somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুশীল সমাজের তামাশা

২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশ্ন : আপনারা সুশীল, দেশের বাদবাকি মানুষ কি কুশীল?

রাজনৈতিক সরকার যখন ক্ষমতায় ছিলো, তখন 'সুশীল সমাজের' চিৎকার চেঁচামেচিতে কান পাতাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। রাজনীতিবিদদের দিয়ে যে কিছুই করা সম্ভব নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় 'সুশীল সমাজের' অংশগ্রহণ যে খুবই জরুরী, সে কথা বলতে বলতে তারা প্রায় মুখে ফেনা তুলে ফেলেছিলেন। যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন, সৎ প্রার্থী আন্দোলন ইত্যাদি নাম দিয়ে ক্রমাগত লেখালেখি প্রচার প্রচারণা করে তারা এ কথা বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, সুশীল সমাজই এদেশের প্রকৃত কান্ডারি হওয়ার যোগ্য। পাঁচ বছর পর পর একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিন মাসের রাষ্ট্রপরিচালনার 'সাফল্য' ছিলো এ ক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় উদাহণ। সুশীলদের এইসব প্রচারণায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ট দরিদ্র ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী কোনো সাড়া না দিলেও ক্ষমতার পরিবর্তনে যারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে সেই মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্তদের কাছে তাদের এইসব প্রোপাগান্ডা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছিলো। যেহেতু মিডিয়া সব সময়ই তাদের পক্ষে এবং তাদেরই হাতে, তাই গত বছর দশেক ধরে তারাই হয়ে উঠেছিলেন এদেশের সবচেয়ে সরব ও মুখর অংশ। দেশ নিয়ে তাদের দুর্ভাবনার যেমন অন্ত ছিলো না, তেমনি রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা নিয়ে তাদের কণ্ঠস্বরও ছিলো খুবই সোচ্চার। আর এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে টিআইবি এবং সিপিডি। টিআইবি তাদের রহস্যময় গবেষণায় বারবার এদেশের কপালে 'শীর্ষ দুর্নীতিবাজ' নামক কলংক-তিলক এঁকে দিয়ে রাজনৈতিক সরকারের অক্ষমতা প্রমাণ করতে চেয়েছে। এই গবেষণাগুলো কীভাবে করা হয়, এর পদ্ধতি ও তথ্যসূত্রই বা কী- এ সম্বন্ধে দেশের মানুষ কোনোদিনই কিছু জানতে পারেনি। যে দেশের নব্বই ভাগ খেটে খাওয়া মানুষের দুর্নীতি করার কোনো সুযোগই নেই, নানারকম প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ-দুর্বিপাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, উদয়াস্ত পরিশ্রম করে যারা ফসল ফলায়, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কলকারখানা চালায়, তারা বিনা কারণেই এই কলংক-তিলক তাদের কপালে বহন করছে বছরের পর বছর ধরে। টিআইবি কখনোই বলেনি যে, দেশের এই নব্বই ভাগ 'সাধারণ' মানুষ তাদের এই তথাকথিত গবেষণার আওতাভূক্ত নয়। দেশের দরিদ্র-শ্রমজীবী-নিরপরাধ মানুষের কাঁধে দুর্নীতির দায়ভার চাপিয়ে টিআইবি যে অপরাধ করেছে, আমরা, সুবিধাভোগি মধ্যবিত্তরা, এ নিয়ে কোনো কথাই বলিনি। কারণ আমরা ভেবেছি, টিআইবি এবং এর হর্তাকর্তা ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা আমাদেরই লোক। সম্প্রতি তাদের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, গত এক বছরে দুর্নীতির মাত্রা কমেনি, বরং বেড়েছে। এর সপক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে টিআইবি-প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর বলেছেন, এত বছরের জঞ্জাল একবছরে সরানো সম্ভব নয়! চাটুকারিতা আর কাকে বলে! এই মহান অধ্যাপককে কেউ জিজ্ঞেস করার সাহসই পাননি যে, কমানো না হয় নাই গেলো, অন্তত স্থির তো থাকতে পারতো! বাড়লো কেন? তাঁদের 'সুশীল সরকার' তাহলে করলোটা কি এই এক বছর? এর আগে কিন্তু এই অধ্যাপককে কখনো বলতে শুনিনি যে, এই যে দুর্নীতি হচ্ছে এগুলো হঠাৎ করে শুরু হয়নি। শুরু হয়েছিলো আগেই, প্রধানত সামরিক শাসক এরশাদের নেতৃত্বে! যাহোক সুশীল সমাজের এতসব চিৎকারের ধারাবাহিকতায়, নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা পেরিয়ে আমরা গত বছরের শুরুতেই একটি সুশীল সরকার পেলাম। এই সুশীলরা আবার- সরকার প্রধানের ভাষায়- সামরিক বাহিনী সমর্থিত (আর্মি ব্যাকড গভর্মেন্ট)। চমৎকার! ষোল কলা পূর্ণ!! কোথাও কোনো সমস্যা নেই। দেশ এবার উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাবে! যাচ্ছে বটে। গত এক বছরে দেশের হাল কী হয়েছে, এ কথা নতুন করে বলবার কিছু নেই। অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। সবকিছুর দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি। ওদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব বলছেন- বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই, খাদ্যসচিব বলছেন- দ্রব্যমূল্য বাড়লেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। উদাহরণ স্বরূপ তিনি বলেছেন- রিকশা ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে রিকশাওয়ালারা এখন সিটের ওপর আরাম করে ফিলটার টিপড সিগারেট খেতে পারছে! অতএব আমরা যত সংকট সংকট করছি, দরিদ্র মানুষ নাকি ততটা ফিল করছে না!! (তাঁদের এইসব নসিহত ও বাণী নিশ্চয়ই আপনারা ইতিমধ্যেই টিভিতে দেখে ফেলেছেন।) ওদিকে আবার জনগণকে আলু খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবিরা টিভি ক্যামেরা ডেকে তাদের সামনে কাঁটাচামচ দিয়ে আলু খাওয়ার অভিনয় করেছেন!! (আমাদের জিজ্ঞেস করার সাহস হয়নি যে, গরীব মানুষ না হয় আলু যোগার করলো, তাদেরকে কাঁটাচামচ জোগাবে কে? নাকি কাঁটাচামচ শুধু আপনাদের জন্য, গরীরদের জন্য তো হাতই যথেষ্ঠ!) তাদের এতসব কাণ্ডকারখানা দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, জনগণকে নানাভাবে অপমান করা এবং জনগণকে নিয়ে ঠাট্টা মশকরা বা তামাশা করার অধিকার তাদেরকে কে দিয়েছে? না, প্রিয় পাঠকগণ, কেউ দেয়নি, এই অধিকার তাদেরকে কেউ দেয়নি। এটা তাদের জন্মগতভাবে প্রাপ্ত হয়েছেন! সুশীল সমাজ নামটির মধ্যেই কেমন সুশীল সুশীল একটা ভাব আছে না?! কিংবা সিভিল সোসাইটি নামটির মধ্যে একটা সিভিলাইজড সিভিলাইজড ভাব! অর্থাৎ সমাজের এই সুবিধাভোগী, দুধ-ননী-ঘি খাওয়া কতিপয় সুশীল ছাড়া আর সবাই অর্থাৎ দেশের নব্বইভাগ মানুষ কুশীল! আনসিভিলাইজড!!
২১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×