somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডগ নামের দুই ছবি: স্লামডগ মিলওনার ও শুটিং ডগস

১১ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পর পর দুটি ছবি দেখলাম। কাকতালীয় ভাবে দুটো ছবির নামের মধ্যেই ডগ আছে। দুই ছবি দুই ভিন্ন ধরণের অনুভূতি আনে। মুগ্ধ হয়েছি, মন খারাপ হয়েছে, ব্যথিত হয়েছি। একটা দেখে ভাল কিছু দেখার অনুভূতি আসে, পরেরটি দেখে মনে পড়লো এই মুহূর্তে গাজায় কি হচ্ছে সেটি।

স্লামডগ মিলিওনার


মুম্বাই-এ বেড়ে ওঠা তিনজনের গল্প। জামাল, সেলিম আর লতিকা। মূলত এটা জামাল মালিকের গল্প। সেলিম মালিক তার ভাই, লতিকা প্রেমিকা।
জামাল কোন বনেগা ক্রোড়পতিতে (হু ওয়ান্টস টু বি মিলিওনার) অংশ নিয়ে ১০ লাখ ডলার পুরস্কারের একদম কাছাকাছি। আর মাত্র একটা প্রশ্ন। জামাল এখন একটা কল সেন্টারের সহকারি।মূলত চা খাওয়ায় সবাইকে, মানে ক্যান্টিন বয়। উপস্থাপক অনিল কাপুর এই জামালকে পুলিশে ধরিয়ে দেয় প্রশ্নের উত্তর দিতে জালিয়াতি করার জন্য। পুলিশ শুরু করে নির্যাতন আর শুরু হয় জবানবন্দি। এই হচ্ছে ছবির শুরু।
শুরু হয় পেছন দিক থেকে। প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর আসলে জামালের জীবন কাহিনী। পরিচালক অসাধারণ দতায় এটি তৈরি করেছেন। একশ ডলারের নোটে কার ছবি এই প্রশ্নের উত্তর জামালের জানা। পিস্তল কে আবিস্কার করেছে সেটিও জামালের জানা। এমনকি সে জানে ভজনের মূল লেখক সুরদাস। কিভাবে জানে? সেটাই আসল সিনেমা।
জামালের বাবা-মা মারা যায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়। সেই থেকে লতিকা তাদের সাথে। তারা ত্রি মাসকেটিয়ার্স। জীবনটা তারপর জামালকে অনেক দিকে নিয়ে যায়। ছেলে ধরা গ্র“পের হাতে পরে তারা। পালিয়ে যায় দুই ভাই। সেখানে সুরদাসের ভজন ভালো গাইতো যে ছেলেটি তাকে অন্ধ করে দেওয়া হয় ভিায় কাজে লাগাতে। সেই ছেলেটিই জামালকে একদিন বলেছিল ডলারে কার ছবি। পিস্তল সে প্রথম দেখে ভাইয়ের কাছে। ভাই এখন আন্ডারওয়ার্ল্ড-এর বড় একজন কেউকেটা। লতিকাকে খুজে পেলেও বড় ভাই তাকে দিয়ে দেয় তার বসকে। জামাল লতিকাকে পেতে মরিয়া। ছবিটা এভাবেই এগিয়ে যায়।
ছবিটার নির্মাণ অসাধারণ সুন্দর। ক্যামেরার কাজও ভাল। উপরি পাওনা এর আর রহমানের মিউজিক। আর অসাধারণ অভিনয়। ছোট বেলার জামাল, সেলিম লতিকা যেমন , বড় হয়েও তেমন অভিনয়।
এটি ভারতের পটভূমিকার ছবি, ভারতের ছবি না। হলিউডের ছবি। সমালোচকরা ব্যাপকভাবে পছন্দ করেছে ছবিটা। এখন পর্যন্ত পুরস্কারও পেয়েছে অনেকগুলো। অস্কারের স্লামডগ মিলিওনার সামনের সারিতেই থাকবে।
ঢাকায় ভাব ভাল প্রিন্ট পাওয়া যাচ্ছে। আমি তো মুগ্ধ।

শুটিং ডগস:


রোয়ান্ডার গণহত্যা নিয়ে সেরা ছবি হোটেল রোয়ান্ডা। যাকে বলে আফ্রিকান সিন্ডার্স লিস্ট। গণহত্যা নিয়ে অন্যতম সেরা ছবি বলা হয় হোটেল রোয়ান্ডাকে। আবার ছবিটা নিয়ে সমালোচনাও আছে। যেমন রোয়ান্ডায় সে সময় অবস্থানরত ইউনাইটেড ন্যাশন অ্যাসিসট্যান্স মিশন ফর রোয়ান্ডা (ইউএনএএমআইএর)-এর ভূমিকা নিয়ে। বলা হয় তারা আসলে গণহত্যা থামাতে তেমন উদ্যোগ নেয় নাই। তাদের ভূমিকা ছবিটাতে সঠিকভাবে আসেনি।
সেদিক থেকে ব্যতিক্রম শুটিং ডগস। ইকোল টেকনিক অফিসিয়াল রোয়ান্ডার একটা মাধ্যমিক স্কুল। এটি চালায় ফাদার ক্রিস্টোফার। আর শিক হিসেবে লন্ডন থেকে চলে এসেছে জো, এক আদর্শবাদি যুবক। ১৯৯৪ সালে ১১ এপ্রিল রোয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট খুন হলে শুরু হয় গণহত্যা। হুতুরা সংখ্যাগরিষ্ট। তাদের হাতে মারা যায় টুটসিরা। জাতিসংঘ বাহিনী তখন ছিল রোয়ান্ডায় মতা ভাগাভাগি পর্যবেনে। গণহত্যা শুরু হলে স্কুলে ক্যাস্প করে জাতিসংঘ মিশন। একরাতে এখানে আশ্রয় নেয় আড়াই হাজার টুটসি। বাইরে তখন চলছে গণহত্যা। দৃশ্যটা এরকম-ক্যাম্পের ঠিক একশ গজের বাইরেই উল্লাস করছে হুতুরা, সবার হাতে এক-৪৭, রামদা, কুড়াল ইত্যাদি। বের হলেও হত্যা। সারা শহর জুড়ে তখন এই হত্যা উৎসব। স্কুলের গাড়ি চালাতো যে তাকেও দেখা গেল রামদা হাতে। এখানে আশ্রয় নিয়েছে আরো কিছু সাদা চামড়া। সাংবাদিকও আছে।
সবার চোখের সামনে চলছে গণহত্যা। কেউ কিছু করছে না। ইউএন মিশনও না। তাদের নাকি খালি পর্যবেণ করার আদেশ, গুলি করার আদেশ নাই। একসময় সব সাদা চামড়াকে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়। থেকে যায় ফাদার ক্রিস্টোফার ও জো। তারা অসহায় টুটসিদের ছেড়ে যাবে না। এক সময় জাতিসংঘ মিশনের কাছেও অর্ডার আসে ক্যাম্প ছেড়ে দেওয়ার। তারা চলে যাবে। টুটসিদের প থেকে অনুরোধ করা হয় জাতিসংঘ বাহিনীই যেন তাদের মেরে রেখে যায়, তারা হুতুদের হাতে মরতে রাজি না। চলে যায় মিশন। এবার আর জো পারে না। আদর্শবাদী ভাবনা ছেড়ে মৃত্যু ভয়ে সেও চলে যায় মিশনের সাথে। থেকে যায় শুধু ফাদার ক্রিস্টোফার। জাতিসংঘ বাহিনী আড়াই হাজার টুটসিদের হুতুদের হাতে ছেড়ে দিয়ে চলে যায় রোয়ান্ডা ছেড়ে।
ফাদার যখন টুটসিদের গগের মহিমা শোনায় তখন একজন প্রশ্ন করে বাইরে যারা ওদের মারার জন্য আছে গড কি তাদেরও ভালবাসে? জ্বালানি নেই, ফাদার অর্ডার দেয় সব বাইবেল পুড়িয়ে আগুন জ্বালাতে।
চলে যায় জাতিসংঘ মিশন। কয়েকজন বাচ্চা আর একটা মেয়েকে কোনো রকম বাইরে নিয়ে যায় ফাদার। পথে ফাদারও মারা যায়। ক্যাম্পে থাকা প্রতিটা টুটসি মারা যায় হুটুদের হাতে।
বিবিসি প্রোডাকশনের ছবি। পুরো ঘটনাটিই সত্যি। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গণহত্যার শিকার হয় ৮ থেকে ১০ লাখ টুটসি। ছবিটার শুটিং করা হয়েছে রোয়ান্ডার সেই সব স্থানে যেখানে গণহত্যা হয়। অরিজিন্যাল জায়গাগুলোইতেই শুটিং হয় এবং টেকনিশিয়ানরাও ছিল এমন টুটসি যাদের আÍীয় স্বজন মারা গেছে এই সময়। এমনকি ধর্ষনের শিকার একজনও ছিল ছবিটার সঙ্গে।
যারা দুর্বল চিত্ত তাদের এই ছবি না দেখাই ভাল।

উপরের প্রথম ছবিটা শুটিং ডগস ছবির একটা দৃশ্য। অসহায় টুটসিরা দেখছে বাইরে হুটুদের উল্লাস।
১৫টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×