আমার প্রিয় পোস্ট
- ব্লগারদের বই নিয়ে আহমাদ মোস্তফা কামালের রিভিউ : ছাপা কাগজে একটুকরো 'ব্লগ' - ফিউশন ফাইভ
- পাঠ পুনর্দর্শন : "ঘর ভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য"# আহমাদ মোস্তফা কামাল - হিমালয়৭৭৭
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর- শেষ পর্ব - রাগ ইমন
- তাহলে এইবারের বস্তি পোড়ার জন্য আমরা চাঁদকে দোষারোপ করতে পারি - অন্যমনস্ক শরৎ
- প্রিয় দুইজন ব্লগারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা : শুভ জন্মদিন 'আহমাদ মোস্তফা কামাল'; শুভ জন্মদিন 'প্রিয়তমা' - একরামুল হক শামীম
- অন্ধকার --- জীবনানন্দ দাশ - কালের সাক্ষী
- অপরবাস্তব-৪ এর জন্য ব্লগারদের লেখা মনোনয়নের আহবান - অপ্সরা
- অন্ধ যাদুকর- আহমাদ মোস্তফা কামাল - রাসেল ( ........)
- প্লাস্টিকের ফুল আর খেলনা একতারার গল্প - হাসান মাহবুব
- ২০০৮ সাল পর্যন্ত সকল বাংলাদেশী আইন - রাজন সান
- ইতিহাসের প্রথম বিজ্ঞানী! - ম্যাভেরিক
- আজ ১৯শে মে। ১৯৬১ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার জন্য শহীদ হয়েছিলেন ১১ জন ভাষাবিপ্লবী। - কুঙ্গ থাঙ
- লেখক বন্ধুদের লেখা নিয়ে কিছু এলোমেলো ভাবনা। রেজা ঘটক - রেজা ঘটক
- প্রকৃতির খেলা ২ - ধরিত্রীর বুকে অন্য বিশ্বের ছোঁয়া - অপরিচিত_আবির
- রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে! - খারেজি
- মায়া-দরোজা - খারেজি
- প্রতিদিন শত তুচ্ছে: ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই - নুশেরা
- মনসুন রেইন: বহুদিন পর বৃষ্টি দেখে আশ্চর্য কী-বোর্ড ম্যানিয়া! - মাহবুবা আখতার
- আগামীবার যখন উইন্ডোজ নতুন করে সেটআপ দেবেন....... - নাফিস ইফতেখার
- সেনাবাহিনীর কুকীর্তির লিষ্ট : আমাদের গোল্ড ফিশ মেমরীকে ব্লগে সংরক্ষন - শূন্য আরণ্যক
- রেডিমেড এনিমেটেড ইমো - ভেংচুক
- ডক্টর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেইন : যার কাছে বাঙালীর অসীম কৃতজ্ঞতা - অমি রহমান পিয়াল
- আপনার জন্ম এবং কিছু কথা - শেরিফ আল সায়ার
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকাঃগভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি তোমাদের - এ. এস. এম. রাহাত খান
- প্রিয় দুইজন ব্লগারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা : শুভ জন্মদিন 'আহমাদ মোস্তফা কামাল'; শুভ জন্মদিন 'প্রিয়তমা' - একরামুল হক শামীম
- অনেক দিন পর বোর্হেসকে নিয়ে - রায়হান রাইন
- চট্টগ্রাম - War Cemetery (1939 - 1945 ) - তারার হাসি
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- মারফিসূত্র বা Murfy's Laws - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- ফোবিয়া // ভীতি // আতঙ্ক সমূহ (সম্পূর্ণ) - মইন
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস,গল্প ও কবিতা সংকলনের তালিকা - ফারহান দাউদ
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- মনে হচ্ছিল আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি..... - শেরিফ আল সায়ার
- অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ - একরামুল হক শামীম
- ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ! - হমপগ্র
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- জীবনানন্দ দাশ : 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ - একরামুল হক শামীম
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- একদিন আমি- যা হবার তাই হোকনা - কি আসে যায় - দ্যা গ্রীম রিপার
- নবীজী মুহম্মদ সা. এর বিয়েসমূহ এবং কিছু প্রশ্ন - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ফিরে আসা বলে কিছু নেই - মুকুল
- ভাইরাস ডিলিট করুন manually - অনিকেত প্রান্তর
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৯ ( তোমার চোখ এতো লাল কেন--নির্মলেন্দু গুণ ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ”আমরা” যেখানে যেতে চাই ট্রেনটা সেখানে যাচ্ছেনা - অন্যমনস্ক শরৎ
- সৈয়দ শামসুল হক বললেন ভারত বিভাগ একটা ঐতিহাসিক শোকের ঘটনা - কৌশিক
- π (পাই) এর মান - তাজুল ইসলাম মুন্না
- কর্ণেল তাহেরর জবানবন্দি - চিলে কোঠার সেপাই
- মুক্তি পেয়েও আরিফের ফেরারী যাপন - অমি রহমান পিয়াল
'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার'
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২২
[উৎসর্গ : প্রিয় ব্লগার একরামুল হক শামীমকে, যার জীবনানন্দ-প্রেম আমাকে বিস্মিত করে।]
এরকম একটি কথা বলা হয়ে থাকে যে, কবিতা বোঝার আগেই স্পর্শ করে। জীবনানন্দ দাশের 'আট বছর আগের একদিন' কবিতাটি সম্বন্ধেও সম্ভবত এ কথা বলা যায়। প্রথম পাঠের সময় যে-কোনো পাঠকের কাছে কবিতাটি তার সম্পূর্ণতা নিয়ে ধরা না-ও দিতে পারে, কিন্তু এই পাঠ যে ঘোরটি তৈরি করবে তার মনে, সেটি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে তার পক্ষে। ফলে আবার তাকে ফিরে যেতে হবে কবিতাটির কাছে, আর বারবার পড়ার পর হয়তো তার মনে জীবন সম্বন্ধে একটি অনির্বচনীয় বোধ তৈরি হবে; আর এই বোধ তখন এতটাই তীব্র হয়ে উঠবে যে, কবিতাটির অপূর্ব নির্মাণ-কৌশল তার দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে হয়তো। নির্মাণ কৌশল মানে - এর ভাষা, ছন্দ, শব্দ ব্যবহার; চিত্রকল্প, উপমা, উৎপ্রেক্ষা ইত্যাদির ব্যবহার। আর 'ভালো' কবিতার এটি একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে, এর নির্মাণ-কলা এমন এক কৌশলে কবিতার সঙ্গে মোলায়েমভাবে মিশে থাকে, যে, পাঠকের জন্য সেটি কোনো বাড়তি চাপ তৈরি করে না। পাঠক ভুলেই থাকে যে, এই কবিতাটির সৃষ্টিপ্রক্রিয়ায় কবির তীব্র সচেতনতা ছিলো, নির্মাণ কৌশল নিয়ে তাঁকে প্রচুর ভাবতে হয়েছে।
এই কবিতাটি খেয়াল করা যাক : এটি শুরু হয়েছে একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে -
শোনা গেলো লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে - ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হলো তার সাধ।
মনে হচ্ছে কবি এখানে নিজেকে আড়াল করে যে-কোনো একজন ব্যক্তির গল্প বলছেন। গল্পকাররা যেমন করে নিজেকে আড়ালে এবং সর্বজ্ঞ অবস্থানে রেখে চরিত্র সম্বন্ধে কথা বলে যান, অনেকটা সেইরকম। এমনকি চরিত্রগুলোর মনের কথাও তিনি জানেন, কিন্তু যেহেতু তিনি প্রকাশ্য হন না কখনো, তাই পাঠকরা লেখকের উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। এমনকি, কখনো মনে এই প্রশ্নও জাগে না যে, এই গল্পটি আসলে কে বলছেন! বা যিনিই বলুন না কেন, তিনি গল্পের পাত্র-পাত্রীর মনের কথা পর্যন্ত কীভাবে জেনে ফেললেন!
এর পরের পংক্তিগুলো খেয়াল করুন, এবার লোকটির পরিচয় দেয়া হচ্ছে :
বধূ শুয়ে ছিলো পাশে - শিশুটিও ছিলো;
প্রেম ছিল, আশা ছিলো-
অর্থাৎ লোকটি সংসারী মানুষ। বধূ এবং শিশু আছে। এবং তারা পাশেই আছে। প্রেম আছে, আশাও আছে। ক্রমগুলো খেয়াল করুন - বধূর সঙ্গে প্রেম, শিশুর সঙ্গে আশা। অর্থাৎ বধূর সঙ্গে প্রেমই থাকে, আর শিশুকে ঘিরে থাকে আশা। কিন্তু এর পরের পংক্তিগুলো এই ইঙ্গিত দেয় যে, এই সংসারী মানুষটির জীবনে কোথাও কোনো একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে, - 'তাই হয়নি ঘুম বহুকাল।' এই ঘুম চেয়েছিলো কী না সে নিয়ে সংশয়পূর্ণ ভাষ্যও দেয়া হচ্ছে।
বধূ শুয়ে ছিল পাশে - শিশুটিও ছিলো;
প্রেম ছিলো, আশা ছিলো - জোৎস্নায়, - তবু সে দেখিল
কোন ভূত? ঘুম কেন ভেঙে গেলো তার?
অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল - লাশকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার।
এই ঘুম চেয়েছিলো বুঝি !
রক্তফেনামাখা মুখে মড়কের ইঁদুরের মতো ঘাড় গুঁজি
আঁধার ঘুঁজির বুকে ঘুমায় এবার;
কোনোদিন জাগিবে না আর।
এরপরে জীবনানন্দ একটা অদ্ভুত কাজ করলেন। ঊর্ধ্ব-কমার ( ' ' ) মধ্যে কতোগুলো কথা বলে, জানালেন, এই কথাগুলো তাকে বলেছিলো 'উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা এসে' -
'কোনোদিন জাগিবে না আর
জানিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম - অবিরাম ভার
সহিবে না আর - '
এই কথা বলেছিলো তারে
চাঁদ ডুবে চলে গেলে - অদ্ভুত আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে
উটের গ্রীবার মতো কোনো-এক নিস্তব্ধতা এসে।
এরকম একজন 'সুখী' সংসারী মানুষের কাছে যখন 'উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা এসে' এরকম কথা বলে, আর সে সেই কথায় সাড়া দিয়ে চলে যায়- বোঝা যায়, প্রশ্নবোধক চিহ্নটি সত্যিই ছিলো।
এরপর তিনি আরেকটি অভূতপূর্ব কাণ্ড করলেন। আমাদের চারপাশের প্রকৃতির তুচ্ছাতিতুচ্ছ প্রাণীকূলের জীবন-তৃষ্ণা আঁকলেন এক অসামান্য ভঙ্গিতে, এই পঙক্তিগুলোতে :
তবুও তো প্যাঁচা জাগে;
গলিত স্থবির ব্যাং আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে
আরেকটি প্রভাতের ইশারায় - অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে।
টের পাই যূথচারী আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশে
চারিদিকে মশারির ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা;
মশা তার অন্ধকার সঙ্ঘারামে জেগে থেকে জীবনের স্রোত ভালোবাসে।
রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রৌদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি;
সোনালি রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কতো দেখিয়াছি।
ঘনিষ্ঠ আকাশ যেন - যেন কোন বিকীর্ণ জীবন
অধিকার করে আছে ইহাদের মন;
দূরন্ত শিশুর হাতে ফড়িঙের ঘন শিহরণ
মরণের সাথে লড়িয়াছে;
গলিত স্থবির ব্যাঙ, মশা, মাছি, উড়ন্ত কীট, ফড়িঙ - এসবই যেন বেঁচে থাকবার জন্য এক প্রাণপন লড়াইয়ে নেমেছে। চিত্রকল্পগুলোও অসামান্য। 'দূরন্ত শিশুর হাতে ফড়িঙের ঘন শিহরণ' পঙক্তিটি পড়ার সাথে সাথেই কি এরকম একটি দৃশ্য আমাদের চোখে ভেসে ওঠে না? কিংবা 'মশারীর ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা' সত্ত্বেও মশারা যে রাতভর সেটি ভেদ করে জীবনের আয়োজন করতে চায়, সেই দৃশ্যও তো আমাদের চোখে ভাসিয়ে তোলে ওই লাইনগুলো। তো, এই যে এতসব জীবনের আয়োজন আমাদের চারপাশে ছড়ানো, এর কোনোকিছুই কি সে দেখেনি? কবি লোকটির সঙ্গে এই সমস্ত ঘটনার সম্পর্কসূত্র নির্মাণ করছেন এভাবে :
চাঁদ ডুবে গেলে পর প্রধান আঁধারে তুমি অশ্বথের কাছে
এক গাছা দড়ি হাতে গিয়েছিলে তবু একা - একা;
ওই 'তবু' শব্দটিই বলে দেয় - সে দেখেছে বটে, কিন্তু তার জীবনটি যে মানুষের; ব্যাঙ, মশা, মাছি, উড়ন্ত কীট, ফড়িঙের নয়! আর তাই, কবি উচ্চারণ করলেন সেই অমোঘ পঙক্তি :
যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের - মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা
এই জেনে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো : এই পঙক্তিগুলোর আগ পর্যন্ত কবি লোকটির সঙ্গে নিজেকে বিযুক্ত রেখেছেন, আড়ালে রেখেছেন, দূরে থেকে বর্ণনা দিয়ে গেছেন। কিন্তু এইখানটায় এসে তিনি সরাসরি লোকটিকে সম্বোধন করছেন, এবং আমরা দেখবো, এই সম্বোধন চলতে থাকবে এরপরও।
লোকটি যে গেল দড়ি হাতে, তাতে কেউ কি কোনো প্রতিক্রিয়া জ্ঞাপন করেনি? তিনি আবারও প্রকৃতির অনুষঙ্গ টেনে এভাবে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করছেন :
অশ্বথের শাখা
করেনি কি প্রতিবাদ? জোনাকির ভিড় এসে সোনালি ফুলের স্নিগ্ধ ঝাঁকে
করেনি কি মাখামাখি?
থুরথুরে অন্ধ প্যাঁচা এসে
বলেনি কি : 'বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনো জলে ভেসে?
চমৎকার! -
ধরা যাক দু -একটা ইঁদুর এবার!'
জানায়নি প্যাঁচা এসে এ তুমুল গাঢ় সমাচার?
এবং জানাচ্ছেন, সবই দেখেছে সে, তবু :
জীবনের এই স্বাদ - সুপক্ব যবের ঘ্রাণ হেমন্তের বিকেলের -
তোমার অসহ্য বোধ হলো;
মর্গে কি হৃদয় জুড়োলো
মর্গে - গুমোটে
থ্যাঁতা ইঁদুরের মতো রক্তমাখা ঠোঁটে!
কি হয়েছিলো লোকটির? কেন সে মরতে গেলো? জীবনের কোথায় ফাঁক ছিলো তার? প্রশ্নবোধক চিহ্নটাই বা কি বা কোথায়? তার এই আত্নহত্যার কারণই বা কি? দাম্পত্য সম্পর্ক, অভাব, দারিদ্র, পরাজয়, গ্লানি? এই বিষয়গুলো জানাতেই তিনি এবার কথা বলছেন সরাসরি পাঠকের সঙ্গে :
শোনো
তবু এ মৃতের গল্প; - কোনো
নারীর প্রণয়ে ব্যার্থ হয় নাই;
বিবাহিত জীবনের সাধ
কোথাও রাখেনি কোন খাদ,
সময়ের উর্ধ্বতনে উঠে এসে বধূ
মধু - আর মননের মধু
দিয়েছে জানিতে;
হাড়হাভাতের গ্লানি বেদনার শীতে
এ জীবন কোনোদিন কেঁপে ওঠে নাই;
অর্থাৎ কোথাও কোনো ব্যর্থতা নেই। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো তিনি এই ব্যর্থতাহীনতার কথা বলে একই টানে বলে যাচ্ছেন আরেকটি কথাও :
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হয়ে শুয়ে আছে টেবিলের ' পরে।
এর মানে কি? নারীর প্রণয়ে ব্যর্থ হয়নি, বিবাহিত জীবনের সাধ পূরণ করেছে কোনো খাদ না রেখেই, বধূ মধু ও মনন দুই-ই জানতে দিয়েছে (অর্থাৎ বউ শুধু শরীরের সঙ্গীই হয়নি, মননেরও হয়েছে!), কোনোদিন ক্ষুধার কষ্ট পায়নি - 'তাই' তাকে মরতে হলো! তার মানে কি এই যে, এত এত সাফল্য না থাকলে তাকে মরতে হতো না? তার মানে কি এই যে, জীবনে কিছু কিছু ব্যর্থতা থাকা ভালো?
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তিনি এইভাবে, (এবং এবার আর নিজেকে তিনি আড়াল করছেন না, সরাসরিই নিজের উপলব্ধির কথা জানাচ্ছেন) :
জানি - তবু জানি
নারীর হৃদয় - প্রেম - শিশু - গৃহ - নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয় -
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
ক্লান্ত - ক্লান্ত করে;
লাশকাটা ঘরে
সেই ক্লান্তি নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হয়ে শুয়ে আছে টেবিলের 'পরে।
অর্থাৎ, জীবন-বর্ণনার জন্য আমরা সচরাচর যে সব বিষয় নিয়ে কথা বলি; আমাদের ক্লান্তি, আমাদের পরাজয়, আমাদের হতাশা, আমাদের দুঃখ ও বেদনা, আমাদের হাহাকার, আমাদের প্রেম-আশা-সুখ ও সাফল্য ইত্যাদি - এসবকিছুর বাইরে খুব গোপনে-গভীরে এক 'বিপন্ন বিস্ময়' থাকে।
কি সেই বিস্ময়?
কবি সে সম্বন্ধে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। পাঠকের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন সেই বিস্ময় খুঁজে দেখার ভার।
হয়তো সেই বিস্ময় আমাদের অস্তিত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নবালী থেকে উদ্ভুত। কে আমি, কেন আমি, কোত্থেকে এসেছি, কেন এসেছি, এই পৃথিবীতে আমার ভূমিকা কী, আমার অস্তিত্বের অর্থ কী, আমি না থাকলে কী হতো, আমার অস্তিত্বহীনতায় এই পৃথিবীর আদৌ কিছু যেত-আসতো কী না, আমার অস্তিত্ব এই পৃথিবীকে এমন কী তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে, এই জীবন শেষে আমি কোথায় যাবো, জীবন মানে কি মাত্র এই কয়েকদিনের খেলা যা দেখতে দেখতেই ফুরিয়ে যায়, মৃত্যুই যদি একমাত্র অনিবার্য সত্য হয় তাহলে এই জীবনের এত এতসব কর্মকাণ্ডের অর্থ কী - এইরকম প্রশ্নের তো শেষ নেই। এবং প্রশ্নগুলোর উত্তরও নেই। প্রশ্নগুলো তাই কোনো সমাধান না দিয়ে বরং এক 'বিপন্ন বিস্ময়' জন্ম দেয় মনে।
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো - কবি এখানেই থামেননি। লোকটির আত্নহত্যা, তার সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখে এবং 'বিপন্ন বিস্ময়ের' মতো একটা অমীমাংসিত প্রশ্নের মধ্যে পাঠককে ছেড়ে দিয়ে তিনি এবার নিজের কথা বলছেন :
তবু রোজ রাতে আমি চেয়ে দেখি, আহা,
থুরথুরে অন্ধ পেঁচা অশ্বথের ডালে বসে এসে,
চোখ পালটায়ে কয় : 'বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনো জলে ভেসে?
চমৎকার !
ধরা যাক দু - একটা ইঁদুর এবার -'
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজও চমৎকার?
আমিও তোমার মতো বুড়ো হব - বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব
কালীদহে বেনো জলে পার;
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার।
অর্থাৎ ওই লোকের যা হয়েছে, তা তো হয়েছেই, আমার জীবন তাতে থেমে থাকবে কেন! আমি বরং ' চেয়ে দেখি'...। এবং ওইসব সত্য জানার পর তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, জীবনের 'প্রচুর ভাঁড়ার' শূন্য না করা পর্যন্ত তিনি যাচ্ছেন না। থেকে যাবেন এখানেই, এই 'বিপন্ন বিস্ময়'মাখা জীবন নিয়ে এই আলোছায়াময় পৃথিবীতেই।
আর এইখানটাতে এসে কবিতাটি খুব জীবনবাদী হয়ে ওঠে।
জীবনে অনেক কবিতা পড়েছি - মৃত্যু আর জীবনের এমন অসামান্য মূল্যায়ন আর কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জীবনানন্দ দাশ, কবিতা ;
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:০৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
এই লেখাটি আমাদের প্রিয় ব্লগার একরামুল হক শামীমকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
এর পেছনে ছোট্ট একটা ঘটনা আছে। ব্লগে লিখতে শুরু করার পর থেকে দেখলাম, এই তরুণ বারবার জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে পোস্ট দিয়ে চলেছেন। এমনকি একটি পোস্টে 'বনলতা সেন' গ্রন্থের পুরোটাই উপস্থাপন করলেন তিনি। আরেকটি পোস্টে তাঁর কবিতা সংগ্রহ করতে লাগলেন ব্লগারদের সক্রিয় সহযোগিতায়। একজন কবির প্রতি কতোটা প্রেম থাকলে এরকম কাজ করা সম্ভব, তা সহজেই অনুমেয়। আমার নিজের অনেকদিনের ইচ্ছে ছিলো 'আট বছর আগের একদিন' কবিতাটি নিয়ে একটি লেখা তৈরি করার। কিন্তু কবিতাটি অনেক দীর্ঘ বলে সেটি কম্পোজ করতে আলস্য লাগছিলো। তো, শামীমের একটি পোস্টে গিয়ে আমি আমার এই আলস্যের কথা জানালাম এবং কবিতাটি তাঁর কাছে থাকলে সেখানে পোস্ট করতে অনুরোধ করলাম। তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যে এই দীর্ঘ কবিতাটি কম্পোজ করে দিলেন। আমি সেদিন সত্যিই সাংঘাতিক অভিভূত হয়েছিলাম। শামীমের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো পরিচয় নেই, এই ব্লগে পরস্পরের লেখা পড়তে গিয়ে, মন্তব্য-বিনিময় করতে গিয়ে এই পরিচয় গড়ে উঠেছে। এই সামান্য পরিচয়ের সূত্র ধরে আমি অনুরোধটি করেছিলাম, সেটি তিনি না-ও রাখতে পারতেন, কিন্তু রাখলেন এবং আমাকে অভিভূত করলেন। আমার মনে হলো, এই ভার্চুয়াল সম্পর্কও কতোটা মাধুর্যমাখা, কতোটা আন্তরিক হতে পারে, শামীম অনুজ হয়েও সেটি আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।
প্রিয় শামীম, আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ গ্রহণ করুন।
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
একরামুল হক শামীমের জীবনানন্দ বিষয়ক লেখাগুলোর লিংক :
জীবনানন্দ দাশ : 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ -
Click This Link
জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ -
Click This Link
যে পোস্টে আমি অনুরোধটি করেছিলাম :
Click This Link
বিগব্যাং বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নিন।
[ শুধু + দিলেন, কিছুই বললেন না!! ]
চিকনমিয়া বলেছেন:
হ শামীম পুলাডা ভালা
লেখক বলেছেন:
সে গেছে কই জ্যাডা? আপনেরে উৎসর্গ কইরা যেদিন পোস্ট দিলাম, সেইদিন আপনে আর লগইন-ই করলেন না!! আইজকা, শামীমরে উসর্গ কইরা পোস্ট, সে নাই!! ![]()
পল্লী বাউল বলেছেন:
আমার অন্যতম প্রিয় কবিতার এত সুন্দর ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশেষ করে -জানি - তবু জানি
নারীর হৃদয় - প্রেম - শিশু - গৃহ - নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয় -
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
ক্লান্ত - ক্লান্ত করে;
- এ লাইনগুলো আমার পড়া শ্রেষ্ঠ কবিতার লাইন বলে মনে হয়।
সমকাল ঈদ সংখ্যায় আপনার "ইলিশ, কাঠাঁল অথবা জীবনের গল্প" পড়লাম - ভাল লাগলো, অভিনন্দন গ্রহণ করুন।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে। এই লেখা এবং গল্পটি পড়ে মতামত জানানোর জন্য। কিন্তু আপনাকে চিনতে পারলাম না, অথচ চেনা চেনা লাগছে বলে কেমন একটা অনুভূতি হচ্ছে!
*****
লেখক বলেছেন:
তা বটে, তাঁর কবিতার প্রেমে না পড়ে থাকা যায় না। তাঁর মতো একজন কবি বাংলা ভাষায় জন্মেছিলেন, সেজন্য ভীষণ গৌরববোধ করি আমি। ধন্যবাদ আপনাকে।
বিগব্যাং বলেছেন:
... আপনার মধ্যে যে "পরিমিতিবোধ" তা থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে...বিচারমূলক সমালোচনা'র জন্য এটা অপরিহার্য...
আপনার গল্পে (এবং এই জাতীয় আলোচনায়ও) এই জিনিসটাই ভাল্লাগে...
(সারাদিন নানান ভ্যাকুয়াম পাবলিকের মধ্যে ঘুরেও এইটা যে কিভাবে মেনটেইন করেন, সেটাও একটা রহস্য)
লেখক বলেছেন:
উত্তর দিতে দেরি হয়ে গেলো, দুঃখিত।
প্রশংসা শুনতে ভালো লাগে, মহৎ মানুষদের মতো বিনয় প্রকাশ বলতে পারবো না- 'কী যে বলেন' 'বাড়িয়ে বলেছেন' ইত্যাদি। আমি সত্যিই খুশি হয়েছি আপনার মন্তব্য পেয়ে, বিশেষ করে শেষের লাইনটিতে এসে 'কর্ণ-বিস্তৃত হাসি' দিয়েছি।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন:
ভালো-মন্দ মিলিয়ে আছি। আপনি কেমন আছেন?
পড়া শেষ হলো?
বাফড়া বলেছেন:
পড়ালআম... আসছি একটু পর...
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
এই লেখাটার অপেক্ষায় ছিলাম। দারুণ বিশ্লেষণ করেছেন। আমার কাছেও মনে হয় জীবনানন্দ বলেই পেরেছেন, মৃত্যু আর জীবনের এমন অসামান্য মূল্যায়ন করতে। উৎসর্গ বিষয়ে কি কথা বলবো বুঝতে পারছি না। কোন কথায় কৃতজ্ঞতার ভাষা প্রকাশিত হয়! আমি তাই কথা খুজিঁ। সেখানেও প্রিয় জীবনানন্দ....
আমাকে একটি কথা দাও যা আকাশের মতো
সহজ মহৎ বিশাল,
গভীর; - সমস্ত ক্লান্ত হতাহত গৃহবলিভুকদের রক্তে
মলিন ইতিহাসের অন্তর ধুয়ে চেনা হাতের মতন,
আমি যাকে আবহমান কাল ভালোবেসে এসেছি সেই নারীর।
সেই রাত্রির নক্ষত্রালোকিত নিবিড় বাতাসের মতো:
সেই দিনের - আলোর অন্তহীন এঞ্জিন চঞ্চল ডানার মতন
সেই উজ্জ্বল পাখিনীর - পাখির সমস্ত পিপাসাকে যে
অগ্নির মতো প্রদীপ্ত দেখে অন্তিমশরীরিণী মোমের মতন।
কথাটি খুঁজে পাবো কিনা জানি না। তবে হয়তো হৃদয়ে উপলব্ধি করছি সেই কথাটি.....
লেখক বলেছেন:
আপনি এসেছেন তাহলে! আমি ভেবেছিলাম, আজ আর আসছেন না!
যাহোক, লেখাটা দিতে একটু দেরি হয়ে গেল। অন্যান্য লেখা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ... আমিও হয়তো উৎসর্গপত্রে নিজের অনুভূতির সঠিক প্রকাশ ঘটাতে পারিনি। শুধু এটুকু বলি, আমি হয়তো ব্লগে এতদিন ধরে লিখতামই না, যদি আপনার এবং আপনার মতো আরো অনেকের ভালোবাসা না পেতাম। আবারও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
বাফড়া বলেছেন:
চরম জিনিস...। কিন্তু আপনি ''উটের গ্রীবার মত নিস্তব্ধতা' লাইনটা নিয়া আলাপ করলেন না তেমন একটা... এই রকম কড়া লাইন কম পড়ছি... বাংলায় মনে হয় এরে বিরোধাভাস কয়(?), ঠিক জানিনা। ইংলিশে বলে oxymoron . আসলেই এমন লাইন কম পাইছি।
লেখক বলেছেন:
লেখাটা পোস্ট করার পর মনে হলো, আরো অনেককিছু বলার ছিলো। ব্লগে এ ধরনের লেখা দেয়ার একটা অসুবিধা হলো - কেবলই মনে হতে থাকে, বড় হয়ে যাচ্ছে, বড় হয়ে যাচ্ছে! ব্লগাররা নাকি বড় লেখা পছন্দ করেন না! মনের মধ্যে এই ধরনের অস্বস্তি থাকলে মন খুলে লেখাও যায় না।
যাহোক, এখন অবশ্য আলাপ করা যায়।
'উটের গ্রীবার মত নিস্তব্ধতা' সম্ভবত বিরোধাভাস নয়। জীবনানন্দের বিরোধাভাস নিয়ে আমি আরেকটি পোস্ট দিয়েছিলাম ( 'না এলেই ভালো হতো...' ), সেখানে আপনার সঙ্গে অনেক আলাপও হয়েছিলো। এই লাইনটিকে সেরকম বিরোধাভাস মনে হয়নি। এই লাইনটির ব্যাখ্যা করা আসলে কঠিন কাজ। 'নিস্তব্ধতা' না হয় বোঝা যায়, কিন্তু 'উটের গ্রীবার মত নিস্তব্ধতা' কি জিনিস? উটের গ্রীবা কি নিস্তব্ধ, নাকি উটের গ্রীবায় নিস্তব্ধতা থাকে? থাকলে সেটি কি রকম? আমার মনে হয়েছে, একটা বিমূর্ত অনুভূতি তৈরি করার জন্য কিংবা একটা বিমূঢ় ভাবকে ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। এটি যতোটা না বোঝার বা ব্যাখ্যার বিষয়, তার চেয়ে বেশি অনুভবের। লাইনটি পড়লে নিশ্চয়ই এক ধরনের অনুভূতি হয় পাঠকের মধ্যে, হয়তো সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করাও সম্ভব নয়, কিন্তু একথাটি ঠিকই বুঝে নেয়া যায় যে, এরকম নিস্তব্ধতা এসে 'কোনোদিন জাগিবে না আর / জাগিবার গাঢ় বেদনার' বলে লোভ দেখালে, 'একগাছা দড়ি হাতে' চলে যাওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না।
নিজের অনুভূতির কথা বললাম, আমি ওভাবেই বিষয়টিকে অনুভব করি।... আগেও আপনাকে একবার বলেছিলাম - কবি ঠিক কী বোঝাতে চান সেটি হয়তো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বড়ো কথা হচ্ছে, পাঠক কীভাবে একটি কবিতাকে নিজের ভেতর গ্রহণ করেন।
আপনার সঙ্গে আলাপ করতে ভালো লাগে। অনেক কথা বলে ফেলি। কিন্তু, বহুদিন সেই কাজটিও হয়ে ওঠে না!
হরিণ বলেছেন:
ভাই কেমন আছেন ? অনেক দিন পরে আসলেন। আপনার আগের লেখাগুলো সব প্রিন্ট করে নিয়েছি। আজকেরটিও নিচ্ছি।
লেখক বলেছেন:
ভালো-মন্দ মিলিয়ে আছি। আপনি কেমন আছেন?
প্রিন্ট করে নিচ্ছেন কেন? স্ক্রিনে পড়তে ভালো লাগে না, তাই না? আমার লাগে না। কিন্তু, কী আর করা! কটা লেখার প্রিন্ট নেবো!!
হরিণ বলেছেন:
জীবনানন্দ প্রেমের কবিতাগুলো আমারও ভীষণ প্রিয়। আপনি একটি সুন্দর পোস্ট দিয়েছেন। তার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
জীবনানন্দের অধিকাংশ কবিতাই আমার প্রিয়। আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ার জন্য এবং ভালো লাগা জানানোর জন্য।
জীবনানন্দের কবিতার বই আমার পড়া হয় না কারণ তার বেশিরভাগ কবিতাই আমার মুখস্থ
সময়ে অসময়ে বিড়বিড় করে উঠি
আর এই কবিতাটা নিয়ে এক ধরনের ঘোর কাজ করে আমার মধ্যে
এক সময় মনে হতো কবিতাটা বোধহয় হতাশাবাদী
এখন মনে হয় শুধু জীবনানন্দের নয়
বাংলা সাহিত্যের সবচে ভোগবাদী আর আশাবাদী কবিতা বোধহয় এটাই
'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার'
এতো আশাবাদ আর ভোগবাদ কী কোথাও আছে আর?
লেখক বলেছেন:
আশাবাদ ঠিক আছে, কিন্তু ভোগবাদ বলে মনে হয় না আমার। বরং জীবনের যাবতীয় অর্থহীনতার সন্ধান করে এবং একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে তিনি যেন নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্যই ওই কথাগুলো লিখলেন। কথাগুলো জীবনের পক্ষেই দাঁড়ায় সন্দেহ নেই, কিন্তু তাতে 'যে জীবন দোয়েলের ফড়িঙের, মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা' বা এই ধরনের পঙক্তিগুলো ম্লান হয়ে যায় না। এত আশাবাদের পরও এই কবিতা পড়ার পর জীবনের অর্থহীনতার বোধ ভয়াবহভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
[এত কবিতা মুখস্থ রাখেন কিভাবে?]
রুবেল শাহ বলেছেন:
দারুণ বিশ্লেষণ............... কি বলব.......... কিছুই না বলি...............
সোজা প্রিয়তে
ভাল লাগা রেখে গেলাম.............. শুভেচ্ছা রইল
লেখক বলেছেন:
কিছু না বললেও আপনার ভালো লাগার স্পর্শ পেলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন:
অসাধারন বিশ্লেষণ হয়েছে!!!(ব্লগে মন্তব্য খুব কম করি, কিংবা অনেক সময় ছোট করে করি - সাহিত্যে তেমন দখল নেই বলে। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যটি হয়ত আপনার কাজের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারল না...)
লেখক বলেছেন:
ভালো লাগা জানিয়েছেন, এই তো অনেক। এটাও 'সঠিক মূল্যায়নের' মধ্যেই পড়ে। ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন:
আপনাকেও ধন্যবাদ, ভাইয়া।
মনজুরুল হক বলেছেন:
বাপস ! এত বড় পোস্ট,তারপর আবার দুটো 'বাচ্চা পোস্ট' সাথে! আপনারা যারা কবিতা নিয়ে এত ব্যাপক খাটনির কাজগুলো অনায়াসে করে বসেন, তখন একাধারে ঈর্ষা ও হিংসা হয়।আমার কথাগুলো লীলেন বলে দিয়েছে।ধন্যবাদ।শামীম ও আপনাকে।
লেখক বলেছেন:
'এত বড় পোস্ট,তারপর আবার দুটো 'বাচ্চা পোস্ট' সাথে!' হা হা হা। ভালো বলেছেন ভাই।
আমাকে ঈর্ষা করে লাভ নেই, আমি চূড়ান্ত অলস। এই আলস্যের কারণেই অনেক লেখা লিখবো লিখবো করে আর লেখা হয়ে ওঠে না। তবে শামীম আর শিপনের কবিতাপ্রীতি অসাধারণ। তারা শুধু নিজেরা পড়েই ক্ষান্ত দেয় না, প্রিয় কবিতাগুলো অন্যদেরও পড়িয়ে ছাড়ে। তাদের কাজগুলোকে আমিও ঈর্ষা করি।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমি বহে আনি;
একদিন শুনেছ যে সুর ---
ফুরায়েছে, -- পুরানো তা -- কোনো এক নতুন কিছুর
আছে প্রয়োজন,
তাই আমি আসিয়াছি --- আমার মতন
আর নাই কেহ !
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাদের।
অসাধারণ বিশ্লেষণ !
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
খুঁজতে খুঁজতে আট বছর আগের একদিন কবিতাটির একটা ইংরেজি অনুবাদ পেলাম। A DAY EIGHT YEARS AGO
It was heard
They took him to the morgue.
Last night in the February dark
When the crescent moon, five days toward full, had set
He'd had the urge to die.
A wife had lain beside him-a child, too.
There had been love, hope, in the moonlight.
Then what ghost did he see? why was his sleep disturbed?
Or maybe he hadn't slept for days. Now, Iying in the morgue, he
sleeps.
He had sought this sleep perhaps.
Like a plague rat, maw smeared with frothy blood, neck slack
In the bosom of some dingy cranny, now he sleeps.
Never again will he wake.
"Never again will you wake
Never again will you know
The unremitting, unrelenting grievous
Pain of waking."
As though some stillness stretched its camel's neck
Through his window
And said these words to him
When the moon had sunk into strange darkness.
But the owl is awake,
And the decrepit, putrefying frog begs a few moments more
Among anticipated warm affections-beckoned by another dawn.
I sense all around me the unforgiving opposition
of my mosquito net, invisible in the swarming dark.
The mosquito stays awake in his blackened monastery, in love with
life's flow.
Flies alight on blood and filth, then fly again to sunlight.
How many times have I watched the play of winged insects on waves
of golden sunshine.
An intimate sky it would seem-some pervasive life force
Controls their hearts.
The grasshopper's constant twitching, caught in the mischievous
child's grasp,
Fights death.
Yet in that foremost darkness after moonset, you, a coil of rope in
hand,
Had gone alone to the aswattha tree,
Knowing that the grasshopper's life, or the doyel bird's, never meets
with
That of man.
The aswattha limb,
Did it not protest? Did not fireflies in cordial throngs
Appear before you?
Did not the blind and palsied owl come and
Say to you: "old lady moon has sunk in the flood, has she?
Marvelous!
Let's now catch a mouse or two!"
Did not the owl screech out that raucous news?
This taste of life-the scent of ripe grain in an autumn afternoon-
You could not tolerate.
In the morgue, is your heart at ease
In the morgue, in that suffocating stillness
Like a flattened rat with blood-smeared lips.
Listen,
However, to this dead man's tale. He lacked
Not love of woman,
Nor did married life's expectations
Go unfulfilled.
From time's churnings emerged a wife
And honey, the mind's honey
She let him know.
Never in this life did he shiver
In the cold of hunger's draining pain.
And so,
In that morgue,
Flat out he lies upon a table.
I know, yet I know,
A woman's heart-love-a child-a home-these are not everything,
Not wealth nor fame nor creature comforts-
There is some other perilous wonder
That frolics
In our very blood.
It exhausts us-
Exhausts, exhausts us.
That exhaustion is not present
In the morgue.
And so
In that morgue
Flat out he lies upon a table.
But every night I look and see, yes,
A blind and palsied owl come sit upon the aswattha branch
Blink her eyes and say: "old lady moon has sunk in the flood, has she?
Marvelous !
Let's now catch a mouse or two!"
Oh profound grandmother, is today still so marvelous?
I too, like you, shall grow old-shall cast old lady moon across the
flood, into the whirlpool.
Then we two together shall empty life's full store.
লেখক বলেছেন:
অসাধারণ! এই জিনিস আপনি পেলেন কোথায়?!? আবার ধন্যবাদ, অজস্র, অসংখ্য।
রেজওয়ান বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে চৎকার বিশ্লেষণের জন্যে। এটি আমারও প্রিয় কবিতা, বিশেষ করে খুব কাছের একজনের চলে যাওয়ার পর...আমিও তার সেই বিপন্ন বিস্ময় সম্পর্কে ধারণা পাবার চেষ্টা করি...প্রতিনিয়ত।
লেখক বলেছেন:
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। এবং প্রিয়জন চলে যাওয়ার ঘটনায় সহমর্মিতা।
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
অনেকদিন পরে এমন অসাধারণ কিছু একটা পড়লাম। আমি 'আট বছর আগের একদিন'-এর অনেক আলোচনা শুনেছি। কিন্তু এমন করে শব্দ, বাক্য ধরে ধরে কেউ কবিতাটাকে দেখেছেন কি-না মনে পড়েনা। ভালো থাকুন। ম্যালা ভালো।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ রিপন। সব কথা আসলে লেখা হয়নি, এটুকু লিখতেই অবস্থা কাহিল! ![]()
অনেকদিন নিয়মিত ব্লগে আসা হয়নি। আপনার খবর কি? লেখালেখি ও অন্যান্য সবকিছুর?
কানা বাবা বলেছেন:
অসাধারণ!
...অ্যান্ড স্যাল্যুটো, স্যার!
সময়ের 'উর্ধ্বতনে' কতাডা কি টিকাচে? নাকি 'উদ্বর্তনে' হৈবো? হাতের্কাচে পুস্তক নাই... চেক্ দিতে পাল্লাম্না... তয় কিরামের জানি খটকা লাগ্লো... ওবিশ্যি আমার স্মিরিতিশক্তির অবোস্তাও ভালোনা; খুবি দূর্ব্বলকিচিমের... আমার খটকা লাগোন্ডাও ভুল হৈতারে... হেইক্ষেত্রে অ্যাডভান্স ক্ষমা চায়া রাক্লাম্...
...মূল পুস্টে 'জানিবার' গাঢ় বেদনার কতা কৈলেন্ মাগার ত্যারো লম্বর কমেন্টে বাফড়া সায়েবের কমেন্টের রিপ্লাইতে কৈলেন্ 'জাগিবার' গাঢ় বেদনার কতা... এইডা বিশেষবাবে খিয়াল কোল্লাম্...
একাদিকবার পুনর্মাজনা করার ফলে দাশমশায়ের একই কোবিতার একাদিক ভার্শান পাউন্ জায়...
এই কোবিতার 'জানিবার'/'জাগিবার' দুইটা ভার্শানই বাজারে অ্যাভেইল্যাবল্... দুইডা শব্দোই কোবিতার সাতে খাপ খায়া জায় চমেক্কারবাবে... মাগার অর্থো কিঞ্চিৎ ভিন্নতরো হৈয়া জায়...
মজার্ব্যাপার হৈলো অহন্তুরি বেশির্ভাগ বোই-পুস্তকে কৈলাম্ 'জাগিবার'-ই দেউয়া আচে... আব্দুল মান্নান সৈয়দের ভাইষ্যমুতাবেক্ 'জানিবার' করা অয় নাই...
পুস্টের্লিগা আপ্নেরে আবারো ধন্যবাদ...
ভালো থাকুন্... আরো বেশি বেশি লিখুন্...
লেখক বলেছেন:
ভুল দুটো ধরিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। সময়ের 'উর্ধ্বতনে' নয়, 'সময়ের উদ্বর্তনে'ই হবে! টাইপিং মিসটেক! ![]()
'জানিবার গাঢ় বেদনা' নয়, 'জাগিবার গাঢ় বেদনা'ই হবে। জীবনানন্দের একাধিক সংকলনে 'জাগিবার' পাওয়া যায়, 'জানিবার' খুব একটা চোখে পড়েনি। এটিও আমার টাইপিং মিসটেক। ![]()
ভুল ধরিয়ে দেবার পরও আপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক মূল পোস্টে কোনো এডিট করলাম না। হাতের কাছে বই না থাকা সত্ত্বেও যিনি এই ধরনের সূক্ষ ভুল ধরতে পারেন, এই সম্মান তাঁর প্রাপ্য।
[অনেকদিন পর আপনার দেখা পেলাম। ব্লগে আসার পর আমার প্রথম বা দ্বিতীয় পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন, তারপর প্রায় ছ-মাস পর এই আবার এলেন। আপনি নিজে কোনো পোস্ট দেন না কেন? আপনার মাত্র দুটো পোস্ট পড়েছি, তা-ও অনেকদিন আগের। এই ব্লগে কি আপনার অন্য কোনো নিক আছে? থাকলে জানাবেন প্লিজ। এখানে না জানাতে চাইলে মেইল করে জানালেও চলবে। মেইল অ্যাড্রেস আমার প্রোফাইলে দেয়া আছে।]
আপনার জন্যও শুভেচ্ছা রইলো আমার।
চিকনমিয়া বলেছেন:
জেডা, আইজকা কিমুন আচো? ভালানি?
লেখক বলেছেন:
আছি জেডা, তুমার দুয়ায় ভালাই আচি। তয় ইট্টু কিলান্ত!!
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ, ধন্যবাদ। আরো অনেকবার পড়েন। এই পোস্টের হিট বাড়তে থাকুক! ![]()
লেখক বলেছেন:
কবিতাটির জন্য পোস্টটা পড়বেন, এই লেখার জন্য নয়!
তাইলে খালি কবিতাটাই পড়েন!! ![]()
লেখক বলেছেন:
'প্রিয় কবিতার ডোম ঘরে অদ্ভুত কাটা-ছেঁড়া'! হা হা হা। ভালো করেছি না!!
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
আপনার চিঠি পেয়েছি। একটু গুছিয়ে লেখার জন্যে সময় নিচ্ছি। আপাতত আমার বাড়িতে এসে বরফ সহযোগে বৈকালভ্রমণের আমণ্ত্রণ জানিয়ে গেলাম। আমি মন্দ নেই - ভালো থাকার প্রচেষ্টায়!
লেখক বলেছেন:
চিঠি যে পেয়েছেন, সেই খবরটাতো ফিরতি মেইলে দিতে পারতেন!
আমি তো ভেবেছিলাম, ওটা আদৌ পৌঁছেনি আপনার কাছে।
'বরফ সহযোগে বৈকালভ্রমণের আমণ্ত্রণ' পেয়ে আনন্দিত। কিন্তু বাড়ির ঠিকানাটা কে দেবে, শুনি!
![]()
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ ফারহান। এখানে কথা বলতে এসে আমার নিজেরও নতুন করে পড়া হচ্ছে।
নিহন বলেছেন:
ঈদ এলোরে ......আমার , আপনার ...
পথের মাঝে ঘুমিয়ে আছে যে ,
পথ শিশু তার ।
তুলে নিন সেই শিশুদের
বুকের মাঝে ,নতুন সাঝে ।
.............ঈদ মোবারক ..........
লেখক বলেছেন:
ঈদের শুভেচ্ছা আপনাকেও।
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
সম্ভবত আমার পঠিত সকল কবিতার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি বার পড়া । কিন্তু যতবারই পড়ি , প্রতিবারই এক অদ্ভুত আনকোরা শব্দহীন রোমাঞ্চ হয়, যে রোমাঞ্চের অসাধারন অতুলনীয় শব্দময় ব্যাখ্যা/বর্ণনা আপনি দিয়েছেন । স্থম্ভিত হয়ে পড়েছি, আপনার লেখাটি । স্যালুট ......
লেখক বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আনন্দচিত্তে আপনার ভালো লাগা গ্রহণ করলাম।
চিকনমিয়া বলেছেন:
হেপি ঈদ
লেখক বলেছেন:
ঈদের শুভেচ্ছা নেও জ্যাডা।
চিকনমিয়া বলেছেন:
ঠিকাচে জেডা, তুমার পরিবারে সবাইরেও শুভেচ্চা ও শুভকামনা
রাতের বৃষ্টির শব্দ বলেছেন:
অসাধারন.......। আগেও লেখা পড়েছি.... আপনার। 'আজ রাতে যদি শ্রাবণের মেঘ হঠাৎ ফিরিয়া যায়' পড়ে ভক্ত হয়েছি কারন আমি সুকান্তের কবিতা যত বার না পড়েছি তারচেয়ে অনেক বেশি পড়েছি বইয়ের শেষ পাতার চিঠিগুলো। অসম্ভব ভাল চিঠিগুলো নিয়ে দারুন পোষ্ট ছিল। কিন্তু মন্তব্য করার সাহস হয়নি। আজ আর থাকতে পারলাম না. . . . . . .তার অনেকগুলো কারন, প্রথমত পোস্টটির নাম হলো আমার প্রিয় লাইনগুলোর একটি। দ্বিতীয়ত জীবননান্দ'র কবিতা আমার ভীষন প্রিয়।সর্বশেষ কারন কবিতাটি পড়ে আমার অনুভুতির সাথে আপনার লেখার একটি কল্পনাতিত মিল খু্জেঁ পেলাম.....
আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেল...
লেখক বলেছেন:
আগের পোস্টে মন্তব্য করার সাহস হয়নি কেন???? কী বিস্ময়কর কথা শোনালেন!! ভালো লাগা, খারাপ লাগা যে কোনো কিছুই নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন, সংকোচ করবেন কেন?
আপনার অনুভূতির কাছাকাছি কিছু একটা এই লেখায় উপস্থাপন করতে পেরেছি জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
কয়েকজনের প্রিয় পোষ্টে লেখাটি দেখে ঢুকেছি। পড়ে নিজের প্রিয় পোষ্টে না নিয়ে পারলাম না। আলোচনার ইচ্ছা রইল;
লেখক বলেছেন:
প্রিয়তে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার আলোচনা শোনার অপেক্ষায় রইলাম।
সার্কিট বলেছেন:
কেমন আছেন কামাল ভাই? আপনার লেখার স্টাইলটা এমন যে বার বার পড়তে ইচ্ছে করে। প্রথমবার আনন্দের জন্য দ্বিতীয়বার বুঝার জন্য তৃতীয়বার হজম করার জন্য। কবিতাটির এত সুন্দর বিশ্লেষনের জন্য এই অধমের কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন। পোষ্টটি অনেক আগেই প্রিয়তে রেখেছি। ব্লগার রাতের বৃষ্টির শব্দ-র মতো আমারও সাহস হয়নি আপনার পোষ্টে মন্তব্য করার। অধমের দুঃসাহস ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভাল থাকুন, নতুন পোষ্টের অপেক্ষায় রইলাম।
লেখক বলেছেন:
রাতের বৃষ্টির শব্দ এবং আপনি দুজনেই বললেন - পোষ্টে মন্তব্য করার সাহস হয়নি। কারণটা বুঝতে পারলাম নারে ভাই। আমি তো কারো মন্তব্যের জবাবে কখনো রাগ-টাগ করেছি বলে মনে পড়ে না! তাহলে সাহস না পাওয়ার কী হলো?!?!? এত সুন্দর একটা মন্তব্য করেছেন যে, মন ভরে উঠলো। অথচ 'সাহসের অভাব' কারণ দেখিয়ে এই মন্তব্যটি থেকে আমাকে বঞ্চিত রেখেছিলেন! নিজেকে নিয়ে কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি। আপনাদের কাছে আমার ইমেজ কি রাগী মানুষের? আমি কিন্তু মোটেই তা নই।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবং পরবর্তী পোস্টে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভালো থাকবেন।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
অফটপিক:আপনার লেখা খুব একটা পড়া হয় নি।কালকে আপনার পুরানো একটা উপন্যাস পড়লাম।নাম আগন্তুক।দারুন লাগছে।আমি পড়ে মুগ্ধ হলাম আর ভাবলাম ওয়াও এমন লেখকের সাথে আমার ব্লগে কথা হয়!!!!!!!!বিশেষ করে নায়ক অন্জনের চরিত্র!একটা মানুষ কত অবলিলায় নিজের শৈশব, ছোট বেলার গ্রাম,স্কুলকে মনে রেখে বাচতে চায় আর বাস্তবকে অস্বীকার করে বেচে থাকে।আরো ভালো লাগছে নিজের পুর্বসুরিদের বিশ্লেষনের কি চেষ্টা!আর বাস্তবে ২২ বছর পর গ্রামে ফিরে হারানো সব খুজে পাওয়ার আকূলতা এবং তার স্বপ্নভঙ্গ সব মিলিয়ে সুপার!
কালকে পরশু আজিজে যেয়ে আপনার আরো উপন্যাস যোগার করতে হবে!
ভালো থাকবেন ভাইয়া
লেখক বলেছেন:
আপনার অনুভূতি শেয়ারের জন্য অজস্র ধন্যবাদ। ওটা আমার প্রথম এবং একমাত্র প্রকাশিত উপন্যাস। আর উপন্যাস পাবেন কোথায়?
তবে গল্পগ্রন্থ পেলেও পেতে পারেন, আমি শিওর না!
আপনিও ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা রইলো।
চিকনমিয়া বলেছেন:
আপনি কি ভালো আছেন নিকি?
লেখক বলেছেন:
আছি ভালোই, কিন্তু কিছু করতে ইচ্ছা করে না গো জ্যাডা। আলসি লাগে!
কি করন যায়, কও তো দেখি! এই নিয়া পোস্ট দিমু নাকি একটা?
চিকনমিয়া বলেছেন:
ডিং
লেখক বলেছেন: ডং
রাঙা মীয়া বলেছেন:
প্রান্জল ভাষায় ,কবি ও কবিতার অসাধারণ এক বিশ্লেষন ।আপনার পোস্টের শেষের বাক্যটির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত---- ''জীবনে অনেক কবিতা পড়েছি - মৃত্যু আর জীবনের এমন 'অসামান্য মূল্যায়ন' আর কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ে না।''
আপনার পোস্টগুলো প্রথম থেকে আগ্রহ নিয়ে পড়বো। ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন:
আপনাকে ধন্যবাদ। পোস্টগুলো পড়ে মতামত জানালে আনন্দিত হবে।
আপনার লেখাগুলো আমার ভালো লাগে, সেকথা আপনার পোস্টে গিয়েই বলেছি। পরিচয়টা দেরিতে হলো, এই আর কী!
ভালো থাকবেন আপনিও। শুভেচ্ছা নিন।
হায়দার কািরগর বলেছেন:
আমার প্রিয় একটি কবিতা। অসংখ্যবার পড়েছি। একা হলেই একটা লাইন আমি নিয়ত আউরাই..........চমৎকার ধরা যাক দু একটা ইদুর এবার
কবিতাটির এমন চমৎকার বিশ্লেষনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
আপনার গল্পের বই টি সদ্য পড়েছি। আরেকদিন আলোচনা করবো আশা রাখি।
শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
আপনার আলোচনা শোনার জন্য অপেক্ষা করবো।
শুভেচ্ছা নিন।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
এই স্প্রিঙে চলে আসেন আমাদের এখানে - এবারকার অর্থাত ০৯-এর থিম হচ্ছে স্কটল্যান্ড কলকাতা বুক ফেয়ারের। btw আপনার প্রেসেন্ট রেসেডেন্স কি ঢাকা?
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
মাণিকগঞ্জ ঠিক কোন প্রভেন্সে? হরিহাড্ডির ( উচ্চারণটা ঠিক হলো কি না সন্দেহটা রয়েই গ্যালো ) চর নিয়ে কোনো স্মৃতি আছে??
লেখক বলেছেন:
আমার বর্তমান বাস ঢাকাতেই। মানিকগঞ্জ আমার জন্মস্থান, দাদুবাড়ি। সেই বাড়ি এখন আর নেই, পদ্মার করাল গ্রাসে হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশে প্রভিন্স বলে কিছু নেই। আছে বিভাগ এবং জেলা। মানিকগঞ্জ একসময় ঢাকা জেলারই অংশ ছিলো। আশির দশকের মাঝামাঝি বড় জেলাগুলোকে ভেঙে ছোট ছোট জেলা গঠন করা হয়। তখন থেকে মানিকগঞ্জও আলাদা জেলা। ঢাকার কাছেই। ঢাকা থেকে ঘণ্টা দেড়েকের পথ।
'হরিহাড্ডি চর' কোনটা? নাম শুনিনি কখনো। স্মৃতি থাকার প্রশ্নও আসে না।
নিমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ। কখনো কলকাতা যাওয়া হয়নি আমার। বহু দূরের দেশ দেখে এসেছি, কিন্তু বাড়ি কাছে আরশি-নগর আর দেখা হলো না! জানি না, যাওয়া হবে কী না! গেলে নিশ্চয়ই তোমাকে জানাবো।
ভালো থেকো। শুভেচ্ছা।
হরিণ বলেছেন:
ঈদ মোবারক। অবশ্যই মোবাইল নাম্বার জানা থাকলে ঈদের দিনেই পেয়ে যেতেন। আমি ব্লগে এলে সাধারণত প্রথমেই দুইজন মানুষকে খুঁজি। একজন ফিউশন ফাইভ, অপরজন আপনি। আপনার প্রতি অনুরাগ বা ভালোবাসা যাই বলুন, সেটা সৃষ্টি হয়েছে এই তো কালের খেয়ার সেই গল্পটি পড়ার পর থেকে। যদিও অনুরাগের বয়সটা বেশি নয়, তবুও বেগটি তীব্র। ঈদ কি ঢাকায় নাকি গ্রামের বাড়িতেই। আমি করলাম গ্রামের বাড়িতে। নাড়ীর (আসলে নাড়ী নয়, নারী বা আমার মা) টানেই গ্রামে যাওয়া আবার পেটের তাগিদেই ঈদের দুদিন পর শহরে ফেরা। শরতের এতসুন্দর দিনে কাশফুল কিংবা সবুজে চেয়ে থাকা আমার গ্রাম এখন অপরূপে সেজেছে, বন্ধুদের অনেকের সাথে দেখা হলো বেশ মজা হয়েছে। পড়তে পড়তে বিরক্ত হচ্ছে বুঝি ? হঠাৎ এসব আপনাকে কেন বলছি ? তাই তো। না, বলার কারণ হলো ঈদ কিভাবে কাটিয়েছেন এ নিয়ে আপনার একটি পোস্ট চাই। অবশ্যই আজ আর বেশক্ষণ অনলাইনে থাকছি না। আপনি পোস্ট দেবেন। আমি যেকোনদিন সুযোগ বুঝে পড়ে নেব। অবশ্য আমি অপরিচিত নাম্বার থেকে মিসকল আসলে ব্যাক করি। আপনিও চাই সেই কাজটি করতে পারেন। অর্থাৎ এই নাম্বারে ০১৯১৯৯৫১৫১৩ তে একটি মিসকল দিতে পারেন। হোক না পরিচয়, কিছু কিছু জানা যাক ! অবশ্যই আপনার সাথে বয়সের ডিফারেন্স অন্তত ২০ তো হবেই। তবুও ভালোবাসা কিংবা বন্ধুত্বের কোন বয়স আছে নাকি ? একমত ?
লেখক বলেছেন:
আপনার ঈদ-অভিজ্ঞতাটা সুন্দর। গ্রাম, গ্রামের বাড়ি, গ্রামের পরিবেশ-প্রকৃতি সবই শৈশবকে মনে করিয়ে দেয়। আপনি নিজেই লিখে ফেলুন না কেন এই অভিজ্ঞতার কথাগুলো?
আমার ঈদ ভালো কাটেনি। কাটে না কখনো। আমার বাড়িঘরও নেই। ঢাকায় উদ্বাস্তু জীবন কাটে। ঈদে সবাই যখন বাড়ির দিকে ছোটে, শহর খালি হয়ে যায়, তখন আমার কেবলি মনে হতে থাকে - আমার কোনো বাড়ি নেই! এইসব লিখতে ভালো লাগে না। লেখা হবে না কখনো।
বন্ধুত্বের বয়স নেই সত্যি। কিন্তু ব্যক্তিমানুষের বয়স একটা ব্যাপার। একটা বয়সের পর মানুষের আর নতুন বন্ধুত্ব হয় না, সে তখন কেবল বন্ধু হারাতে থাকে। আপনার অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলি - আমি মনে হয় সেই রকম একটা বয়সে পৌঁছে গেছি। তবে, যে কোনো দিন হয়তো আপনার ফোনটি বেজে উঠবে, যে কোনো সময়। সেটা কবে হবে, জানি না।
ধন্যবাদ আপনাকে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য।
আমি নিজে জীবনানন্দ দাশের কবিতায় মাঝে মাঝে ডুবে যেতে ভালোবাসি- আর ভাবি এমন করে আমাদের হ্যালুসিনেট করার ক্ষমতা তিনি কোথায় পেয়েছিলেন?
ধন্যবাদ
পুনশ্চ:
যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের - মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা...... উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না।
লেখক বলেছেন:
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আমিও ভাবি, 'এমন করে হ্যালুসিনেট করার ক্ষমতা তিনি কোথায় পেয়েছিলেন!'
হরিণ বলেছেন:
সরি মোবাইল নম্বরটা ভুল টাইপ করেছি। প্রকৃতপক্ষে ০১৮১৯৯৫১৫১৩
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
এই পোস্টটা বেশ ক'বার এসে পড়ে গেছি, চুপিচুপি। কবিতাটি আমি যেবার প্রথম পড়েছি সেবারের অভিজ্ঞতা বলি তাহলে। খুব সম্ভব এসএসসির তিনমাসের লম্বা ছুটিতে আমাকে ভুতে পেল। একাধারে বঙ্কিম, শরৎ, রবিবাবুকে নিয়ে পড়লাম। গোগ্রাসে একটার পরে একটা গিলছি। মাঝে হাতে পেলাম পার্থিব। অমন ইয়াসাইজও নেমে গেলে দিনচারেকের গলাধঃকরণে! এরকম সময়ে ছুটির প্রায় শেষদিকে এসে (বই পড়তে পড়তে তখন ক্লান্ত! আমি দ্রুত পড়ি আর ধীরে চিন্তা করি বলে কয়েকটা বই দ্বিতীয়বার পড়ছি।) কোত্থেকে হাতে একটা জীবনানন্দ-সমগ্র পেলাম। তার আগে তাঁর সাথে পরিচয় পাঠ্যবই আর পুরোনো এক কপি ধূসর পাণ্ডুলিপি ছাড়া আর কিছুই ছিলো না তেমন। পড়তে গিয়ে দু'চারটে মিডিয়াম সাইজ পেরিয়ে গিয়ে পড়লাম এটাতে। একবার পড়লাম, তিন নম্বর স্তবকের পরে খেই হারিয়েছি। একটু বিব্রত হলাম নিজের কাছে। আবার পড়লাম। উটের গ্রীবা, প্যাঁচা-তে এসে আটকে গেলাম।
মনে পড়ে প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে আমি এক পৃষ্ঠা মুখের সামনে ধরে আছি। বিব্রতভাব ততক্ষণে বিস্ময়ে রূপান্তরিত। রাতে ঘুমানোর আগে আরেকবার পড়লাম। জানালার বাইরে ঝিঁঝিঁ ডাকছিলো মনে আছে। অশরীরী অনুভূতি। গল্প কবিতা মন ছুঁয়েছে অগুনতি। কিন্তু কোন পরিবেশ এত ছুঁয়েছে বলে মনে হয় না।
সেই থেকে এরকম জীবনানন্দে মেতেছি, পড়েছি। অনেক লেখা এখনও পড়া হয়নি সেভাবে, হয়তো কোনও একদিন পড়া হবে। কিন্তু এই কবিতা কতটা বোধে নাড়া দিয়েছে তা পরিমাপের সাধ্য আমার নাই। আপনি যেরকম নিরাসক্ত, নৈর্ব্যক্তিক অবস্থানে দাঁড়াতে পারলেন সেটা আমার পক্ষে অসম্ভব। সেখানেই আপনার মুন্সিয়ানা। শামীম আর আপনার যৌথ মন্তব্যে এই পোস্টটি একটা খুব উল্লেখযোগ্য কাজ বলে মনে করি।
অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
এই যে অভিজ্ঞতার কথাটি লিখলেন আর তার অসম্ভব সুন্দর প্রকাশ ঘটালেন এই পোস্টে এসে, সেটিই তো নতুন একটা পোস্ট হতে পারে। আরো দু-চার লাইন যোগ করে লিখে ফেলুন। হলেনই না হয় একটু আবেগপ্রবণ, 'নিরাসক্ত, নৈর্ব্যক্তিক অবস্থানে' দাঁড়াতেই হবে এমন তো কোনো কথা নেই। বিষয় যখন কবিতা, তা-ও জীবনানন্দের কবিতা, তখন আবেগ এসে পড়াটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। আমারও আসে, সামলাবার চেষ্টা করি, সবসময় যে পারি তা নয় কিন্তু। মুন্সিয়ানা আপনারও আছে, যথেষ্টই, সেটা আপনার একাধিক পোস্টেই প্রমাণ রেখেছেন।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
মেহবুবা বলেছেন:
আপনার বিশ্লেষন ক্ষমতা দেখে মনে হল বাংলার ছাত্র ,জানিনা ;তবে বিশ্লেষন চমৎকার হয়েছে ।ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
নারে ভাই, আমি বাংলার ছাত্র নই, ফিজিক্সের ছাত্র (ছিলাম)! আপনি?
পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ অনেক।
হরিণ বলেছেন:
এত হতাশ হচ্ছেন কেন ? কখনেই কি এই হতাশার কারণ খুঁজে দেখেছেন ? কি কি কারণ মানুষকে এত বেশি হতাশ করে বলুন তো ? হতাশার সাথে আমার সম্পর্কটা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি কিন্তু তার প্রকাশের ধরনটা হলো, আমি হতাশার সবকিছু ভুলে গিয়ে কেবল হাসতে থাকি, হোক সেটা কৃত্রিম কিংবা ফরমালিটির কিন্তু এর মাধ্যমেই আমি লুকিয়ে রাখি সবটুকু হতাশা। এত হতাশ না হয়ে শুধু একটি দিনের জন্য সুখী হওয়ার চেষ্টা করুন, দেখবেন ভালোই কাটছে দিনটি। এভাবে প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত। আমার বয়সের কথাটাই বলি, আমার বয়স মাত্র ২২ আগামী নভেম্বরে ২৩এ পা দেবো। এই ছোট বয়সে আমার প্রাপ্তির ঝুলিটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে, উপচে পড়ছে হয়তোবা তবুও আমি যাদের সাথে হেসেখেলে দিনকাটাচ্ছি তাদের প্রাপ্তিগুলো আমার চেয়ে অনেক বেশি (তাদের বয়সের অর্জন অবশ্যই)। এবং সে কারণে তাদের সাথে নিজের প্রাপ্তি মেলাতে গিয়ে বেশ হতাশ হয়ে পড়ি।ভাবি ইস! অনেক পিছিয়ে আছি, অনেক দূর যেতে হবে আমাকে কিন্তু ঠিকমতো এগুনো যাচ্ছে না হয়তো। এসব ভাবতে ভাবতে আমার কাজকর্মে জটিলতা তৈরি হয়, হতাশা ঘিরে ধরে_এ ছাড়া কোন লাভ নেই। শেষমেষ কঠিন সিদ্ধান্ত নিই, না এসব ভাববো না, যা পেয়েছি তা নিয়ে একদিনের জন্য সুখী হই, হাসির আড়ালে সমস্ত দুঃখ লুকিয়ে রাখি। সুতরাং অনেক কষ্টের পরও আমি বেশ সুখী ! অথবা সুখ শব্দটি প্রশ্নবোধক ! আপনার প্রতি আমার অনুরোধ, আপনি যা ভাবছেন যে, সেই বয়সটি পেরিয়ে গেছে আদৌ তা নয়, আপনি কাজী নজরুল ইসলামের যৌবনের গান প্রবন্ধটির আরেকবার পড়ে দেখুন। যৌবনের ধর্ম কি ? আমি হতাশ হলে সেটা বারবার পড়ি, আবার নতুন উদ্যোমে ওঠে দাঁড়াই। ভাবি আমাকে অনেক দূরে যেতে হবে। যে পাহাড়টিতে ওঠতে হবে, সেই পাহাড়ে নিচেই এখনো আমার অবস্থান, সামনে অনেক পথ। যাক অনেক কথা অপ্রাসঙ্গিকভাবে বলে ফেললাম। কম বয়সী বন্ধু হিসেবে মার্জনা করবেন আর কি ? ভালো থাকবেন। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
লেখক বলেছেন:
হা হা হা। হতাশা নয় ভাই, এর নাম উপলব্ধি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা বাড়ে, উপলব্ধি গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়, জীবন সম্বন্ধে দৃষ্টিভঙ্গি ক্রমশ বদলে যেতে থাকে। আমি সেই অভিজ্ঞতা-উপলব্ধি-দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আগের কথাগুলো বলেছি।
ভালোবেসে কথাগুলো বলেছেন, মার্জনা করার প্রশ্ন আসে কেন? ১৪/১৫ বছর পর হয়তো দেখবেন আপনার উপলব্ধির জগৎটা একইরকম ভাবে পাল্টে গেছে! ততোদিনে আমার এই কথাগুলো মনে থাকলে হয়!!
মিতুলদত্ত বলেছেন:
এটি আমার অন্যতম প্রিয় কবিতা। কী চমৎকার ব্যাখ্যা করেছেন! আপনার গদ্যের ওপর লোভ বেড়ে গেল। আপনার গল্পের সাইটটা সময় নিয়ে পড়ে ফেলব খুব শিগ্গিরি।
আমার বিজয়ার শুভেচ্ছা নেবেন।
লেখক বলেছেন:
আপনাকে আমার ব্লগে পেয়ে ভালো লাগলো মিতুল। ধন্যবাদ।
আমার গল্প তো অনেক। এত পড়ার সময় হবে? তারচেয়ে বরং একটা লিংক দিই, সময় পেলে গল্পগুলো পড়ে নেবেন। খুব খুশি হবো।
http://www.amkamalbd.com/ghorvorti.html
আপনাকেও ঈদ ও বিজয়ার শুভ্ছো।
অ রণ্য বলেছেন:
আপনার এই লেখাটি পড়লাম আর অন্যকনো আপনার নিজেরি লেখা লাইনগুলো পড়ে আনমনে হাসলাম(যদিও আমি কবিতা কম বুঝি বলে, এ নিয়ে বেশি কথা বলার দুঃসাহস দেখাই না!)
লেখক বলেছেন: হা হা হা। আপনি তো জটিল লোক ভাই! এই দুটো আপনি মেলাতে গেছেন কেন? ![]()
কবিদেরকে আমি এই কথা বলি এবং মজার মজার প্রতিক্রিয়া পাই। আপনি যে মন্তব্যের কথা বলেছেন, ওই পোস্টের কবি অবশ্য আমার কথাটিকে সিরিয়াসলি নেননি, আমার এই পোস্টে তার মন্তব্যও আছে। তিনি জানেন, কথাটা আমি কেন বলেছি! কিন্তু অন্য একজন কবিকে আমি বলেছিলাম - আমি কবিতার ব্যাপারে গণ্ডমুর্খ, আমার মন্তব্যে কিছু মনে করবেন না! তিনি উত্তর দিলেন : আপনি তো গদ্য লেখেন, কবিতার ব্যাপারে গণণ্ডমুর্খ হলেও অসুবিধা নেই!
বোঝেন অবস্থা। জানতাম, কোনো না কোনোদিন কেউ না কেউ আপনার এই প্রশ্নটি করবে। অবশেষে আপনিই করলেন! ভীষণ মজা পেয়েছি ভাই। ধরা পড়েও ভালো লাগছে। ![]()
রাশেদ বলেছেন:
ভালো লাগছে খুব। কবিতা সম্পর্কে আগ্রহ আমার এই ব্লগ থেকেই আসছে। অনেক কবিতা পড়ে ফেলি। অনেক বিশ্লেষনও পড়ি।তবে এই লেখাটা খুব ভাল্লাগছে। ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
রাশেদ বলেছেন:
হেডিংটা এতো চমৎকার। যাই দেখি মনে হয় নিজে কেনো পারি না এইরকম করে ভাবতে।
লেখক বলেছেন: আমারও ওরকম হয়! সুন্দর কোনোকিছু দেখলেই মনে হয়, আমি কেন পারি না!
আফরোজা সোমা বলেছেন:
খুব ভালো লাগলো কামাল ভাই। মন ভরে গেলো। মন ভরে যাবার মতন লেখাতো এমনিতেই কম পড়ে চোখে... তার উপর এই ব্লগে!মেঘ না চাইতেই জলের মত লাগলো আমার।
আপনার পোস্টটা পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে ভুলেই যাচ্ছিলাম...ওটা আরেকটা কবিতা নয়...
ভালো থাকুন। আর এমন দোল দিয়ে যান চুপি চুপি....
লেখক বলেছেন: এতদিন পর তাহলে এলেন এখানে বেড়াতে! তা-ও ভালো যে, দেরিতে হলেও এসেছেন!
প্রশংসায় খুশি হয়েছি, এই লাইনগুলো লেখার সময়ও দুই ঠোঁটে হাসির অস্তিত্ব টের পাচ্ছি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
অ রণ্য বলেছেন:
হা হানা আমিও মজা করেছি
আপনার গল্পগুরো পড়ার জন্য সময়-ই বের করতে পারছিনা
আপনার সাইটটা সত্যিই খুব সুন্দর
ওকানে ঢু মারব
ভাল থাকুন
লেখক বলেছেন: আপনার মজা করাটা আমি উপভোগও করেছি। ![]()
গল্প পড়ার সময় পেলে প্রতিক্রিয়া জানাবেন আশা করি।

জীবনানন্দ আমার অতি প্রিয় কবি....আর কবিতাটি আমার বহুল পঠিত কবিতাটির একটি।
দারুন বিশ্লেষন করেছেন। আমার পড়াশুনার সীমাবদ্ধতা সত্বেও বলছি, কবিতাটির এমন উতকৃষ্ট বিশ্লেষন আমি আগে পড়িনি। দারুন কাজ

সামহোয়ারে অনুপস্হিতিতে আরো কত ভাল কিছু যে মিস করেছি....
লেখক বলেছেন: আমিও এলাম, আপনিও গেলেন - এইরকম ব্যাপার আর কী! যাহোক, ফিরে এসেছেন বলে আনন্দিত। প্রশংসা করেছেন সেজন্য আরো আনন্দিত। ![]()
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
এটাই জীবনের বেদ, এটাই জীবনের বাইবেল।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, এটাই জীবনের বেদ, এটাই জীবনের বাইবেল। পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ সাঈফ শেরিফ।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
অনেকদিন পর এসে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেলাম।
লেখক বলেছেন: আমিও অকুণ্ঠচিত্তে ধন্যবাদ জানালাম।
রোজনামচা বলেছেন:
''আমিও তোমার মতো বুড়ো হব - বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেবকালীদহে বেনো জলে পার;''
প্রিয়তে ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
নারীর হৃদয় - প্রেম - শিশু - গৃহ - নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয় -
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
ক্লান্ত - ক্লান্ত করে;
~~~~~~~~~~~~
পোষ্ট খানা পড়ে -- সেই বিস্ময় বোধ করলাম ।
প্রিয়তে ।
মুসাফির... বলেছেন:
জীবনানন্দের কবিতা আমারও ভাল লাগে: অসাধারন অনুভুতির জাগরন আনে-যেমন: তারপর
পৃথিবীকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
তারপর হব ইতিহাস।
অথবা - সাবাস বাংলাদেশ
লেখককে সবিনয়ে বলছি: আপনিতো ভাই কবিতার সুন্দর বিশ্লেষণ করেন। এক সময় এই কটা লাইনের কবিতাটি লিখে ছিলাম। আমি ভাই প্রতিষ্ঠিত কোন কবি নই। বা কোন লেখকও নই-নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে আগ্রহ-তাই আপনার সমালোচনা চাইছি।
কবিতাটি এই লিন্কে:
সুবিদ্ বলেছেন:
এতদিন পর কেন চোখে পড়লো ভেবে পাচ্ছিনা......তবু স্বান্ত্বনা পড়েছে তো অবশেষে.......প্রিয় একটা কবিতার এমন একটা বিশ্লেষন প্রিয়তে না নিয়ে উপায় আছে.....
স্যার, জীবনানন্দ দাশ কি জানেন......উনি আমাদের প্রায় সবার মধ্যেই একেকজন জীবনানন্দ দাশের জন্ম দিয়ে গেছেন.......অবশ্যই তারা তাঁর মতোন করে ভাবতেই পারেনা, লেখা তো দূর অস্ত্.......উনি আমাদের শুধু মুগ্ধই করে যাচ্ছেন........
ধন্যবাদের বড় একটা অংশ শামীম ভাইয়ের জন্যও.......
শুভেচ্ছা
ফাহাদ চৌধুরী বলেছেন:
অনেক অনেক পছন্দের একটি কবিতা!
চমৎকার বিশ্লেশন!
আমার নিজের প্রিয় পোষ্টে অ্যাড কর্লাম!
আলফা-কণা বলেছেন:
hatey onek guli jinisher deadline......but tarpor o apnar lekhata porlam r tate mone holo, apnar ay lekhata manush k kobita mukhi korbe,,,,,,ami jokjon choto cilam, tokhon amar boro bhy ekta gaan shunto , ganer shironaam ta amon " boi melar sai bikele, bonolota shen hatey tumi k cile" ami tokhon onek choto, I mean grad-4 kingba 3, then ami ami bhy k jigesh korlam bhy, ay bonolota sen mane ki, o tokon bollo ekjoner naam,,,,,,gaan ta ami oi boyoshe kichu e bujhi nai ,,,,,,,karon oi boyoshe ashole jiboner onek kichu dekha jay, feel kora jay,,,,but konta ki jinish kenu ki hoy aysob somvoboto vasay rup deya jay na,,,,,,,,jy houk, amar moddey oi boyoshe e gaan ta kenu jani valo lagtu,,,,arekta bapar holo ami jehetu choto cilam so, amar boro bhy r boro bon j gaaan bajatu, j tv program dekhtu seta niye e limited thakte hoto, karon ,.ami tu choto tokhon,,,,,,anyway, jeta bolte chylam,,,,pore johon aste aste boro holam then janlam j bonolotasen ekta kobitar naam,,,,amader pattho cilo ekta kobita "rupushi bangla" kotobar j ay kobita ta porechi ta bolte parbo na, jotobar porechi kenu jani totobar e mon kharap hoyeche,,,tokhon hoyto kobitar menaing ta deeply bujhini,,,but feel korechi kobitar arti......jy houk ami jokhon grade-IX student, then, ekdin dekhlam amader schooler pashe ekta library te ( library bolte book house cum stationary shop k bujalam) bonolota sen naam e ekta boi dekhlam, sathe sathe e kenu jani boitar uopr amar nojor ar sorlo na,,,,ami tiffin er taka diye boita kinlam.......basay niye porlam,,,,khub ekta bujhlam na,,,but kemon jani ekta feelings amake ghire rakhlo......sai bochor ta cilo 1996 er january,,,,boita aju amar book self a acey,,,,,,,bonolota naam ta shunle e amar choto belar sai gaan tar kotha mone pore jeta amar boro bhy shunto, amar sai chotobelar somoyta chokhe vese uthe,,,,,ar schooler pasher dokan theke boita kenar age amar agrohota r abeg ta amar mone pore,,,,,,,,aju ami majhe moddey amar sai kobitar boita nerechere khule porar try kori,,,,onuvuti akhono ager moto e , ektuko o change hoy ni,,,ashchorjo hoye jai manusher abeg-anuvuitir dhoron dekhe.....jy houk,,,tarpor theke jibonanondo dasher onek kobitar boi ami kinechi,,,,porechi,,,,ar khujechi ki bolte cheyecehn seta,,,,beshirvag somoy e sesob kobitar vitorer vab ta dhorte pari ni, but porar somoy r porar por na bujhleo ekta chapa-kannaa misritu anondo onuvob korchi..........apnake oses dhonnobad, amar prio kobir kobita desection korar jonno,,,,,next a aro likhben,,,,,
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















সম্পূর্ণ কবিতাটি একবার একসঙ্গে পড়ে নেয়া যাক :
শোনা গেলো লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে - ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হলো তার সাধ।
বধূ শুয়ে ছিলো পাশে - শিশুটিও ছিলো;
প্রেম ছিলো, আশা ছিলো - জোৎস্নায়, - তবু সে দেখিল
কোন ভূত? ঘুম কেন ভেঙে গেলো তার?
অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল - লাশকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার।
এই ঘুম চেয়েছিলো বুঝি !
রক্তফেনামাখা মুখে মড়কের ইঁদুরের মতো ঘাড় গুঁজি
আঁধার ঘুঁজির বুকে ঘুমায় এবার;
কোনোদিন জাগিবে না আর।
'কোনোদিন জাগিবে না আর
জানিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম - অবিরাম ভার
সহিবে না আর - '
এই কথা বলেছিলো তারে
চাঁদ ডুবে চলে গেলে - অদ্ভুত আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে
উটের গ্রীবার মতো কোনো-এক নিস্তব্ধতা এসে।
তবুও তো প্যাঁচা জাগে;
গলিত স্থবির ব্যাং আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে
আরেকটি প্রভাতের ইশারায় - অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে।
টের পাই যূথচারী আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশে
চারিদিকে মশারির ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা;
মশা তার অন্ধকার সঙ্ঘারামে জেগে থেকে জীবনের স্রোত ভালোবাসে।
রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রৌদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি;
সোনালি রোদের ঢেউয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কতো দেখিয়াছি।
ঘনিষ্ঠ আকাশ যেন - যেন কোন বিকীর্ণ জীবন
অধিকার করে আছে ইহাদের মন;
দূরন্ত শিশুর হাতে ফড়িঙের ঘন শিহরণ
মরণের সাথে লড়িয়াছে;
চাঁদ ডুবে গেলে পর প্রধান আঁধারে তুমি অশ্বথের কাছে
এক গাছা দড়ি হাতে গিয়েছিলে তবু একা - একা;
যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের - মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা
এই জেনে।
অশ্বথের শাখা
করেনি কি প্রতিবাদ? জোনাকির ভিড় এসে সোনালি ফুলের স্নিগ্ধ ঝাঁকে
করেনি কি মাখামাখি?
থুরথুরে অন্ধ প্যাঁচা এসে
বলেনি কি : 'বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনো জলে ভেসে?
চমৎকার! -
ধরা যাক দু -একটা ইঁদুর এবার!'
জানায়নি প্যাঁচা এসে এ তুমুল গাঢ় সমাচার?
জীবনের এই স্বাদ - সুপক্ব যবের ঘ্রাণ হেমন্তের বিকেলের -
তোমার অসহ্য বোধ হলো;
মর্গে কি হৃদয় জুড়োলো
মর্গে - গুমোটে
থ্যাঁতা ইঁদুরের মতো রক্তমাখা ঠোঁটে!
শোনো
তবু এ মৃতের গল্প; - কোনো
নারীর প্রণয়ে ব্যার্থ হয় নাই;
বিবাহিত জীবনের সাধ
কোথাও রাখে নি কোন খাদ,
সময়ের উর্ধ্বতনে উঠে এসে বধূ
মধু - আর মননের মধু
দিয়েছে জানিতে;
হাড়হাভাতের গ্লানি বেদনার শীতে
এ জীবন কোনোদিন কেঁপে ওঠে নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হয়ে শুয়ে আছে টেবিলের ' পরে।
জানি - তবু জানি
নারীর হৃদয় - প্রেম - শিশু - গৃহ - নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয় -
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
ক্লান্ত - ক্লান্ত করে;
লাশকাটা ঘরে
সেই ক্লান্তি নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হয়ে শুয়ে আছে টেবিলের 'পরে।
তবু রোজ রাতে আমি চেয়ে দেখি, আহা,
থুরথুরে অন্ধ পেঁচা অশ্বথের ডালে বসে এসে,
চোখ পালটায়ে কয় : 'বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনো জলে ভেসে?
চমৎকার !
ধরা যাক দু - একটা ইঁদুর এবার -'
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজও চমৎকার?
আমিও তোমার মতো বুড়ো হব - বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব
কালীদহে বেনো জলে পার;
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার।