ফ্রেমে ফাগল....

গল্প: বিন্দু ২ --- মন্তব্য করুন প্লীজ।

০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫৩

শেয়ারঃ
0 0 0

ছুদির পো বামে যাইতে কইলে ডাইনে যায় আর ডাইনে যাইতে কইলে বামে। রিস্কায়ালার উরপে চরম বিলা মন্টু মিয়া। 'ওই বোদার বাল ডাইন বাম চিনছ না? আর্মি দিয়া গোয়া মারন দরকার তোগো। হারাদিন লেফ-রাইট করতি তইলে ডাইন বাম চিনতি মাংগের নাত্তি।' চিক্কুর দিয়া উডে মন্টু-মিয়া। এক পেরাইবেট কারের তন লুকিন গেলাস বাইংগা হ্যায় রিস্কায় উডছে। এইডা লইয়া ছলেমানের কাছে গ্যালে ছলেমান মন্টুরে ২০০ টেকা দিব। তাই দিয়া দুইডা ঢালাই কিন্না কাটাবনেরথর দুই পুইরা গান্জা কিন্না পলাশির মোরে বইয়া খাইতে অইব। সেলিম আর আনোয়ার বইয়া আছে, আইজগা মিন্টুর ডেট। মাল না লইয়া গ্যালে মা বইন তুইলা গালি দিব সেলিম খাংকির পো। ঢালাই লইয়া মন্টুর টেনশন নাই টেনশন অইল গান্জা লইয়া দুই পোটলায় দুই ইশ্টিক ও হয়না। চাইলের দাম বারলে মালের দাম বারব ক্যান হেইডা অহনতরি বুজবার পারে নাই মন্টু-মিয়া। মাল-মুল খাইয়া বিষয়ডা লইয়া বাপতে অইব।


কাজরিয়ার আজ রাতে জন্মদিন। সানিম, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের একটি আন্ডার-কন্সট্রাকশন বিল্ডিং এর ১৮ তলার একটি ফাকা স্পেসের জানালা দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে গত বছরের কথা ভাবতে থাকে। নিচের অতিক্ষুদ্র মানুষগুলোর চলাচল তার কাছে তেমন কোন আবেদন তৈরী করে না। সানিম ভাবতে থাকে ঈশ্বরদী ষ্টেশনে নেমে যখন সে কাজরিয়ার বাসায় যাচ্ছিল তখন পুরোপুরি সন্ধ্যা, সাথে শাফায়েত আর সাব্বির। তারা তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মাস্টার্স এর শেষ বর্ষের ছাত্র। সাব্বিরের বাড়ি ঈশ্বরদীতে, তার বাবা বাজারের বড় আড়তদার। সানিমরা আজ তার বাড়িতে উঠবে। সাব্বিরের বাড়ি স্টেশন থেকে পায়ে হাটার দুরত্ব অনুষারে তেইশ মিনিটের পথ। তারা রিক্সায় না চড়ে রেললাইন বরাবর পশ্চিম দিকে হাটতে থাকে। কাজরিয়ার আজ জন্মদিন। সানিম তার সাথে দেখা করার জন্য এখানে এসেছে। কাজরিয়ার বাবা সৈয়দ কায়সার আহমেদ ঈশ্বরদীর সবচেয়ে ধনী কন্ট্রাকটর। জানা যায় কায়সার কন্ট্রাকটর আওয়ামীলীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বিশেষ সুনজরে থাকেন, কারন তিনি উভয়দলকেই সুসময় এবং অসময়ে বিরাট অংকের চাঁদা দিয়ে থাকেন। রাজনীতি ও অর্থনীতি যে পরিপূরক ব্যাপার তা তিনি কার্ল-মার্কসের চেয়ে বেশী বুঝেন বলে ওই অঞ্চলের বামপন্থীরা তাকে উদাহরন হিসাবে স্যাটারিক্যালি হাজির করে থাকে। কাজরিয়ার মা বেঁচে নেই; স্থানীয় কিছু লোকের ধারনা স্ত্রীর নামে বীমার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য সৈয়দ কায়সার আহমেদ তাকে খুন করেছেন। যদিও এটাকে একপ্রকার গুজব বলা যায়, কারন প্রসাশন তাকে কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে আজো খুনি হিসাবে প্রমাণ করতে পারেনি। কাজরিয়া পদার্থবিদ্যা বিভাগে এখন সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী, যদিও তখন সে প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার পর প্রায় দুমাসের মত ক্যাম্পাস ছেড়ে বাপের বাড়িতে বসবাস করছিল। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তার প্রেমিক সানিম। চোখের আড়াল মানেই যে মনের আড়াল- এই তত্ত্ব সে ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিল। সানিমরা যখন সাব্বিরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রেললাইনের উপর দিয়ে হাটছিল, তখন তাদের হাটা পথের পনের মিনিট পার হওয়ার পর তারা এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেয়েছিল। তারা তখন দেখেছিল লাখ লাখ জোনাকি হলুদ আলোয় জ্বলছে আর নিভছে। 'প্রকৃতি যেন আজ কাজরিয়ার জন্মদিনের সাজে সজ্জিত' সানিম তখন ভাবছিল। এদিকে শাফায়াত তার কালো ২৪ ইঞ্চি প্রেসিডেন্ট লেদার ব্যাগ খালি করে কিছু মাল সানিম এবং কিছু মাল শাফয়েত এর ব্যাগে ঢুকিয়েছিল। এর পর ব্যাগ এর ভিতরটাতে তারা জোনাকী ভরতে থাকে। রেললাইনের পাশে দাড়িয়ে তিন যুবক মুঠো ভরে ভরে জোনাকী ধরছে ব্যাপার খানা দুরে দাড়িয়ে থাকা খ্যাক-শিয়ালের কাছেও আধিভৌতিক লাগে। শিয়ালটি এ দৃশ্য দেখে কোন প্রকার শব্দ না করেই আখ ক্ষেতের মধ্যে দৌড় দেয়। পরিপূর্ন রুপে ব্যাগটি ভরা হয়ে গেলে সানিম, সাব্বির ও শাফায়েত সাব্বিরদের বাড়ির দিকে রওনা হয়। তারা যখন সাব্বিরদের বাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছায় তখন সানিম জোনাকী ভরা ব্যাগটা নিয়ে রিক্সায় ওঠে আর বলে 'আমি ঘন্টা খানেকের মইধ্যে আসছি।' হেসে বলে ' দোস্ত মাইন্ড করিস না, আজকে আমার বউয়ের জন্মদিন।' সাব্বির শুধু বলে ' বন্ধু একটু তাড়াতাড়ি এসে পড়িস। রাত্রে একসাথে খাব।' সানিম বিদায় জানিয়ে চলে যায়। সৈয়দ কায়সার আহমেদের বাড়ির সামনে সানিম যখন রিক্সা নিয়ে নামে তখন তাদের দারোয়ান কাম কেয়ারটেকার ফজলু মিয়া বিড়ি খাচ্ছিল। সানিম কে দেখে সে হাত থেকে বিড়ি ফেলে দিয়ে বলে 'কেমন আছেন সানিম ভাই'। সানিম নিজের ভাল অবস্থার কথা তুলে ধরে জিজ্ঞাসা করে কায়সার আহমেদ বাড়িতে আছে কিনা। ফজলু মিয়া যখন বলে যে সাহেব বাড়িতে নাই, তখন সানিম বাড়ির মধ্যে ঢুকে দরজায় ডোর-বেল বাজায়। পারুলের মা দরজা খুললে সানিম তার ব্যাগসহ কাজরিয়ার রুমে ঢুকে যায়। কাজরিয়া সানিমকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলে সানিম কাজরিয়াকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায় আর বলে " হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ... ডার্লিং"। তার পর কাজরিয়াকে সরিয়ে সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ করে দিতে গেলে কাজরিয়া বলে "সর্বনাশ তুমি এ কি করছ। বাবা চলে আসতে পারে যখন তখন আর পারুলের মা বাসায়। প্লীজ দরজা জানালা বন্ধ করোনা।" সানিম তার তর্জনী উঠিয়ে নিজের দুই ঠোঁট বরাবর লম্বালম্বী ভাবে ছুয়ে "শিশ্ শশশশ..." করলে কাজরিয়া চুপ করে যায়। এরপর সে সুইচ-বোর্ডের কাছে যেয়ে বাতি-নিভিয়ে দেয়। 'এই তুমি কি করছ। পাগল নাকি। আজব তো। " সানিম তার হাত দিয়ে কাজরিয়ার ঠোট চেপে ধরে আর নিজের দুই ঠোঁট বরাবর লম্বালম্বী ভাবে তর্জনী ছুয়ে আবার "শিশ্ শশশশ..." করলে কাজরিয়ার ঘন ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যায়। অন্ধকারে শুধু ঘন ঘন নিঃশ্বাস আর চেইন খোলার শব্দ পাওয়া যায়। এরপর এক অভুতপুর্ব দৃশ্যের ব্যঞ্জনা দেখা যায়। কালো প্রেসিডেন্ট ব্যাগের মাঝখান দিয়ে হলুদ রং এর একঝাঁক আলোক বিন্দু উড়ে যেতে থাকে উৎস থেকে বের হওয়া আলোর বিন্দুগুলো সারাঘরে ছুটে বেড়াতে থাকে। কাজরিয়ার তখন নিজেকে দেবী বলে মনে হয় আর সানিমকে তার মনে হয় আলোক-দেবতা। হাজার হাজার জোনাকী তাদের চার পাশে তাদেরকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। তৈরি হয় এক পরাজাগতিক ইল্যুশন। জন্মদিনে এরকম পাগলকরা উপহার কেউ কি কখনো দিয়েছে কাউকে? কাজরিয়া তখন আর বেশি কিছু ভাবতে পারছিল না। তাদের দুজনের চোখে পানি এসে যায়। কাজরিয়া সানিমের বুকে আছড়ে পড়ে আর তাদের কেন্দ্র করে জলতে থাকে, উড়তে থাকে ঘুরতে থাকে এক আলোক মিছিল।
সানিম আঠারো তলায় নির্মানাধীন এক বাড়ির জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে আছে। তার চোখে জল। দুগাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে আঠারো তলা থেকে রাস্তায়, তারপর মিলিয়ে যায় মাটিতে। মাটি সব শুষে নেয়। সব।



লেটস লিসেন দিজ ওয়ান। আই গট ইট ফ্রম মাই কাজিন। জিসান মেস্কিকান একটা হিপ হপ এর সিডি তার টয়োটা প্রিমিওর মিউজিক প্লেয়ারে ঢোকায়। ওয়াসিফ অনেক আগ্রহ নিয়ে মিউজিক শোনে, 'হেই ক্যান উ প্লিজ পুল দা ভল্যুম কোয়াইট আপ?' ওয়াসিফ বলে। ' ইয়া শিওর ডুড।' জিসান প্লেয়ারের ভল্যুমটা বাড়িয়ে দেয়। তার পর গাড়ির এসি বন্ধকরে জানালা নামিয়ে দেয়। ' ক্যান ইউ লাইট দা পট ডুড?' ওয়াসিফ জিজ্ঞাসা করে। জিসান ওয়াসিফ এর দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানের হাসি দেয় যার অর্থ হচ্ছে ' নাউ উই আর অন আওয়ার মিল্কিওয়ে।' জিসান তার সিগারেট কেস থেকে গাঁজায় ভরা একটা জয়েন্ট বের করে গাড়ির হিটারটা দিয়ে জালিয়ে দিয়ে একটা ফুসফুস ভর্তি টান দিয়ে ওয়াসিফ এর দিকে জয়েন্টটা এগিয়ে দিতে দিতে দমবন্ধ গলায় বলে, "ঠু গুড ডুড।" গন্জালেজ এর মেক্সিকান হিপ হপের সাথে গাঁজার টুইস্ট তাদেরকে রেড ইন্ডিয়ান অনুভুতি দেয়। জিসান মিউজিকের ভল্যুম এবং গাড়ির স্পীড দুইটাই বাড়িয়ে দেয়। জিসানের ধারনা সে লোড থাকলে ফরমুলা ওয়ানে সে মাইকেল শুমাখারকে হারিয়ে দিতে পারবে। অবশ্য তার জানা নেই কার রেসে ডোপ টেস্ট হয় কিনা।



চলবে....

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্প বিন্দু দুই ;
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:০২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ২:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সিহাব চৌধুরী। আমি উৎসাহিত হচ্ছি।

০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ২:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন: চলবে বস্। ধন্যবাদ আপনাকে।

৪. ০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ২:২৮
নেমেসিস বলেছেন: নতুন স্বোয়াদ । ভালই লাগতেছে ।
০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ২:৩৮

লেখক বলেছেন: জ্বি জনাব। আরো ভাল লাগবে আশাকরি। ধন্যবাদ।।

৫. ০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ২:৩৫
ভক্কডা বলেছেন: চালাইতেই অইব, নাইলে মন্টুর লাহান গাইল দিমু
০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন: গাইল দিতে হবেনা বস্। ব্যাপারখানা চলবে। ধন্যবাদ আপনাকে।

৬. ০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ৩:৫৪
এস্কিমো বলেছেন: অরিজিনাল স্বাদের হইছে।

বিশেষ করে - "চাইলের দাম বারলে মালের দাম বারব ক্যান হেইডা অহনতরি বুজবার পারে নাই মন্টু-মিয়া। মাল-মুল খাইয়া বিষয়ডা লইয়া বাপতে অইব।"


দারুন।

০৮ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ এস্কিমো।

০৮ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি আমাকে অনেক উৎসাহিত করেন।

৮. ০৮ ই মে, ২০০৮ ভোর ৪:০৫
নেমেসিস বলেছেন: টাইটেলের মন্তব্য বানানটা ঠিক করবেন প্লিজ
০৮ ই মে, ২০০৮ সকাল ৯:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আরো কিছু বানানে ভুল আছে ও গুলোও ঠিক করতে হবে।

০৮ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:০০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

১০. ০৮ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৫৪
রেটিং বলেছেন: ভালোই লাগছে। কঠিন হইসে। পিলাচ।
০৯ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রেটিং।

১১. ২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৫৬
"ডিজিটাল বয়াতী" উলঙ্গ বাবা পিণিক চাঁন ব্যাভিচারী বলেছেন: "অন্ধকারে চেইন খুলার শব্দ পাওয়া যায়" শুইন্যা একটু সিদা হয়া বইচিলাম চেয়ারে (বিশেষ কইরা আফনের আগের গইল্প গুলাইন পড়ার পড়ে)...কিন্তু হুতাশ হইসি...

তাও পেলাস...গইল্প বালা অইসে..."সানিম" আর "শাফায়েত" এর নাম হু্ইনা বাল লাগতাসে।
১১ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৫৪

লেখক বলেছেন: দন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ২.১৯১৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ফিল্ম মেকার
বয়স: ২৭
বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত
দেশের বাড়ি: নড়াইল।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই