ইস এই যুদ্ধটা যদি অহন লাগতো আমি ফেইসবুকে আজই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে কয়েকটা গ্রুপ খুইলা কয়েক হাজার দাওয়াত সেন্ড করে দিতাম। আর সকালে উঠেই আমিই ঘোষক ঘোষক দাবী করতাম (?) আবার কেউ গ্রমীনের চুক্তিতে ৫০০ টাকায় ২২২১১ থেকে মোবাইলে কয়েক হাজার পুশ ম্যাসেজে যুদ্ধের দাওয়াত দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষনা দিল ? ওকে, সেও ঘোষক।
জিয়াউর রহমান যখন কালুর ঘাটের পঞ্চাশ কিলোমিটার ক্ষমতার একটা রেডিওতে ঘোষনা দিয়ে একলক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা সুইস টিপেই দিতে পারে, এদিক সাত কোটি মানুষ হেমিলনের ইদুর ওয়ালার ইদুরে মত যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে মরতে থাকে তখন ফেইসবুকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ঘোষনা দিয়ে আমি একশবার দাবী করতে পারি, আরও যে যে যাকে যাকে বলুক না কেন তারাও দাবি করতে পারে।
ঠিক একই ভাবে সেই একাত্তুরেও জিয়ার মত আরও অসংখ্য মানুষ, পুলিষ, বিডিয়ার, সেনা কর্মকর্তা তার পিঠের রেডিও দিয়ে, ওয়ারলেসে, টকিতে, মাইকে, কোন ছাত্র বন্ধুদের ডেকে, যে যেখানে যে কাউকে ডেকে বা একাই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরছে জিয়ার টাউট পত্নির বাটপারীর ফর্মূলায় তারাও সবাই স্বাধীনতার ঘোষক। জিয়া যদি চিটাগাং থেকে কুমিল্ল পর্যন্তও পৌছুতে না-পারা ৫০ কিলোর রেডিও টিপ দিয়েই ঘোষক হয়ে যায় তবে যে বাজারে মাইক মেরে, বন্ধুকে একটা চিরকুট দিয়ে অবস্থা অবগত করে পরবর্তী করনীয় ঠিক করেছে তারা প্রত্যেকেই স্বাধীনতার ঘোষক। আমরা এই প্রজন্ম অন্তত তাদেরক এটাই বলবো। কিন্তু এদের কেউ অভদ্রের মত মাঝখানে লাফ দিয়ে উঠবে না দাবি জানিয়ে।
বিএনপির কুকুরের ছাপ পরে যাওয়া কিছু ফেইস যখন নির্লজ্জা চামচার মত জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক ঘোষক বলে গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করতে থাকে তখন এই জাতি যে কত বড় চামচার জাতি তা প্রতিচ্ছবি হয়ে বাটপারগুলোর মুখে স্পষ্ট ভেসে ওঠে।
কত বড় টাউট হলে মাত্র চল্লিশ বছর আগের ঘটনা নিয়ে এমন অযুক্তিক বিতর্ক করতে পারে কোন মানুষ। এমন জাতি কি পৃথিবীর বুকে আর একটাও আছে ? পুরো দুনিয়ার উইকিপিডিয়ায় আর কোন দেশের এরকম ফাউল একটা পেইজ নাই, সি Click This Link ছিঃ ছিঃ। এ এক জাতীয় অধঃপতন।
আরে বেয়াক্কেলেরা অজ্ঞ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা হয় ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে, বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার এক আমবাগানে। আর ঘোষনা পত্র পাঠ করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ইতিহাসে এভাবেই হয়। আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৭৭৪ আর ঘোষনা ৪ জুলাই ১৭৭৬, তবে এর মাঝে যুদ্ধ ছড়াতে থাকলেও কেউ অভদ্রের মত লাফ দিয়ে বলে ওঠেনি এই দেখেন আমার এক্স হাসবেন্ডে হেড ডিইকলেয়ার্ড ইট। আর যদি ২৬ মার্চের কথা বলেন ? সেদিনের ঘোষনা পাঠ করা শুরু হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী। সেই টোটাল সময়ের মধ্যে জিয়া নাই সে কথাটাও কোন হারামি বলবে না।
জিয়া নিজে যেখানে কোন দিন দাবী করেনি কালুর ঘাটের ঐ ঘোষনাকে স্বাধীনতার ঘোষনা বলে। কারন তিনি বুঝতেন এই দাবী করা মত্র তিনি নিজেকে টাউট হিসাবে প্রমান করবেন। আর একজন সেনা অফিসার আর যাই হউক নিজেকে টাউট প্রমান করতে পারে না। এই টাউটে কর্ম মউদুদের, সাকার, জয়নালের, হালের ইরানের আলমগিরের এবং টাউট এমাজ উদ্দিন প্রমুখের। কিন্তু চাচা আপনি এটা কি মূর্খ চাচি রেখে গেলেন যে আপনি মরার পর এক দল টাউট সাথে নিয়ে আপনাকে সকাল বিকাল টাউট বানাচ্ছে ?
আমরা কাঁদামাটির জাওলা বাঙালী তাই ফাউলে সাথে তার ভাষায় কথা বলি, কিছু মনে করবেন না। করলেও ক্ষতি নেই কারন আমি তোমাকে না তোমার দেশকে ভালোবাসি।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১০ রাত ২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



