আরমান

সেনাবাহিনী-সুশীল সম্পর্ক (শেষ-পর্ব )

০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:০০

শেয়ারঃ
0 0 0


গত বুধবারের কলামে মরহুম মেজর জেনারেল শাকিলের একটি লেখার প্রসঙ্গ টেনে সেনাবাহিনী-সুশীল সম্পর্কের প্রথম-পর্ব সমাপ্ত করেছিলাম। Transit and Transhipment : Implications for Bangladesh নামে সেই প্রবìধটি পড়লে যে কেউ স্বীকার করবেন মরহুম শাকিল আহমেদ বেশ পরিশ্রম করে লেখাটি দাঁড় করিয়েছেন। প্রায় সাত হাজার শব্দের প্রবìধটি লিখতে তিনি বাংলাদেশের তাবৎ ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীদের লেখালেখির সাহায্য তো গ্রহণ করেছেনই, বিদেশী অনেক পণ্ডিতের লেখা দ্বারাও অনুপ্রাণিত হয়েছেন। প্রবìধটিতে যে প্রায় অর্ধশত তথ্য অথবা গ্রন্থের উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর লেখকদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি তারা হলেন সর্বজনাব রেহমান সোবহান, ড. এম রহমতউল্লাহ্, আবদুল বায়েস, ইফতেখারুজ্জামান, গুরুদাস দাস, গুলশান সচদেব, সৈয়দ রেজাউল হায়াত এবং এম আবদুল হাফিজ। এই দীর্ঘ লেখাটির দীর্ঘ উদ্ধৃতি দিয়ে পাঠকের বিরক্তি উৎপাদন করা সঙ্গত হবে না বিবেচনা করে তার লেখার যে অংশগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে কেবল সেগুলোই এই কলামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিধায় উদ্ধৃত করছি­
১। Some writers have suggested that transhipment of Indian goods might provoke or encourage insurgent activities inside the country. There are many Indian business houses and interests in Bangladesh. Not once have these been targeted by Indian insurgents in the past. Although an attack by Indian insurgents cannot be ruled out, the likelihood seems to be low. In any case, the suggestion that India will invade Bangladesh to protect transhipment traffic seems improbable and without precedent. Bangladesh’s economic and political decisions can hardly be deflected on the basis of such far-fetched apprehensions.. (কোনো কোনো লেখক বলার চেষ্টা করেছেন, ভারতীয় পণ্যের চলাচল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিদ্রোহীদের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে পারে। বাংলাদেশে অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অতীতে এজাতীয় একটি প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করেও ভারতীয় চরমপন্থীরা হামলা চালায়নি। যদিও ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না, তবে এ রকম কোনো কিছু ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। যা হোক পণ্য পরিবহনের সুরক্ষার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালাবে এজাতীয় বক্তব্য অবাস্তব এবং এ ধরনের ঘটনার অতীত কোনো উদাহরণও নেই। কেবল কল্পনাপ্রসূত সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিপথে নিয়ে যাওয়া অনুচিত হবে।)
২. The costs for not initiating sub-regional transport and economic cooperation are high for all the countries in the region. Bangladesh, India, Nepal and Bhutan stand to gain substantially through sub-regional transhipment and transit. It is clearly a win-win situation for all. (আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা না হলে এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকে অনেক মূল্য দিতে হবে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে পারস্পরিক ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার ব্যবস্খা করা হলে প্রতিটি রাষ্ট্রই মোটারকম লাভের মুখ দেখবে। এই প্রকার সহযোগিতা সবার জন্যই পরিষ্কার সুফল নিশ্চিত করবে।)
৩। Bangladesh, on its part, has to assess the relative importance of its disputes with India. Neither the resolution of the land boundary Agreement nor that of South Talpatty is crucial to the economic prosperity and, the political and security concerns of Bangladesh. Similarly transhipment is important to Bangladesh as it would not only lead to economic gains, but would also provide a political advantage in its dealings with India. Once transhipment is provided, the states of NER will develop a stake in maintaining good relations. Comparatively less important issues in India-Bangladesh relations should not be allowed to cloud assessment of substantial matters. (বাংলাদেশের সাথে ভারতের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। স্খল সীমানা নির্ধারণ চুক্তি অথবা দক্ষিণ তালপট্টি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিংবা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরঞ্চ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং ভারতে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশাধিকারের ইস্যু আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ট্রান্সশিপমেন্ট বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূল কারণ এর ফলে কেবল আমরা অর্থনৈতিকভাবেই লাভবান হবো না, ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন প্রশ্নেও রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্খানে থাকব। পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেয়া হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো নিজ স্বার্থেই বাংলাদেশের প্রতি বìধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন করবে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ফয়সালার উদ্যোগ গ্রহণ তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দ্বারা বাধাগ্রস্ত হওয়া কাম্য নয়।)
উল্লিখিত প্রবìধটির রচয়িতা কোনো ভারতীয় জেনারেল হলে আমি মোটেও বিস্মিত হতাম না। আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে এ দেশের আপামর জনসাধারণের জানার অধিকার রয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত কতজন জেনারেল ভারতকে করিডর প্রদানের বিষয়ে মরহুম বিডিআর মহাপরিচালকের মতো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এই অতি সংবেদনশীল তথ্য আমজনতার জানার কোনো উপায় নেই। জেনারেল শাকিল নিহত হওয়ার পর একটি টেলিভিশন চ্যানেলে তার কন্যার সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারে মরহুম শাকিলের কন্যা জানিয়েছে যে বাংলাদেশের সফল পেশাজীবী মহিলাদের মধ্যে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর নাকি তার মরহুম পিতার অন্যতম আদর্শ। জীবিতাবস্খায় জেনারেল শাকিল তার কন্যাকে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীরের মতো আইন পেশায় সফল হওয়ার জন্য সর্বদা অনুপ্রেরণা দিতেন। পিতার দু:খজনক এবং অকালমৃত্যুতে শোকাতুর কন্যা এখন স্বাভাবিকভাবেই একজন তানিয়া আমীর হওয়ার দৃঢ় সঙ্কল্প গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর শীর্ষপদে কর্মরত একজন জেনারেল যখন প্রবìধ লিখে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন যে বাংলাদেশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আগ্রাসনের কোনো সম্ভাবনাই নেই তখন সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য যে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কি না। বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশের জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে সেনাবাহিনী প্রতিপালন করতে হয় বহি:শক্রর আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য, কেবল জাতিসঙ্ঘের শান্তি মিশনে প্রেরণের জন্য নয়। আমাদের বৃহৎ আধিপত্যবাদী প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের দিক থেকে আগ্রাসনের সম্ভাবনা ছাঁটাই করে দিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের যে অবাক করা ইঙ্গিত জেনারেল শাকিল তার লেখায় দিয়েছেন তাতে করে প্রকৃত স্বাধীনতার সপক্ষের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বেন বলেই আমার ধারণা। গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী-সুশীল সম্পর্ক বিষয়ক লেখার প্রথম-পর্বে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের সেনাবাহিনী বিদ্বেষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলাম। বাংলাদেশকে শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীবিহীন একটি রাষ্ট্র গড়ার ইউটোপীয় দর্শন সম্ভবত সেই সময় তার মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছিল। ঐতিহ্যগতভাবে সেনাবিদ্বেষী সুশীল(?) সমাজের সাথে মাত্রাতিরিক্ত মেলামেশার ফলে মরহুম শাকিলও একই প্রকার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন কি না এই প্রশ্নের জবাব আমাদের অজানাই থেকে যাবে।
দুর্ভাগ্যজনক পরিস্খিতিতে নিহত বিডিআর মহাপরিচালকের প্রসঙ্গ এবার সমাপ্ত করি। জেনারেল এরশাদের পর দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময়ের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের কার্যক্রম, চিন্তাচেতনা বিশ্লেষণ না করলে আমাদের প্রতিরক্ষা দর্শনের বর্তমান দুর্বলতা উপলব্ধি করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের সেনাপতি এক-এগারো-পরবর্তী সময়ে একজন সফল লেখক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আমি যত দূর জানি এ পর্যন্ত তার দু’টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমটি অবশ্য মৌলিক কোনো গ্রন্থ নয়, এক-এগারো পরবর্তী সময়ে তার বিভিন্ন বক্তৃতার সঙ্কলন মাত্র। ‘শান্তির স্বপ্নে, সময়ের স্মৃতিচারণ’ নামের দ্বিতীয় গ্রন্থটি মূলত এক-এগারোর ঘটনাবলিকে উপজীব্য করে এবং ওই সময়কার আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের পেছনে কত মহৎ উদ্দেশ্য কাজ করেছে তারই প্রমাণ হিসেবে রচিত। পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি, জেনারেল মইনের এই গ্রন্থটি এবারের একুশে মেলায় নাকি সর্বোচ্চ বিক্রীত গ্রন্থের তালিকায় স্খান পেয়েছে। এই সাফল্যের জন্য একজন অকিঞ্চিৎকর কলাম লেখক হিসেবে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তবে একই সাথে এই আশঙ্কাও ব্যক্ত না করে পারছি না যে দায়িত্বরত অবস্খায় রাষ্ট্রের গোপনীয় সব তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ভবিষ্যতে সেনাপ্রধানকে না আবার জবাবদিহি করতে হয়। সেই ভাবনা অবশ্য তার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। আমার বিস্ময় অন্য কারণে। জেনারেল মইন ইউ আহমেদের লিখিত উভয় গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত এবং বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন সুশীল(?) সমাজের অন্যতম গুরু, টিআইবি প্রধান প্রফেসর মোজাফফর আহমদ। আইবিএতে অধ্যয়নকালে আমার তৎকালীন এই শিক্ষকের সেনাবাহিনীর প্রতি যে একপ্রকার তাচ্ছিল্য লক্ষ করেছি সে বিষয়ে আগের একাধিক লেখায় উল্লেখ করেছি। কোন মন্ত্রবলে এক-এগারোর আগে অথবা পরে বর্তমান সেনাপ্রধান প্রফেসর মোজাফফর আহমদের মন জয় করেছেন তা তিনিই ভালো জানেন। অবশ্য এই প্রবীণ অধ্যাপকের সাথে অপর এক সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব:) হাসান মশহুদ চৌধূরীর অন্তরঙ্গতার বিষয়েও বাংলাদেশের জনগণ মোটামুটি অবহিত আছেন। মহাশক্তিধর দুদক চেয়ারম্যান মহোদয় প্রথম আলো পত্রিকা কার্যালয়ে প্রায়ই পদধূলি দিতে পছন্দ করেন সে তথ্যও পত্রিকা মারফতই জেনেছি। প্রথম আলো পত্রিকার মালিক, বিশিষ্ট সুশীল(?) ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশের কথিত শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের সর্বশেষ ৮০ জনের তালিকার নয় নম্বরে স্খান পেয়েছিলেন। দুদক’র তালিকাভুক্ত দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে যাওয়াটাকে দুদক চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে লে. জে. (অব:) হাসান মশহুদ চৌধূরী সম্ভবত কোনো নৈতিকতাবিরোধী কাজ মনে করেন না। যেমন তিনি মনে করেন না যে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ করে জরিমানা দিলে কোনো রকম নৈতিক স্খলন ঘটে। নৈতিকতার মানদণ্ড এক একজনের কাছে এক এক ধরনের এ তো জানা কথাই। ক’দিন আগে প্রথম আলো পত্রিকাতেই পড়লাম এনডিসি কোর্সে প্রশিক্ষণরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্খ কর্মকর্তারা প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন করে সাংবাদিকতা সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এসেছেন। অবস্খাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে, দেশের অধিকাংশ নাগরিকের অজান্তেই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বর্তমান উচ্চপদস্খ কর্মকর্তাদের একাংশের সাথে ঐতিহ্যগতভাবে সেনাবিদ্বেষী, ভারতের প্রতি অনুগত বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীদের এক প্রগাঢ় মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ১৯৯০ সাল-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিযাত্রা আরম্ভ হওয়ার পর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মোর্চা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সময় ক্ষমতাসীন ছিল। এই সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে যে চিন্তাচেতনার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন সম্পূর্ণ অìধকারে ছিলেন সেই প্রশ্ন এখন সঙ্গত কারণেই উথাপিত হতে পারে।
২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের আমেরিকা প্রবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় একজন সাবেক মার্কিন সেনার সাথে যৌথভাবে একটি প্রবìধ রচনা করেছিলেন। লেখাটির পক্ষে-বিপক্ষে আমাদের দেশে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। জনপ্রিয় কলামিস্ট ফরহাদ মজহার নয়া দিগন্ত পত্রিকাতেই সেই সময় দুই কিস্তিতে লেখাটির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছেন। আমার বর্তমান লেখায় সজীব ওয়াজেদের প্রবìেধর নির্যাসটুকু পাঠকের অবগতির জন্য উল্লেখ করা জরুরি বিবেচনা করছি। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মাদ্রাসায় শিক্ষাপ্রাপ্ত বিপুল সংখ্যায় সৈনিকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে যা এ দেশের গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের জন্য বিপজ্জনক। কাজেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এমন একটি শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন যার ফলে আমাদের রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনী সর্বতোভাবে একটি সেকুলার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। সজীব ওয়াজেদের চিন্তাধারার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমবিদ্বেষী নিও-কন (ষপস-ধসষ) গোষ্ঠীর চিন্তার সাযুজ্য লক্ষ্য করে দেশপ্রেমিক পাঠক সম্ভবত মর্মাহত হবেন। গত সপ্তাহের কলামে অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘লিগ্যাসি অব ব্লাড’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করে দেখিয়েছিলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে মরহুম শেখ মুজিব কতটা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন। দীর্ঘ তিন যুগ পর দেখা যাচ্ছে তার দৌহিত্রও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের একই প্রকার সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, জয়ের বক্তব্যের মধ্যে খানিকটা শ্রেণীবিদ্বেষের প্রকাশও ঘটেছে। মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সেকুলার সুশীলরা দীর্ঘদিন ধরেই একধরনের জেহাদ চালিয়ে গেলেও তারা কখনোই এই শিক্ষার বিস্তারের পেছনের অর্থনৈতিক কারণটি বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনবোধ করেননি। দেশের প্রধানত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানরাই যে মাদ্রাসায় শিক্ষাপ্রাপ্ত হচ্ছে এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যায় দরিদ্র হিন্দু শিশুরা যে বর্তমানে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে এমন তথ্যে বাংলাদেশের এলিট বুদ্ধিজীবীকুল নিশ্চয়ই আঁতকে উঠবেন। সজীব ওয়াজেদ তার লেখায় যে ভাষায় মাদ্রাসা থেকে উঠে আসা সৈনিকদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করেছেন তা তার উৎকট শ্রেণিবিদ্বেষের পরিচয় বহন করেছে। তার পিতামহ শেখ মুজিবের সপক্ষে অন্তত এটুকু বলা যেতে পারে, তিনি আর যা-ই হোন অন্তত এলিট শ্রেণীর মতো শ্রেণিবিদ্বেষী ছিলেন না। দেশের সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে তুচ্ছাতিতুচ্ছ জ্ঞান করতেন না। আসল কথা হলো, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং মাতৃভূমির প্রতি অবিচল আনুগত্যের যে ঐতিহ্য মহান মুক্তি সংগ্রামের সময় থেকে আবহমান রয়েছে সেখান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্যুতি ঘটানোর দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়নই আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখতে পাচ্ছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী পুত্রের লেখালেখির মর্মার্থ এ ষড়যন্ত্রের আলোকেই আমাদের অনুধাবন করা কর্তব্য।
বিগত দুই দশক যাবৎ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নানা কৌশলে সুশীল(?) সমাজের অনুপ্রবেশ করার যে মূল উদ্দেশ্য তার সাথে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সেনাবাহিনীর সদস্যদের সেকুলার ভাবধারায় পরিবর্তিত করার ঘোষিত লক্ষ্যের কোনো ভিন্নতা নেই। তবে এই লড়াই কেবল ধর্ম বিশ্বাসসম্পর্কিত বিবেচনা করলে আমরা বিশাল এক ভ্রান্তিতে পতিত হবো। এসব কার্যক্রমের প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের জনগণের সাথে সম্পর্কচ্যুত একটি সেনাবাহিনী গঠন করা, যারা আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের প্রতি অনুগত এবং সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ থাকবে। এক-এগারোতে বিউটেনিস, আনোয়ার ও রেনাটার নির্দেশে যে অভ্যুথান পরিচালনা করা হয়েছিল তার পরিণামে এক লহমায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিজ দেশের জনগণের পরিবর্তে সুশীলনির্ভর হতে বাধ্য হয়েছে। পরবর্তী দুই বছরে পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীর মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ফলে জনমনে তাদের অবস্খান দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে। পিলখানায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর বিডিআর’র নাম পরিবর্তনের যে ধুয়া তোলা হচ্ছে আমার বিবেচনায় সেটিও বাংলাদেশের সার্বিক প্রতিরক্ষাব্যবস্খা ভেঙে ফেলার পরবর্তী ধাপ ছাড়া আর কিছু নয়। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর’র পথভ্রষ্ট সৈনিকরা যে নারকীয় কাণ্ড করেছে কোনো নিন্দাজ্ঞাপনই তার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু ওই চরম নিন্দনীয় ঘটনার জন্য বিডিআর নামটির কী অপরাধ রয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। বাংলাদেশ রাইফেলস নামটির সাথে শুধু যে আমার মাতৃভূমির নাম জড়িয়ে রয়েছে তাই নয়, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে আরম্ভ করে আঞ্চলিক সম্প্রসারণবাদী শক্তির অব্যাহত আক্রমণ মোকাবেলার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানটি সর্বদা গৌরবোজ্জ্বল ও সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। রৌমারীর বীরদের এত দ্রুত আমরা ভুলে যেতে পারি না। আমরা অবশ্যই বিডিআর বিদ্রোহের প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে যথাযথ শাস্তি প্রদানের পক্ষে। কিন্তু রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এই যে উদ্দেশ্যমূলক নাম পরিবর্তনের হুজুগ তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের অবস্খান নেয়া কর্তব্য।
পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতেই ইতিহাসের কোনো এক পর্যায়ে অভ্যুথান-পাল্টা অভ্যুথানের ঘটনা ঘটেছে। স্বাধীন বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। দল-মত নির্বিশেষে এই দেশের প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার স্বরূপটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলে আমাদের দেশ মহাদুর্যোগে পতিত হবে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের আবেগকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্খা দুর্বল করার প্রচেষ্টা এখন প্রকাশ্যেই চালানো হচ্ছে। এক-এগারো -পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীকে যখন ক্রমান্বয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রকল্প অত্যন্ত মুনশিয়ানার সাথে বাস্তবায়ন করা হয়েছে সেই কঠিন সময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বারবার সাবধান করেছি। আমাদের সেই সাবধানবাণী কোনো কাজে আসেনি, কারো কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনি। দেশবিরোধী শক্তির চাকচিক্যময় এবং উচ্চকণ্ঠের প্রচারণার মাঝে আমাদের ক্ষীণ, দুর্বল কণ্ঠ হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা যেমন কখনোই তাদের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে চান না, একই ধারায় দেশের নিরাপত্তার মহান দায়িত্বে যারা নিয়োজিত রয়েছেন তারাও যে কোনো প্রকার আত্মপর্যালোচনার প্রয়োজন অনুভব করছেন এমন প্রমাণ দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ যাবৎ মেলেনি। ২০০৭ সালের মতো এবারো হয়তো সেনাবাহিনীর সদস্যদের ভ্রান্তি থেকে বাঁচানোর আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থই হবে। তার পরও দেশের স্বার্থে অনুরোধ করব তারা যেন কেবল প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলের বৃহত্তর চিত্র দেখতে আবারো ভুল না করেন। বিডিআর’র নাম পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের নামে নবরূপে রক্ষীবাহিনী গঠনের যে প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে তাকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা আবশ্যক। বর্তমান বিডিআর প্রধান ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী জনগণের পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয় যে, এই বিএসএফ’র গুলিতেই প্রায় প্রতিদিন সীমান্তে আমার-আপনার ভাইবোন বড় নির্মমভাবে নিহত হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ছাড়া এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেবল ফিলিস্তিন সীমান্তে দেখা যায়, যেখানে ইসরাইলি সেনারা প্রতিনিয়ত প্যালেস্টাইনের অসহায় জনগণকে গুলি করে হত্যা করছে। প্রকৃত সৈনিকের প্রধান কর্তব্য দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে জীবন বিসর্জন দেয়া। সুশীলদের সাথে সখ্য তৈরি করে কূটনীতিকের ভূমিকা গ্রহণ করলে সম্ভবত সৈনিকতার মৃত্যু ঘটে। লেখাটির সমাপ্তি টানার আগে সচেতন পাঠকের চিন্তার খোরাক হিসেবে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের উল্লেখ করব। আমাদের সেনাপ্রধান তার বহুল আলোচিত গ্রন্থে স্বীকার করেছেন, জাতিসঙ্ঘের এক কর্মকর্তার নির্দেশেই তিনি এক-এগারোতে বঙ্গভবনে ছুটে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্খা জারিতে বাধ্য করেছিলেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনী এবং দেশের সার্বভৌমত্ব যেহেতু অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত কাজেই আমাদের নীতিনির্ধারকরা গত দুই দশক ধরে সেনাবাহিনীকে রফতানিযোগ্য জনশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের যে নেশায় মেতে উঠেছেন তার পুনর্মূল্যায়ন হওয়া দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই আজ অতীব জরুরি।

( লেখক - মা হ মু দু র র হ মা ন )

 

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:০১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:১৯
জাবেদ শোয়েব বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন, মাহমুদ ভাই। আপনার লেখাটা পড়ে আমার নিজের কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়েছে। এজন্য অনেক ধন্যবাদ।
০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে লেখাটা পড়ার জন্য,

২. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২১
ধীবর বলেছেন: মাহমুদুর রহমানের সত্য প্রকাশের কারণে অনেকেরই গাত্রদাহ হয়। মুখে যতই বাকস্বাধীনতার কথা বলুক, এরা মনে মনে সবাই বাকশালি। প্লাস।
০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৩৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে লেখাটা পড়ার জন্য, সাহসিকতার সাথে সত্য প্রকাশ করেন বলেই মাহমুদুর রহমানের লেখা আমার ভাল লাগে,
আর কাদের কাছে আপনি বাকস্বাধীনতার আশা করেন?
দেখেন না কেন এই ব্লগে যারা বিএনপি বা অন্যদলের একটা সামান্য কিছু দেখলেই চিৎকার শুরু করেদেন,কিন্তু ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের কারনে দেশের একটার পর একটা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অথচ ব্লগের সেইসব পন্ডিত নামের ভন্ডরা সম্পুর্ন্ন নিরব,

৩. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩৩
স্বপ্ন ব্যাকরণ বলেছেন:
লেখাটা পড়ে অনেক খারাপ লাগলো।

এই অভাগা গরীব দেশের বিরুদ্ধে যে কত রকমের ষড়যন্ত্র চলতেছে।


বিডিআর বিদ্রোহের পর আমি একটা পোষ্ট দিয়ে ছিলাম অনেকের সেনাবাহিনী বিদ্বেষ
দেখে। তখন অনেক ব্লগার আমার সমালোচনা করে মন্তব্য করেছে এবং বিডিআর
কে সমর্থন করে ছিলো। কিন্তু গত কিছু দিন যাবৎ যখন বর্তমান বিডিআর প্রধান সে বিডিআরের নাম পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছে তখন কোন ব্লগার কে দেখলাম না তার
সমালোচনা করতে! সত্যেই এ জাতীর চিন্তা চেতনা বড়ই বিচিত্র। মতলববাজেরা
আজ জাতীর বিবেকের আসনে আসীন।



৪. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:১৬
মুহাম্মদ ফয়সল বলেছেন: লেখক বলেছেন, "কোন মন্ত্রবলে এক-এগারোর আগে অথবা পরে বর্তমান সেনাপ্রধান প্রফেসর মোজাফফর আহমদের মন জয় করেছেন তা তিনিই ভালো জানেন।"
এতে আপনার গাত্রদাহের কারণ বুঝলাম না।
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:২৯

লেখক বলেছেন: সমালোচনার মানে গাত্রদাহ নয় একথা নিশ্চয় জানেন?
কোন মন্ত্রবলে এক-এগারোর এসেছে আর তার আগে অথবা পরে বর্তমান সেনাপ্রধান কোন মন্ত্রবলে প্রফেসর মোজাফফর আহমদের মন জয় করেছেন তা তিনিই ভালো জানেন।
অবশ্য দেশবাসী কাছেও তা অজানা নয়

৫. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
দিগন্ত বলেছেন: পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতেই ইতিহাসের কোনো এক পর্যায়ে অভ্যুথান-পাল্টা অভ্যুথানের ঘটনা ঘটেছে।

- কিন্তু এর ফলে কি দেশগুলোর অনেক উন্নতি ঘটেছে?
৬. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩
সাদাকালোরঙিন বলেছেন: ১/১১ এর কারনে মাহমুদুর রহমানের নীলনক্সার নির্বাচন হলো না। এজন্যই তার এত গাত্রদাহ ।

মাহমুদুর রহমান উত্তরা ষড়যন্ত্রকারী। বিএনপির পা চাটা মামলাবাজ ।

তার মুখে সুশীল সমাজ শব্দটা মানায় না।
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৩২

লেখক বলেছেন: ১/১১ এর কারনে মাহমুদুর রহমানের নীলনক্সার নির্বাচন না হলেও কারো না কারো যে নীলনক্সার নির্বাচন হয়েছে তা নিশ্চয় স্বীকার করবেন?

৭. ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৫
সাদাকালোরঙিন বলেছেন: ১/১১ এর কারনে মাহমুদুর রহমানের নীলনক্সার নির্বাচন হলো না। এজন্যই তার এত গাত্রদাহ ।

মাহমুদুর রহমান উত্তরা ষড়যন্ত্রকারী। বিএনপির পা চাটা মামলাবাজ ।

তার মুখে সুশীল সমাজ শব্দটা মানায় না।
০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৩৯

লেখক বলেছেন: ১/১১ এর কারনে মাহমুদুর রহমানের নীলনক্সার নির্বাচন না হলেও কারো না কারো যে নীলনক্সার নির্বাচন হয়েছে তা নিশ্চয় স্বীকার করবেন?
মাহমুদুর রহমান উত্তরা ষড়যন্ত্রকারী যে একটা প্রপাগান্ডা তা ইতিমধ্যে প্রমান হয়েছে, উত্তরা ষড়যন্ত্র যদি সত্য হতো তাহলে আপনাদেরকে যারা ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন তারা মাহমুদুর রহমানকে ছেড়ে দিতেন না,অবশ্য আপনাদেরকে যারা ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন তারা মাহমুদুর রহমানকে শেষ কর দিতে অনেক চেস্টাই করেছেন।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৯. ০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:২১
প্রগতিশীল বলেছেন:
বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতসহ সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্তের বিষয়টি প্রমাণিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখন প্রয়োজন ভারত ও তাদের এদেশীয় দাসদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রস্তুতি নেয়া। সেইসাথে জনগনকেও প্রস্তুত করা।
১০. ২৩ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:৩০
ত্রিকাল বলেছেন: মাহমুদুর রহমান হইল বাটপার মহা বাটপার

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৫৭১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই