মমানের গুড় পরিবেশন করা হয় যা খাওয়ার উপযোগী নয়।
১০। মশুরীর ডাল ১৫৬ গ্রাম বরাদ্দ প্রতি বন্দীর জন্য যদিও রান্না করার পর পরিবেশিত ডাল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। গন্ধযুক্ত, পাতলা, ও তেল, মসলা বিহীন বলা যায়।
১১। বড় খাওয়ার ডায়েট সেভিংশ নামে বন্দীদের বরাদ্দকৃত খাবারের পুকুর চুরি হয়ে যায়। জেলে ২টি ঈদ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে, সব মিলিয়ে চারটি বড় খাওয়া হয়। উন্নতমানের খাওয়া যেমন ঈদে মিলাদ-উন-নবী ও ২১ ফেব্রুয়ারী মাঝে মধ্যে দেওয়া হয়। প্রতি বড় খাওয়া উপলক্ষ্যে কমপক্ষে ৮টি ডায়েট সেভিংশ করা হয়। সেক্ষেত্রে হিসেব অনুযায়ী প্রতি বড় খাওয়ার জন্য মাছ ২পিছ, ৪টা গরুর ডায়েট, ২টা খাশীর ডায়েট। তার পরিমাণ দাঁড়ায় মাছ ৭২ী২=১৪৪ গ্রাম, গরুর মাংস ৭৫ী৪=৩০০ গ্রাম ও খাশীর মাংস ৬৫ী২=১৩০ গ্রাম। তাহলে বড় খাবারের জন্য ও বিশেষ বরাদ্দ সহ ঐদিনের ডায়েট প্রায় গরু ৭৫ গ্রাম+বিশেষ বরাদ্দ ৭৫ গ্রাম সেভিংশ ৩০০ গ্রাম = সর্বমোট =৪৫০ গ্রাম, খাশী ঐদিনের ডায়েট ৬৫+বিশেষ বরাদ্দ ৬৫ গ্রাম + সেভিংশ ১৩০ গ্রাম = সর্বমোট ২৬০ গ্রাম। মাছ ঐদিনের ডায়েট ৭২ গ্রাম + বিশেষ বরাদ্দ ৭২ গ্রাম + সেভিংশ ০.১৪৪ গ্রাম সর্বমোট ০.২৮৮ গ্রাম।
বড় খাওয়ার দিন পরিবেশিত হয় মাছ ৭২ গ্রাম ১পিছ। আলুর দম যা ২দিনের সবজি ও ডাল না দিয়ে দেওয়া হয় যার মূল্য ২দিনের সবজি ও ডালের চেয়ে অনেক কম। গরুর মাংস ০.২৫৫ গ্রাম (আলু সহ), খাশী ০.১৩০ গ্রাম। তাহলে সেভিংশ এর নামে কর্তৃপক্ষ পুকুর চুরি করে ফেলেন। অন্যদিকে প্রতিটি ঈদে বা বড় দিনে টিভি ও রেডিও পত্র পত্রিকায় পোলাও প্রচার করা হয় কারাগারে, এতিমখানা মাদ্রাসা ও দুস্থদের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বন্দীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার নিয়ে প্রতিটি জেল কর্তৃপক্ষ যে নিন্মমানের দূর্ণীতিতে জড়িয়ে গিয়েছে তার পুরোমাত্রায় সুযোগ নিচ্ছে চৌকার নিয়োজিত কয়েদী ওস্তাদগার, চৌকা হেলপার (সকল শাখায়), চৌকা জমাদার, প্রতিদিন দায়িত্বে নিয়োজিত কারারক্ষী ও প্রতি ওয়ার্ড ও সেলে খাবার পরিবেশনকারী কয়েদীরা। এদের খাবার চুরি, বিক্রির কিছু বিবরণ তুলে ধরা হলো ঃ
১। মাছ কাটার সময় কয়েক-জন কয়েদী মাছ কাটে; তাদের প্রত্যেকের সামনে হাত ধোবার জন্য জগ থাকে। প্রতিটি মাছ কাটার শেষ হাত ধোবার সময় একটি করে মাছের টুকরা তারা অতিসংগোপনে জগের ভিতর রেখে দেয়। সংগোপনে বললেও ভ‚ল হবে; যেহেতু এ বিষয়টি চৌকা জমাদার ও ওস্তাদগার এবং রক্ষীদের ভালো ভাবেই ম্যানেজ করা থাকে কমিশনের ভিত্তিতে। পরবর্তীতে সেই মাছ ভেজে বিভিন্ন ওয়ার্ড/সেলে বিক্রি করা হয়। প্রতি পিছ ৫টাকা হতে ৭টাকা পর্যন্ত। এতে দেখা যায় প্রতিজন মাছ কাটার কয়েদী ৩০০-৩৫০ টাকা মাছ চুরি থেকে আয় করে। তার থেকে জমাদার ১০০ টাকা, ওস্তাদগার ৫০ টাকা এবং রক্ষীকে ২০ টাকা প্রদান করে দেয়া হয়।
২। মাছের পেটি ও বন্দীদের জন্য বরাদ্দকৃত সবজি দিয়ে তরকারী প্রস্তুত করেন চৌকার হেলপারগণ। তেল, মসল্লা সবই চৌকার, যা বন্দীদের জন্য বরাদ্দ। সেই তরকারী বিক্রি করে লক-আপের আগের সেলের বা ওয়ার্ডে। তাতে চৌকা হেলপারদের দৈনিক আয় হয় ৩/৪ শত টাকা। জমাদার, ওয়ার্ডম্যানদের বখসিশ দিতে হয় শতকরা ২৫/৩০ টাকা।
৩। মাংসের ডায়েটের দিন গরু খাশী যাই হোক না কেন বিক্রির জন্য সেল, ওয়ার্ড, বহিঃগমন, আমদানী হতে অগ্রীম বুকিং নেয়া হয় চৌকায়। প্রতি জগ ২০০ টাকা হারে এবং ১মগ ১০০ টাকা হারে রান্না করা মাংস বিক্রি হয়। তাতে প্রতি ডায়েটের বিপুল পরিমাণ মাংস বিক্রি করা যায়। যা সাধারণ বন্দীদের জন্য বরাদ্দের মাংস হতে মাপে কম দিয়ে বঞ্চিত করা হয়।
৪। মসল্লা বিক্রি হয় চৌকা হতে। চৌকার মসল্লা, মরিচ ,রসুন, পিয়াজ, জমাদারের সাথে সমঝোতা করে সরিয়ে ফেলে তারপর বিশেষ দফার কয়েদীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সেলে ও ওয়ার্ডে বিক্রি করে দেয়।
৫। চৌকা ও খাদ্য গুদাম হতে বিক্রি হয় পোলার চাউল, মাংস, ডাল, সোয়াবিন তেল, শুকনা মরিচ, হলুদ, চিনি, দুধ ইত্যাদি। বিভিন্ন সেলে ও ওয়ার্ডে যারা রান্না করে; তারা গুদামে নিয়োজিত কয়েদীদের মাধ্যমে কিনে নিয়ে আসে। বিক্রিত টাকার হিস্যা পান ডেপুটি জেলার, গুদাম রক্ষী ও কয়েদী রাইটার।
৬। রান্না ডাল বিক্রি করে সেই সমস্ত কয়েদী বন্দী যারা চৌকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে/সেলে খাদ্য পরিবেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত তারা প্রতিদিন বাকেটে করে ডাল নিয়ে যায়। চৌকায় বসেই ডালের ওপর থেকে বাগার (তেল, পিয়াজ ও রসুনের যে বাগার হয় তা) সরিয়ে ফেলে। সেই বাগারের সাথে ডাল ভালো করে মিশিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড/সেলে বিক্রি করে। প্রতি মগ রান্না করা ডাল ২০ টাকা। এই টাকার অংশিদার হলো চৌকায় জমাদার, ওস্তাদগার, ওয়ার্ড জমাদার। বন্দীদের জন্য বরাদ্দ সবজি তৈরী করে চৌকায় বসে বসেই প্রতি মগ৪০ টাকা হারে বিক্রি করে। সবজি বিক্রির টাকা পায় চৌকা ওস্তাদগার , স্থানীয় জমাদার।
৭। বন্দীদের জন্য ৮ ছটাক প্রায় ৪৯৫ গ্রাম চাউল দু’বেলার জন্য বরাদ্দ থাকে। চাউল পরিস্কার না করে না ধুয়ে ভাতের মাড় না ফেলে ভাত রান্না করলে তা এত অপরিস্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত হয় খেতে অরুচিকর মনে হয়। চৌকার ভাতের দফার লোকজন কিছু কিছু বস্তা খুব ভাল করে ধুয়ে রান্না করে। সেই ভাত স্পেশাল চাল বলে বিক্রি করে বিভিন্ন সেলে ও ওয়ার্ডে। এই জন্য যারা ভাল ভাত কিনতে ইচ্ছুক তাদেরকে সাপ্তাহিক ৫০ টাকা হারে দিতে হয়।
৮। সকালের রুটি বিক্রি হয়। যদিও ১.৫ ছটাক আটা বরাদ্দ রয়েছে; তাও পর্যন্ত বলা যায় না। বন্দীগণ সেই ১.৫ ছটাক আটার রুটি প্রতিদিন পায়না। সেই সুযোগ দফার লোকজন ১০ টাকায় ৫টা রুটি বিক্রি করেন।
৯। জেলা কারাগারগুলোতে চৌকা ওস্তাদগার ও জমাদার স্পেশাল তরকারী তৈরী করে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্রি করে। সাপ্তাহিক অনেক সময় মাসিক চুক্তিতে খাওয়ার স্পেশাল তরকারীর জন্য সাপ্তাহিক ৩০০ টাকা এবং পরিমাণের চেয়ে বেশী ডায়েট দিবে তবে মাছ নয় মাংসের দিনগুলোতে সে জন্য সাপ্তাহিক ২০০ টাকা প্রদান করতে হয় প্রতি ক্রেতা বন্দীকে।
প্রতি কারাগারে রান্নার পূর্বে তরকারী রুটি ও মাংস যথাযথ কিনা বা খাবার উপযোগী কিনা তার পরীক্ষার দায়িত্ব হলো কর্তকব্যরত সহকারী সিভিল সার্জনের। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ডাক্তারের সামনে নিয়ে আসা হয় তা দেখেই ডাক্তার সাহেব কমেন্টস লিখে দিয়ে ছেড়ে দেন। জেল কোড অনুসারে সুপারের নেতৃত্বাধীন চৌকা পরিচালিত হওয়ার বিধান হলেও তা আদৌ মানা হয়না। ভিজিটাররা যদি জেল ভ্রমনে আসেন সেদিনগুলোতে খাবারের মান কিছু খাওয়ার উপযোগী হয়।
কারাগারের খাবার ক্রয়ে দূর্ণীতির আশ্রয় নেয়ার ফলে সরবরাহকারী অধিকাংশ সময়ে পোকাধরা পঁচা তরকারী ও নষ্ট মাংসও সরবরাহ করেন। যেহেতু সমঝোতার মাধ্যমে নষ্ট খাদ্য দ্রব্য গ্রহন করা হয়। সেই কারণে চৌকায় সেই নষ্ট খাদ্য সামগ্রী খুব ছোট ছোট টুকরা করে জেলের অভ্যান্তরে “লাল গাড়ী” করে ড্রেনের ভিতর দিয়ে বাহিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে চৌকায় রান্নার জন্য গুদাম হতে সরবরাহকৃত তৈল, চিনি যাহা চৌকায় পাঠানো হয় তা থেকে চৌকায় নিয়োজিত কয়েদীগণ যে পরিমাণ বিক্রির জন্য সরিয়ে রাখেন তা বিক্রি না হলে সেগুলোও লাল গাড়ীর মাধ্যমে ড্রেনে ঢেলে দেয়া হয়।
সকালের নাস্তা, বন্দীগণের শারীরিক চাহিদানুসারে সরবরাহ না করায় ফলে বন্দীদের পেটের ক্ষুধা থেকেই যায়। সেই সুযোগে কারারক্ষীগণ বাইর থেকে টিপিন ক্যারিয়ার করে নাস্তা নিয়ে আসে নিজেদের নাস্তা খাওয়ার কথা বলে। বাস্তবে সেই সমস্ত নাস্তা বিক্রি হয় বন্দীদের কাছে উচ্চ মূল্যে। ৪টা রুটি, ১টা ডিম, সামান্য ভাজি, ৫০ টাকা; দোকান হতে কিনলে তার দাম বড় জোড় ২৫ টাকা হবে। কোন কোন দিন বাসা থেকে কোন রকমে ডাল চাল দিয়ে ভূনা খিচুরী রেধে নিয়ে আসে তার দাম নেয় ১০০ টাকা। এর পিছনে মূল কারণ সকালে নাস্তা পরিমাণ মতো না দেয়া

বাংলাদেশ কারাগার - অনিয়ম (পর্ব -সাত) পড়তে somewherein এখানে অথবা bd news এখানে ক্লিক করুন ।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×