ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র হয়েছে। তেমনি আজ বাংলাদেশে নিজামীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর শাখার আমির রফিকুল ইসলাম খান এ কথা বলেছেন। গত তারিখ: ১৭-০৩-২০১০ তারিখে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মহানবী যখন ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন, তখন তাঁকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে, তাঁর ওপর অত্যাচার করা হয়েছে, উটের পচা নাড়িভুঁড়ি মাথায় ঢেলে দেওয়া হয়েছে, মিথ্যাচার করা হয়েছে, ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তেমনি বাংলাদেশে নিজামী সাহেব জামায়াতে ইসলামীর আমির হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে। সাথিয়া (পাবনার একটি থানা) থেকে হাড়গোড় নিয়ে এসে তাঁকে খুনি বানানো হয়েছে।...ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র হয়েছে। তেমনি আজ বাংলাদেশে নিজামীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন আরও বলেন, ‘ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র হয়েছে। তেমনি আজ বাংলাদেশে নিজামীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
এই হলো সর্বসাকুল্যে মোদ্দা কথা যাহ বলা হইয়াছে, হইতে থাকিতেছে এবং একদিন আর হইতে থাকিবে না ইহাই আল্লার সৃষ্টি ইহাই আল্লাহ্র শেষ্ঠত্ব।
তবে কথা হলো যে রফিকুল ইসলাম খানের বক্তব্যের এই বিতর্ক গত ১৭/০৩/২০১০ সালের নতুন না। আজকের হঠাৎ করিয়া মাথায় আসিয়া পরা ফতোয়া না। শত শত বছর পূর্ব থেকেই এ বিতর্ক ছিল। ধরেন কেউ এক জন কোন এক কাজ করিয়াছেন আর একজন কেউ প্রশ্ন তুলিল তখন মওদুদিরা ফতোয়া দিলেন যেহেতু নবীজি এই রকম করেছেন সেহেতু আমাদের সাগরেদ এই কাজ করিয়া নবীজির অনুরুপই করিয়াছেন। এই ফর্মূলায় ফেলিয়া তাহারা তাদের জঘন্যতম কাজটিতেও যেমন বোমা মেরে নিরিহ মানুষ হত্যা করে নবী এবং ইসলামের বিকৃত ব্যাখ্যার প্রলেপ দিয়া নিজেদের সমর্থন দিয়া আসিতেছেন। কি ভয়ংকর এদের ফতোয়া ভয়ংকর এদের যুক্তি ! এদেরকে এত সাহস ইবলিশ ছাড়া আরকে দিতে পারে ?
মূলত ইসলামের এই গোষ্ঠিটার জন্ম হয়েছিল সেই আদম হাওয়ার বেহস্তের দিনগুলোতেই। জনাব ইবলিশ ছিলেন এই মতবাদের প্রবর্তক। সেখানেই শুরু হয় আল্লার আদেশ গবেষনা করিয়া নিজের স্বার্থ হাছিলের ইবলিশের এই গর্হীত স্পর্ধা। এরপর দুনিয়ার বুকে অনেক মাজহাব নাম ধারী গোষ্ঠী ইতিহাসের নানা শতাব্দীতে নানান জনপদে ইবলিশের সুযোগ্য প্রতিনিধী হয়ে মুসলমানদের গন্ধম খাওয়াইয়া আসিতেছেন। আমাদের এই অঞ্চলে মওদুদিবাদ হলো সেই গোষ্ঠির অন্যতম স্থানীয় প্রতিনিধি। জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ এ অঞ্চলে সেই ইবলিশের আজকের সোল প্রতিনিধি । সম্প্রতী বছরের জেএমবির কার্যকলাপে ও কথাবার্তায় এমন অনেক স্পর্ধার নজিরও পাওয়া যায়।
এবার চলুন এদের সরুপ খুজে বের করতে এ অঞ্চলে ইসলামের আবির্ভাব সম্পর্কে অতীতের উপর একটা সিনোপটিক ফ্লাশ ব্যাক করি। এ অঞ্চলে ইসলাম আজ নতুন আসেনি। মওদুদির হাতেও এই অঞ্চলের ইসলামের হাতে খড়ি হয়নি। এ অঞ্চলে ইসলাম এসেছে হাজার বছর আগে। পীর আওলিয়ারা এ অঞ্চলে কোথাও কখনও বিরল ছিল তার ইতিহাস কেউ দেখাতে পারবেন না। ইসলামের শান্তির বানী নিয়ে এ জনপদে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে এক আল্লাহ আর নবীর প্রদর্শিত পথে মানুষকে হাজার বছর আগে দাওয়াত দিয়েছেন তারা। তাদের সেই শান্তির বানিতে কখনও মন্দির ভাং ইসলাম প্রতিষ্ঠা কর এর আদর্শ দেখা যায় নাই বরং দেখা গেছে সমাজের হিন্দু বৌধ্য সবাই সেই শান্তির ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে বার বার এবং আজও।
অন্য দিকে ইবলিশের অনুসারীরা আর এই মওদুদিরা নিজেদের স্বার্থে নিজামীর মত ইবলিশের মানসপুত্র কে নবী মনে করা বা নবীর সমতুল্য প্রচার করতে কখনও দ্বিধা করেনি সামান্য ভয়ও কখনও পায়নি। নানা সময় নানা মাত্রায় ব্যবহার করে। এবারের মাত্রাটা কতুটুকু ছিল তা বোঝা যেত অন্য কেউ যদি কথাটি বলতো তাহলে পরের দিনই বায়তুল মোকার্রম থেকে মিছিল বের করে তাকে মুরতাদ ঘোষনা দিয়ে তার মস্তকের মূল্য নির্ধারন করে দেয়া হতো। সেই বিক্ষোভ এবং দাবীকে আর্মী ব্যাকড কেয়ারটেকার সরকারও ফেইস করার সাহস পেত না।
ঐ দিন যেমন শিবির তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে যুদ্ধাপরাধী অর্থাৎ নিজামি মুজাহিদের বিচার সমর্থন করে বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন আবার কয়দিন পর সেই শিবিরই নিজামীকে নবীর সাথে তুলনা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তেমনি কাল সকালেই যদি প্রয়োজন পরে নিজামিই তাদের নবী বলতে এরা এক সেকেন্ডও সময় নিবে না। প্রকৃত পক্ষে ভেরির খালে নেড়ের মত মুমিনের খালে এরা ইবলিশের সহচর। এরা নানা রুপে সব সময়ই ছিল। এরা আল্লাহর আদেশ নবীর বানি গবেষনা করে ইবলিশ যে ভাবে আদম হাওয়াকে বিপথে পরিচালিত করে ছিল তাই করছে নানা শতাব্দিতে নানা জনপদে।
এবার চলুন দেখি আমরা সাধারন মুসলমানরা কি করি ? আল্লাহ নির্দেশ এবং নবীর প্রদর্শিত পথে চলার চেষ্টা করি। আমারা কখনও নবীর সমতুল্য হওয়া বা কাউকে করার মত স্পর্ধা দূঃস্বপ্নেও দিখিনা।
নবীজি ৫ (পাঁচ) কে ৫ (পাঁচ) বলেছেন তার মানে এই না আপনিও ৫ (পাঁচ) কে ৫ (পাঁচ) বলিয়া নবীর কর্মটিই করিয়াছেন ! বা নবীর মত হইয়া গেছেন বা নবী হইয়া গেছেন। আমরা নবী করিম সাঃ এর পথ অনুসরন করার চেষ্টা করি মাত্র। আমাদের সেই স্পর্ধা কখনও হবেনা যে এই কাজটি আমরা নবীজির অনুরুপ করিয়া ফেলিয়াছি। আমাদের মত পাপি বান্দার কর্ম কোনদিন নবীজির অনরুপ হওয়া দূরে থাক তার ধারে কাছে কতটুকু পার্ফেকশনে পৌছাতে পারেছে তার বিচার আল্লাহ তালা একদিন করবে সেদিন নবী করিম সাঃ আমাদের কর্মের পরিমাপ করে বলবেন আমরা কত দূর তাকে অনুসরন করতে পেরেছি।
আর এদের সাহস কত বড়। এরা কথায় কথায় নবীর মত কাজ করে ফেলেন। মাঝে মধ্যে নবী হয়ে যাওয়ারও স্বপ্ন দেখেন। কত বড় স্পর্ধা এদের দেখেন ? এরা আসলে কারা ? এরা সেই ইবলিশেরই বংশধর। এদের চিনতে আপনাদের ভুল হয় কারন এরা আল্লার বানি গবেষনা করে সে ভাষাতেই কথা বলে, খবই সূক্ষ বা খুবই ক্লোজ যুক্তি ও ফতোয়া দিয়ে সেই ইবলিশের লক্ষ্যই প্রতিষ্ঠিত করার কর্মে স্বয়ং ইবলিশ কতৃক নিয়োজিত শয়তান এরা।
তাই আপনারাই দেখুন এরা কত বড় ওস্তাদ কত বড় শয়তান যেমন এখনই হয়তো আপনাকে গন্ধম ফল খাওয়ানোর উদ্দেশে আপনাকেই জিজ্ঞেস করবে এ সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের কি বলেছেন ? তারপর সেই ভাষা অপ-গবেষনা করিয়া একই ভাষায় আপনাকে গন্ধম খাওয়াতে সফল হবেন। এরা ইবলিশের বংশধর এরা খুবই শক্তিশালিও বটে।
সুতরাং আমরা তাসলিমারও আগে রফিকুল ইসলাম খানের মস্তক চাই।
তিনি বলেন আরও বলেন, ‘ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র হয়েছে। তেমনি আজ বাংলাদেশে নিজামীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
ক্লাসের খারাপ ছাত্রটিও যখন মাস্টার সাহেব ভুল করে তা বুঝতে পারে তেমনি উপরের বাক্যটি যে কোন ধর্মভীরু মুসলমানের চিন্তায়ও আসতে পারে না তা বলতে একজন মহাজ্ঞানী আলেম হওয়ার প্রয়োজন নেই।
পরবর্তী সংস্করনে লেখাটি সম্পূর্ন করা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



