somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজস্ব কিছু দুঃখ কথা - ০৪

৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজস্ব কিছু দুঃখ কথা - ০৩
আমার দুঃখ কথা - ০৩ এ আমার বাবার মারা যাওয়ার কথা লিখেছি। এমন এক বয়সে বাবাকে হারাই যখন ভালো মতো বুঝতে পারিনি, মরণ জিনিসটা আসলে কী। জীবনের বেশির ভাগ নির্মমতার সাথে আমার পরিচয় ছিল না।
বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই শিখতে শুরু করলাম, মানুষকে যত চমৎকার ভেবেছি তারা আসলে তত চমৎকার মানুষ নয়।
বাবা মারা গেছেন। কোন রকম জানান না দিয়েই। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। কাঠের ব্যবসা করতেন। আমার বড় ভাই সে সময় ক্লাশ নাইনে পড়ে। তার পক্ষে কাঠের ব্যবসা সামলানো সম্ভব হবে না, এটাই ছিল স্বাভাবিক। বাংলাদেশের সকল মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো আমাদের পরিবারও তখন হাবুডুবু খাচ্ছিল।
এ ব্যাপারগুলো তখন বুঝিনি। বুঝিনি বলেই হয়তো তখন এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যাতে করে জীবনের নির্মমতা খুব সহজে টের পাই। সে রকম একটি ঘটনা।
বাবা মারা গেছেন দুদিন। তার জন্য চারদিনের খরচ করতে হবে। আত্মীয় স্বজন চারদিনের খরচের হিসাব করছে। খাবারের আয়োজন কী কী হবে, তাই নিয়ে মামা, খালু ও চাচাদের বসচা চলছে। আমার মা কাউকে না করেন না।
শেষ পর্যন্ত সবার উৎসাহে চার দিনের বিশাল খরচের আয়োজন হল। মহল্লাবাসীসহ কাঠ ব্যবসায়ী ও আত্মীয় স্বজনরা এল এবং ভুরি ভোজনে বসে গেল। এই চার দিনের খরচ নাকি মিসকিনদের জন্য করা হয়। বাস্তবে মিসকিন যে কয়জন এল তারা তেমন সমাদর পেল না।
আমার খালু খুব অহংকারী লোক ছিলেন। নিজের পরিবার ছাড়া অন্য সবাইকে নিচু জাতের মনে করতেন। চার দিনের খরচের দিন তিনি রাগ করে কিছু খেলেন না। কারণ, আমরা নাকি কিপটা। গরুর মাংস দিয়ে চারদিনের খরচ করেছি। গরুর মাংস ফকির মিসকিন খায়। তাই তিনি সেটা খাবেন না। তিনি তো গরুর মাংস খাবেনই না। সঙ্গে তিনি তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদেরও গরুর মাংস খেতে দেবেন না।
ফলে বাধ্য হয়ে আমার বড় ভাইকে আবার ছুটতে হল বাজারে। মুরগী এনে রোস্ট করে দিতে হল। সেই রোস্ট পাওয়ার পর তারা চারজনের পরিবার পরিতৃপ্তি সহ খেলেন এবং আমাদের আরও বদনাম করতে লাগলেন। অভদ্র ও ছোটলোক বললেন আমাদের ও আমাদের বাবাকে। আমাদের বাবা অভদ্র ছিলেন বলেই নাকি আমরাও কোন আদব কায়দা শিখিনি।
সেই ঘটনা আমার বুকের শেল হয়ে বিঁধে ছিল দীর্ঘদিন। খালার বাসায় যাইনি দীর্ঘদিন। আমার বিয়ের সময় খালাকে দাওয়াত দিতে ইচ্ছা হয়নি। কিন্তু ভদ্রতা দেখাতে দিতে হয়েছিল।
সেই থেকে প্রতিজ্ঞা করেছি, আমার মরণের পর যেন কোন চার দিনের খরচ বা চল্লিশা না করা হয় তার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়ে যাব। চার দিনের খরচ ও চল্লিশা সম্পর্কে অনেক ঘাটাঘাটি করে ইসলাম ধর্মের কোন সমর্থন পাইনি। আমাদের ধর্মে এ রকম লোক খাইয়ে শ্রাদ্ধ করার বিধার নাই। বরং এই বিধানটি হিন্দুদের শ্রাদ্ধ থেকে এসেছে বলে অনেকে জানিয়েছেন। আমি জানি না। তবে আমার তীব্র ঘৃণা রয়েছে এই জঘন্য অমানবিক প্রথাটির প্রতি। মানুষ মারা গেলে সেই উপলক্ষে অনেক লোক মিলে আনন্দ ফুর্তি করে খাওয়া দাওয়া করবে, এটা কি কখনও মানবিক ও ভদ্র নিয়ম হতে পারে ? এই নিয়মের বলি হচ্ছে কত অসহায় পরিবার তার কি খোঁজ রেখেছেন কেউ ?
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:২৬
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×