আমার প্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশের মানুষের মন

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৩০

শেয়ারঃ
0 0 0

একজন মানুষ যতক্ষণ জেগে থাকে ততক্ষণই কিছু-না-কিছু চিন্তা করে, কিছু-না-কিছু ভাবে, এক মুহূর্তও তার ভাবনাহীন কাটে না, কিন্তু এতসব ভাবনা-চিন্তার কতটুকুই-বা সে প্রকাশ করে? বলাবহুল্য, সামান্যই। একজন মানুষকে তার অধিকাংশ ভাবনা-চিন্তা বুকের মধ্যে জমা করে কবরে যেতে হয়। এই প্রায়-অপ্রকাশিত মানুষকে কী কেউ কোনোদিন পুরোপুরি বা আধাআধিও বোঝে? আর সেক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি তো অনিবার্যভাবেই আসে যে, এক জীবনে একজন মানুষের মনই যেখানে ঠিকমতো বুঝে ওঠা যায় না, সেখানে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মন কীভাবে বোঝা সম্ভব? এক অর্থে সম্ভব নয়। আবার অন্য অর্থে সম্ভব, যদি আমরা এই জনগোষ্ঠীর আচরণসমূহের একটি গড় করে নেই। অবশ্য এর মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠীর কতগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা গেলেও কখনোই কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। মনে রাখতে হয়, আমরা যা কিছু বলছি তা ওই গড় ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই, ফলে, যা বলা হচ্ছে তার ব্যতিক্রম রয়ে যাবার সম্ভাবনাও রয়েছে, এবং সেই ব্যতিক্রমকেও খুব একটা হেলাফেলা করার সুযোগ নেই।

বাঙালি সম্বন্ধে প্রচলিত এবং বহুলভাবে প্রচারিত কিছু গড় ধারণাগুলোর দিকে তাকালে ইতিবাচক কিছু পাবার সম্ভাবনা কম। ধারণাগুলোর কয়েকটি এরকম: বাঙালিরা - অলস ও কর্মবিমুখ, পরশ্রীকাতর, চতুুর ও ধান্ধাবাজ, ঈর্ষাপরায়ন ও হিংসুক - অন্যের ভালো তারা দেখতে পারে না, হুজুগে, ভীরু, স্বার্থপর ইত্যাদি। বোঝাই যাচ্ছে, এদেশের বেশিরভাগ মানুষই নিজ জাতি সম্বন্ধে খুব একটা ভালো ধারণা পোষণ করে না। আমি বলছি না যে, বাঙালি এর কোনোটাই নয়, তবে এ কথা অবশ্যই বলা যায় যে, এগুলোই বাঙালির একমাত্র পরিচয়চিহ্ন নয়। বরং এই ধরনের কথাবার্তার মধ্যে অতি সরলীকরণের প্রবণতা দেখা যায়। যিনি বলেন বাঙালি অলস ও কর্মবিমুখ, তিনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, যে রাষ্ট্র এই মানুষগুলোর বেঁচে থাকার নূন্যতম চাহিদাটুকু পূরণ করার গরজ দেখায়নি, সেই রাষ্ট্রে তারা কীভাবে বেঁচে আছে? জনসংখ্যার ভারে জর্জরিত এই দেশে কাজের চেয়ে কাজের লোক বেশি, ফলে প্রতিযোগিতা বেশি, সেই পরিস্থিতিতেও তো মানুষ নিজের কাজটি ঠিকই খুঁজে নিচ্ছে। এদেশে যখন ফসলের বাম্পার ফলন হয়, তখন আমাদের বাকপটু নেতানেত্রীরা এর কৃতিত্ব নেয়ার জন্য মাঠে-ময়দানে, রেডিও-টিভিতে, সংবাদপত্রে বক্তৃতার তুবড়ি ছোটান। এরা অসৎ এবং বদমাশ - কারণ এই বাম্পার ফলনে তাদের আদৌ কোনো কৃতিত্ব নেই, তারা কৃষককে সার দেয়নি, পানি সেচের জন্য যন্ত্রপাতি দেয়নি, চাষের জন্য লাঙল দেয়নি; উল্টো সার চাইতে গেলে তাদেরকে গুলি করে মেরে ফেলার উদাহরণ আছে, তাহলে এর জন্য তারা কৃতিত্ব দাবি করেন কোন সাহসে? প্রকৃতপক্ষে এর পেছনে যা আছে তা হলো - আমাদের কৃষকদের অপরিমেয় প্রাণশক্তি। যাবতীয় প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে হলেও তারা নিজেদের কাজটা মন দিয়েই করে। এটা দেখেও কেউ কেউ তাদেরকে অলস বলে গাল দেন কেন? তার কারণ দুটো। প্রথমটি হতে পারে এই যে, তারা কৃষকদের এই প্রাণশক্তির খোঁজ রাখেন না। দ্বিতীয়টি হলো বোঝার ভুল। আমাদের মানুষগুলোকে অলস মনে হয় কারণ তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত বৈষয়িক উদাসীনতা আছে, আর সেজন্যই তারা কখনো প্রয়োজনের চেয়ে বেশিকিছুর জন্য ব্যাকুল হয় না। অল্পতেই খুশি এই মানুষগুলোর মধ্যে তাই বৈষয়িক কারণে সমগ্র জীবন ব্যয় করে দেবার প্রবণতা নেই। বরং নূন্যতম প্রয়োজন মিটে গেলে বাড়তি আয়ের ধান্ধা করার বদলে আড্ডা দিয়ে বা গান শুনে সময় কাটিয়ে জীবনটাকে তারা আরেকটু বেশি উপভোগ্য করে তুলতে চায়। বৈষয়িক লোকজনের কাছে এটা তো অলসতা হিসেবে বিবেচিত হতেই পারে।

যাহোক, আমরা বরং প্রচলিত ধারণাগুলোর বাইরে গিয়ে বাঙালির আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের খোঁজখবর করতে পারি। আমার নিজের বিবেচনায় বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আছে - উদাসীনতা ও নিস্পৃহতা, নিরাসক্তি, রহস্যপ্রিয়তা, ভাববাদী দার্শনিকতা ও আধ্যাতি্নকতা ইত্যাদি। আমার সঙ্গে হয়তো আপনারা অনেকেই একমত হবেন বা হবেন না, অর্থাৎ এসব বিষয় হয়তো আপনারাও ভেবেছেন, তবু আমি আমার এই পর্যবেক্ষণগুলোর ব্যাখ্যা দিতে চাই।

প্রথমেই উদাসীনতা, নিস্পৃহতা ও নিরাসক্তির প্রসঙ্গে আসা যাক। বাংলাদেশের মানুষ তার পরিপাশ্বর্ের ঘটনাপ্রবাহের ব্যাপারে উদাসীন, অন্তত আপাতদৃষ্টিতে সেরকমই মনে হয়। চারপাশে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে, সে-সব তারা এমন এক গভীর উদাসীনতা ও নিস্পৃহতা নিয়ে অবলোকন করে যে, মনে হয়, এসব তাদের জীবনে নয় - অন্য কারো জীবনে ঘটছে, এবং সেই অন্য কারো সঙ্গে তাদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। শুধু যে বহমান ঘটনাসমূহের সঙ্গেই তারা সংশ্লিষ্টতাহীন তা নয়, একইসঙ্গে তারা ধারণ করে এক অদ্ভুত বৈষয়িক উদাসীনতা। আমাদের দেশের মানুষ অল্পেই তুষ্ট। মাথা গোঁজার ছোট্ট একটা ঠাঁই আর পেটে সামান্য খাবার থাকলেই তারা রীতিমতো কবি হয়ে ওঠে। হয়ে ওঠে ভীষণ ভাববাদী আর দার্শনিক। বৈষয়িক উদাসীনতার জন্যই এ জাতির কোনো বৈষয়িক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নেই - তারা কোথাও পৌঁছাতে চায় না, বিশেষ কিছু পেতেও চায় না। কয়েকবছর আগে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সারা পৃথিবীব্যাপি - 'কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে সুখী?' - এরকম একটি বিষয়ে তাদের নির্ধারিত প্রশ্নমালার ভিত্তিতে জরিপ চালিয়ে 'বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে সুখী' - এই অদ্ভুত ফলাফল প্রকাশ করেছিলো। এই ফলাফল নিঃসন্দেহে অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য, এবং প্রায় ব্যাখ্যার অতীত। যে দেশটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দারিদ্র, ক্ষুধা, হাহাকার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদেশী শাসন ও শোষণে নিস্পেষিত ও পীড়িত সেই দেশের মানুষ সবচেয়ে সুখী হয় কী করে? যতদূর মনে পড়ে এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রশ্নমালা ছিলো মূলত বৈষয়িক তৃপ্তি ও সন্তুষ্টি নিয়ে। ফলে তাদের গবেষণায় এরকম ফলাফল বেরিয়ে আসাটা খুব বেশি অস্বাভাবিক নয়, কারণ আমাদের মানুষগুলো যে অল্পেই তৃপ্ত হয়ে আছে!

এই বৈষয়িক উদাসীনতার বিষয়টি আমাদের জন্য একইসঙ্গে ইতিবাচক ও নেতিবাচক। নেতিবাচক এই অর্থে যে, একজন মানুষের যদি কোনো বৈষয়িক লক্ষ্য না থাকে তাহলে সে কোথাও পৌঁছাতে পারে না। অল্পে তুষ্ট হলে সে তার প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে থাকে উদাসীন। কিন্তু বৈষয়িক উদাসীনতার একটি ইতিবাচক দিকও আছে। অতিমাত্রায় বৈষয়িক মানুষ আসলে একজন যান্ত্রিক মানুষ। বৈষয়িক সাফল্যের সিঁড়ি খুব সরু, খাড়া, আর পতনোন্মুখ। এই সিঁড়ি বেয়ে পাশাপাশি দু-জন উঠে যেতে পারে না, উঠতে হয় একজনকেই, আর তাই তারা হয়ে ওঠে পরস্পরের প্রতিযোগী - সহযোগী নয়। এখানে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ নেই, যেতে হয় একা একা, তা-ও নিষ্ঠুরভাবে। আর এতে করে সমস্ত মানবিক আবেগ অনুভূতিকে গলা টিপে মেরে ফেলতে হয়। হয়ে উঠতে হয় মানবিক অনুভূতিহীন এক যান্ত্রিক পদার্থ। হয়ে যেতে হয় নিঃসঙ্গ, আত্নকেন্দ্রিক, স্বার্থপর। আজকের দিনে পাশ্চাত্য মানুষের যে সমস্যা, তা আসলে এই-ই। আমাদের দেশের মানুষ যে যান্ত্রিক হয়ে ওঠেনি, এখনও যে এখানে মানুষ পরস্পরের জন্য ভাবে, কাঁদে, অন্যের দুঃখে নিজেই দুঃখিত হয়ে পড়ে (হয়তো সে-সবের প্রকাশ সহসা করে না) - তার কারণ তারা বৈষয়িক নয়। জীবন তো আসলে শুধু বৈষয়িক সাফল্য পাবার জন্যই নয়, পরস্পরের প্রতি যদি সহমর্মিতাই না থাকলো, যদি ভালোবাসার বোধটাই হারিয়ে গেলো, যদি নিঃসঙ্গতা আর আত্নকেন্দ্রিকতাই জীবনের মোক্ষ হয়ে উঠলো তাহলে সেই জীবনের আর মূল্য রইলো কোথায়?

এসবকিছুর বাইরে এ জাতির মধ্যে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে তা হলো - আধ্যাতি্নকতা ও ভাববাদিতা। এদেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়, যারা মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত আছেন, তাদের একটি বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে, গ্রামের মানুষের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে তাদের দারিদ্র। তারা যে ঠিকমতো খেতে পারছে না, পরতে পারছে না, তাদের থাকার জন্য ভালো একটি ঘর নেই, অসুখ হলে চিকিৎসার সুযোগ নেই - এগুলোই হচ্ছে তাদের জীবনের একমাত্র সমস্যা, বাস্তবতা, সংকট। এসব সংকট অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু এগুলো তাদের জীবনের একমাত্র সংকট নয়। গ্রামের অনেক মানুষের মধ্যেই এমন কিছু দার্শনিক সংকট ও প্রশ্ন আছে যা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিকের প্রশ্ন ও সংকটের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা জীবন ও পৃথিবী নিয়ে, স্রষ্টা ও সৃষ্টির ধারণা নিয়ে, বিশ্বজগৎ সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন তোলে যে, হতবাক হয়ে যেতে হয়। এ বিষয়ে আমি একটি উদাহরণ দিতে চাই।

আমাদের এলাকায় খুব নদী ভাঙে। সব হারিয়ে মানুষ খুব নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তো এমনই একটি নদীভাঙা পরিবার আমাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলো। যাঁর কথা আপনাদেরকে বলতে চাই, তাঁকে আমরা ডাকতাম মনসুর কাকা বলে। আমার বাবার বয়সী তিনি, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে নাকি স্কুলে কিছুদিন পড়েছিলেনও, কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মেই বেশিদূর এগোয়নি সেই পড়াশোনা। মনসুর কাকা ছিলেন এক অদ্ভুত মানুষ। প্রায় সারারাত জেগে থাকতেন তিনি, আর প্রায়ই তাঁকে কাঁদতে দেখতাম। প্রথম প্রথম ধারণা করেছিলাম যে, তিনি বাড়ি ভাঙার শোকে কাঁদছেন। পদ্মার ভাঙনের ফলে তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। তাছাড়াও তাঁর স্ত্রী তাঁর আগেই মারা গিয়েছিলেন, তাঁর কোনো ছেলে ছিলো না, মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো বেশ দূরে দূরে, ফলে আক্ষরিক অর্থেই তিনি ছিলেন খুব নিঃসঙ্গ মানুষ। আমি ভেবেছিলাম এই বুড়ো বয়সে বাড়ি ভাঙার মত ভয়াবহ বিপর্যয়ের ধাক্কা, আশ্রয়হীন হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয়া, তাঁর আগেই তাঁর স্ত্রীর বিদায় নেয়া কিংবা এই ভয়াবহ নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা তিনি একসঙ্গে সামলাতে পারছেন না। এসবই তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যা, নাগরিক কার্টেসি ও ম্যানার অনুসারে তাঁকে এসব নিয়ে তো আর কিছু জিজ্ঞেস করা যায় না, কিন্তু ঐ প্রত্যন্ত গ্রামে নাগরিক ম্যানারের যন্ত্রণাদায়ক উপস্থিতি না থাকায় তাঁকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম - 'আপনি এত কাঁদেন কেন মনসুর কাকা?' তিনি উত্তর দিলেন - 'তুমি বুঝবা না বাবা।' আমার তখন না বোঝার বয়স নয়, কলেজে পড়ি, তাঁর এই ধরনের সমস্যা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবো, তাই আবার জিজ্ঞেস করলাম। এভাবে কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পর তিনি যা বললেন আমি তার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না, কিংবা বলা যায় আমি বিষয়টি সত্যি বুঝলাম না।

তিনি বললেন - ক্যান যে জন্মাইছিলাম সেইটা বুঝবার পারি না বইলা কান্দি।

এ কথার মানে কী? আমি ভেবেছিলাম, এই দুঃসহ জীবন নিয়ে খুব বেশি বিতৃষ্ণ হয়েই তিনি কথাটা বলেছেন। কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম ছিলো না। মানে বুঝিয়ে বলতে বললে তিনি বলেছিলেন যে, তাঁর সবসময়ই মনে হয় - আল্লাহ যে তাঁকে এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, সেটা একেবারে খামোখা নয়। তাঁর নিশ্চয়ই কিছু করার কথা ছিলো, কিন্তু কী যে করার কথা ছিলো সেটা বুঝতেই পারেন নি সারা জীবনে, তাই তিনি কাঁদেন। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে আমূল চমকে দিয়েছিলো। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁকে আমি অনর্গল প্রশ্ন করে গেছি, এবং তাঁর ভাবনা-চিন্তায় বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছি। তাঁর ভাষ্যমতে - জীবনের অন্য কোনো কিছু নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই, আক্ষেপ ঐ একটি বিষয় নিয়েই - তাঁর জানাই হলো না কেন তাঁকে এই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিলো, তাঁর করণীয় কাজটি কী ছিলো (এমনকি বাড়িভাঙা, স্ত্রীর মৃত্যু কিংবা একটি পুত্র সন্তান না হওয়ার মতো বিষয়গুলোও তিনি বিচার করতেন পুরোপুরি ভাববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে, মনে করতেন - করণীয় কাজটি করতে পারেন নি বলেই আল্লাহ তাঁকে শাস্তি দেবার জন্য এইসব ঘটনা ঘটিয়েছেন)!

জীবনের সমস্ত বঞ্চনা, অপ্রাপ্তি, হাহাকার, দুঃখ, কষ্ট, অনেক কিছু হারিয়ে ফেলার বেদনা, নিঃসঙ্গতা ও অসহায়ত্ব এসবকিছু ভুলে গিয়ে তিনি যখন কেবল তাঁর জন্মের কার্যকারণ খুঁজে না পাওয়ার দুঃখে কাঁদেন, তখন ওই কান্না কী মহৎ হয়ে ওঠে, ভেবে দেখুন প্রিয় পাঠক। ভেবে দেখুন কী চমৎকার, অসামান্য একটি দর্শন আমাদের গ্রামের একজন 'সাধারণ' মানুষ ধারণ করেন। আমি একটি মাত্র উদাহরণ দিলাম, এমন উদাহরণ আমরা সবাই দু-চারটে করে দিতে পারবো, অন্তত গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলোর সঙ্গে যাদের পরিচয় আছে তারা এই বিষয়টিকে নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারেন।

এই মানুষগুলোর মন আমরা - সমাজের শিক্ষিত সুবিধাভোগী শ্রেণী, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভাগ্য-নিয়ন্তারা - কোনোদিনই বুঝতে চাইনি। বুঝতে পারলে এ দেশের চেহারাটা হয়তো অন্যরকম হতো।

[এই লেখাটি আমার 'বাংলাদেশের মানুষের মন' প্রবন্ধের অতি সংক্ষেপিত রূপ।]

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাংলাদেশমানুষের মনদর্শন ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৩৪
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
এই লেখায় আমি বাংলাদেশের মানুষের নিরাসক্তি, নিস্পৃহতা এবং উদাসীনতার কথা বলেছি। বলেছি মানুষের নিস্পৃহ অবলোকনের বা শুধুমাত্র দেখে যাওয়ার কথা। এ প্রসঙ্গে কবি শামসুর রাহমানের একটা কথা মনে পড়ছে। আমার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে - 'জীবনের কি কোনো অর্থ আছে ? থাকলে সেটা কি?' - এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন - 'জীবনের কোনো অর্থ নেই, আমরা অর্থ আরোপ করি। জীবনকে তুমি একটা ঘর হিসেবে কল্পনা করে নিতে পারো, যার চারটি দেয়ালই শূন্য। এই শূন্য দেয়ালগুলো নিয়ে আমরা কী করতে পারি? সুন্দর মনোহর সব ছবি এঁকে শূন্য দেয়ালগুলোকে ভরিয়ে তুলতে পারি, অথবা প্রশ্রাব করে, থুথু দিয়ে দেয়ালগুলোকে নোংরা করে তুলতে পারি, কিংবা কিছুই না করে স্রেফ শূন্য দেয়ালগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারি।'

আমার মনে হয় - বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ঐ তৃতীয় দলের সদস্য, অর্থাৎ দেখে দেখেই কাটিয়ে দিচ্ছে সারাটি জীবন। কোথাও যেন তাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই, কিংবা অংশগ্রহণের চেয়ে তারা যেন দর্শক হতেই বেশি পছন্দ করে। তা-ও উদ্দাম-উচ্ছ্বল-প্রাণপ্রাচুর্যপূর্ণ দর্শক নয়, বরং নিস্পৃহ, উদাসীন ও বিষণ্ন দর্শক। আর এই ধরনের দর্শকদের যা স্বভাব, সবকিছুই তারা মেনে নেয়, কিংবা নিজেকে মানিয়ে নেয় সমস্ত কিছুর সঙ্গে। যা কিছু ঘটে যাচ্ছে সে-সবের সঙ্গে সে তাই খুব কমই নিজেকে সংশ্লিষ্ট করে তোলে।

কিন্তু এই অদ্ভুত উদাসীনতা, নিরাসক্তি ও নিস্পৃহতা থাকা সত্ত্বেও একাত্তরে এই জাতি যে মুক্তিযুদ্ধে তুমুলভাবে অংশগ্রহণ করেছিলো তার কারণ কি? ওই সময় তো বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে যা ঘটেনি তা-ই ঘটেছিলো, বাঙালি একসঙ্গে সবাই মিলে একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হয়ে গিয়েছিলো - কিভাবে ব্যাখ্যা করবো বিষয়টিকে? বাঙালি তো কোনোদিনই যোদ্ধা জাতি নয়, চিরকাল সে নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চেয়েছে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সময় সবাই মিলে এমন মরনপণ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লো কেন? এ বিষয়ে পরের কোনো একটি লেখায় কথা বলার ইচ্ছে রইলো। আজ আপাতত এটুকুই থাকুক।
২. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৩৮
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: অসাধারন বিশ্লেষন পড়ে মুগ্ধ!
সোজা শোকেজে!
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:০১

লেখক বলেছেন:
ত্বরিত প্রতিক্রিয়ায় আমিও মুগ্ধ। ধন্যবাদ আপনাকে।

৩. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৪৬
বাফড়া বলেছেন: আমার তো মনে হয় দেশের মানুষের মত পরিশ্রমী মানুষ খুব কমই আছে। এই যে মানুষ রিক্সা চালায়.... কত পরিশ্রমের একটা কাজ... ভাবলেই গা শিরশির করে... অথচ এরা কি অবলীলায় রিক্সা টেনে নিয়ে যায়... এই যে মানুষটা সে কিন্তু চাইলে চুরি করে জীবনধারন করতে পারত... সুখের জীবন... কায়িক শ্রম নেই। কিন্তু সে বেছে নিল কঠি পরিশ্রমের পেশা...।

তারপর ঐ যে বাম্পার ফলনের কথা বললেন... সে তো ভাই দুঃখের কথা.... যে বছর বাম্পার ফলন সে বছর বরং তারা ফসলের দাম কম পায়...!!! আজীব না?? পরিশ্রমের কি চমতকার রিওয়ার্ড!!! ারপরও এরা পরিশ্রম করে যায়, চুরিতে নামেনা
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:১০

লেখক বলেছেন:
আপনার সঙ্গে পুরো সহমত পোষণ করছি। এ দেশের মানুষের মতো পরিশ্রমী মানুষ খুব কমই আছে।

ধন্যবাদ, লম্বা পোস্ট পড়ার জন্য।

৪. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৪৭
বাফড়া বলেছেন: মনসুর চাচার ভাববাদিতা শুইনা পুরা টাসকি।

এই লাইনে আমারো কিছু ভাববাদিতা আছে, তয় পুরা উল্টা লজিকে, উল্টা লাইনে দৌড়ায়
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:০৮

লেখক বলেছেন:
আপনার ভাববাদিতার ব্যাপারটা শোনান না কেন? উল্টা লাইনে দৌড়ালেও অসুবিধা তো নেই কিছু। শোনার অপেক্ষায় রইলাম।

৫. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৪৭
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
চমৎকার পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ ।

যথারীতি একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেলো, এই চমৎকার পোস্টটির পাঠক নেই বলে ।
এজন্য কিঞ্চিত লেখককেও দায়ী করবো, এতো দীর্ঘ পোস্ট এখানে কেউ পড়তে চায় না । এটাকে দু'পর্বে দিলে হয়তো আরো বেশীপরিমাণ পাঠককে টানা যেতো ।

ধন্যবাদ ভাইজান চমৎকার লেখাটির জন্য ।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:০৬

লেখক বলেছেন:
শুরুতেই আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাখি।

'বড় লেখার' বদনমা আমার আগে থেকেই আছি। লিখিও খুব কম। এই কম লেখা আর বড় লেখা মিলিয়ে ব্লগার-পাঠকরা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন বলেই আশা করি।

এটি আমার মূল লেখার চার ভাগের এক ভাগ। তারপরও এত বড়! প্রিন্ট মিডিয়ায় লেখালেখি করতে গিয়ে এই বদ-অভ্যাস হয়েছে। দু-পর্বে দেয়ার কথা একবার ভেবেছিলাম, কিন্তু পরে আবার মনে হলো - এতে লেখার ধারাবহিকতা বজায় থাকলেও পাঠকের পাঠের ধারাবহিকতা খানিকটা ক্ষুণ্ন হয়।

এত বড় লেখার পাঠক নেই নেই করেও আপনাদের মতো যে কজন আছেন, আমি তাতেই ধন্য।

আবারও ধন্যবাদ আপনাকে।

৬. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৫০
মনজুরুল হক বলেছেন: @আহমাদ মোস্তফা কামাল। আবার সেই কাম করছেন! একে তো গুরুত্বপূর্ণ লেখা তার উপর মূল পোস্টের সাথে 'বাচ্চা পোস্ট' ! বুকমার্কে রাখলাম। গভীর রাতে পড়ে জানাব। ভাল আছেন তো ?
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:১২

লেখক বলেছেন:
মূল পোস্টের সাথে 'বাচ্চা পোস্ট' ! হা হা হা। ব্যাপারটা আপনিই আবার ধরিয়ে দিলেন। আর 'বাচ্চা পোস্ট' দেয়া যাবে না!!

আপনার মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।

আমি ভালো আছি, আপনি?

৭. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৫০
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:


বাফড়ার সঙ্গে পূর্ণ সহমত ।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:১৩

লেখক বলেছেন:
আমিও বাফড়ার এবং আপনার সঙ্গে পূর্ণ সহমত।

৮. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৩০
একরামুল হক শামীম বলেছেন: বিশ্লেষণধর্মী লেখাটা ভালো লেগেছে।
আপাতত এইটুকুই জানালাম। :)
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন:
এটুকু জানতে পেরেই খুশি। কৃতজ্ঞতা।

১০. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪৪
ফাহমিদুল হক বলেছেন: আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এজন্য যে সমসাময়িকদের মধ্যে আপনি ননফিকশনও লিখে চলেছেন।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৫২

লেখক বলেছেন:
আপনার তো আগেই পড়ার কথা!
যে কথা আমার সম্বন্ধে বললেন, সেই একই কথা আপনার সম্বন্ধেও খাটে। তবে ফিকশনটা আপনি একটু কমই লেখেন, ওইদিকে আরেকটু মনোযোগ কাম্য।

১১. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
শেরিফ আল সায়ার বলেছেন: অসধারন লেখা। যে লেখা মানুষকে কিছু ভাবতে বাধ্য করবে। অন্তত আমি ভাবছি। সেই তিনটি পয়েন্ট নিয়ে।

সুন্দর মনোহর সব ছবি এঁকে শূন্য দেয়ালগুলোকে ভরিয়ে তুলতে পারি, অথবা প্রশ্রাব করে, থুথু দিয়ে দেয়ালগুলোকে নোংরা করে তুলতে পারি, কিংবা কিছুই না করে স্রেফ শূন্য দেয়ালগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারি।'

আমি তাহলে কোন দলের সদস্য।
ভাবতে হবে। সত্যিই আমাকে ভাবতে হবে। সেই গ্রামের মানুষটির মতই ভাবতে হবে, সৃষ্টিকর্তা কোন দায়িত্বটি পালন করার জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন।
এই অসাধারন লেখাটির জন্য ধন্যবাদ জানালেও কম হবে।
ভালো থাকবেন।
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তোমাকে। তোমার আজকের পোস্টটি খুব ভালো লেগেছে।
ভালো থেকো তুমিও।

১২. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:১৯
সলিল বলেছেন:
আগেই পড়া ছিলো। আবারো পড়লাম এবং ভালো লাগলো। আপনার বিশ্লেষণ আমার বরাবরই অতি প্রিয়।

জীবনের অর্থের বিষয়ে শামসুর রাহমানের জবাবটির জবাব নেই।
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন:
দ্বিতীয়বার পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

শামসুর রাহমানের এই সাক্ষাৎকারটি যখন প্রকাশিত হয় (১৯৯৯ সালে) , তখন এই কথাগুলো খুব সাড়া ফেলেছিলো, মনে পড়ে। আসলেই জবাব নেই।

১৩. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৪২
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: মূলত আপনার এরকম নন-ফিকশন লেখাগুলো আমাকে টানে খুব। সেটা কবিতা হোক বা জীবন-দর্শন, আমি টেনে টেনে পড়ি। একটা উৎসাহ পাই, নিজেও একটা চিন্তা বা ভাবনাসূত্র গুছিয়ে লিখতে চেষ্টা করি।
এই বৈপরীত্য মিশানো চরিত্রের জন্যেই এদেশটা এতো সুন্দর। প্রকৃতিও কতো বৈচিত্র্যময়! কখনও তীব্র রোদ, তো ক'দিন পরেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। আবার তারপরে হিমকাঠ শীত কিংবা জ্বলজ্বলে বসন্ত-বিকেল! মানুষগুলোও মনে হয় এরকম বৈচিত্র্যময় হয়ে গেছে এজন্যে!
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:৩২

লেখক বলেছেন: একটা কাকতালীয় ব্যাপার ঘটে গেলো। পুরনো লেখাগুলো পড়তে পড়তে আপনার একটা কবিতা-পোস্টে এইমাত্র কমেন্ট করে নিজের পোস্টে এসে দেখলাম আপনার কমেন্ট!

আপনার মন্তব্যে মন ভরে গেলো। বিশেষ করে শেষের কথাগুলো। প্রকৃতি যেন তার বৈচিত্র্যের মেলা বসিয়েছে এই দেশটিতে। আর, কে না জানে যে, মানুষের ওপর প্রকৃতির প্রভাব কতো গভীর ও ব্যাপক! প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যময়তা আমাদের মধ্যেও বৈচিত্র্য এনেছে। কোনো সন্দেহ নেই।

১৪. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:৫৯
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন: আপনার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষনের ক্ষমতা অসাধারন।
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫৮

লেখক বলেছেন:
পড়ার জন্য আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ।

১৫. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৪:২৯
ফারহান দাউদ বলেছেন: মন্তব্য করতে গিয়ে মূল প্রসঙ্গ থেকে একটু সরে যেতেও পারি,সেজন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমাদের দেশের মানুষ পরিশ্রমী নয়,এই অপবাদটা যারা দেন,তাদের কথার আমি সরাসরি উদাহরণসহ প্রতিবাদ করতে পারি। নিজে সিভিল এন্ঞ্জিনিয়ার হওয়াতে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখেছি,এদেশের নির্মাণ শ্রমিকরা যে আবহাওয়াতে যে ধরণের অমানুষিক পরিশ্রম করতে পারে,এবং বেশিরভাগ সময়েই সেটা কোন যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়া,আমার কাছে সেটা সবসময়ই অলৌকিক বলে মনে হয়েছে। শীতাতপ যন্ত্রের হাওয়াতে সারাজীবন যারা বসে থাকে তাদের পক্ষে এই পরিশ্রমের রূপ বুঝে ওঠা কোনদিনই সম্ভব নয়। এই নিয়ে শ্রমিকদের বিশেষ অভিযোগ আছে তাও নয়,কেন নেই সেটার উত্তর হিসেবে আপাতত "তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত বৈষয়িক উদাসীনতা আছে, আর সেজন্যই তারা কখনো প্রয়োজনের চেয়ে বেশিকিছুর জন্য ব্যাকুল হয় না।" এই ব্যাখ্যাটাই মেনে নিতে হচ্ছে।
যদি এখানকার মানুষের গুণের কথা আলাদাভাবে আনতে চাই,তাহলে বলতে হবে,এদেশের সাধারণ মানুষ খুব সহজে পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারে,আমি নিজে যেটাকে উদারতা বলবো। একই সাথে,তাদের সচেতনতা দেখার মত,এখানকার গ্রামের একটা মানুষও বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখে এটা আমার নিজের চোখে দেখা,অন্যদিকে ইউরোপ আমেরিকার মানুষ বাইরের বিশ্ব সম্পর্কে ঠিক কতটা সচেতন সেটা প্রবাসীরাই ভাল বলটে পারবেন।
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:০৬

লেখক বলেছেন:
আপনিও অনেকগুলো পর্যবেক্ষণের কথা জানালেন। ধন্যবাদ।

আমরা যখন দেশের মানুষ নিয়ে কথা বলি, তখন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ আশি-ভাগ শ্রমজীবী মানুষের কথা আমাদের মনেই থাকে না। বিশ-ভাগ মানুষকে নিয়ে এমন এক ভঙ্গিতে কথা বলি যেন, এরাই সব, ওই আশিভাগ মানুষের কোনো অস্তিত্বই নেই। আমাদের ললাটে যখন দুর্নীতির কলংক চিহ্ন এঁকে দেয়া হয়, তখনও কেউ বলে না যে, আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দুর্নীতি করার কোনো সুযোগই নেই। এই মানুষগুলোর কথা মাথায় রেখে সবকিছু ভাবলে দেশের চেহারাটা হয়তো পাল্টে যেত।

আপনাকে আবারো ধন্যবাদ এই আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য।

১৬. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৪:৩১
ফারহান দাউদ বলেছেন: বলটে=বলতে হবে। আর আবহাওয়ার ব্যাপারটা উড়িয়ে দেবার মত নয়,এই আর্দ্রতা আর গরমের মাঝে শীতের দেশের মানুষের সমান কাজ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়,বিশ্বাস না হলে নিউজিল্যান্ডের খেলোয়ারদের জিজ্ঞেস করে দেখা যায়,আজকে তাদের জিভ বের করা চেহারা দেখে নির্মল আনন্দ পেয়েছি।
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১০

লেখক বলেছেন:
একমত আপনার সঙ্গে।

অফটপিক : আজকে খেলা দেখতে পারিনি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তাদের চেহারার অবস্থা কেমন হয়েছিল - এই অপূর্ব দৃশ্যটি মিস করলাম বোধহয়।

১৭. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:২০
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আরো একটা জিনিশ পড়তে পড়তে চোখে এলো। আমাদের চরিত্রগত ঔদাসীন্য নিয়ে। আমরা যে পরিবারিক বন্ধনে ছোটবেলা থেকে বড়ো হই সেখানে মাতৃস্নেহ খুব প্রবল। শুধু মা-ই নন, বাবা, মামা, চাচা, ফুফু, এমনকি বড়ো ভাই বোনরাও একটা মাতৃস্নেহের অফুরন্ত সম্ভার। এখানে ব্যতিক্রম আছে। কারো কারো বাবা হয়তো হিটলার উপাধি-ও পায়! তবে বড়ো অংশে যে অকৃত্রিম স্নেহটা শুধুমাত্র মায়ের কাছ থেকে পাওয়ার কথা ছিলো তা আমরা আশেপাশের সবার কাছ থেকে পাই। সেখানে মনে হয় প্রতিযোগিতা বা 'প্রথম' হওয়ার আকাঙ্ক্ষার একটা আংশিক মৃত্যু ঘটে। কারণ আদর জিনিশটা খুব আরামপ্রিয় এবং তৃপ্ত করে দেয়। বাস্তবের কষাঘাত টের পেতে আমাদের কৈশোর পেরিয়ে অন্তত যুবক বয়সে আসতে হয়। সেজন্যে আমরা হয়তো অল্পেই তুষ্ট হই, আশাপাশের প্রিয়মানুষগুলোর সঙ্গ যশ-খ্যাতির চেয়ে বেশি মূল্য রাখে।

আলোচনা বিক্ষিপ্ত কিছুটা। আশা করি বুঝে নিবেন। বা না বুঝলেও বলবেন! শুভকামনায়...
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৪০

লেখক বলেছেন:
"বাস্তবের কষাঘাত টের পেতে আমাদের কৈশোর পেরিয়ে অন্তত যুবক বয়সে আসতে হয়। সেজন্যে আমরা হয়তো অল্পেই তুষ্ট হই, আশাপাশের প্রিয়মানুষগুলোর সঙ্গ যশ-খ্যাতির চেয়ে বেশি মূল্য রাখে।"

অসাধারণ বলেছেন। পুরো একমত।

ধন্যবাদ আবারো।

১৮. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:২৬
মু্ক্ত মানব বলেছেন: বাংলাদেশের গ্রাম শহরের মাঝে যে ব্যবধান সেটা ভালো না । একটা কারন হচ্ছে এই যে দেশের স্থানীয় সরকারের রসদে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা না করে বরং গ্রামের উন্নয়ন কে শহরের (বিদেশী সাহায্য বা ধার থেকে পাওয়া) সম্পদের মুখাপেক্ষী করে রাখা।
ভেবে দেখার মতো যে একদা যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিলো গ্রাম নির্ভর এখন সেটা এমন কি চাল-ডালের জন্যেও শহর বা শহরতলী নির্ভর।

মাওয়ের 'গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও' করা যায়নি, শহরের চাপেই গ্রাম দিশেহারা। আরজ আলী মাতুব্বরদেরকেই যেখানে শহুরে স্বীক্বতি পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়, সেখানে মনসুর কাকাদের মনের খোজ রাজধানীর শহুরে ভাতিজারা কবে নেবে বা আদৌ নেবে কিনা কে জানে।
আমি বলি, নেবার দরকার কি? যদি গ্রাম এবং স্থানীয় সরকারগুলো স্বনির্ভর হয়, থানা, জেলা বা বিভাগ পর্যায়ের সমাজপতিদের কাছে যদি আরজ আলিরা মাতব্বরেরা তাদের আরজ জানাতে পারেন, কিম্বা মনসুর কাকারা যদি মনসুর হাল্লাজের মতো আক্রান্ত না হন, -সেটাও কম কি। সব স্বীক্বতি ঢাকা থেকেই মিলতে হবে, এমন এক কেন্দ্রিক চিন্তা খুব ভালো নয়। আমাদের দেশের অনেক প্রধান কবিকেইতো প্রায়ই ওপার বাংলার অনেক মফস্বল জেলা বা থানা পর্যায়ের সংগঠন দাওয়াত দেন, পুরস্কৃত করেন-সেগুলোতে তো তারা সাগ্রহে যান।
মফস্বলের সংস্থাগুলো গ্রামের দার্শনিকদেরকে আবিষ্কার করেন না কেন?
লেখা শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ।
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:৫১

লেখক বলেছেন: আমি তাঁদের স্বীকৃতি দেবার কথা বলিনি। তবে তাঁদের দিকে আমাদের ফিরে তাকাবার প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আমাদেরই। আমরা, মানে, শিক্ষিত-সুবিধাভোগী-সমাজ ও রাষ্ট্রের পলিসি মেকারদের। তাঁদের কথা না ভাবলে যে দেশ ও দেশের মানুষ সম্বন্ধে ভাবনাটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মফস্বলের সংস্থাই বলুন আর কেন্দ্রীয় সংস্থাই বলুন, মনসুর কাকার মতো মানুষরা এসব স্বীকৃতি-চিন্তা থেকে লক্ষ মাইল দূরে থাকেন। তারা ভাবেনও না যে, স্বীকৃতির কোনো প্রয়োজন আছে। তাঁরা তাঁদের মতো করে জীবন কাটিয়ে যান। কিন্তু আমাদের ওরকম উদাসীন থাকলে চলবে না, গ্রামই যে আমাদের শেকড়, গ্রাম আর গ্রামের মানুষদের না চিনলে 'বাংলাদেশের মানুষের মন' কোনোদিনই বুঝে ওঠা যাবে না। আমি শুধু সেইদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি।

আপনাকেও ধন্যবাদ চিন্তাটা শেয়ার করার জন্য।

১৯. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৩৯
তপন বাগচী বলেছেন: লেখাটা আগেই পড়া ছিল! সরস ভাষায় চিন্তাশীল প্রবন্ধ এরকম কমই আছে। আপনার গল্পের মতোই সুন্দর! আপনার মতোই সুন্দর!!!
২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:১৬

লেখক বলেছেন:
প্রশংসাটা একটু বেশি হয়ে গেল না, তপনদা! অবশ্য সবার মতোই প্রশংসা পেতে আমার ভালো লাগে, খুবই ভালো লাগে। এবং ভালো যে লাগে, সেটা বলতেও ভালো লাগে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

২০. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩০
প্রবর রিপন বলেছেন: +++ দারুন বিশ্লেষন,
তবু কিছু সঙশয় থেকে যাই,
ব্লগে আবার নিওমিত হচ্ছি
পারলে একবার ঘুরে এসেন
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:০৯

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ রিপন। কেমন আছো? সংশয়গুলো কী, বললে না কেন?

তোমার ব্লগ আগেই দেখেছি। অফলাইনে অবশ্য, কমেন্ট করা হয়নি। আবার ঘুরে আসবো।

ভালো থেকো। শুভেচ্ছা নাও।

২১. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৪৬
তানিম হুমায়ুন বলেছেন: ভাইয়া, কেমন আছেন?

লেখাটা পড়লাম। ভালো লাগল। মনসুর কাকার গল্প এবং শামসুর রাহমানের তুলনাটা চমৎকার।

পুরো প্রবন্ধ কবে, কীভাবে পাওয়া যাবে?
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:০৬

লেখক বলেছেন:
পড়ার জন্য এবং ভালো লাগা জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

আমি ভালো-মন্দ মিলিয়ে আছি, আপনি?

পুরো লেখাটির লিংক দিয়ে দিলাম, পড়ে দেখতে পারেন।

লিংক :

Click This Link

২২. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৬:৫৯
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ফাহমিদুল হকের চলতি সিরিজের অন্তর্গত সুরকে দারুণ সাপোর্ট করে আপনার এই পোষ্ট। অনেক ভাল লাগল।
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনি কেমন আছেন?

২৩. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৭
তানিম হুমায়ুন বলেছেন:
'সংশয়ীদের ঈশ্বর' পড়লাম। লেখাটা অনেক পুরোনো কিছু প্রশ্ন নতুন করে জাগায়। মার্ক্সবাদীদের যে চিন্তার ফ্রেমের কথাটা বলেছেন সেটা পড়ে একরকম স্বস্তি অনুভব করেছি। কয়েকজন মার্ক্সবাদী মানুষের চিন্তা-প্রক্রিয়া এবং কথাবার্তায় আমারো একই কথা মনে হয়েছিল। কিন্তু জানেনই তো, মার্ক্সবাদীদের সামনে এ ধরনের কথা বলা কতটা বিপদজনক! আমাদের প্রগতিশীলেরা প্রায়শই চুড়ান্ত রকমের প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠেন।... নিজের উপলব্ধির প্রতিধ্বনি আপনার লেখায় শুনতে পেয়ে ভালো লাগছে।

লেখার শুরুতেই বলেছেন, নিরাপদ আড্ডাগুলোতে নাস্তিকেরা নিজেদের 'নাস্তিক' পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করে। এসব ক্ষেত্রে 'আস্তিক' পরিচয়টাই যেন লজ্জার, আস্তিকেরাই নিজেদের পরিচয় দিতে গিয়ে অধোবদন হয়।

এভাবে আগে ভেবে দেখা হয়নি।

মনসুর হাল্লাজের 'আনাল হক'-এর কাহিনী কিছুটা জানা ছিল। তাকে পুড়িয়ে মারা হয় সেটাও জানতাম। কিন্তু সমুদ্রের ঘটনাটা জানা ছিল না। আর সব মিথের মত এই মিথটাও ইন্টারেস্টিং!

আপনার এ ধরনের আরো কোনো লেখা অনলাইনে থাকলে লিঙ্ক দেবেন। বাধিত হব।

ভালো থাকবেন।


২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১৪

লেখক বলেছেন: লেখা পড়ে মতামত জানানোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। একটা লিংক দিচ্ছি। এখানে কয়েকটা প্রবন্ধ পাওয়া যাবে। আমার একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ এটি। সময়-সুযোগ হলে পড়ে দেখবেন আশা করি।

লিংক :
http://www.amkamalbd.com/shonshoyee.html

২৪. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:১৮
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: নতুন কী লিখছেন, কামাল ভাই? বইমেলা তো এলো বলে!
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১৭

লেখক বলেছেন: নতুন তো অনেককিছুই লিখছি, কোনটার কথা বলবো?

বইমেলার জন্য এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি নিইনি। অনেক পুরনো লেখা জমে আছে। বেশ কয়েকটা বই হতে পারে। কিন্তু এখনই একসঙ্গে একাধিক বই করতে চাই না। একটা বই হলেও হতে পারে, এখনও নিশ্চিত নই।

আপনার খবর কি?

২৫. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:২১
হরিণ বলেছেন: কেমন আছেন ? ঠিক এই মুহূর্তে আপনার ওয়েবসাইটটি অলিগলি চষে বেড়াচ্ছি। খুব সমৃদ্ধ এটি।
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: আছি... ভালো-মন্দ মিলিয়ে। আপনি কেমন আছেন? ওয়েবসাইট চষে বেড়ানোর জন্য :) ধন্যবাদ।

২৬. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:০৪
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
খুব সত্য কথাগুলো আপনার লেখায় অসাধারণ হয়ে উঠেছে। ভালো লাগা জানুন।
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন:
ভালো লাগা জানানোর জন্য ধন্যবাদ। আমার শুভেচ্ছা নিন।

২৭. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৪
তপন বাগচী বলেছেন: প্রশংসা করলে মন খুলেই করতে চাই। তাই বেশি মনে হতে পারে।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: বেশি প্রশংসা পেতেও ভালো লাগে, সবাই সেটা স্বীকার করে না, এই আর কী!

২৮. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:০৬
খাখা বলেছেন: কামালভাই, আপেন ভালো গল্প লেখেন। িকন্তু এত ভােলা প্রবন্ধ েলখলেন কেমনে ভাই? কৌশলটা শেখাবেন? গল্পের কলকব্জার মতো গদ্যের কলকব্জা লেখা যায় না?
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:০২

লেখক বলেছেন: কৌশল শেখানোর কৌশলটা শেখান আগে, তারপর শেখাবো। ;)

'গল্পের কলকব্জা' পড়ে কেউ গল্প লেখা শিখেছে বলে তো শুনিনি! :(
এইজন্যই 'গদ্যের কলকব্জা' লিখতে চাই না! ;)

আপনার প্রশংসার ধরনটি মজার। ধন্যবাদ আপনাকে।

২৯. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৩১
হরিণ বলেছেন: বড় ভাই, ভাল-মন্দ মিলিয়ে ভাল না মন্দ আছেন বুঝতে পারিনি! তারপরও উত্তরের জন্য ধন্যবাদ। আমি কেমন আছি ? এই প্রশ্নের জবাব, যার কোন চাহিদা নেই তার ভাল না থাকার কারণ নেই ! আপনার ওয়েবসাইটটি বেশ সমৃদ্ধ। ইচ্ছে করছে সবগুলো প্রিন্ট করে নিই কিন্তু সাধ্য সীমিত। যদি প্রথম আলোর বর্ষসেরা বইটির একটি কপি পাওয়া যেত, হয়ত ভালোয় হত, ভালোই হবে কারণ আমি বেশ পড়ুয়া। আপনার হলে তো একপায়ে খাড়া ! ভালো থাকবেন।
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৫৯

লেখক বলেছেন: কেন, বইটি কি আপনাদের ওখানে পাওয়া যায় না?

৩০. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:০৬
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: সকলের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি,
এই লোক শুধুমাত্র অসাধারন পর্যবেক্ষন আর অনন্য বিশ্লেষন লিখতেই দক্ষ নন, সেটা ভরা মন্চে বলতেও সুদক্ষ। আমি নিজে সাক্ষী। সাধারনত কবি, সাহিত্যিকরা কাগজের বুকে যতটা পটু হোন, মাইকের সামনে ততটা হোন না। ইনি ব্যতিক্রম।
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:১৬

লেখক বলেছেন:
ওই রন্টি, চাপা মারতেছ ক্যান ভাইটু?!? তুমি কুনুদিন আমার কক্তিমা শুন নাই। খামাখা প্যাঁচ লাগাইতেছ। ;) ;) ;)

[অনেকদিন পর আপনার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগলো। আপনাকে তো আজকাল দেখাই যায় না। আছেন কেমন?]

৩১. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:৪১
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: আরি না না। আমি সত্যিই আপনার বক্তৃতা শুনেছি। এবং আপনি বক্তব্য শুরু করার আগে একলোক বলছিল, আহমাদ মোস্তফা কামাল দারুন বলে..শুনে দেখেন। আমি ভাবলাম, আচ্ছা দেখি কি বলে কামাল মিয়া...শুনে অবাক হয়েছি। ভীষন ভাল একটা স্পিচ ছিল সেটা।
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: য়রে, এখনও ধরতে পারলাম না, কোন বক্তৃতার কথা বলছেন! :(
সেই প্রথম থেকে বলে আসছেন, কিন্তু কিছুতেই পরিষ্কার করলেন না! যদি কোনোদিন দেখা হয় আপনার সঙ্গে, তাহলে খবর আছে!
X( X( X(

৩২. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৫
লাবণ্য প্রভা গল্পকার বলেছেন: বিশ্বাস করেন প্রিয় লেখক আপনার মনসুর চাচার মতন আমার খুবই কানতে ইচ্ছে করে। ক্যান আইলাম জগতে বুঝতে পারলাম না। ধন্যবাদ কান্নাটাকে উসকে দেয়ার জন্য। সামনে পূর্নিমা আসছে। দেখি কেমন কান্দন আসে।ভালো থাকবেন।
০৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৮

লেখক বলেছেন: উত্তর দিতে দেরি হয়ে গেল। এ কদিন খুব একটা ব্লগে আসা হয়নি। দুঃখিত লাবণ্য প্রভা।

কাঁদতে পারলে তো ভালোই হয়। কান্না মানুষকে পবিত্র করে দেয়।

৩৩. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪৩
হামোম প্রমোদ বলেছেন: লেখাটি পড়া হলো। প্রকাশিত মন্তব্যগুলোও এক নজর দেখা হলো। পাশাপাশি, লেখকের দেয়া লিংক এ গিয়ে মূল প্রবন্ধের শেষের অংশটি একটু সময় নিয়ে পড়ে ফেললাম। মানতে হবে, সুন্দর বিশ্লেষন।

এ পোষ্টের কয়েকটি আপ্ত বাক্যের সাথে একমত হতে পারলাম না। তবে কথা হলো, আমরা বিষয়টাকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি তার উপর নির্ভর করে কি সিদ্ধান্তে আসছি।
ধন্যবাদ ।
০৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫১

লেখক বলেছেন: উত্তর দিতে দেরি হয়ে গেল। দুঃখিত ভাই।

এই পোষ্টে আপ্ত বাক্য কোনগুলো? দ্বিমত তো থাকতেই পারে, সেটা জানতে পারলে খুশি হতাম।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

৩৪. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৪৩
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: মন্তব্যগুলো পড়িনি....লিখাটাই পড়লাম।

মনে হলো আরো ভালো হইতে পারতো। আবার আমার উপরে দায়িত্ব চাপায়া দিয়েন না।
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:০৭

লেখক বলেছেন: আমার সব লেখাই পরে পড়তে গিয়ে নিজেরই মনে হয়, আরো ভালো হইতে পারতো! :(

নাহ, এবার আর আপনার ওপর দায়িত্ব চাপাচ্ছি না, শুধু অনুরোধ করছি- মূল লেখাটা পড়ে দেখেন তো কেমন লাগে!

Click This Link

৩৫. ১৯ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:২৫
জনৈক আরাফাত বলেছেন: এই লেখাটি পড়ে প্লাস না দেয়া টা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে.।।।

ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৭৩৯৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জন্ম : ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৯; মানিকগঞ্জ।

পৌষের কোনো এক বৃষ্টিভেজা মধ্যরাতে
এদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম হয়েছিলো আমার,
মায়ের কাছে শুনেছি।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই