![]()
একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আলবদর, আল শামস ও রাজাকার বাহিনী যখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধাপরাধ ঘটাতে থাকে তখন মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ছিল ময়মনসিংহ-জামালপুর এলাকার আলবদর সংগঠক। হত্যা নির্যাতনের ঘটনায় সেসময় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।
মুহম্মদ কামারুজ্জামান ’৭১-এ ছিল জামাতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের ময়মনসিংহ শাখার নেতা এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে আলবদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক। ছাত্রসংঘ সদস্যদের সংগঠিত করে বদর বাহিনীতে নিয়ে আসা এবং অস্ত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব ছিল তার।
শেরপুরে মোতায়েন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর রিয়াজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল সে। একাত্তরের এপ্রিল থেকে আগস্ট সময়টায় কামারুজ্জামান ও তার বদর সদস্যরা ছিল বেপরোয়া। লোকজনদের ধরে এনে ক্যাম্পে নির্যাতন ও পরে হত্যার বহু অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততা আছে।
আর এসব কারণে নালিতাবাড়ি থানায় ১৯৭২ সালে ১৮ জনের বিরুদ্ধে যে মামলা হয় তার অন্যতম আসামি ছিল কামারুজ্জামান।
দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে মিত্রবাহিনীর স্বাক্ষরিত সারেন্ডার লেটার বহনকারী জহুরুল হক মুন্সী বীর প্রতীককে পাকিস্তানিরা আটক করলে কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।
এগারো নং সেক্টরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশ টিভিকে এ সম্পর্কে বলেন, “ওদের সেই ফোর্সই আমাদের আটকাইছে। চোখ, হাত, পা বেঁধে ওদের যে জিপ আছে সেইডার পেছনের চাক্কার সঙ্গে বেঁধে পরে ওয়াপদা বিল্ডিংয়ের ভেতরে নিছে। নিয়ে পরে আমারে উল্টা পায়ে পাঁচ ঘন্টা টাঙ্গিয়ে রাখছে। তারপর বেয়োনেট মারছে। বেয়োনেট মেরে আমার পাটা পঙ্গু করে দিছে। তাছাড়া আঙ্গুলের ভেতরে সুঁই দিয়ে খোঁচাইছে। দাঁত ম্যাগজিন দিয়ে বাড়ি দিয়ে ভাঙছে। আমি যদি না যাই তার জন্য আমারে খুব কষ্ট দিছে।” যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে এর সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
কামারুজ্জামান জামাতে ইসলামীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক ছিল।
যুদ্ধের পর অন্যান্য জামাত নেতাদের মতো সে ও পালিয়েছিল। প্রকাশ্যে আসে ’৭৫-এর পর। বর্তমানে সে জামাতের সহকারী মহাসচিব।
তথ্যসূত্রঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




