আজ আমি যে লিখাটা লিখছি তা একটি বাস্তব ঘঠনা।
ঘটনা টি যখন ঘটেছিল আমি তখন মনে হয় ক্লাস ১/২ তে পড়ি। ঐ সময় আমার বড় ভাই পাবনা ক্যাডেট কলেজে পড়েন। তাকে দেখার জন্য আমরা প্রায়ই পাবনা যেতাম। এমনি এক দিনে আমার তার সাথে দেখা। আমরা প্রতি বারেই ভাইয়া কে দেখার জন্য প্রাইভেট কার নিয়ে যেতাম কিন্তু সেবার তা হলো না। গাড়ীতে যেন কি হয়েছে এবার গাড়ী নেয়া যাবে না। তাই বাসের টিকেট কাটা হয়।
আমি এমনিতেই কোথাও যাবার কথা শুনলে এক পায়ে দাড়িয়ে থাকি। আর সেবার ছিল বাসের পালা, অনেক মানুষের মাঝে থাকব। একটু আলাদা অনুভূতি কাজ করছিল। কিন্তু আমাকে জানানো হয় এবার বাসে যাওয়া হচ্ছে তোমাকে নেয়া হবে না। আমি একটু হতাশ হয়ে পরি। কিছু সময় বাবাকে রাজি করার চেষ্টা করি, কিছ সময় মাকে রাজি করার চেষ্টা করি। এক পর্যায় তার রাজি হয় এবং আমরা এক সাথে যাই।
প্রথমে বেবী টেক্সী করে গাবতলী এবং সেখান থেকে কোন এক বাসে করে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা হই। বাসে অন্যান্য ক্যাডেটদের বাবা-মা ও ভাই বোনেরা ছিল।
তার সাথে আমার পরিচয়ের ঘটনাটি ঠিক ভালভাবে মনে নেই। শুধু এতটুকু মনে আছে তারা আমাদের সামনের সিটে বসে ছিল। কোন এক পর্যায় সামনের সিটের ঐ মহীয়শীর সাথে আমার কথা শুরু হয়। কথা ঠিক না আমরা খুব সম্ভবত অংক নিয়ে কিছু করছিলাম। সেদিন বৃষ্টি ছিল। বাসের কাচ, বাইরের বৃষ্টিতে এবং বাসের ভিতরের এসির বাতাসে ঘোলা হয়ে যাচ্ছিল। সেখানেই কিছু লিখে কথা বলা হচ্ছিল। কি কথা হচ্ছিল আমার ঠিক মনে নাই। কথা কোথায় সমাপ্ত ঘটে ছিল ঠিক তাও এই মুহুর্তে মনে করতে পারছিনা (এ কারনে বল্গার ভাইদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী)।
তবে এটা সত্যি তার কথা আমি এখনো ভুলতে পারিনি। ভুলতে পারিনি সেই বাসের কাচে দাগাদাগির কথা। আমি একনো একাকি মনে তার কথা ভাবি। আমি জানিনা সে আমার কথা ভাবে কিনা। তবে আমি আমার প্রতিটি মুহুর্তে তার কথা ভাবি।
আমার পরিবার তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য তাদের বাড়ির নাম্বার নিয়েছিল কিন্তু কখনো যোগাযোগ করা হয়নি। তাদের বাড়ির নাম্বারটাও কোথায় জেন হারিয়ে যায়।
আমি এমনি অভাগা তার নামটিও আমার মনে নেই।
আপনার একটু দোয়া করবেন যেন জীবনে একটি বারের জন্য হলেও, জীবন রাস্তার কোন এক বাকে আমার সাথে তার যেন দেখা হয়।
২য় পোষ্টটি আমার স্কুল জীবনের এক ফ্রেন্ডকে নিয়ে লিখব। সেও হারিয়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



