অপরবাস্তব-৪ এবং একজন পাঠক, কিছু কথা... [শেষ পর্ব]
১৪ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:০০
........ শেষ পর্ব
স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়...
'ফিউশন ট্রেকিং' সাইফুল ইসলামের ঝরঝরে বর্ণনার চমৎকার একটি সাইন্স ফিকশন। গল্পে সাইফুল ইসলাম স্বীয় কল্পনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত ব্যবহারে দক্ষ চূড়ান্ত উন্নত মানব প্রজাতির জন্য এক পৃথিবীর চিত্র অঙ্কন করেছেন। তার কল্পিত পৃথিবীর মানুষেরা একটি ট্রেকিং পদ্ধতির মধ্যে শৃঙ্খলিত। ফিউশন ট্রেকিং যন্ত্রাংশটি গত দুইশ' বছর ধরে মানব জাতিকে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে ধরে রেখেছে। গল্পকার সাইফুল ইসলামের কল্পিত বৈজ্ঞানিক পৃথিবীর পেছনে ক্রিয়াশীল তার সমকালীন মানব প্রজাতির যথেচ্ছ অন্যায়, অপরাধ সংশ্লিষ্টতা; গল্পকার এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় স্বরূপ বিজ্ঞানের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সিস্টেম দাঁড় করিয়েছেন-- যার মাধ্যমে মানুষকে অপরাধে নিযুস্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে। গল্পে তিনি সেকথা স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন :
একবিংশ শতাব্দীর শেষভাবে পৃথিবীতে যখন অরাজকতা সীমা ছাড়িয়ে যাবার উপক্রম হয়, তখন একদল নিবেদিতপ্রাণ বিজ্ঞানী ফিউশন ট্রেকিং ডিভাইসটি আবিষ্কার করে। প্রাথমিকভাবে আইন করে বাধ্য করা হয় যে, প্রত্যেককেই এই ডিভাইসটি সাথে রাখতে হবে। এতে সারা বিশ্বে প্রতিটি মানুষকে ট্রেকিং করা সম্ভব হয়। প্রতি মুহূর্তে কে কোথায় আছে, কী করছে, কী কথা বলছে-- তার সব বিস্তারিত তথ্য ফিউশন সেন্ট্রালে চলে যেত। ফলে অবিশ্বাস্যভাবে কমে আসে অপরাধের সংখ্যা। --পৃ.১০৩
কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই দেখা গেল পুনরায় সংঘটিত হচ্ছে অপরাধ এবং তা ক্রমশ বাড়ছে। অথচ অপরাধ সংঘটন স্থলে কাউকে আবিষ্কার করা যাচ্ছে না। কারণ, বুদ্ধিমান সৃজনশীল প্রাণী মানুষ ততদিনে ট্রেকিং ডিভাইসটি সাথে রাখলেও অপরাধ করার সময় পকেট থেকে বের করে তা দূরে রাখার ব্যাপারটি জেনে গিয়েছিল। এর ফলে পরবর্তী সময় আইন করে জন্মের সময় মানব শিশুর মস্তিষ্কে অস্ত্রপচার করে ট্রেকিং ডিভাইসটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই প্রক্রিয়া অবলম্বনের ফলে এক প্রজন্ম পরেই পৃথিবীতে অপরাধ শূন্যের কোঠায় নেমে যায়। অপরাধ কমে ঠিক, কিন্তু ট্রেকিং সিস্টেমের কারণে যেহেতু ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষিত হয় না, তাই নিয়মাধীন যন্ত্রশাসিত মানব জাতি এক বৈচিত্র্যহীন জীবনে প্রবেশ করে। কিন্তু সৃজনশীল মানুষ বৈচিত্র্যহীন জীবনে কখনো আনন্দ পায় না। ফলে ফিউশন ট্রেকিং সিস্টেম ধ্বংস করে স্বাধীনতা লাভের চেষ্টা করে অনেক তরুণ যুবক অকালে প্রাণ হারায়; তারপরও মানুষের স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষা থেমে থাকে না। ট্রেকিং সিস্টেমের বাইরে যেহেতু কোন মানুষ নেই সেহেতু সেন্ট্রাল ফিউশন গোলকটি কোনভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছিল না স্বাধীনচেতাদের পক্ষে। এমন দুর্বিষহ শৃঙ্খলে ছটফট করতে করতে একদিন অ্যালান 'ক্রাইম এন্ড কিলিং সেন্টার' নামের এক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখে টিভিতে। খুন করার মতো ধ্বংসাত্মক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা লাভের বিজ্ঞাপন দেখে প্রাথমিকভাবে কিছুটা থ্রিল অনুভব করে অ্যালান। অতঃপর অ্যালান সেই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানতে পারে ইতিহাসখ্যাত ব্যক্তিদের কোলন করে মানুষকে সেখানে খুনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেয়ার ব্যবস্থা আছে। অ্যালান রেজিস্ট্রেশন করে সক্রেটিসের কোলনকে খুন করার পরই সিদ্ধান্ত নেয কিভাবে সে মানবজাতিকে এই ট্রেকিং শৃঙ্খল থেকে সে মুক্ত করতে পারবে। পরের সপ্তাহে অ্যালান সিএন্ডকে কোম্পানিতে হাজির হয়ে যখন নিজের কোলন খুন করার অভিজ্ঞতা লাভের কথা জানায় তখন কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হয় অ্যালানকে। অতঃপর সিএন্ডকে থেকে বেরিয়ে আসার সময় খুশি হয় এই ভেবে যে, সে পরের সপ্তাহে নিজের কোলনকে খুন করার অভিজ্ঞতা নেবে।
অ্যালান প্রথম খুন করার সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিজেকে হত্যার। কারণ, সে জানত--- তার যে কোলনটি সিএন্ডকে কোম্পানি তৈরি করবে, তার মস্তিষ্কে কোন ট্রেকিং ডিভাইস থাকবে না। অতএব আসল অ্যালনকে খুন করার পর সাময়িক আইডেনটিটির জন্য অ্যালানের ট্রেকিং ডিভাইসটি সাথে নিয়ে সিএন্ডকে থেকে বেরিয়ে ঘরে ফিরেছিল। অতঃপর ফিউশন ট্রেকিং সিস্টেমের মূল সেন্টারটি ধ্বংস করতে যাওয়ার আগে অ্যালান তার ডিভাইসটিকে নষ্ট করে নিজের আইডেনটিটি সিস্টেম থেকে মুছে দেয়। ডিভাইসটি নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে কোলন অ্যালান ফিউশন ট্রেকিং পৃথিবীতে এক অর্থে অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। ফলে খুব সহজেই কোলন অ্যালান ফিউশন সেন্টারের মূল গোলকটি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। গোলকটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হওয়ার সাথে সাথে প্রত্যেক মানুষ ট্রেকিং সিস্টেমের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করে। আর কোলন অ্যালান তখন স্বাধীন পৃথিবীবাসীর উদ্দেশ্যে প্রদেয় ভাষণে উল্লেখ করে :
'...বিশ্ববাসী, আজ আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদের। আমাদের সামনে অনেক কাজ, আমাদের প্রিয় এই পৃথিবীকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।' ---পৃ.১০৯
অতঃপর একজন অ্যালানের আত্মোৎসর্গের মধ্য দিয়ে মানব জাতি নিজের তৈরি ট্রেকিং শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করে। কিন্তু অ্যালানের কোলন নিজের ওপর ভরসা করতে পারে না এজন্য যে, তাকে কোলন জানার পর তার স্ত্রী রাইসা নিশ্চয় তাকে গ্রহণ করবে না। কিন্তু রাইসা তাকে অভিনন্দিত করে মানব জাতিকে মুক্তি এনে দেয়ার নায়ক হিসেবে এবং সাদরে গ্রহণ করে প্রকৃত অ্যালান হিসেবেই।
'ফিউশন ট্রেকিং' ধ্বংস করে দিয়ে গল্পকার সাইফুল ইসলাম মানব জাতিকে যে মুক্তির কথা জানিয়েছেন, তার অপব্যবহার করে মানুষ জাতি যদি পুনরায় স্বাধীনতার নামে উচ্ছৃঙ্খলতার স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়-- তাহলে পুনরায় দরকার হবে নতুন কোন প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ। সাইফুল ইসলামের গল্পের নায়ক অ্যালানের কোলন যে ভাষণ দিয়েছে, সেখানে মানব প্রজাতির প্রতি স্বাধীনতার অপব্যবহার না করার ইঙ্গিত আছে।
অনেক দিন আগে আইজ্যাক আচিমভ-এর 'ফাউন্ডেশন' সিরিজের সাইন্স ফিকশনগুলো পড়তে গিয়ে যে টানটান উত্তেজনায় বিজ্ঞানের কল্পিত জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম--- সাইফুলের 'ফিউশন ট্রেকিং' পড়তে গিয়ে অনুরূপ আনন্দ আর উত্তেজনায় সতর্ক ছিলাম। চমৎকার ঝরঝরে একটি সাইন্স ফিকশন উপহার দেয়ার জন্য পাঠক হিসেবে সাইফুল ইসরামের প্রতি রইল অভিনন্দন এবং আরো এ জাতীয় ফিকশন লেখার অনুরোধ। নিশ্চয় অব্যাহত রাখবেন কাজের এই ধারা...।
.....................................................................................................
অতঃপর 'অপরবাস্তব'-৪ এর কবিতা...
গোটা গ্রন্থটি ধারাবাহিকভাবে পাঠ করেছি এবং লিখেছি স্বীয় পাঠ-প্রতিক্রিয়া। হয়তো আমার প্রকাশিত এ প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে অনেক লেখকের বিরাগভাজনও হয়েছি। সমালোচক হিসেবে এটা আমাকে হজম করতেই হয়। কারণ, সব লেখকেরই প্রশংসা পাওয়ার সৌভাগ্য ঘটে না সমালোচকের।
তারপরও 'অপরবাস্তব'-৪ এর কবিতাগুলো নিয়ে আলোচনার কথা কেউ কেউ বলেছেন। না হয়, কবিতা নিয়ে কিছু কথা বলতে গিয়ে আরো কিছু লেখকের বিরাগভাজন হতাম। কিন্তু সত্যি কথা সবসময় সব জায়গায় প্রকাশ করার বিপদ সম্পর্কে সকলেই অবহিত। সেই বিপদের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কবিতার ভক্ত হিসেবে কিছু বলার ছিল, অথচ তা না বলাই শ্রেয় মনে করছি। তাছাড়া কবিতাগুলো পাঠের পর ভেতর থেকেও খুব একটা তাগাদা অনুভব করি নি। শুধু বলব, ভবিষ্যতে কবিতা সংকলনের ক্ষেত্রে আরো সচেতন ও সতর্ক হবেন সংকলক ও সম্পাদক। এতটুকু প্রত্যাশা নিয়ে 'অপরবাস্তব'-৪ এর পাঠাভিজ্ঞানের ইতি টানলাম।
দ্রষ্টব্য :
পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে সবগুলো পর্বের লিংক দিলাম। আগ্রহী পাঠকগণ নিচের লিংকে ক্লিক করুন :
পর্ব ৬ষ্ঠ : Click This Link
পর্ব ৫ম : Click This Link
পর্ব ৪র্থ : Click This Link
পর্ব ৩য় : Click This Link
পর্ব ২য় : Click This Link
পর্ব ১ম : Click This Link
.......................................................................................................
১৪১৭ বাংলা সন...
.................সকল ব্লগারকে ১৪১৭ বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:২২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
কবিতা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারপরেও বলবো আপনার কাছ থেকে কবিতাগুলোর সমালোচনা পড়ার অপেক্ষায় ছিলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম,
পরে যদি কখনো অন্তরতাগাদা পাই, কোন একটি কবিতা যদি মানসজগতে আলোড়ন তোলে, তাহলে অবশ্যই লিখব-- কথা দিলাম...
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
শুভ নববর্ষ ১৪১৭
সবগুলো পর্বের লিঙ্ক শেষ এই পর্বটিতে নিয়ে আসার কাজটি বেশ ভালো হয়েছে ।
এতে করে, আগ্রহী পাঠকের ক্ষেত্রে সবগুলো পর্ব একসঙ্গে পাবার কাজটি সহজ হলো ।
অ ভি ন ন্দ ন আপনাকে ।
নতুন বছর, এবং আগামীর প্রতিটি দিন সুস্থ , সুন্দর , ভালোয় যাক ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, রাজ্জাক শিপন
নতুন বছরের দিনগুলো আপনারও সুন্দর হয়ে উঠুক, সেই প্রত্যাশা রইল।
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
সাইফুল ইসলামের 'ফিউশন ট্রেকিং' ব্লগে ব্যাপক পঠিত হয়েছে এবং প্রায় সকলেই গল্পটি পছন্দ করেছেন। এবং এই গল্পটির সুবাদে ব্লগের অনেকেই তাকে উদিয়মান সাই-ফাই গুরু মানতে শুরু করেছেন। সাইফুল ইসলাম এখানে শান্তির দেবদূত নামে লেখালিখি করেন। আমার মনে হয়, সাইফুল ভাই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নিয়ে যখন আরো লিখবেন এবং লোকজন তাকে রিকগনাইজ করতে শুরু করবে, তখন 'ফিউশন ট্রেকিং' গল্পটি তাকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলতে পারে। প্রথম কারন, কল্প-গল্পে যতই ফ্যান্টাসি থাকুক না কেন, বিশ্বাসযোগ্য যুক্তিও কিন্তু সেখানে থাকতে হয়। এ্যালেন 'সমগ্র মানবজাতির স্বাধীনতার জন্য' 'পৃথিবীর ভয়ংকরতম জায়গা ফিউশন সেন্টারে' ঢুকে পড়ে এবং এক রোবটকে ফাঁকি দিয়ে সেন্টারটি ধ্বংস করে দেয়। পাঠক হিসেবে আমার অবিশ্বাস তৈরী হয়েছে গল্পের শুরুতেই।
সাথে ট্রেকিং ডিভাইস না থাকলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়না, এই তথ্যটি পেতে দুই শ' বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে?
ব্লগের সাই-ফাই গল্পে খুব বেশী জাফর ইকবালের লেখার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এই গল্পটিও তার বাইরে নয়। আমি মাঝে মাঝে সাইফুল ভাইকে বলেছি, এখন তার একটি নিজস্ব স্টাইল তৈরীর সময় হয়ে গেছে। তা না হলে, তার সুলিখিত গল্প নিয়েও লোকজন আমার মতো করে খোঁচা দেবে।
সাইফুল ভাই ভাল লিখেন। আমি বিশ্বাস করি, একজন ভাল লেখকের সব গুণই তার আছে।
লেখক বলেছেন:
প্রাজ্ঞ মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে এ জাতীয় প্যারাডক্স বোধহয় সবসময়ই থাকে।
বলা ভালো, সাইন্স ফিকশন খুব একটা পড়া হয় না আমার।
ভাঙ্গন বলেছেন:
আপনার পাঠপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ভাল লেগেছে।তবে কবিতা নিয়ে আলোচনা করলে হয়তো আমার ভুলগুলো পেয়ে যেতাম।
শুধু কবিতা নিয়ে কি আলাদা পাঠপ্রতিক্রিয়া হতে পারেনা? যেহেতু অপরবাস্তব-৪ এ আমার একটি কবিতা ছাপা হয়েছে সেহেতু আমি কবিতা নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আশা করি।
সমালোচনা আমার ভাল লাগে।
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
অনুপম হাসান ভাই, কি বলবো বুঝতে পারছি না। আমার কাচা হাতে লেখা একটি সাই-ফাই নিয়ে আপনি যে সময় দিয়েছেন, পড়েছেন আবার রিভিউ লিখেছেন সেটা যে আমার জন্য কতটুকু আনন্দের বলে বুঝাতে পারবো না। অনেক দেরিতে চোখে পড়ল। আপনি যে সময়টাতে এই পোষ্টটি লিখেছেন ঠিক সেই সময়ে আমি ব্লগে ছিলাম একেবারেই অনিয়মিত। শুধু মাঝেমাঝে প্রথম পাতায় আর নিজের ব্লগে ঢুঁ মেরেই চলে যেতাম; যে কারনে আপনার এই প্রাণবন্ত আলোচনায় যোগ দিতে পারিনি, সত্যি দু:খিত। সমালোচনা আমি সব সময়ই খুব উপভোগ করি। এ থেকে লেখক হিসাবে আমি দুইটা জিনিস পাই, প্রথমত নিজের দূর্বলতাগুলো চোখে পড়ে; যেটা পরবর্তীতে সংশোধনের সুযোগ থাকে। দ্বিতীয়ত পাঠক যে আমার লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পাঠ করেছেন, গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এটা অনুধাবন করা। প্রথম প্রাপ্তিটা আমার ভবিষ্যত লেখালেখির মান বাড়ানোর জন্য রসদ আর দ্বিতীয়টা হলো অনুপ্রেরনা।
আশা করি আপনাকে আমার ভবিষ্যত লেখাগুলোতে একজন সমালোচক হিসাবে পাব। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামন ও শুভেচ্ছা।
@মোস্তাফিজ রিপন ভাই,
ঠিক এই জিনিসটাই আপনার কাছ থেকে আশা করেছিলাম। একজন প্রকৃত শুভাকাঙ্খি হিসাবে আপনি আমাকে সব সময় উপদেশ, উৎসাহ ও অনুপ্রেরনা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ভাবে সমালোচনা করেন নি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, অনেক অনেক ধন্যবাদ যে আমার সেই চাওয়াটাও পূরন করেছেন।
আপনি আমার অনেক গল্পেই লিখেছেন "নিজস্ব স্টাইলে লেখার সময় হয়ে গেছে", আজ এটার মর্ম অনুভব করেছি। আপনার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা। আসলে আমি নিজেও বুঝতে পরছি আমার লেখায় জাফর ইকবাল স্যারের কিছুটা প্রভাব আছে, তবে চেষ্ট করছি সেটা থেকে বের হয়ে আসতে। আমার লেখা লেখি সময় কাল মাত্র দুই আড়াই বছর। সবচেয়ে বড় কথা পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছি না। আর স্কুল কলেজে চরম ফাঁকিবাজ হওয়ার দরুন বাংলা সাহিত্যে আমার দখল খুবই কম, চেষ্টা করছি সেটা কাটিয়ে উঠতে। ব্যস্ততা কমলে ইচ্ছা আছে বেশি কিছু বাংলা গ্রামার বই যোগার করে বেইজটা একটু পাকাপোক্ত করার।
আর ফিউশন ট্রেকিং গল্পের ব্যাপারে, "সাথে ট্রেকিং ডিভাইস না থাকলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়না, এই তথ্যটি পেতে দুই শ' বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে?"--- আপনার এই প্রশ্নটার জবাবে একটু বলি, আসলে এটা সবাই প্রথম থেকেই জানত যে ট্রেকিং ডিভাইস সাথে না থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, তবে এখানে পয়েন্টটা হলো এই ট্রেকিং ডিভাইসটি প্রতিটি শিশুর জন্মের পরপরই অপারেশন করে ব্রেনে সেট করে দেওয়া হয়। তাই জীবিত কারও পক্ষে আর এই ডিভাইসটি খুলে ফেলা সম্ভব না। সেই কারনে জীবিত কারও পক্ষে এই দানব ট্রেকিং ডিভাইসের সাপেক্ষে অদৃশ্য হওয়া সম্ভব না। তাই যেই ব্যাক্তিটি জীবিত অবস্থায় এই ডিভাইস মুক্ত হয়ে যাবে সেই এই ফিউশন ট্রেকিং এর কাছে অপরাজেয়। এই কনসেপ্টের উপরই আসলে পুরা গল্পটা দাড়ানো।
আপানর সমালোচনা পেয়ে খুব খুব ভালো লাগলো। আশা করি এভাবেই আমার লেখার দূর্বলতাগুলো দেখিয়ে দিয়ে সামনে আরও ভালো লেখা লেখার অনুপ্ররনা দিবেন। আপনার জন্য অনেক শুভেচ্ছা। অনেক দিন আপনাকে দেখি না ব্লগে, নতুন গল্পও পোষ্টাচ্ছেন না, আমার ব্লগেও যান না
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
অনুপম হাসান ভাই, কি বলবো বুঝতে পারছি না। আমার কাচা হাতে লেখা একটি সাই-ফাই নিয়ে আপনি যে সময় দিয়েছেন, পড়েছেন আবার রিভিউ লিখেছেন সেটা যে আমার জন্য কতটুকু আনন্দের বলে বুঝাতে পারবো না। অনেক দেরিতে চোখে পড়ল। আপনি যে সময়টাতে এই পোষ্টটি লিখেছেন ঠিক সেই সময়ে আমি ব্লগে ছিলাম একেবারেই অনিয়মিত। শুধু মাঝেমাঝে প্রথম পাতায় আর নিজের ব্লগে ঢুঁ মেরেই চলে যেতাম; যে কারনে আপনার এই প্রাণবন্ত আলোচনায় যোগ দিতে পারিনি, সত্যি দু:খিত। সমালোচনা আমি সব সময়ই খুব উপভোগ করি। এ থেকে লেখক হিসাবে আমি দুইটা জিনিস পাই, প্রথমত নিজের দূর্বলতাগুলো চোখে পড়ে; যেটা পরবর্তীতে সংশোধনের সুযোগ থাকে। দ্বিতীয়ত পাঠক যে আমার লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পাঠ করেছেন, গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এটা অনুধাবন করা। প্রথম প্রাপ্তিটা আমার ভবিষ্যত লেখালেখির মান বাড়ানোর জন্য রসদ আর দ্বিতীয়টা হলো অনুপ্রেরনা।
আশা করি আপনাকে আমার ভবিষ্যত লেখাগুলোতে একজন সমালোচক হিসাবে পাব। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামন ও শুভেচ্ছা।
@মোস্তাফিজ রিপন ভাই,
ঠিক এই জিনিসটাই আপনার কাছ থেকে আশা করেছিলাম। একজন প্রকৃত শুভাকাঙ্খি হিসাবে আপনি আমাকে সব সময় উপদেশ, উৎসাহ ও অনুপ্রেরনা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ভাবে সমালোচনা করেন নি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, অনেক অনেক ধন্যবাদ যে আমার সেই চাওয়াটাও পূরন করেছেন।
আপনি আমার অনেক গল্পেই লিখেছেন "নিজস্ব স্টাইলে লেখার সময় হয়ে গেছে", আজ এটার মর্ম অনুভব করেছি। আপনার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা। আসলে আমি নিজেও বুঝতে পরছি আমার লেখায় জাফর ইকবাল স্যারের কিছুটা প্রভাব আছে, তবে চেষ্ট করছি সেটা থেকে বের হয়ে আসতে। আমার লেখা লেখি সময় কাল মাত্র দুই আড়াই বছর। সবচেয়ে বড় কথা পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছি না। আর স্কুল কলেজে চরম ফাঁকিবাজ হওয়ার দরুন বাংলা সাহিত্যে আমার দখল খুবই কম, চেষ্টা করছি সেটা কাটিয়ে উঠতে। ব্যস্ততা কমলে ইচ্ছা আছে বেশি কিছু বাংলা গ্রামার বই যোগার করে বেইজটা একটু পাকাপোক্ত করার।
আর ফিউশন ট্রেকিং গল্পের ব্যাপারে, "সাথে ট্রেকিং ডিভাইস না থাকলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়না, এই তথ্যটি পেতে দুই শ' বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে?"--- আপনার এই প্রশ্নটার জবাবে একটু বলি, আসলে এটা সবাই প্রথম থেকেই জানত যে ট্রেকিং ডিভাইস সাথে না থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, তবে এখানে পয়েন্টটা হলো এই ট্রেকিং ডিভাইসটি প্রতিটি শিশুর জন্মের পরপরই অপারেশন করে ব্রেনে সেট করে দেওয়া হয়। তাই জীবিত কারও পক্ষে আর এই ডিভাইসটি খুলে ফেলা সম্ভব না। সেই কারনে জীবিত কারও পক্ষে এই দানব ট্রেকিং ডিভাইসের সাপেক্ষে অদৃশ্য হওয়া সম্ভব না। তাই যেই ব্যাক্তিটি জীবিত অবস্থায় এই ডিভাইস মুক্ত হয়ে যাবে সেই এই ফিউশন ট্রেকিং এর কাছে অপরাজেয়। এই কনসেপ্টের উপরই আসলে পুরা গল্পটা দাড়ানো।
আপানর সমালোচনা পেয়ে খুব খুব ভালো লাগলো। আশা করি এভাবেই আমার লেখার দূর্বলতাগুলো দেখিয়ে দিয়ে সামনে আরও ভালো লেখা লেখার অনুপ্ররনা দিবেন। আপনার জন্য অনেক শুভেচ্ছা। অনেক দিন আপনাকে দেখি না ব্লগে, নতুন গল্পও পোষ্টাচ্ছেন না, আমার ব্লগেও যান না
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














