চট্টগ্রামের রহস্যময় বড় দুটি মাদ্রাসা হচ্ছে হাটহাজারী দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম এবং পটিয়ার আল জামেয়া আল ইসলামিয়া। সোমবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা বলে খ্যাত দারুল উলুম মাদ্রাসার নির্দেশে তাদের সমর্থিত কয়েকটি মাদ্রাসার কয়েক হাজার ছাত্র বিভিন্ন গ্রুপে তুলকালাম কাণ্ড ঘটায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। একই সঙ্গে পটিয়াতেও বিপুল শোডাউন করে জামেয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা। তারাও পটিয়াতে বিভিন্ন গ্রুপে ভোর থেকে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের চলাচল ও
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে। তবে সবচেয়ে জঙ্গি রূপ ছিল হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রদের। এলোপাতাড়ি গাড়ি ভাংচুরসহ পুলিশের ওপর চড়াও হয় তারা। হরতালের আগে চট্টগ্রামের বড় দুটি মাদ্রাসায় দফায় দফায় বৈঠক হয়। বৈঠক থেকে নির্দেশ যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ৮ হাজার মাদ্রাসায়।
জানা গেছে, মাদ্রাসা দুটি বাংলাদেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিভিন্ন মুসলিম দেশে পরিচিত। এখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নেই। মুখোমুখি কথা বলেন না মাদ্রাসার লোকজন। বিদেশি টাকা এবং ইসলামপ্রিয় ধনী লোকদের টাকায় চলে এ দুই মাদ্রাসা। প্রতি বছর এখান থেকে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্নাতকোত্তর এমনকি পিএইচডি ডিগ্রিও এখানে রয়েছে। তবে এ ডিগ্রির স্বীকৃতি বাংলাদেশে নেই। দু'মাদ্রাসা হতে এ পর্যন্ত বের হওয়া ছাত্রের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। এখানে শিক্ষার্থী হিসেবে রয়েছে মিয়ানমারের নাগরিকরাও।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের ছোট-বড় প্রায় ২ হাজার মাদ্রাসাসহ সারাদেশের প্রায় ৮ হাজার মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করে বড় এ দুই মাদ্রাসা। এসব মাদ্রাসা ছাড়াও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, মিরসরাইসহ ১৪ উপজেলায় রয়েছে বেশিরভাগ মাদ্রাসা। সরকার অনুমোদিত এসব মাদ্রাসা চলছে বিদেশি টাকায়। সরকারি কোনো পাঠ্যসূচি নেই এগুলোতে। হাটহাজারী ও পটিয়া মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণে এসব মাদ্রাসা চলে। মাদ্রাসাগুলোতে আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই। দেশীয় সংস্কৃতির লেশমাত্র নেই এখানে। জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় না এসব মাদ্রাসায়।
এ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আহমদ শফি। তিনি বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম ও ওলামা পরিষদের সভাপতি। বিদেশের সঙ্গে মূল নেটওয়ার্ক স্থাপনকারী হচ্ছেন তিনি। প্রায় ৪৬ বছর ধরে অধ্যক্ষ আহমদ শফি হাটহাজারী থেকে অনেক স্থানে চলাচল করেন ভাড়া করা হেলিকপ্টারে। তার মাদ্রাসায় দেশের আইন-সংবিধান বহির্ভূত ফতোয়া দেওয়া হয়। উর্দু ভাষায় চলে শিক্ষা কার্যক্রম। পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন ইসলামী আন্দোলনের বই এখানে পাঠ্য।
হাটহাজারী ও পটিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম একই রকম। একই কায়দায় চলে উভয় প্রতিষ্ঠান। এ দুই মাদ্রাসার সর্বাধিক প্রতিনিধি রয়েছে সৌদি আরবে। মধ্যপ্রাচ্যেও কয়েকজন প্রতিনিধি সক্রিয় রয়েছে। তাদের মাধ্যমে প্রতি বছর সংগৃহীত হয় বিপুল টাকা। ইসলামী ব্যাংক হাটহাজারী শাখায় এ মাদ্রাসার চলতি হিসাব নং-৫০ এছাড়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে সোনালী ব্যাংকেও। চলতি হিসাব নং-৩১ মূল লেনদেনের হিসাব থেকে যায় গোপনীয়। কারণ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে (শূরা) সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকি জনপ্রতিনিধিদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
হাটহাজারী মাদ্রাসার বক্তব্য :সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপাত্র মাওলানা ইয়াহিয়া সমকালকে বলেন, 'আমাদের নির্দেশে বা আমাদের মাদ্রাসার কোনো ছাত্র ভাংচুরের সঙ্গে জড়িত নয়।' তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। আমাদের অনেকে জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে উলেল্গখ করা হয়। আসল কথা হচ্ছে, বিভিন্ন দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে তার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার। বিদেশ থেকে কোনো অর্থ আসে না। তিনি বলেন, ইসলামপ্রিয় লোকজনই আমাদের অর্থের উৎস।সূত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




