প্রথম জীবনে হ্যারিসন ফোর্ড অভিনয় জীবনে ব্যর্থ হয়ে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকতে কাঠ মিস্ত্রির পেশা বেছে নিয়েছিলেন। হলিউডের পাহারি এলাকায় এখনো তার কাঠের কাজ রয়ে গেছে।
পরিচালক জর্জ লুকাস তাকে ডেকে নিয়েছেলেন একটা ক্যাবিনেট বানাতে। সেখানেই তা ভাগ্য খুলে যায়। জর্জ লুকাশ তাকে দিয়ে অভিনেতার অনুপস্থিতে সংলাপ পড়াতেন। সেখান থেকেই তিনি বনে যান সেসময়ের অন্যতম বিখ্যাত চরিত্র স্টার ওয়ার্সের হান সলো। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকানকি হ্যারিসন ফোর্ড। স্পিলবার্গের ইন্ডিয়ানা জোন্স তাকে এনে দেয় বিপুল খ্যাতি। তার করা আরেকটি বিখ্যাত চরিত্র পেটরিয়ট গেমস ও কিয়ার অ্যান্ড প্রেজেন্ট ডেনজারের জ্যাক রায়ান।
সংলাপ পড়তে যেয়ে তিনি পেয়েছিলেন স্টার ওয়ার্সের হান সলো চরিত্র। টম সেলেক ছিল প্রথম পছন্দ, না পেয়ে স্পিলবার্গ ফোর্ডকে দেন ইন্ডিয়ানা জোনস-এর চরিত্র। আর আলেক বল্ডউইন অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ায় ফোর্ড পেয়ে যান জ্যাক রায়ানের চরিত্র। তবে কিছু চরিত্র তিনি হারিয়েছেনও। সিরিয়ানা ফিরিয়ে দেওয়ায় চরিত্রটি পান জর্জ কুনি, যিনি এ জন্য অনেক পুরস্কার পান। এছাড়াও তিনি ট্রাফিক করেননি, যেটি করেছেন পরে মাইকেল ডগলাস। সামনে আছে তার ইডিন্ডয়ানা জোনস এর চতুর্থ পর্ব।
ফোর্ড প্রেসে সাক্ষাতকার দেন না। চলেন নিজের মতো করে। বাইরের জীবনে তার মধ্যে তারকাসুলভ আচার-আচরণ দেখা যায় না। অভিনয়ের বাইরে তিনি সখের এয়ারক্রাফট চালক। তার আছে সাতটি বিভিন্ন ধরনের এয়ারক্রাফট।
আমার কাছে হ্যারিসন ফোর্ডের সেরা ৫-
১। ইন্ডিয়ানা জোনস-রেইডার্স অব লস্ট আর্ক ও ইন্ডিয়ানা জোনস অ্যান্ড দি টেম্পল অব ডুম। দুটোর নামই বললাম। এখনো আমি এই ছুবি দুটো দেখে মজা পাই। এমনকি আবারো দেখতে চাই।
২। উইটনেস- অভিনেতা হিসাবে ফোর্ডের একমাত্র অস্কার মনোনয়ন পাওয়া ছবি। পিটার উইয়ারের এই ছবি থ্রিলার হিসাবে অসাধারণ। সাথে আছে কেলি ম্যাকগিলিস। এই ছবির অনুকরণে একাধিক হিন্দি ছবি হয়েছে, যেমন বিনোদ খান্নার জুর্ম।
৩। দি ফিউজিটিভ-থ্রিলার, সঙ্গে আছে টমি লি জোনস এর দুর্দান্ত অভিনয়। এখানে ফোর্ড একজন চিকিৎসক। স্ত্রী খুনের দায়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
৪। প্যাট্টিয়ট গেমস-লন্ডনে সপরিবারে ছুটি কাটাতে গিয়ে রাজনৈতিক খুনের সাী হন ফোর্ড। আইরিশ মন্ত্রীকে বাচাতে খুন হয় টেরোরিস্ট গ্র“পের একজন। গ্রেপ্তার হয় মূল নেতা। পালিয়ে গিয়ে ফোর্ডের জীবন নরক বানিয়ে ফেলে। থ্রিলার হিসাবে দারুণ।
৫। হোয়াট লাইজ বিনেথ-মধ্যবয়স্ক বিজ্ঞানী ফোর্ড আর তার বউ মিশেল পেইফার। মেয়ে থাকে বাইরে। আপাত দৃষ্টিতে সুখের সংসার। স্বামী হিসাবেও ফোর্ড অসাধারণ। একসময় মিশেল পেইফার আবিস্কার করলো জীবনটা এক রকম না। রীতিমত স্বামী কেন আসামী টাইপ ঘটনা।
এর বাইরেও দেখতে পারেন রোমান পোলানস্কি পরিচালনায় ফ্রান্টিক, ব্রাড পিটের সঙ্গে ডেভিলস ওন, মার্কিন রাষ্ট্রপতির চরিত্রের এয়ারফোর্স ওয়ান এবং দারুন এক রোমান্টিক কমেডি ওয়ার্কিং গার্ল। উল্লেখযোগ্য চরিত্র না হলেও এপাকালিপস নাও অবশ্যই দেখা কর্তব্য টাইপ একটা ছবি।
বলে রাখি গত ১৩ জুলাই ছিল ফোর্ডের জন্ম§দিন, ১৯৪২ এ তার জন্ম§।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



