আরমান

আওয়ামী লীগে কি দেশপ্রেমিক অবশিষ্ট নেই? ----- সিরাজুর রহমান

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২৩

শেয়ারঃ
0 0 0

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ত্বরিত সাফল্য বিশ্বব্যাপী বিস্ময় ও প্রশংসা লাভ করেছিল। স্বাধীনতা সংগ্রাম, এমনকি শেখ মুজিবের ছয় দফা স্বায়ত্তশাসনের দাবিও দীর্ঘস্খায়ী ছিল না। ছয় দফার দাবি প্রথম উথাপিত হয় ১৯৬৬ সালে। অবশ্য মওলানা ভাসানী তার আগেও স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানিদের ‘খোদা হাফেজ’ জানিয়েছিলেন। মুজিব ১৯৭১ সালের মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন, কিন্তু স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তার পরও তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও পিপিপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে অনেক আলাপ-আলোচনা করেছেন, তাকে অখণ্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করার দাবি পরিত্যাগ করেননি।
পাকিস্তানিরা যখন বিশ্বাসঘাতকতা করে ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর সামরিক আক্রমণ চালায়, দেশের মানুষ তখনই প্রতিরোধ সংগ্রাম শুরু করে। মুজিব তখন পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। মেজর জিয়াউর রহমান মুজিবের নামে স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে আনুষ্ঠানিকতা দেন। তার নয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।
আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিব যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের হৃদয়ে দৃঢ় আসন লাভ করেছিলেন, তার কারণ এই ছিল যে, তারা গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবির সাথে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ শোষণ ও আহরণ করেছে। তৎকালীন দেশের এ অংশের বিকাশ ও বিবর্তন এবং মানুষের জীবন-মানের উন্নতি তাদের লক্ষ্য ছিল না। পাট মূলত পূর্ব পাকিস্তানে উৎপন্ন হতো। তাই কয়েকটি পাটকল এখানে স্খাপন করা হলেও সেগুলোর মালিকরা ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি আদমজী, বাওয়ানী প্রমুখ। মুনাফার অর্থ সাথে সাথে চলে গেছে পশ্চিম পাকিস্তানে। ভেতরে ভেতরে তারা পশ্চিম পাকিস্তানে পাট উৎপাদনের গবেষণা চালাচ্ছিলেন।
একটি দৃষ্টান্ত থেকে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যাবে। ১৯৫১ বা ১৯৫২ সালে এ খবরটি আমি পত্রিকায় ছেপেছিলাম। পূর্ব পাকিস্তানের মাত্র বৃহত্তর সিলেটে চা উৎপন্ন হতো। চা রফতানি করার জন্য প্লাইউডের ‘চেস্ট’ (বাক্স) তখন আমদানি করা হতো। পূর্ব পাকিস্তানের এক উদীয়মান শিল্পপতি সুন্দরবন অঞ্চলের সুন্দরী কাঠ থেকে টি-চেস্ট তৈরির একটা প্রকল্প তৈরি করেছিলেন। তিনি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও আনার অর্ডার দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো পশ্চিম পাকিস্তানি মন্ত্রী কিংবা আমলার ধারণায় সেটা অনুচিত ছিল। টি-চেস্ট কারখানার লাইসেন্স পরিবর্তন করে জনৈক পশ্চিম পাকিস্তানিকে দেয়া হয়। মাঝসমুদ্র থেকে যন্ত্রপাতি পূর্ব পাকিস্তানের বদলে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। স্খির হয়, কারখানা পশ্চিম পাকিস্তানেই বসবে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে সুন্দরী কাঠ যাবে সেখানে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে তৈরি টি-চেস্ট পূর্ব পাকিস্তানে আসবে চা ভর্তি করার জন্য। মনে আছে, বিভিন্ন মহল থেকে এই উদ্ভট কাণ্ডকারখানার প্রতিবাদ করে পত্রিকায় বিবৃতি ছাপা হয়েছিল।
সার কথাটা হলো­ পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ শোষণ এবং এখানকার মানুষকে বঞ্চিত করে পশ্চিম পাকিস্তানের শ্রীবৃদ্ধির বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছিল এবং সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েছিল। এ দলটির জনপ্রিয়তা প্রায় রাতারাতি আকাশচুম্বী হয়ে ওঠার এটাই ছিল কারণ, এবং এ কারণেই অন্য সব স্বাধীনতা আন্দোলন ও যুদ্ধের মতো বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার জন্য যুগ যুগ সংগ্রাম করতে হয়নি।
বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য, আজকের আওয়ামী লীগকে আর সে আওয়ামী লীগ বলে চেনাই যায় না। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতা পেয়েছে, শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন­ এক বছরেরও কয়েক দিন বেশি আগে। কিন্তু এ সরকার আর এই প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ পুরোপুরি বিসর্জন দিয়ে এসেছেন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ বিক্রি না হলেও বìধক দিয়ে এসেছেন। শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের ইশতেহারের আর কোনো ব্যাখ্যা দেয়া সত্যিই কঠিন।
আওয়ামী লীগ সমর্থক মিডিয়া গোড়ায় মিথ্যা দাবি করেছিল যে, ভারত বাংলাদেশকে এক শ’ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিতে রাজি হয়েছে। ইশতেহারে দেখা গেল, সেটা এক শ’ নয়, এক বিলিয়ন মাত্র এবং সেটাও বাংলাদেশের শিল্পায়ন কিংবা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অনুদান নয়। ভারতের নিজের অনেক আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রবন্দর আছে। কিন্তু সে আরো দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি চায়। সেজন্য আরো দ্রুত আমদানি-রফতানির জন্য সে বাংলাদেশের দুটো সমুদ্রবন্দরই চায়। সে সব বন্দরে পণ্য আনা-নেয়ার জন্য প্রয়োজন দৃঢ়তর-প্রশস্ত সড়ক ও রেলপথ। এসব অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য ভারত এক বিলিয়ন (এক শ কোটি টাকা) ডলার ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশকে, ১.৭৫ শতাংশ সুদে।
উল্লেখ্য, অবকাঠামোর এসব উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ৪০ বছর মেয়াদে এবং এক শতাংশেরও কম হারের সুদে বাংলাদেশকে ঋণ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে আগে শুনেছি। সবচেয়ে বড় কথা, ভারতের ঋণের অর্থে বাংলাদেশের অর্থনীতির এবং বাংলাদেশীদের কর্মসংস্খানের বিশেষ কোনো উন্নতি হবে না। দিল্লি ইশতেহারে বলা হয়েছে, এতদ-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাজের কন্ট্রাক্টের ব্যাপারে ভারতীয় ঠিকাদাররাও টেন্ডার দিতে পারবেন। সাধারণ বুদ্ধিতেই বলে, যেহেতু তাদের অভিজ্ঞতা ও সম্পদ বেশি এবং প্রকল্পের অর্থায়ন করছে ভারত, সেহেতু কন্ট্রাক্টগুলো তারাই পাবেন। কাজ সম্পন্ন হলে তাতে লাভবান হবে ভারতীয় অর্থনীতি। তাতে সে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারবে।
প্রায় সব কাজই হবে যন্ত্রভিত্তিক। ম্যানেজার, স্খপতি, ইঞ্জিনিয়ার, ওভারশিয়ার সবই আসবেন ভারত থেকে; বাংলাদেশের কিছু মানুষ হয়তো মাটি কাটা কিংবা চৌকিদারের কাজ পেতে পারেন। অর্থাৎ আদমজী-বাওয়ানীরা যেমন পূর্ব পাকিস্তানে যৎসামান্য পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন মুনাফাটা পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার জন্য, একই রকম কাজ ভারত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
ব্যর্থতার চুক্তি
আর একটা ব্যাপার আপনারা পুরোপুরি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন কি না, জানি না। বাংলাদেশের আশুগঞ্জ নদীবন্দর হয়ে ভারী ও বিশাল যন্ত্রপাতি যাবে আগরতলায়। সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কারখানা তৈরি হবে এবং সে কারখানা থেকে তিন বছর পর বাংলাদেশের কাছে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রি করা হবে। এই তিন বছরে আড়াই শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী একটা কারখানা বাংলাদেশে তৈরি করা কি সম্ভব ছিল না? নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে হাসিনা স্বয়ং বলেছেন এবং আওয়ামী লীগও বলেছিল, তাদের কার্যকালের পাঁচ বছর মেয়াদের মধ্যে তারা বাড়তি সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন। হায়! সেসব প্রতিশ্রুতির কথা আর শোনা যায় না আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীদের মুখে!
কাটা ঘায়ে নুনের ছিঁটা। গোড়ায় বলাবলি হচ্ছিল, ভারত আশুগঞ্জের ভেতর দিয়ে একবার মাত্র ‘অস্বাভাবিক বোঝাগুলো’ নিয়ে যাবে। কিন্তু ১২ জানুয়ারির দিল্লি ইশতেহারে বলা হচ্ছে, আশুগঞ্জের ‘দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের’ কথা। ভারতের এই ঋণের অর্থ থেকে কিছু ব্যয় হবে ভারতের প্রয়োজনে লাগার মতো কয়েকটি নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজে। কথা হচ্ছে, নদীতে যদি নিয়মিত পানি না আসে, তাহলে নদী হেজেমজে যাবেই। ড্রেজিং করে তাকে কত দিন নাব্য রাখা যাবে? এটা মূলত মানুষের চোখে ধুলো দেয়ার একটা ফন্দি মাত্র। মোট ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি ভারত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরিয়ে নিচ্ছে। এমনিতেই ভারতের সেচের কাজে অনেক উজান থেকে পানি সরিয়ে নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হচ্ছে টিপাইমুখ। সেখানে বাঁধটি তৈরি হলে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকাও মরুভূমিতে পরিণত হবে­ যেমন হয়েছিল ফারাক্কা বাঁধ তৈরির ফল পদ্মা অববাহিকায়। অথচ দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় নেতাদের সাথে আলোচনায় নদীগুলোর পানি সম্বìেধ কথাই বলেননি। অকর্মা যৌথ নদী কমিশনের অনিশ্চিত বৈঠকের জন্য সেসব বিষয় ফেলে রেখেছেন। গত ১৬ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে মনে হয়, টিপাইমুখে কী হতে যাচ্ছে সে সম্বìেধ তার সামান্যতম ধারণাও নেই।
দেশে দিল্লী ইশতেহারের সমালোচনা প্রায় সার্বজনীন। তার জবাব হিসেবে হাসিনা গর্ব করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি চুক্তির কথা বলছেন বারবার। বাংলাদেশীরা কিন্তু জানে, সে চুক্তি ভারতের কাছে প্রতিশ্রুতির মূল্যহীনতার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। কেননা সে চুক্তি অনুযায়ী ভারত কোনো বছরই বাংলাদেশকে পানি দেয়নি।
আন্তর্জাতিক পটপরিবর্তন
বিবিসি’র কাজে একসময়ে ঘন ঘন উপমহাদেশ সফরে যেতে হতো আমাকে। কলকাতা গেলে বহু বাড়িতেই দেখতাম, তারা ঢাকা টেলিভিশনের নাটক (প্রথমে পিটিভি ও পরে বিটিভি) দেখছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সে পরিস্খিতি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। কৃত্রিম উপগ্রহের কল্যাণে অজস্র টেলিভিশন চ্যানেল চালু হয়েছে ভারতে। এর মধ্যে যেগুলো অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে দিবারাত্রি ‘বলিউডের সংস্কৃতি’ উদ্গিরণ করছে, সেগুলোর কয়েকটি দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশে। অন্য দিকে বাংলাদেশের টেলিভিশন ভারতে সম্পূর্ণ অনুপস্খিত। অতি সম্প্রতি জানতে পেরেছি, সে জন্য মূলত দর্শকদের রুচি নয়, বরং বাংলাদেশী অনুষ্ঠানের ওপর ভারতের শুল্ক আরোপই হচ্ছে দায়ী। হয়তো এ বিষয়টা দিল্লি শীর্ষ বৈঠকে উথাপন করা শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় বলেই বিবেচনা করেননি। হয়তো ভারতীয় চ্যানেলগুলোর ওপর একই রকম শুল্ক আরোপ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে অসন্তুষ্ট করতে চান না। কিন্তু বলিউডি সংস্কৃতির অত্যাচার যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে শিগগিরই বাংলাদেশী দর্শকদের রুচি-বিকৃতি ঘটবে। বাংলাদেশে তৈরী অনুষ্ঠান তারাও আর দেখতে চাইবেন না।
অস্ত্রের জোরে অন্যের দেশে ‘রেজিম চেঞ্জের’ যে দর্শন মার্কিন নিওকনজারভেটিভরা আবিষ্কার করেছিল, ঘৃণা আর ধিক্কারের মধ্যে সেটার মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হয়েছে। ইরাক আর আফগানিস্তান এর প্রমাণ। নিওকনদের লেজে জড়িয়ে যারা শক্তিশালী হতে চেয়েছিল, তারাও নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। পাকিস্তান তার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। ইয়েমেন আরেকটি দৃষ্টান্ত হতে চলেছে। বিশ্বের বহু দেশ এখন তাদের বাতায়ন খুলে দিচ্ছে আগামী দিনের এক নম্বর পরাশক্তি চীনের দিকে। আফিন্সকার বহু দেশ এবং ভেনিজুয়েলা ও ব্রাজিলের মতো ল্যাটিন আমেরিকারও কোনো কোনো দেশ হচ্ছে তার দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশের দেশপ্রেমী চিন্তাবিদরা সেজন্যই ‘লুক ইস্ট’ পররাষ্ট্রনীতির সুপারিশ করেছিলেন। আত্মসমর্পণ নয়, চীনের সাথে যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিই ছিল তার সার কথা। সে লক্ষ্যেই এশিয়ান হাইওয়ের আওতায় টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ চীন পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগের পরিকল্পনা হয়েছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। শেখ হাসিনার সরকার সম্ভবত বিশ্ব বলতে ভারতকেই চেনে। তারা এশিয়ান হাইওয়ে নিতে চায় বেনাপোল থেকে তামাবিল পর্যন্ত এবং বাংলাবাìধা থেকে আবারো তামাবিলে।
ভারতকে এই ডবল করিডোর দেয়ার অর্থনৈতিক লোকসান সম্বìেধ অনেক চিন্তাশীল বিশ্লেষক লিখেছেন। আমার মনে হয়, বাণিজ্যিক লোকসানের ব্যাপারটা এখনো যথেষ্ট আলোচিত হচ্ছে না। এটা প্রায় অনিবার্য যে, এসব পথের ট্রানজিট শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশে বাংলাদেশের শুল্কবিহীন তৈরী পোশাক ও নিটওয়্যার রফতানির একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উত্তর-পূর্ব ভারতে চলে যাবে।
‘সাতবোন’ নামে বর্ণিত উত্তর-পূর্বের সাতটি ভারতীয় রাজ্যের মুক্তিকামীদের সামরিক তৎপরতা এই করিডোর নির্মাণের ফলে বাংলাদেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যে পথে তাদের হত্যার জন্য ভারতীয় অস্ত্র যাবে, সে পথকে তারা সুনজরে দেখতে পারে না। তার চেয়েও বড় আশঙ্কা, চীন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের এই অবাধ চলাচলকে ভালো চোখে দেখবে না। অরুণাচল প্রদেশটি ভারতের দখলে থাকলেও তার একটা বড় অংশ চীন নিজের বলে দাবি করে। এ নিয়ে ১৯৬২ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধও হয়েছিল। তারপর থেকে ভারত ওই অঞ্চলে তার সমর প্রস্তুতি বাড়িয়ে চলেছে। বেইজিং জানে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারত উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে শুধু সরবরাহ পাঠাবে না, চীনের বিরুদ্ধে রণপ্রস্তুতির জন্য সৈন্য আর অস্ত্রশস্ত্রও যাবে সেই পথে। ভারতকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর অবাধ ব্যবহার করতে দেয়াকে একই রকম শঙ্কার চোখে দেখবে চীন।
মগজ ধোলাই?
‘সবগুলো ডিম এক ঝুড়িতে রাখা’, ‘এক চক্ষু হরিণ’ ইত্যাদি নানা উপমা ব্যবহার করা যায় ভারতের সাথে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সম্পর্কের ব্যাপারে। বিজ্ঞজনরা বলে থাকেন, সবটুকু সঞ্চয় একই ব্যাংকে রাখতে নেই। কিন্তু দিল্লি সফরে হাসিনা সেটাই করে এসেছেন। বাংলাদেশকে তিনি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সমরনৈতিক দিক থেকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে দিয়ে এসেছেন। প্রয়োজনবোধে ভারত এ বìধনকে আরো দৃঢ় করে আঁটবে­ অজগর যেমন তার শিকারকে পিষে মারে।
এ প্রশ্ন অনেকেই করছেন, শেখ হাসিনার ভারতনির্ভরশীলতা কেন এমন নিরঙ্কুশ? শুনেছি, এ ব্যাপারে কোনো পরামর্শ তিনি গ্রাহ্য করতে নারাজ। কেউ কেউ বলে থাকেন, তার প্রয়াত স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া ভারতপ্রীতি একটু কম করার পরামর্শ দিয়ে হাসিনার এতই বিরাগভাজন হয়েছিলেন যে, তাকে তিনি সুধাসদন থেকে বের করে দিয়েছিলেন। ড. ওয়াজেদ মিয়াকে শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।
অনেকেই মনে করেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের মে পর্যন্ত দিল্লিতে অবস্খানের সময় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্খা র হাসিনার ব্রেন ওয়াশ করে দিয়েছিল। দিল্লিতে তাকে সামাজিকভাবে কারো সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি, সারাক্ষণ তার দেখাশোনা করেছিলেন র-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হাসিনা তখন নিহত পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের শোকে আকুল। যেকোনো মনোবিজ্ঞানী আপনাকে বলে দেবেন ব্রেনওয়াশ করার জন্য এর চেয়ে অনুকূল অবস্খা আর হতে পারে না। অনবরত রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে হাসিনার মনে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার বিষ ঢুকিয়ে এবং ভারতকে তার একমাত্র রক্ষক ও সুহৃদ হিসেবে দেখিয়ে একটা ব্রেন ওয়াশ করা কোনো গোয়েন্দা সংস্খার জন্যই কঠিন কাজ নয়। উপরিউক্ত ধারণা আরো জোরদার হওয়া স্বাভাবিক এ কারণেই যে, ঢাকার একটা গুজব অনুযায়ী হাসিনার সংসারের চাকর-পরিচারকরা সবাই নাকি র-এর ছদ্মবেশী লোক।
রাষ্ট্রনীতির মধ্যে বিদেশী প্রভাবের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানিরা একটা ভালো আইন করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, সর্বোচ্চ স্তরের অনুমতি না নিয়ে কোনো কূটনীতিক কিংবা আমলা কোনো বিদেশীকে বিয়ে করতে পারবেন না। আইনটি খুবই প্রাসঙ্গিক বলে বাংলাদেশও সেটা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সব শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার (সম্ভবত তাদের একজন উপদেষ্টার স্বার্থে) সে আইনটি বাতিল করে দেয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে একটা বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। শোনা যায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্খানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিয়ে করেছেন এক ভারতীয় মহিলাকে। স্ত্রী তার রাজনীতিকে প্রভাবিত করছেন কি না বলা যায় না, কিন্তু সম্ভাবনাটা একেবারে উড়িয়েও দেয়া যায় না। কোনো দলের চেয়ারপারসন এবং মহাসচিব যদি যেকোনো কারণেই হোক, বিশেষ কোনো দেশের প্রতি অতিমাত্রিক অনুরক্ত হন এবং সে দলটি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে সে দেশের মুক্ত ও সুস্খ নীতি গ্রহণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
প্রয়োজন গণভোট
শেখ হাসিনা দিল্লিতে যেসব চুক্তিতে সই করে এসেছেন, তার বিবরণ এখনো গোপন রাখা হয়েছে, যদিও সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের সাথে কোনো চুক্তি সংসদের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না। স্বভাবতই সব বিরোধী দল এবং নিরপেক্ষ সাধারণ মানুষ শঙ্কিত ও সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছেন। সরকারের উচিত, অবিলম্বে চুক্তিগুলোর পূর্ণ বিবরণ সংসদে পেশ এবং মিডিয়ায় প্রকাশ করা। সংসদ এখন কার্যত একদলীয় চাটুবাক্যের প্রতিযোগিতার আসর। এ সংসদের সিদ্ধান্তও এখন দেশবাসীকে সন্তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট নয়। এ চুক্তিগুলোর ব্যাপারে একটা গণভোট অবশ্যই নিতে হবে। উল্লেখ্য, বহু উন্নত দেশেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় বিতর্ক নিষ্পত্তির জন্য গণভোট নেয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন আইন ও বিধির ব্যাপারে এর বিভিন্ন সদস্য দেশ বিভিন্ন সময় গণভোট করেছে।
জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারে এককালের আওয়ামী লীগের আপসহীনতার কথা গোড়াতেই বলেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে দেশের স্বার্থবিরোধী এত যে কাণ্ডকারখানা হয়ে যাচ্ছে, সে সম্বìেধ সংসদের ভেতরে-বাইরে আওয়ামী লীগপন্থীদের কারো কণ্ঠেই প্রতিবাদ ধ্বনিত হচ্ছে না। সেই আওয়ামী লীগের এবং তখনকার নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের গুণগ্রাহী হিসেবে আমার জন্য সেটা রীতিমতো মর্মবেদনার ব্যাপার। আওয়ামী লীগে যারা এখনো দেশপ্রেমিক আছেন, তাদের আর নীরব থাকা জাতীয় স্বার্থের মারাত্মক ক্ষতি করবে। তাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারে নীরব থাকার দিন বিগত হয়েছে, এখন দেশের স্বার্থে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৪২
ত্রিভুজ বলেছেন: শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু ভাই আওয়ামীলীগাররা বাংলাদেশী হওয়ার চাইতে বাঙালি হতে বেশি আগ্রহী। সেটা এপার বাংলা না ওপার বাংলা তা বোঝার জন্য তাদের কাজকর্মই যথেষ্ঠ। আফসোস....
২. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৪৩
াহো বলেছেন: আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল কেন কোলকাতায় দেখা যায় না ?

Click This Link

আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল কেন কোলকাতায় দেখা যায় না/কেন দেখায় না? - এই প্রশ্নটি আমরা সবাই করে থাকি। এমনকি আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যম গুলোও মাঝে মাঝে এই প্রশ্ন করে এবং অনেক সময় আমরা দাবি করি কোলকাতার বাংলা টিভি চ্যানেলগুলোও বাংলাদেশ এ নিষিদ্ধ করা হোক।

আমরা বাংলাদেশে যেসব বিদেশী টিভি চ্যানেল দেখি (ভারতীয় বাদে), যেমনঃ CNN, BBC, Discovery, ESPN কখনো কি ভেবে দেখেছেন কেন সব চ্যানেলগুলোর অনুষ্টান মালার সময়সূচী ভারতীয় সময়ে দেখানো হয় এবং কেন সবগুলো চ্যানেলেই ভারতীয় বিজ্ঞাপন দেখানো হয় ?

কারন ভারতে বিদেশী টিভি চ্যানেল দেখাতে হলে কিছু নিয়ম নীতি পালন করতে হয়। যে সব চ্যানেল ভারতের বাইরে থেকে আপলিংক (সম্প্রচার) করা হয়, সেগুলো ভারতে বৈধ ভাবে ডাউনলিংক (দেখাতে) করতে হলে ভারতের তথ্য মন্ত্রনালয় থেকে কিছু নিয়ম মেনে অনুমতি নিতে হয়। সেগুলো হল;

১। প্রতিটি টিভি চ্যানেল এর মালিকানাধীন কোম্পানী কে প্রথমে 'ভারতীয় কোম্পানী আইন, ১৯৫৬' অনুযায়ী রেজিষ্ট্রেশন এর জন্য আবেদন করতে হবে। এই রেজিষ্ট্রেশন ৫ বছর এর জন্য দেয়া হয়। ৫ বছর পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। রেজিষ্ট্রেশন ফি ৫ লক্ষ্য টাকা এবং প্রতি বছর বাৎসরিক ফি বাবদ ১ লক্ষ্য টাকা প্রদান করতে হবে।
২। আবেদনকারী কোম্পানীর ভারতে একটি বানিজ্যিক অফিস থাকতে হবে।
৩। আবেদনকারী কোম্পানীর আবশ্যই ১.৫ কোটি টাকার মুলধন থাকতে হবে। আবেদনকারী কোম্পানীর যদি এক এর অধীক চ্যানেল থাকে তাহলে প্রতিটি অতিরিক্ত চ্যানেলের জন্য ১ কোটি টাকার মুলধন থাকতে হবে।
৪। সেই সব টিভি চ্যানেলে অবশ্যই ভারতীয় পন্যের বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে। বিদেশী অননুমদিত কোন পন্যের বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না।

এছাড়াও আরো কিছু নিয়মনীতি আছে কিন্তু এই চারটি নিয়ম অবশ্যই পালন করতে হবে। তাহলেই যেকোন বিদেশী চ্যানেল ভারতে সম্প্রচারের অনুমতি দেয়া হয়।এটাই কি স্বাভাবিক নয় ?

এখন কথা হচ্ছে আমাদের দেশ এর কয়টা টিভি চ্যানেল এই ব্যাপারটা জানে বা কয়টা টিভি চ্যানেল ভারতে কোম্পানী হিসেবে রেজিষ্ট্রেশন এর জন্য আবেদন করেছে ? আমাদের দেশ এ সঠিক ক্যাবল টিভি আইন নেই তাই আমাদের দেশের ক্যাবল টিভি অপারেটররা নিজেদের ইচ্ছে মত বিদেশী চ্যানেল দেখাতে পারে। কিন্তু সব দেশ তো আর আমাদের দেশ এর মত না।

আমরা আশা করব আমাদের দেশ এর টিভি চ্যানেলগুলো এই ব্যাপারে যথাযথ নিয়ম পালন করে ভারতে যেন আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো দেখা যায় সে ব্যবস্থা নিবেন। একদিকে তারা যেমন ভারতীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে বানিজ্যিকভাবে লাভবান হবেন সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশ এর বাংলা অনুষ্টান কোলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের সবাই দেখতে পাবে।

সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ও উচিত বিদেশী চ্যানেল, বিশেষ করে ভারতীয় মালিকানাধীন হিন্দি (Sony, Zeetv, Star Plus, ইত্যাদি) ও বাংলা (জি বাংলা, আকাশ বাংলা, ইটিভি বাংলা, ষ্টার জলসা, ইত্যাদি) চ্যানেল গুলোর জন্য এই নিয়ম করা। কারন এইসব চ্যানেলগুলোর বিশাল একটা বাজার (দর্শক) বাংলাদেশে রয়েছে। এই চ্যানেলগুলো বাংলাদেশের এই বড় বাজার ধরে রাখার জন্য বাধ্য হবে বাংলাদেশ এ বৈধ ভাবে রেজিষ্ট্রেশন করতে। বাৎসরিক ফি হিসেবে বাংলাদেশ কিছু রাজস্ব ও আয় করল। লাভবান হব আমরা দুই দিকেই।

আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন । Click This Link
৩. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৪৭
াহো বলেছেন: শেখ হাসিনা দিল্লিতে যেসব চুক্তিতে সই করে এসেছেন, তার বিবরণ এখনো গোপন রাখা হয়েছে, যদিও সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের সাথে কোনো চুক্তি সংসদের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না


Reply
সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের নিজ দেশে স্থানান্তরের বিষয়ে ভারত একই ধরনের চুক্তি যুক্তরাজ্য, মিসর, মরিশাস, কানাডা, সৌদি আরব ও ফ্রান্সসহ প্রায় ১৬টি দেশের সঙ্গে
Click This Link
Click This Link
ভারতের সঙ্গে তিন চুক্তির বিবরণ প্রকাশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ভারতের সঙ্গে সই হওয়া তিন নিরাপত্তা চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেছে সরকার। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস বলেছেন, সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম পরিচালনায় উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশ দুটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। প্রয়োজনে ছয় মাসের আগাম নোটিশে চুক্তিগুলো বাতিল করা যাবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিঘি্নত হওয়ার কোনো বিষয় চুক্তিতে নেই। গতকাল সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তিগুলোতে কী আছে তা তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব। এ সময় অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) এম খোরশেদ আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) মোহাম্মদ ইমরান, মহাপরিচালক (বহিঃপ্রচার অণু বিভাগ) সায়িদা মোনা তাসনীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন। এ সময় নিরাপত্তা বিষয়ে তিনটি চুক্তি ও বিদ্যুৎ বণ্টন এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বিনিময় বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ সফরের পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে এসেছেন। সই হওয়া চুক্তিগুলোকে গোপন চুক্তি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া চুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। বিএনপির শরিক দলগুলোও অনুরূপ বক্তব্য রেখেছে। এভাবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিবৃতি ও পাল্টা বিবৃতির ঝড় চলছে। পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিদিন আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে চলেছে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের অঙ্গ সংগঠন ও সমর্থক গোষ্ঠী। ঠিক এ অবস্থায় স্পর্শকাতর তিন নিরাপত্তা চুক্তিতে কী রয়েছে তা প্রকাশ করে দিলেন পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস। চুক্তিগুলো করার পেছনের প্রেক্ষাপটও তিনি তুলে ধরলেন।
পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস বলেন, বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসবাদ কোনো দেশের একক সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী বিরাজমান। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মাদক পাচার, চোরাচালান, সংঘবদ্ধ অপরাধ ইত্যাদি। এসব সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবেলার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রে ২০০৬ সাল থেকে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচ্য চুক্তিগুলো সম্পাদনের কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি বলেন, সই হওয়া সব চুক্তিই সরকার কর্তৃক অনুসমর্থনের পরে কার্যকর হবে।
চুক্তি ১. অপরাধ দমন বিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, অপরাধ দমন বিষয়ে ২০০৮ সালে শ্রীলংকার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সার্ক সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশগুলো একটি কনভেনশন স্বাক্ষর করেছে। তবে ওই কনভেনশনের শর্ত অনুযায়ী, সার্কভুক্ত সব সদস্য দেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত না হওয়া পর্যন্ত কনভেনশনটি কার্যকর হবে না বিধায় ভারতের সঙ্গে আলোচ্য চুক্তিটি দ্বিপক্ষীয়ভাবে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ চুক্তির আওতায় ফৌজদারি অপরাধ বিষয়ে সহযোগিতা ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধগুলো অনুসন্ধান, বিচারকার্য এবং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও দলিলপত্র শনাক্তকরণ, বাধাদান, জব্দকরণ বা বাজেয়াপ্তকরণের বিধান রাখা হয়েছে।
* চুক্তিভুক্ত দুটি পক্ষ এ চুক্তির আওতায় একে অপরকে ফৌজদারি অপরাধ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে; * এই চুক্তির আওতায় আদালত বা অপর কোনো সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক সহায়তা চাওয়া হলে, অনুরূপ পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা প্রদান করা হবে; * এ চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে সংঘটিত কোনো ফৌজদারি অপরাধ বিষয়ক অনুরোধের ক্ষেত্রেও এরূপ পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা প্রদান কার্যকর হবে; * উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে চুক্তির আওতায় পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
চুক্তি ২. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সংঘটিত অপরাধ ও অবৈধ মাদক পাচার দমন বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তিটির খসড়া অনুমোদনের ব্যাপারে ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে।
চুক্তিতে রয়েছে :
* আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও মাদক পাচার সম্পর্কিত অপরাধসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ, অনুসন্ধান, বিচারকার্য কার্যকরভাবে সম্পাদনের জন্য গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে এ চুক্তিটি সই করা হয়। * এ চুক্তির আওতায় চুক্তিভুক্ত উভয় দেশ অভ্যন্তরীণ আইন ও বিধি সাপেক্ষে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্য এবং রাসায়নিক পদার্থসহ সাইকোট্রোপিক দ্রব্যগুলোর অবৈধ পাচার রোধে সহায়তা প্রদান করবে। অপরাধ অনুসন্ধান, বিচারকার্য ও দমনের উদ্দেশ্যে একে অপরকে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা প্রদান করবে। * উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশগুলোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে সহায়তাদানের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। * তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থ বিঘি্নত হয় অথবা দেশের প্রচলিত আইন বা বিধি পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম এই চুক্তির আওতায় করা যাবে না। * একই বিষয়ে বিমসটেকের আওতায় সদস্য দেশগুলো কর্তৃক একটি কনভেনশন ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি ৩. সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বিনিময় বিষয়ক চুক্তি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তিটির খসড়ার ওপর ২০০৮ সাল থেকে কার্যক্রম চলছে।
চুক্তিতে রয়েছে :
* ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামিগণ যাতে নিজ দেশে সাজা ভোগ করতে পারেন তার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ চুক্তি প্রণয়ন করা হয়। * ছয় মাসের অধিক সাজা ভোগ করা বাকি আছে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলার বিচার বা তদন্ত বাকি নেই এমন ধরনের আসামিগণ এই চুক্তির আওতায় বিবেচিত হবেন। * তবে যারা কোনো সেনা আইনে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যারা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা বিচারাধীন আছে তাদের ক্ষেত্রে এই চুক্তির বিধান প্রযোজ্য হবে না। * সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজ দেশে সামাজিকভাবে স্থানান্তরের সুযোগ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আসামি কর্তৃক নিজে অথবা তার নিয়োজিত ব্যক্তি কর্তৃক লিখিতভাবে অনুরোধ করা ব্যতীত এ চুক্তির কোনো বিধান প্রযোজ্য হবে না। * সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের নিজ দেশে স্থানান্তরের বিষয়ে ভারত একই ধরনের চুক্তি যুক্তরাজ্য, মিসর, মরিশাস, কানাডা, সৌদি আরব ও ফ্রান্সসহ প্রায় ১৬টি দেশের সঙ্গে সম্পাদন করেছে। আরও অনেক দেশের সঙ্গে সম্পাদনের অপেক্ষায় আছে।
৪. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৫৪
লুৎফুল কাদের বলেছেন: জনাব সিরাজুর রহমান সাহেবের প্রতি পূর্ণ সন্মান রেখে আমার প্রশ্ন হাম্বালিগে দেশ প্রেমিক ছিলতা কবে. মুজিবের থেইকা আরম্ভও কইরা সবত ভারতের দালাল. মুজিব করছিল ৩০ বছরের গোলামী চুক্তি.

আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের সাথে সেআর করার জন্য.
৫. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:০৬
াহো বলেছেন: ৩০ বছরের গোলামী চুক্তি

Reply>

India & USSR same চুক্তি

----------------------------------------------------

এই তিন বছরে আড়াই শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী একটা কারখানা বাংলাদেশে তৈরি করা কি সম্ভব ছিল না?

Reply>

India will paid for আড়াই শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ


----------------------------------------------------------

স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

Reply>

If I want to give reply ,the post will be long


--------------------------------------------------------------------

অনেকেই মনে করেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের মে পর্যন্ত দিল্লিতে অবস্খানের সময় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্খা র হাসিনার ব্রেন ওয়াশ করে দিয়েছিল।

Reply

অনেকেই মনে করেন, you are agent of Pakistani ISI [laugh]
৬. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৩৮
আশমএরশাদ বলেছেন: আম্বালীগে দেশপ্রেমিক নাই বললে দেশের অর্ধেক মানুষের ও বেশী মানুষের দেশ প্রেম নেই বলা হয়----

আমার মনে হয় ৪ দলীয় জোটের জামাতে আছে যেটা আপনি খুঁজতেছেন---

ব্রেন ওয়াশ ১৯৭১ এ আরেক জন পাকি আর্মিদের দ্বারা বন্দী ছিল ---তিনি ও কি সে জন্য পাকি বলতে পাগল?
হাসালেন----
৭. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৫৮
বিডি আইডল বলেছেন: াহো ছাগলটার কাজকর্ম দিন দিন মোর পেইনফুল হইতাছে দেখি....যেখানে সেখানে লাদায়
৮. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫২
কাজল রশীদ বলেছেন: এ পরিপ্রেক্ষিতে একটা বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। শোনা যায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্খানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিয়ে করেছেন এক ভারতীয় মহিলাকে। স্ত্রী তার রাজনীতিকে প্রভাবিত করছেন কি না বলা যায় না, কিন্তু সম্ভাবনাটা একেবারে উড়িয়েও দেয়া যায় না। কোনো দলের চেয়ারপারসন এবং মহাসচিব যদি যেকোনো কারণেই হোক, বিশেষ কোনো দেশের প্রতি অতিমাত্রিক অনুরক্ত হন এবং সে দলটি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে সে দেশের মুক্ত ও সুস্খ নীতি গ্রহণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা জানি ছাগল ঘাস খায়।

৯. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:০৪
জেনারেশন৭৫ বলেছেন: বিডি আইডল বলেছেন: াহো ছাগলটার কাজকর্ম দিন দিন মোর পেইনফুল হইতাছে দেখি....যেখানে সেখানে লাদায়
....................................................................

এইটা একটা আস্তো ছাগু। কই থেকে কি কাট পেষ্ট করে কই ফেলে তা আল্লা জানে আর ঐ ছাগুটা জানে........

দিন দিন ব্লগে দেখি স্টুপিডদের সংক্ষ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই যাচ্ছে।
১০. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:১০
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: @বিডিআইডল: াহোকে ছাগল বলার মানে বুঝলামনা.......আপনার পছন্দের দলের না বলেই কি?

ওনার লেখার হাত এখনো আসেনাই, এবং বেশীরভাগ সময় আওয়ামীলীগকেই বাচাঁইতে ব্যাস্ত থাকেন, কিন্তু উনারেই দেখলাম কোন প্রশ্ন উঠলে গালাগালি না কইরা সেটার জবাব দিতে চেষ্টা করতেছেন, তা সেইটা অন্য জায়গা থিকা কপি পেস্টই হোক না কেন। লজিক্যাল লাইনে চলা লোকজনের অভাব আছে এইখানে, াহো মিয়া যদি লজিক্যালিই আওয়ামী লীগরে সাপোর্ট দেন, তাইলে আমি তার কথা মনোযোগ দিয়াই শুনতে রাজী আছি।

আপনের এই ট্যাগিং পছন্দ হইল না।
১১. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:২১
বিডি আইডল বলেছেন: দি ফিউরিয়াস ওয়ান@ ব্লগে কোন দলের রাজনীতি করতে আসি নি...তাই আমার দলের না সেইটা এইখানে প্রযোজ্য না...

এই পোষ্টে ওই কমেন্টটা করার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবেন?

ব্লগে নানা লোকজন নানা কারণে নানা সময়ে রির্ভাস খেলে...লজিক্যালি কে কপি পেষ্ট করলো তাতে তার ছাগুত্ব কমে না...এর চেয়ে অনেক বিনাকারণে এই ব্লগে এই ট্যাগিং করা হয়েছে
১২. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৩৫
ইমন সরওয়ার বলেছেন: @ কাজল রশীদ এর সঙ্গে সহমত পোষণ করছি।
১৩. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৪৮
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: াহো সারা দিন বিভিন্ন ব্লগে ভারতের পক্ষে আম্লীগের দালাল পত্রিকার বিভিন্ন রিপোর্ট কপি-পেষ্ট করতেছে, বিরক্তিকর ভাবে|

আমার কাছে পরিস্কার সে পারিশ্রমিকের বিনিময়েই সেটা করছে|

জয়ের চুড়ি করা ৫ মিলিয়ন ডলার তাহলে বা;লাদেশে কাজে লাগতাছে.... :):)
১৪. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১৫
ও.জামান বলেছেন: আওয়ামী লীগে দেশপ্রেমিক অবশ্যই আছে, তবে তাঁরা কোনঠাসা। যেমন কোনঠাসা বিএনপির দেশপ্রেমিকরা।

আশ্চর্য লাগে! আমরা ভারতীয় দালাল, পাকিস্থানের দালাল হওয়া বন্ধ করে বাংলাদেশের দালাল হব কবে???
১৫. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৩৬
নীল লাল সবুজ বলেছেন: আওয়ামী লীগে যারা এখনো দেশপ্রেমিক আছেন, তাদের আর নীরব থাকা জাতীয় স্বার্থের মারাত্মক ক্ষতি করবে।
১৬. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৩৮
মেহেদী_বিএনসিসি বলেছেন: জানিনা.......আবার কেন অহেতুক বিতর্কের ক্ষেত্র তৈরী করলেন........।আপনি মিয়া মশা হয়ে পাল্লা দিবেন হাতির সঙ্গে.........। কোন ক্ষেত্রেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনাই খাটেনা। তারা যে তুলনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লাভ করছে, সেদিন আর বেশি দুরে নেই.......যেদিন ঝাকেঁ ঝাকে বাংলাদেশি ইউরোপ আমেরিকার বদলে ভারত গিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করবে। আর হাসিনা কিকি চুক্তি করছে......সেটা দেশের মঙ্গলের জন্য নাকি নিজের মঙ্গলের জন্য সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ ছিল, দুম করে এত্তো বড় একটা চুক্তি করার আগে জনমত যাচাই, এবং মিডিয়ার কাছে ব্যাপারটা খোলাসা করে নেওয়া।
১৭. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:০৫
রাজর্ষী বলেছেন: পুরা ফালতু প্যাচাল। বস্তাপচা এসব কাহীনি আর কত শুনমু। ৭৫ থেকে ৯৬ পর্যন্ত তথাকথিত এসব বাংলাদেশ প্রেমিকরা এসব বেচে নিজেদের আখের গুছিয়েছে, কিন্তু দেশের জন্য কিছুই করে নাই। সুতরাং এখন এসব কথা আর চলবেনা। এসব কথা যত বেশি হবে ততই এর উল্টা প্রতিক্রিয়া হবে।
১৮. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩১
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: @বিডি আইডল: আমি তো দেখলাম তার কমেন্টগুলো সম্পূর্ণভাবেই অন টপিক! ওনার প্রথম কমেন্ট টিভি চ্যানেল নিয়া (পোস্টেই এই প্রসঙ্গ আছে) ২য় কমেন্ট গোপন চুক্তি নিয়া (পোস্টের একটি মূল টপিক), ৩য় কমেন্ট আরো কয়েকটা ছোটখাট টপিক নিয়া (পোস্ট থেকেই নেয়া)

আপনে অফটপিক পাইলেন কোনটা বুঝলামনা। এই কমেন্টগুলা থিকা বেশী অন টপিক কমেন্ট হইতে পারে বলে আমার জানা নাই।

হ্যা, পুরা কপি পেস্ট না কইরা সংক্ষেপে লেখা যাইত, এবং এইটাই উচিত ছিল।

আপনে দলবাজি করতেছেননা বললেন, এখন আপনার কমেন্টের পর কি হইছে খেয়াল করছেন? ১জন চিন্হিত দলবাজ ব্লগারএসে ঠিক একই রকমভাবে ঐব্লগারকে ছাগু আর স্টুপিড বলে গেলেন, আর ঐ ব্লগার কিন্তু যুক্তিগুলো খন্ডানোর ধারে কাছ দিয়া যান নাই।

আপনের হালকাপাতলা ফলোয়িং আছে এই ব্লগে, তাই বলা, নাইলে কে কারে ছাগু বলল সেইটা পোছার টাইম ছিল না।
১৯. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৭
নীল লাল সবুজ বলেছেন: এ চুক্তিগুলোর ব্যাপারে একটা গণভোট অবশ্যই নিতে হবে। বহু উন্নত দেশেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় বিতর্ক নিষ্পত্তির জন্য গণভোট নেয়া হয়।
২০. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৯
অন্তীম বলেছেন: @ আশমএরশাদ এটা আপনার জন্য একাত্তর সালে কারা পাকিস্থানীদের আথিতিয়তা নিয়েছে দেখুন।


৩রা মে ১৯৮৪ এর এক পড়ন্ত বিকেলে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে গল্প করছেন বঙ্গবন্ধু কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ কয়েকজন। গল্পে গল্পে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ উঠলো। প্রসঙ্গ উঠলো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা আমাদের সেনাবাহিনীর কথা।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে বললেন, এটা একটা সেনা বাহিনী হলো ? এটা একটা বর্বর, নরপিশাচ, উচ্ছৃংখল, লোভী, বেয়াদপ বাহিনী। এই বাহিনীর আনুগত্য নেই , শৃংখলা নেই , মানবিকতা নেই, নেই দেশ প্রেম। এটা একটা দেশদ্রোহী অসভ্য হায়েনার বাহিনী। তোমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথা বল। সারা বিশ্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো এতো ভদ্র, নম্র, সভ্য, বিনয়ী এ‌বং আনুগত্যশীল বাহিনী খঁজে পাওয়া যাবেনা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মানবিকতা বোধের কোন তুলনাই চলেনা। কি অসম্ভব সভ্য আর নম্র তারা।

পচিশে মার্চ রাতে তারা ( পাকিস্তান আর্মি) এলো, এসে আব্বাকে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব) সেলুট করলো, মাকেও সেলুট করলো, আমাকেও সেলুট করলো। সেলুট করে তারা বলল, স্যার আমরা এসেছি শুধু আপনাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। অন্য কোন কিছুর জন্য নয়। আপনারা যখন খুশি যেখানে খুশি যেতে পারবেন। যে কেউ আপনার এখানে আসতে পারবে। আমরা শুধু আপনাদেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। আপনারা বাইরে গেলে আপনাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা আপনাদের সাথে যাবো। কেউ আপনাদের এখানে এলে আমারা তাকে ভালভাবে তল্লাশি করে তার পর তাকে এখানে ঢুকতে দিব। এসবই করা হবে আপনাদের নিরাপত্তার জন্য। সত্যিই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যা করেছে তা সম্পুর্ন আমাদের নিরাপত্তার জন্য করেছে।

২৬ শে মার্চ দুপুরে আব্বাকে (শেখ মুজিব) যখন পাকিস্তানী বাহিনী নিয়ে যায়, তখন জেঃ টিক্কা খান নিজে এসে আব্বাকে ও মাকে সেলুট দিয়ে আদবের সাথে দাড়িয়ে বলে, স্যার প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আলোচনার জন্য নিয়ে যেতে বলেছেন। আমি আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছি। আপনাকে নেওয়ার জন্য বিশেষ বিমান তৈরি(স্পেশাল ফ্লাইট রেডি) আপনি তৈরি হয়ে নেন এবং আপনি ইচ্ছা করলে ম্যাডাম (বেগম মুজিব) সহ যে কাউকে সঙ্গে নিতে পারেন। আব্বা-মা'র সাথে আলোচনা করে একাই গেলেন। পাকিস্তান আর্মি যতদিন ডিউটি করেছে এসেই প্রথমে সেলুট দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, আমার দাদীর সামান্য জ্বর হলে পাকিস্তানীরা হেলিকপ্টার করে টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছে। জয় তখন আমার পেটে, আমাকে প্রতি সাপ্তাহে সি এম এইচ নিয়ে ওরা চেকআপ করাতো। জয় হওয়ার একমাস আগে আমাকে সি এম এইচ-এ ভর্তি করিয়েছে। ৭১ সালে জয় জন্ম হওয়ার পর পাকিস্তান আর্মিরা খুশিতে মিষ্টি বাটোয়ার করেছে এবং জয় হওযার সমস্ত খরচ পাকিস্তান আর্মিরাই বহন করেছে । আমরা যেখানে খুশি যেতে পারতাম। পাকিস্তানীরা দুটি জীপে করে আমাদের সাথে যেতো নিরাপত্তার জন্য আমাদের পাহারা দিতো।
আর বাংলাদেশের আর্মিরা! জানোয়ারের দল, অমানুষের দল এই অমানুষ জানোয়ারেরা আমার বাবা-মা, ভাই সবাইকে মেরেছে- এদের যেন ধ্বংশ হয়।

সুত্র : আমার ফাঁসি চাই (৫৩ ও ৫৪ পৃষ্টা)
লেখক : মতিউর রহমান রেন্টু
২১. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪০
মেহেদী_বিএনসিসি বলেছেন: ভাইরে আতেলেতো আতেল চেনে..........আর শুয়োরে চেনে কচু......। অন্তীম মিয়া........আপনি রেফারেন্স হিসেবে চটি বইয়ের কথা বললেও সেটা মানা যেত, কিন্তু এটা কার, কিসের বইয়ের কথা বলতাছেন.........মতিউর রহমান রেন্টু.......?? আমি ওনার পুরো বইটা পড়েছি......এক্কেরে পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিচ্ছুনা.........কোন এক বিশেষ ধরনের লোকদের খুশিকরতেই তিনি যা ইচ্ছে তা লিখেছেন..........। ঐ শালার বইয়ের একজায়গায় লিখেছেন.."......শেখ হাসিনা বিকেল বেলায় শুধু চা আর ফেন্সিডিল খেতো....."। এটা কোন সুস্থ মানুষের কথা হলো। আর সেই বইয়ের রেফারেন্স নিয়ে আপনি ঘুরতাছেন........।
২২. ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২৬
জেনারেশন৭৫ বলেছেন: দি ফিউরিয়াস ওয়ান@
১জন চিন্হিত দলবাজ ব্লগার

কোন দল করি বলে আপনার মনে হয়? জামাত, বি এন পি না জাপা!! শুনেন আওয়ামলীগ আমার চোখের বিষ। শুধুমাত্র এতটুকুই। জামাত, বি এন পি বা জাপার প্রতি বিশেষ দরদ নাই। সব শালাই শুয়ারের বাচ্চা।

চাচা আওয়ামললিগ ও বাবা বামপন্হী রাজনীতি করায় ৭১ ও পাকি দ্বারা আমাদের বাড়িঘর সব পুরে একাকার। স্বাধিনতার পর রক্ষিবাহিনী আমাদের ফ্যামিলির যা ক্ষতি করেছে তা মনে হলে এখনও আওয়ামলীগকে থুথু দিতে ইচ্ছা করে। সেই সময় রক্ষিবাহিনী আর তখন (৯৬-২০০০) ছাত্রলীগ।

যেখানে আওয়ামলীগের বিরোধিতা সেখানেই আমি।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১৬৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই