somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কথা বলার জন্য নিজামী মুজাহিদ ও সাইদী আজ গ্রেফতার হলো।

২৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র হয়েছে। তেমনি আজ বাংলাদেশে নিজামীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর শাখার আমির রফিকুল ইসলাম খান এ কথা বলেছেন। গত তারিখ: ১৭-০৩-২০১০ তারিখে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মহানবী যখন ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন, তখন তাঁকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে, তাঁর ওপর অত্যাচার করা হয়েছে, উটের পচা নাড়িভুঁড়ি মাথায় ঢেলে দেওয়া হয়েছে, মিথ্যাচার করা হয়েছে, ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তেমনি বাংলাদেশে নিজামী সাহেব জামায়াতে ইসলামীর আমির হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে। সাথিয়া (পাবনার একটি থানা) থেকে হাড়গোড় নিয়ে এসে তাঁকে খুনি বানানো হয়েছে।...ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র হয়েছে। তেমনি আজ বাংলাদেশে নিজামীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন আরও বলেন, ‘ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র হয়েছে। তেমনি আজ বাংলাদেশে নিজামীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

আলোচনাঃ এই হলো সর্বসাকুল্যে, মোদ্দা কথা, যাহ বলা হইয়াছে, হইতে থাকিতেছে এবং একদিন আর হইতে থাকিবে না ইহাই আল্লার সৃষ্টি ইহাই আল্লাহ্‌র শেষ্ঠত্য।

তবে কথা হলো যে রফিকুল ইসলাম খানের বক্তব্যের এই বিতর্ক গত ১৭/০৩/২০১০ তারিখে নতুন না। আজকের হঠাৎ করিয়া মাথায় আসিয়া পরা ব্যাখ্যাও না। শত শত বছর পূর্ব থেকেই এ বিতর্ক ছিল। ধরেন কেউ এক জন কোন এক কাজ করিয়াছেন আর যখন একজন কেউ প্রশ্ন তুলিল ইহা তিনি কি করিলেন ? তখন মওদুদিরা ফতোয়া দিলেন যেহেতু নবীজি এই রকম করেছেন সেহেতু আমাদের সাগরেদ এই কাজ করিয়া নবীজির অনুরুপই করিয়াছেন। এই ফর্মূলায় ফেলিয়া তাহারা তাদের জঘন্যতম কাজটিতেও যেমনঃ বোমা মেরে নিরিহ মানুষ হত্যা করেও নবী এবং ইসলামের নামে বিকৃত ব্যাখ্যার প্রলেপ মারিয়া নিজেদের সমর্থন দিয়া আসিতেছেন। কি ভয়ংকর এদের ফতোয়া, ভয়ংকর এদের যুক্তি ! এদেরকে এত সাহস ইবলিশ ছাড়া আরকে দিতে পারে ?

মূলত ইসলামের এই গোষ্ঠিটার জন্ম হয়েছিল সেই আদম হাওয়ার বেহস্তের দিনগুলোতেই। জনাব ইবলিশ ছিলেন এই মতবাদের প্রবর্তক। সেখানেই শুরু হয় আল্লার আদেশ গবেষনা করিয়া নিজের স্বার্থ হাছিলের ইবলিশের এই গর্হীত স্পর্ধা। এরপর দুনিয়ার বুকে অনেক মাজহাব নাম ধারী গোষ্ঠী ইতিহাসের নানা শতাব্দীতে নানান জনপদে ইবলিশের সুযোগ্য প্রতিনিধী হয়ে মুসলমানদের গন্ধম খাওয়াইয়া আসিতেছেন। আমাদের এই অঞ্চলে মওদুদিবাদ হলো সেই গোষ্ঠির অন্যতম লোকেল প্রতিনিধি। জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ এ অঞ্চলে সেই ইবলিশের সোল প্রতিনিধি। সম্প্রতী বছরের জেএমবির কার্যকলাপে ও কথাবার্তায়ও এমন অনেক স্পর্ধার নজির পাওয়া যায়।

এবার চলুন এদের সরুপ খুজে বের করতে এ অঞ্চলে ইসলামের আবির্ভাব সম্পর্কে অতীতের উপর একটা সিনোপটিক ফ্লাশ ব্যাক করি। এ অঞ্চলে ইসলাম আজ নতুন আসেনি। মওদুদির হাতেও এই অঞ্চলে ইসলামের হাতে খড়ি হয়নি। এ অঞ্চলে ইসলাম এসেছে হাজার বছর আগে। পীর আওলিয়ারা এ অঞ্চলে কোথাও কখনও বিরল ছিল, তার ইতিহাস কেউ দেখাতে পারবেন না। ইসলামের শান্তির বানী নিয়ে এ জনপদে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে এক আল্লাহ আর নবীর প্রদর্শিত পথে মানুষকে হাজার বছর আগে দাওয়াত দিয়েছেন তারা। তাদের সেই শান্তির বানিতে কখনও মন্দির ভাং ইসলাম প্রতিষ্ঠা কর এরমত আদর্শ দেখা যায় নাই বরং দেখা গেছে সমাজের হিন্দু বৌধ্য সবাই সেই শান্তির ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে বার বার এবং আজও।
অন্য দিকে ইবলিশের অনুসারীরা নিজেদের স্বার্থে নিজামীর মত ইবলিশের মানসপুত্র কে নবী মনে করা বা নবীর সমতুল্য প্রচার করতে কখনও দ্বিধা করেনি, সামান্য ভয়ও কখনও পায়নি।
ঐ দিন যেমন শিবির তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে যুদ্ধাপরাধী অর্থাৎ নিজামি মুজাহিদের বিচার সমর্থন করে বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন আবার কয়দিন পর সেই শিবিরই নিজামীকে নবীর সাথে তুলনা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তেমনি কাল সকালেই যদি প্রয়োজন পরে নিজামিই তাদের নবী বলতে এরা এক সেকেন্ডও সময় নিবে না।

প্রকৃত পক্ষে ভেরির খালে নেড়ের মত মুমিনের খালে এরা ইবলিশের সহচর। এরা নানা রুপে সব সময়ই ছিল। এরা আল্লাহর আদেশ, নবীর বানি গবেষনা করে ঠিক যে ভাবে ইবলিশ আল্লার নির্দেশ অপব্যাখ্যা করে আদম হাওয়াকে বিপথে পরিচালিত করে ছিল তাই এরাও করছে নানা শতাব্দিতে নানা জনপদে।

এবার চলুন দেখি আমরা সাধারন মুসলমানরা কি করি ? আল্লাহ নির্দেশ এবং নবীর প্রদর্শিত পথে চলার চেষ্টা করি। আমারা কখনও নবীর সমতুল্য হওয়া বা কাউকে করার মত স্পর্ধা দূঃস্বপ্নেও দিখিনা।

নবীজি ৫ (পাঁচ) কে ৫ (পাঁচ) বলেছেন তার মানে এই না আপনিও ৫ (পাঁচ) কে ৫ (পাঁচ) বলিয়া নবীর কর্মটিই করিয়াছেন ! বা নবীর মত হইয়া গেছেন বা নবী হইয়া গেছেন। আমরা নবী করিম সাঃ এর পথ অনুসরন করার চেষ্টা করি মাত্র। আমাদের সেই স্পর্ধা কখনও হবেনা যে এই কাজটি আমরা নবীজির অনুরুপ করিয়া ফেলিয়াছি। আমাদের মত বান্দার কর্ম কোনদিন নবীজির অনরুপ হওয়া দূরে থাক তার ধারে কাছে কতটুকু পার্ফেকশনে পৌছাতে পারেছে তার বিচার আল্লাহতালা একদিন করবে সেদিন নবী করিম সাঃ আমাদের কর্মের পরিমাপ করে বলবেন আমরা কত দূর তাকে অনুসরন করতে পেরেছি।

আর এদের সাহস কত বড়। এরা কথায় কথায় নবীর মত কাজ করে ফেলেন। মাঝে মধ্যে নবী হয়ে যাওয়ারও স্বপ্ন দেখেন। কত বড় স্পর্ধা এদের দেখেন ? এরা আসলে কারা ? এরা সেই ইবলিশেরই বংশধর। এদের চিনতে আপনাদের ভুল হয় কারন এরা আল্লার বানি গবেষনা করে সে ভাষাতেই কথা বলে, খবই সূক্ষ বা খুবই ক্লোজ যুক্তি ও ফতোয়া দিয়ে সেই ইবলিশের লক্ষ্যই প্রতিষ্ঠিত করার কর্মে স্বয়ং ইবলিশ কতৃক নিয়োজিত শয়তান এরা।

তাই আপনারাই দেখুন এরা কত বড় ওস্তাদ কত বড় শয়তান যেমন এখনই হয়তো আপনাকে গন্ধম ফল খাওয়ানোর উদ্দেশে আপনাকেই জিজ্ঞেস করবে এ সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের কি বলেছেন ? তারপর সেই ভাষা অপ-গবেষনা করিয়া একই ভাষায় আপনাকে গন্ধম খাওয়াতে সফল হবেন। এরা ইবলিশের বংশধর এরা খুবই শক্তিশালিও বটে।

সুতরাং আমরা তাসলিমারও আগে রফিকুল ইসলাম খানের মস্তক চাই।


পরবর্তী সংস্করনে লেখাটি সম্পূর্ন করা হবে।

২৫শে মার্চ ১৯৭১ সন্ধে নয়টার সময়ই কুর্মিটোলায় প্রথম গোলার শব্দে সেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনী বের হয়ে এসেছিল।
১৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×