বাংলাদেশের বাংলা ব্লগগুলো দেখি রাজনীতির সৈনিকদের রণক্ষেত্র। হতেই পারে । জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রই ব্যার্থ ও হতাশ অনেক মানুষ এদেশে। তার উপর অপরিপক্ক চিন্তাধারার শিক্ষিত গোঁয়ারের সংখ্যাও কম নয়। তাদের মনে হয় সারাদিনের হতাশা ব্যার্থতার একটি নির্গমদ্বার এটি। মন্দ নয়। অন্ততঃ ভার্চুয়াল এই খিস্তি-খেউড়ে রক্তপাতের সম্ভাবনা তো নেই। য়ারা এই খিস্তি-খেউড় তাদের প্রিয় দলের এসাইনমেন্ট হিসাবে করছেন, নিজের দলীয় অবস্থান দৃঢ় করার জন্য বা আর্থিক সুবিধার জন্য করছেন, তাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু যারা এর বাইরের – অর্থাৎ , দলের প্রতি শুধুই আবেগের বশে করছেন, তাদের প্রতিই আমার এই বক্তব্য।
আমরা দু ভাই, বয়সের তফাৎ বছর দেড়কেরও কম। আমি ছিলাম নজরুলের ভক্ত ও রবীন্দ্র। আমি আবাহনী তো ও মোহামেডান। কিভাবে হলাম নজরুলের ভক্ত? আমি কি সাত বছর বয়সে নজরুল সাহিত্য ঘেঁটে তাতে মুগ্ধ হয়ে নজরুল ভক্ত হয়েছিলাম? মোটেও না। আমার ভাই বড় বোনের সাথে বেড়াতে গিয়ে কোথা থেকে যেন নিয়ে এল রবীবাবুর এক শ্বেত শুভ্র ছবি। যেহেতু ছবিটা ওর, হিংসায় আমি বললাম রবীন্দ্রনাথ খারাপ, নজরুল ভাল, ব্যাস – তারপর থেকে ও রবীন্দ্র ভক্ত আমি নজরুল । কিন্তু বড় হয়ে যখন জীবনের সমস্যাগুলোর মুখোমুখী হলাম, রবী নজরুল উভয়কেই পড়লাম, দেখলাম কি বিশাল সাহিত্যসম্পদ এদের দুজনেরই – দু ভাইই আমরা এখন দুজনেরই ভক্ত ।
কিন্তু কিশোর বয়সের এই যে অন্ধ ভক্তি, আসক্তির দৈব বা অযৌক্তিক যে নির্বাচন, অনেকের পরিনত বয়সেও তা বজায় থাকে। ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দে তা সবক্ষেত্রে যে ক্ষতিকর তাও না । খেলাধুলা, বিনোদন, সাহিত্য, ভ্রমন কিছুতেই নয়। কিন্তু সিরিয়াস ক্ষেত্রে? একবার ভেবে দেখুন তো, আপনার বাসায় আগুন লেগেছে - ফায়ার সার্ভীস কে না দিয়ে আপনি ট্রাফিক পুলিশদের দায়ীত্ব দিয়ে দিলেন – কারন ছোট বেলা থেকেই আপনি ওদের খুব ভক্ত খুব করিত্কর্মা মনে করেন । আপনার বাবা অসুস্থ, ডাক্তার না ডেকে আপনি এক কবি কে ডেকে নিয়ে এলেন কারন আপনার মনে হয় ডাক্তারেরা কসাই কবিরা ভাল মানুষ ।
রাজনীতি এমন এক বস্তু যার উপর আমাদের নিরাপত্তা, অর্থ উপার্জন, সন্তানদের ভবিষ্যত, সামাজিক সন্মান – সবকিছুই নির্ভর করে । কোন দলকে সমর্থন করার আগে আসুন না রাজনীতি সম্পর্কে একটু জেনে, তা বুঝে তা করার চেষ্টা করি। নইলে কিন্তু ভুগব আমরাই, রাজনীতিবিদরা না ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



