আমার প্রিয় পোস্ট

এখন থেকে আমি 'মুক্ত মানব' -এই নিক-এ লিখবো। আপনি আমন্ত্রিত।

পুবের মন, পশ্চিমের ক্ষণ (কালচারাল শক-১ক: ড্রপ বক্স)

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৪৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

ঝটিকা ইওরোপ বাদ দিলে, আমার সেই অর্থে পশ্চিমা জীবনের (পড়ুন, ক্ষণের) বিসমিল্লা মার্কিন মুলুকে। ছোট এক শহরের ঢাউস এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচির মতো ব্যাপার। এটা এজন্য বল্লাম যে, ছুটি ছাটায় শিক্ষার্থীরা বাড়ী ফিরে গেলে শহরের জনসংখ্যা ৭৫% কমে যায়।
যা হোক। একটু থিতু হয়ে দুই দিন পর গেলাম ভার্সিটির লাইব্রেরীতে।
বিশাল ব্যাপার, আস্ত কলাভবণ তার মধ্যে সেঁধিয়ে যাবে। এক বিখ্যাত ফুটবল কোচের (সকার নয়, মার্কিন তরিকার ফুটবলের গুরু) পয়সায় বানানো, স্বভাবতই তারই নামে। মজার ব্যাপার, ঢা.বি. তে আমরা বই-এর ধারে কাছেও ঘেঁসতে পারতাম না (কল নাম্বার লিখে দিয়ে লাইব্রেরিয়ানকে করুন স্বরে বলতে হতো: ভাই দেখুন তো এই বইটার পাতা না কাটা কোনো কপি...), আর এখানে বই-এর কাছে যাওয়া যায়, নেড়ে চেড়ে দ্যাখা যায়, তারপর ভালো লাগলে ইস্যু করে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়।
ভয়ে ভয়ে জিগ্গ্যেস করলাম: 'ভাই কয়টা বই এক সাথে ইস্যু করা যায়?'
- ' যে কয়টা আপনার ইচ্ছা।'
আমার তখনো ধন্দ: 'যে ক..য়..টা আমার ইচ্ছা? কোনো লিমিট নাই?!'
-' বল্লাম তো, ৫০ টা ১০০ টা..১০০০ টা যে কয়টা আপনার দরকার নিয়ে যান।'
: 'কয়দিন রাখতে পারবো?'
-'সারা সেমিস্টার, মানে পুরা চার মাস। আগামি সেমিস্টারেও আপনি আমাদের এখানে থাকলে তখনো এগুলো আপনার কাছে রাখতে পারবেন। শুধু অনলাইনে একটু ক্লিক ক'রে রিনিউ করে নিলেই হলো।'
আমার পুবের বাংগাল মনে তখনো অবিশ্বাস: 'আপনি বলছেন আজকে আমি ১০০০টা বই -ই ইস্যু করতে পারবো। কিন্তু কাল?'
-' কাল আবার এসে অন্য হাজার টা বই নেবেন। প্রতিদিন নিতে পারবেন।' লোকটা হাসছে।
একেকটা পশ্চিমা বই যা মোটা আর ভারী (ব্যাটারা মনে হয় নীলক্ষেতের চটি'র মতো হালকা প্রকাশনায় বিশ্বাসী নয়!) মনে চিন্তা করলাম, এরকম বই গোটা পাঁচেক নিলেই আমাকে আর হেঁটে ডর্মে ফিরতে হবে না, ক্যাব নিতে হবে। যা হোক ব্যাকপ্যাকে গোটা দুয়েক ঢোকলাম, হাতেও একটা নিয়ে নিয়ে গেলাম লাইব্রেরী চেক আউট কাউন্টারে। বেশ লম্বা ভীড়। মনে মনে ভাবলাম, এ দেশে বুঝি মধুর ক্যান্টিন নাই, বেচারা পোলাপানের আর যাওনের কোন জায়গা নেই, এই স্টেডিয়ামের মতো বিশাল লাইব্রেরী ছাড়া। ওদের জন্য বাংগাল মনে একটু মায়াও হ'লো। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরে যখন সেই লাইব্রেরী-কর্মীর কাউন্টারে এলাম।
- 'নতুন বুঝি? বই চেক আউটের জন্য তো আমার কাছে আসার দরকার নেই, ঐ তো মেশিনে সেল্ফ চেক-আউট করছে সবাই।', ব্যাটা হাসতে হাসতে বল্লো।
: ' তা হোক। আমি তো তোমার কাছেও চেক আউট করতে পারি, পারি না?'
-' তা পারো। একি মাত্র তিন টা বই নিচ্ছ?', বিচ্ছু হাসিটা লেগেই আছে। সে যাত্রা কিছু নয়, গোল-টা বাধলো কয়েক সপ্তাহ পরে, বইগুলো ফেরত দিতে গিয়ে।
(কালচারাল শক-১খ-এ সমাপ্য)।
--------------------------------------------------
[পাদটিকা: প্রিয় ব্লগার, নিশ্চয়ই সহমত হবেন যে, পুবের মফিজ জীবনের প্রথম ম্যানহাটানে এসে, কিম্বা পশ্চিমের হ্যারি জিন্দেগীর পয়লা আমাদের হাতির পুলে আসিয়া দু-একটা সাংস্ক্রিতিক ছ্যাঁকামাইসিন, তথা 'কালচারাল শক' না খেলে কেমন যেন শুন্যতা থাকে, বিয়ে বাড়ীতে পোলাও কোর্মার পরে দই-মিস্টি পাতে না আসা অব্দি যেমন খালি খালি লাগে আর কি!
মাশাল্লা, আপনাদের দোয়ায় সেই কালচারাল ছ্যাঁকা , মানে ডেজার্ট খেতে বেশিদিন সবুর করতে হয়নি। সে সবের একটু আধটু আপনাদের সদয় আস্কারা পেলো মাঝে মধ্যে 'পুবের মন, পশ্চিমের ক্ষণ' শিরোনামে ব্লগর ব্লগর করতে ইচ্ছা রইলো।]

--------------------------------------------------
পুনশ্চ: সণ্ধ্যা থেকে মনে মনে নিয়ত করে আছি যিনি আজ এই পোস্টে প্রথম মন্তব্য করার মতো উদারতা দ্যাখাবেন, এই পোস্টটি আমি তাঁকে উত্সর্গ করবো। এই পোস্টটি তাই প্রিয় ব্লগার অরুণাভ-আপনাকে উত্সর্গ করলাম।



 

 

  • ১১ টি মন্তব্য
  • ৩১৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:২৫
comment by: অরুনাভ বলেছেন: সুন্দর ..... আপনি লিখেন আর আমরা জানি আপনার অভিজ্ঞতার কথা....৫....
২. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:৫৯
comment by: ৃৃমম বলেছেন: ভাই অরুনাভ, আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। সণ্ধ্যা থেকে মনে মনে নিয়ত করে আছি যিনি আজ এই পোস্টে প্রথম মন্তব্য করার মতো উদারতা দ্যাখাবেন, এই পোস্টটি আমি তাঁকে উত্সর্গ করবো। এই পোস্টটি আপনাকে উত্সর্গ করলাম। আপনার মালোয়েশিয়ার প্রবাস জীবনের আরো কিছু গল্প শেয়ার করুন আমাদের সাথে। আজ ইত্তেফাকে পড়ছিলাম মালোয়েশিয়ার এক কবির কবিতার অনুবাদ, প্রথম টা ভীষণ ভালো লেগেছে।
৩. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩১
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: চলুক,দৌড়াক,পয়লা পর্বই দারুণ,বেশি না ঝুলিয়ে পরের পর্ব ছাড়েন।(এই ব্লগের ভালো সিরিজগুলি মাঝে মাঝেই মাঝপথে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাসনে যায়,তাই এই হুমকি) ৫ এর কথা কি আর বলে দেয়া লাগবে?:)
৪. ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:০১
comment by: ৃৃমম বলেছেন: আমি মন শাসিত, চন্দ্রাহত, আবেগী এক মানুষ। ফারহানের সুন্দর মন্তব্য পড়ে ইরাদা করলাম ড্রপবক্সের পরবর্তী পর্ব তাকেই উত্সর্গ করলাম। তবে শনি-রবির আগে মনে হয় পারবো না রে ভাই, ৩০ তারিখ পর্যন্ত একটু দৌড়ের উপর আছি। ভালো কথা, আপনার কিছু কবিতার লাইণ কিন্তু মাঝে মধ্যেই হন্ট করে। কিন্তু, একুশ শতক হলো কলির কলি, ঘোর কলিযুগ। জো'র তো পালাবার জো নেই....। অনেক শুভেচ্ছা জানবেন।
৫. ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:১৭
comment by: অরুনাভ বলেছেন: JESUS CRIST .... আমারে এরকম উদারতা খুব কম মানুষই দেখিয়েছে....আপনারে অনেক গুলা ধইন্যাপাতার ডলা....
৬. ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৪৫
comment by: ৃৃমম বলেছেন: অরুনাভ , you deserve it, my friend.
[কানে কানে বলি, বছর খানেক পরে কি আমাকেও কেউ কিছু (মুলি বাঁশ ছাড়া) দেবে না?]। ভালো থাকুন।
৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:৩৭
comment by: সিহাব চৌধুরী বলেছেন: ৃৃমম ভাইয়া, একটা calculation :

প্রতিদিন ১০০০ টা বই ।
মাসে ৩০*১০০০ টা বই ।
৪ মাসে ৪*৩০*১০০০ টা বই ।
আম্রিকার চোরাই বাজারে প্রতি পিস বাংলাদেশী টাকায় ৫০০ তো হইবই।
১ সেমিষ্টার শেষে আম্রিকা ভাগল দিলে (পরীক্ষা না দিলে )৫০০*৪*৩০*১০০০ ।
৬ কোটি টাকার কয় টাকা ফালাইবেন আর খাইবেন ? আমারে কিছু দিয়েন । ঃ)

.......................................

৫ । কবে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এমন হবে ? গ্রামের বাড়িতে অতি পরিশ্রমে হাড় ভাংগা চাষা বাবার ভাংগা হাড়ের বিনিময় ব্যয়সাপেক্ষ বই গুলো আর কিনতে চাই না । ঃ( ।
৮. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:২৩
comment by: নির্বাসিত বলেছেন: আপনার লেখা পড়া শুরু করলাম। ভাল লাগছে।
৯. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:৩৮
comment by: ৃৃমম বলেছেন: @সিহাব: খুব হাসলাম। ৬ কোটি তো দুরের কথা ১ কোটি টাকা থাকলেই প্রাতিস্ঠানিক বিদ্যার নিকুচি করতাম অনেক আগেই। আপনার দ্বিতীয় অংশের প্রেক্ষিতে বলি: এটা তো ভাই সেই চিরকালীণ 'ডিম আগে না মুরগি আগে'র সমস্যা, কিম্বা মুজতবা আলীর ভাষায়: পাঠক বই কেনে না বলে বইয়ের দাম কমে না , না কি বইয়ের দাম কমে না বলে পাঠক বই কেনে না-কোনটি কারণ-কোনটি কার্য বলা মুশকিল। তেমনি, আমাদের দেশ উণ্ণত নয় বলে লাইব্রেরীগুলো শুটকি মার্কা, নাকি লাইব্রেরিগুলো এমন বলেই দেশের অর্থনীতির এমণ করুণ দশা বলা মুশকিল। তবে ইদানিং কিন্তু মার্কিন লাইব্রেরীগুলোও 'অপাঠ্য' বই রাখার ব্যাপারে যতো উদার, 'পাঠ্য' বই রাখার ব্যাপারে ততোটা নয়। Text বই ব্যাপারীরা মনে হয় লাইব্রেরী কর্ত্রিপক্ষ কে ঘুষ দেয়া শুরু করেছে-রেখোনা আমাদের বই, শিক্ষার্থীরা তাহলে গাঁটের পয়সা খসাবে না!।

@ নির্বাসিত: ভাই আপনি আমার একজন প্রিয় ব্লগার। প্রিয় ব্লগারকে পাঠক হিসেবে পাওয়া যে কারো জন্যই সৌভাগ্যের। স্বাগতম।
১০. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:৪৬
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: আপনার লেখাটা পড়েছি আগেই , কমেন্ট করতে দেরী হয়ে গেল , দারুণ লেগেছে ।
মুক্ত আকাশটা দেখেও অবিশ্বাস্য লাগছে , ভাবছেন নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখছি .............
৫+
১১. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:২৮
comment by: ৃৃমম বলেছেন: ধন্যবাদ মেহরাব, আপনার আকাশের মত সুন্দর মন্তব্যের জন্য। আপনার পোস্টগুলোও খুব আন্তরিক, জীবন্ত। আমি সেগুলো পড়ে আমারো খুব ভালো লাগে।

 



 


আমার নতুন ব্লগের লিংক:
http://www.somewhereinblog.net
/muktamanabblog/


যা দেখি যেভাবে দেখি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৯৯৮৫