somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কামরুলের খাওয়ার আদব

০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ক্লাস মেট ছিল কামরুল। আমরা ডাকতাম ভিমরুল। ওতে সে মাইন্ড খাইত না। কারণ কামরুলের সব কিছুই মোটা। তার বুদ্ধি মোটা, শরীর আরও মোটা এবং সবচেয়ে মোটা হইল তার চামড়া।
ভ্যাবলা কিসিমের এই ভদ্রলোক প্রতিদিন নিয়মিত বেতের বাড়ি খাইত। তাতে তার কোন প্রতিক্রিয়া দেখতাম না। স্যারেরা পড়া জিজ্ঞেস করলে সে নির্দ্বিধায় হাত পেতে দিত। স্যারেরা তাকে মেরে মজা পেত না বলে আমার ধারণা।
সে ইচ্ছেমতো খেতে পারত। বাছবিচারহীন খাওয়ার ফলে তার পেটের অবস্থা সুবিধা থাকত না। প্রায়ই সে ক্লাস কামাই করত তার লাইন ডাইরেক্ট হওয়ার কারণে। একবার সে ক্লাসে বসেই প্যান্ট ভরে কাজ সেরে ফেলেছিল। আরেকবার এসেম্বলিতে সে দাঁড়িয়ে কাজ সেরে দিয়েছিল। আমরা দুর্গন্ধে টের পেয়েছিলাম, এইটা কামরুল ছাড়া আর কারও কাজ না।
মফিজ ছিল আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে ফাজিল। অনেক ফাইজলামির মধ্যে সে মাঝে মাঝে কামরুলের বসার সিটে একটা পেন্সিল খাড়া করে ধরে রাখত। কামরুল সেই পেন্সিলের উপর বসত। দিনের পর দিন পেন্সিলের খোঁচা খেলেও কখনও স্যারের কাছে বিচার দেয় নি কামরুল।
একবার ঘটে গেল দুর্ঘটনা। পেনসিল সোজা ঢুকে গেল জায়গা মতো। ঢুকে গেল ভেঙ্গে। কিন্তু কামরুল নির্বিকার। আমরা রক্ত দেখে বুঝলাম, ভয়াবহ কিছু ঘটেছে। তাকে সবাই ধরে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। মফিজ ভয়ে স্কুলের ধারে কাছেও এল না ১৫ দিন। কিন্তু যে দিন মফিজ এল, সে দিনই প্রিন্সিপাল স্যার স্বয়ং ডাবল বেত দিয়ে পেটাল মফিজকে।
আমরা সবাই পাস করে গেলাম এস.এস.সি। কিন্তু গর্দভ কামরুল আটকে গেল। সেই থেকে তার সাথে কোন যোগাযোগ নাই।
৫ বছর পর কামরুলের সাথে দেখা। আমার বড় ভাইয়ের পীড়াপীড়িতে গেলাম ৩ দিনের তাবলীগ জামাতে। জামাতে গিয়ে দেখি, আমাদের জামায়াতে কামরুলও আছে। আরও মোটা হয়েছে। বেকার বলে তার বড় ভাই তাবলীগে পাঠিয়েছে। কমপক্ষে আল্লাবিল্লা শিখতে যেন পারে কামরুল।
জামায়াতের আমীর সাহেব আমাদের নানা কাজের আদব শেখাতে লাগলেন। এস্তেঞ্জার আদব, ঘুমানোর আদব, খাওয়ার আদব ইত্যাদি।
সেগুলো মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হল খাওয়ার আদব। জামায়াতে এক থালে ২ জন বসত। আমীর সাহেব বলেছিলেন, খাওয়ার আদব হল, একজন আরেকজনকে খাবার ঠেলে দেয়া। নিজে না খেয়ে সঙ্গীকে খাবার সাধা।
আমরা নতুন শেখা আদব অনুযায়ী খাচ্ছিলাম। খাওয়ার সময়ে এক থালার ২ পাশে ২ জন বসতাম। তারপর খাবার ঠেলাঠেলি করতাম। এ ওর দিকে ঠেলতাম, ও এর দিকে ঠেলত।
তিন দিন ভালো কাটল। খাবারের মেনু ভাল। প্রতিদিন ভালো ভালো রান্না হচ্ছে। শেষ দিনে দুপুরে লাগল ভেজাল।
আমাদের সাথে একটা ১০/১২ বছরের ছেলেও ছিল। প্রতি বেলা এই ছেলেটাকে নিয়ে খেতে বসত কামরুল। শেষ দিন দুপুর বেলা ছেলেটাকে ডাক দিল কামরুল।
ছেলেটা চিৎকার করে বলল, আপনের সাথে আমি খামু না।
আমরা তার দিকে মনোযোগ দিলাম। আমীর সাহেব তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন বাবা, কামরুলের সাথে খাইবা না ক্যান ?
হের দিকে খাওন ঠেইল্যা দিলে হেয় গপ কইরা খায়া ফালায়। আমার দিকে আর ঠেইল্যা দেয় না।
আমরা হতভম্ব হয়ে গেলাম। কামরুল খাওয়ার আদবকে ভালো কাজে লাগিয়েছে।
ফেরার পথে কামরুলকে জিজ্ঞাসা করলাম, কি রে তুই খাওয়ার আদব শিখলি না ক্যান ?
এত মজার খাওন সামনে ঠেইল্যা দিলে কি না খায়া পাড়ন যায় ? - কামরুলের পাল্টা প্রশ্ন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:৩২
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×