somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজনীতির দর্শন ও কর্মসূচি- ১

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবার নতুন লেখা। এর আগে এটি কোথাও প্রকাশিত হয়নি। মৌলবাদীরা ক্ষেপে যেতে পারে- এই ভয়ে লেখাটি প্রকাশ করতে সাহসী হয়নি বিখ্যাত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা, যদিও তারা এটা আমার কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিলো। যাহোক, লেখাটি বড় বলে কয়েক কিস্তিতে ভাগ করে পোস্ট করছি। যিনি পড়বেন, আশা করছি পুরোটাই পড়বেন।

রাজনীতির দর্শন ও কর্মসূচি- ১

আমাদের দেশে অহরহ রাজনৈতিক দল ভাঙে, নতুন দল গড়ে ওঠে; 'বড় দলের ছোট নেতা'রা 'ছোট দলের বড় নেতা' হয়ে ওঠেন। কিছুদিন তাদের উচ্চকণ্ঠ শোনা যায়, খবরের কাগজ ও টেলিভিশনের পর্দায় তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। মিডিয়াগুলো যে তাদের প্রতি আগ্রহ দেখায়, তাদের কথা সাড়ম্বরে প্রচার করে সেটা যতোটা না নতুন দলের প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তারচেয়ে বেশি পুরনো দলগুলোর ভেতরকার খবর বের করে আনার জন্য। এই নেতারা তা বোঝেন না, তারা মনে করেন_ জনগণের কাছে বিপুল গ্রহণযোগ্যতার কারণেই সাংবাদিকরা তাদের পেছনে ছুটতে বাধ্য হচ্ছেন! উত্তেজনার বশে, প্রবল বিক্রমে, তারা সদ্য ছেড়ে আসা দল ও নেতৃত্বের প্রতি বিষোদগার করেন। তাদের কমনসেন্স লুপ্ত হয়, ভুলেই যান যে- এই দলটি যদি এতই খারাপ হবে তাহলে এর সঙ্গে আপনি এতদিন ছিলেন কেন এবং কীভাবে- প্রশ্নটি করলে তিনি বা তারা কী উত্তর দেবেন! তারা আসলে সংবাদকর্মীদের কৌশলী ফাঁদে পা দেন। সাংবাদিকরা তাদের মুখ থেকে পুরনো দলের যাবতীয় দুস্কর্ম ও নীতিহীনতা ও বর্বর কার্যকলাপের বিবরণ তুলে এনে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন- এই লোকটিও এতদিন এই সমস্তকিছুর সঙ্গেই ছিলেন! নতুন দলের নীতি-আদর্শ-কর্মসূচি নিয়ে কথা বলার সুযোগ তাদের খুব একটা হয়ে ওঠে না- প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো নীতি-আদর্শ-কর্মসূচি থাকেও না। যা নেই তা নিয়ে তারা কথা বলবেন কীভাবে? ফলে কিছুদিনের মধ্যেই এসব দলের মৃতু্য ঘটে। যেহেতু নেতাকেন্দ্রিক দল, দলকেন্দ্রিক নেতা নয়্- অতএব দলের মৃতু্য ঘটলেও নেতার মৃতু্য ঘটে না। তারা রয়ে যান- সুযোগ খোঁজেন পুরনো দলে ফিরে যাবার অথবা নতুন কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার।
এই প্রক্রিয়া চলছে দীর্ঘদিন ধরে। যেন এই অনিবার্যতা থেকে আমাদের মুক্তি নেই। কিন্তু কেন এরকম ঘটে? কেন রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো দর্শন-আদর্শ-কর্মসূচি থাকে না? একটি রাজনৈতিক দলের যে দর্শন থাকার কোনো বিকল্প নেই সেকথা কি তারা বোঝেন না? নাকি বুঝলেও একটি দর্শনের জন্ম দিতে, কিংবা পুরনো দর্শনেরই একটি চলনসই নতুন রূপ দিতে তারা অক্ষম? যদি তা-ই হয়ে থাকে তাহলে তো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতাই তাদের নেই।

২.
পৃথিবীর সব দেশেই শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান ভিত্তি তাদের দর্শন। দ্বিতীয় ভিত্তি- কর্মসূচি। বাংলাদেশের প্রধান দুটো দলের কথা বিবেচনা করলেও এর সত্যতা মিলবে। বিচার করা যেতে পারে অন্য কয়েকটি ছোটখাটো দলের কথাও- তাতে রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচির গুরুত্ব বোঝা যাবে। বাংলাদেশের প্রধান দুটো দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র প্রথম থেকেই দর্শন এবং কর্মসূচি ছিলো এবং এখনো আছে। আওয়ামী লীগের কথাই ধরা যাক। 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে কিছুকালের মধ্যেই নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে এই দলটি অসামপ্রদায়িকতার পক্ষে তাদের আদর্শিক-দার্শনিক অবস্থান পরিষ্কার করেছিলো। পাকিস্তান আমলে, যখন সবকিছুতে 'ইসলাম' 'মুসলিম' ইত্যাদি শব্দের যথেচ্ছ ব্যবহার চলছে, তখন দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়াটাই ছিলো এক দুর্দান্ত সাহসী ও প্রগতিশীল সিদ্ধান্ত। সেই থেকে শুরু করে দলটি নিজেকে একটি অসামপ্রদায়িক, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক আদর্শের পক্ষের শক্তি বলে প্রমাণ করতে চেয়েছে ও পেরেছে। অবশ্য শুধু দর্শন বা আদর্শের বুলি কপচানোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাদের কর্মকাণ্ড। জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপলব্ধি করে, তাদের আবেগ-অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করে নিয়মিতভাবে কর্মসূচি নির্ধারণ করে গেছে তারা। পাকিস্তানি অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা ছিলো বরাবরই জনগণের পক্ষে। এই আন্দোলন-সংগ্রামকে একটি পরিণতির দিকে নিয়ে যাবার ব্যাপারেও তাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিলো না। ঊনসত্তরের গণঅভু্যত্থান আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রধানত তাদেরই সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির ফলাফল। একটি কথা বলে নেয়া ভালো- মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ আর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী আওয়ামী লীগ দার্শনিকভাবে এক নয়। পাকিস্তান আমলে আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যস্থা প্রবর্তনের জন্য আন্দোলন করলেও এবং জাতীয়তাবাদী চেতনাকে লালন করে একে বিকশিত রূপ দেয়ার চেষ্টা করলেও তাদের দর্শনের মধ্যে সমাজতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো স্থান ছিলো না। আওয়ামী লীগ দলগতভাবে এবং এর শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যক্তিগতভাবে কখনোই সমাজতন্ত্রকে গ্রহণ করেননি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দেবার মানসিকতা থেকে আওয়ামী লীগ দার্শনিকভাবে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরেপেক্ষতার পক্ষে চলে আসে, এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে এগুলোকে গ্রহণ করা হয়। দলের মূলনীতিতেও এগুলোই স্থান পায়। বলা প্রয়োজন, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এবং দলীয় মূলনীতি এক নাও হতে পারে, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যেমন, ভারতের রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গে বিজেপির দলীয় মূলনীতির বড় ধরনের বিরোধ রয়েছে। তারা ক্ষমতায় গিয়েও রাষ্ট্রীয় বা দলীয় মূলনীতির কোনোটিতেই পরিবর্তন না এনেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। তবে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে যে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ও দলীয় মূলনীতি মিলেমিশে গেলো তার কারণ- মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত উপলব্ধি তাজউদ্দিন আহমদকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম বেতার ভাষণে (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এবং তাঁর কোনো রকম পরামর্শ ছাড়াই) ওগুলোকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করতে উদ্বুদ্ধু করে। তবে দলীয় মূলনীতি হিসেবে। এগুলোকে গ্রহণ করা হবে কীনা, সে সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেননি। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার পর এগুলোকেই দলীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। বোঝা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দর্শন কোনো অনড় বিষয় নয়- সময়ের সঙ্গে, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এগুলোর সংযোজন-বিয়োজন ঘটতে পারে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত- এই দুই যুগের মধ্যে আওয়ামী লীগ দার্শনিকভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ দল হয়ে ওঠে। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি বিষয়গুলো তাদের অলংকারে পরিণত হয়। দর্শনের ক্ষেত্রে নয়, বরং স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের যা কিছু ব্যর্থতা সেটি প্রকৃতপক্ষে তাদের কর্মসূচির ব্যর্থতা। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ তো হয়ই, ব্যর্থ হয় তাদের নূ্যনতম চাহিদা পূরণেও। সার্বিক পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে ওঠে যে, জনগণ অতিদ্রুত আওয়ামী লীগ থেকে নিজেদের মুখ ফিরিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসূচি প্রণয়নে দলটি নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়। একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝানো যেতে পারে। স্বাধীনতার পর খেয়ে-পড়ে বাঁচার নিশ্চয়তা যেমন মানুষ প্রত্যাশা করেছিলো, প্রত্যাশা করেছিলো আর্থিক-সামাজিক-রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা, তেমনই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এক বিশাল যুবগোষ্ঠী নিজের দেশকে দেখতে চেয়েছিলো একটি আত্ননির্ভরশীল ও আত্নমর্যাদা সম্পন্ন দেশ ও জাতি হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে থাকায় এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও দার্শনিক প্রজ্ঞার কারণে তাজউদ্দিন আহমদের পক্ষে এই বিষয়টি যত সহজে উপলব্ধি করা সম্ভব ছিলো, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। ফলে তাজউদ্দিন আহমদ যেসব নীতি ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু তার অনেককিছু থেকে সরে আসেন। যেমন, প্রথম বেতার ভাষণে তাজউদ্দিন 'দেশ গঠনে মার্কিন সহায়তা' নেয়ার প্রস্তাবে সরাসরি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে ন্যাক্কারজনক ভূমিকা পালন করেছিলো, তাতে স্বাধীনতার পর তাদের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করা ছিলো আত্নমর্যাদা ও আত্নসম্মানবোধ বিসর্জনের সামিল। তাছাড়া বিষয়টিকে তিনি দেখেছিলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের সুদূরপ্রসারি চক্রান্ত হিসেবে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের মাথায় তাজউদ্দিন ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত স্বয়ং শেখ মুজিব পরিবর্তন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা গ্রহণে সম্মত হন! শুধু তাই নয়, দিন দিন তাদের ওপর অধিকমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়তে থাকেন তিনি ও তাঁর সরকার। এর ফলাফল যে কী ভয়াবহ হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি, কিন্তু '৭৪-এ 'সাহায্য' বোঝাই জাহাজ আটকে দিয়ে, দুর্ভিক্ষ সৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখে তারা শেখ মুজিবের এই আস্থার জবাব দিয়েছিলো, যা তৎকালীন সরকারের জনপ্রিয়তাকে নামিয়ে এনেছিলো শূন্যের কোঠায়। আজও যে যুক্তরাষ্ট্রের থাবা থেকে নিজেদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে আমাদের জন্য, এমনকি বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর মতো সর্বনাশা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে, তার বীজ রোপিত হয়েছিলো সেই '৭২ সালেই- তাজউদ্দিন আহমদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দিনে। এটি কোনো মামুলি ব্যাপার ছিলো না, এর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও দার্শনিক গুরুত্ব ছিলো অপরিসীম। আওয়ামী লীগ অবশ্য এর পরেও অনেকবার দলীয় দর্শন-বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। '৭৪-এর একদলীয় সরকার ব্যবস্থা এবং মৌলিক অধিকার বিরোধী বহুবিধ কালাকানুন প্রণয়ন যার অন্যতম। (যার অনেকগুলোই আজ পর্যন্ত বাতিল করা হয়নি বরং সবগুলো সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এগুলো ব্যবহার করেছে। নিয়তির পরিহাস এই যে, এই কালাকানুনগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের ওপরই। এ যেন গিলোটিনের প্রথম শিকার স্বয়ং উদ্ভাবক নিজেই- এরকম ব্যাপার।) আরো পরে, মুক্তবাজার অর্থনীতিকে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলনীতি ঘোষণা করা ছিলো এরকম আরেকটি সিদ্ধান্ত। এটিও আওয়ামী লীগের দর্শন বিরোধী। '৯১-এর জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকেও প্রকাশ্যেই সরে আসতে থাকে। ওই নির্বাচনের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে 'ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটি'র নেতৃত্বে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হয়। সেই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যেই সমর্থন দেয়। নিমর্ূল কমিটি যেদিন গণআদালতের আয়োজন করে, সেই সভায় স্বয়ং শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, গণআদালত যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির আদেশ দেয়, শেখ হাসিনা বছরখানেকের মধ্যে তাদের সঙ্গেই যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেন! স্বয়ং গোলাম আজম এই যুগপৎ আন্দোলন সম্বন্ধে মন্তব্য করেছিলেন যে, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে! আহমদ ছফা একবার বলেছিলেন- 'আওয়ামী লীগ যখন জেতে তখন একা আওয়ামী লীগই জেতে, আর যখন হারে তখন সারা বাংলাদেশ হারে।' বিষয়টি আওয়ামী লীগ বোঝে কীনা, সন্দেহ জাগে। যাহোক, নীতিবিরুদ্ধভাবে সামপ্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত-চেষ্টার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০০৭ সালের সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে চরম-সামপ্রদায়িক একটি দলের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে। দার্শনিকভাবে কতোটা পতন ঘটলে এমনটি ঘটা সম্ভব তা ভাবা যায় না। এর কোনোটিই এই দলটির কাছে প্রত্যাশিত ছিলোনা। সারাজীবন ধরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে, জেল-জুলুম সহ্য করে, শেষ জীবনে এসে বঙ্গবন্ধু একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করবেন সেটা ভাবা যায়? মানুষের অধিকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন যে শেখ মুজিব, তিনিই মানুষের মৌলিক অধিকার হরণের জন্য কালাকানুন তৈরি করবেন এটিও কি কল্পনা-সম্ভব বিষয়? ৬০ বছর ধরে অসামপ্রদায়িকতার প্রতীক দলটি ক্ষমতায় যাবার জন্য একটি চরম সামপ্রদায়িক দলের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের চুক্তি করবে তা-ও কি সম্ভব? যাহোক, অনেক প্রসঙ্গ উত্থাপন না করেও বলা যায়- কর্মসূচির ব্যর্থতার কারণেই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দলটি দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়। কিন্তু সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং দেশের সকল সংকটে জনগণের পাশে থাকার মাধ্যমে তারা যে আস্থা অর্জন করেছে, তার শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। আর তাই, আওয়ামী লীগ-ই এখন যেমন, তেমনই আরও বহুকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানতম রাজনৈতিক দলই রয়ে যাবে।

(চলবে...)
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×