অর্থাৎ আশূরার রোযা রাখা ও ইফতার করানোর দ্বারা আশূরাকে সম্মান করা যার বিনিময় হচ্ছে নিশ্চিত জান্নাত।
তাই প্রত্যেক বান্দা-বান্দি ও উম্মতের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- আশূরা উপলক্ষে দুটি রোযা রেখে এবং রোযাদারকে ইফতারি করিয়ে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিল করা।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আরবী বছরের প্রথম মাস মুহররম। আরবী বারোটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত বলে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ ঘোষণা করা হয়েছে, মুহররম মাস তার মধ্যে অন্যতম।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা মুহররম মাসকে এবং এর মধ্যস্থিত আশূরার দিনকে সম্মান করো। যে ব্যক্তি মুহররম মাসকে তথা আশূরার দিনকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহররম “আশূরা” দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এই দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয়। সঙ্গতকারণেই এ দিনটি সবার জন্য এক মহান আনুষ্ঠানিকতা বা আমলের দিন। সাথে সাথে রহমত, বরকত, সাকীনা, ফযীলত ও মাগফিরাত হাছিল করারও দিন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আশূরার একটি অন্যতম আমল হচ্ছে আশূরার রোযা, অর্থাৎ ১০ই মুহররম উপলক্ষে দুটি রোযা রাখা। অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ রোযা রাখা। শুধু ১০ তারিখ রোযা রাখা মাকরূহ। কারণ এদিন ইহুদীরাও রোযা রেখে থাকে। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা আশূরা উপলক্ষে রোযা রাখো তবে ইহুদীদের খিলাফ করো। তোমরা আশূরার দিন এবং এর পূর্বে অথবা পরে আরেকটি রোযা রাখো।” অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ রোযা রাখো।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “রমাদ্বান শরীফ-এর পর সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ রোযা হচ্ছে- মুহররম তথা আশূরার রোযা।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আশূরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা বিগত এক বৎসরের গুনাহর কাফফারাস্বরূপ।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)
অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি আশূরার রোযা রাখবে, “আল্লাহ পাক তিনি এর বিনিময়ে তার আমলনামায় ষাট বছর দিনে রোযা রাখার ও রাতে ইবাদত করার ফযীলত লিখে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আশূরার দিন যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে যেনো সমস্ত উম্মতে হাবীবী উনাদেরকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ! এখন কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, ইফতারি করানোর উক্ত ফযীলত লাভ করার জন্য সকলেই চাইবে ইফতারি করাতে; তাহলে কে ইফতারি করাবে আর কে ইফতারি করবে? এর সহজ এবং সুন্দর ফায়ছালা হলো- যে প্রথমে দাওয়াত দিবে তার দাওয়াতই কবুল করতে হবে। আর যে দাওয়াত খেতে যাবে সে তার সাধ্য অনুযায়ী কিছু ইফতারি সাথে নিয়ে যাবে এবং দাওয়াত প্রদানকারীর ইফতারির সাথে মিশিয়ে একত্রিত করে সকলে মিলে ইফতারি করবে। তাহলে সকলেই ইফতারি করানোর ফযীলত পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ বছরের জন্য আশূরা হচ্ছে ৬ই ডিসেম্বর, ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি (মঙ্গলবার)। অতএব, যারা রোযা রাখবে তারা আগামী ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি (সোমবার) ও ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি (মঙ্গলবার) অথবা ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি (মঙ্গলবার) ও ইয়াওমুল আরবিয়ায়ি (বুধবার) রোযা রাখবে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কাজেই প্রত্যেক বান্দা-বান্দি ও উম্মতের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র আশূরা উপলক্ষে দুটি রোযা রেখে এবং রোযাদারকে ইফতারি করিয়ে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিল করা।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৭:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




