somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোধনের ডায়েরী থেকে - নদী

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘নারী হারানো পূণ্য, কিন্তু নদী হারানো পাপ, মহাপাপ, একটা গোটা জীবনের জন্য’, কথাগুলো বলেছিল আহাদ, বছর কয়েক আগে, এবং দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ওর উদ্ভ্রান্ত চিন্তা-ভাবনা, নির্বিচার যততত্র চষে বেড়ানো, আর জলের মত জীবন আমাকে নতুন করে আশ্বস্ত করেছিল, একদিন ও ঠিক পেয়ে যাবে ওর নদীটাকে, যার জন্য ওর সীমাহীন আক্ষেপ কখনোই কমতে দেখিনি এতটুকু। হয়ত সেদিন ওকে দেখে আমার ঈর্ষা হবে, মনে হবে এক মহাপাপে সত্যিই আমি জর্জরিত আজ এতটা বছর, যখন বাস্তবিক আমি হারিয়ে ফেলেছি আমার সেই নদীটাকে, যে আমার সমস্ত বোধ ও প্রকৃত অস্তিত্বের পাশ ঘেষে নির্বিকার, নিশ্চিন্ত মনে বয়ে চলেছে বছরের পর বছর, আর আমি তাকে দিনের পর দিন অবজ্ঞা ভরে হারিয়ে ফেলতে ফেলতে যেখানে এসে দাঁড়িয়েছি, সেখানে দু’ফোঁটা সরল জল ও একটি মাত্র অনাবিল ঢেউ-এর জন্য বাকী জীবন বাজি ধরতেও দ্বিধাহীন।

হয়ত এ আমার গোপন অনুশোচনা, যা মানুষমাত্রেই করে থাকে, যখন সে বুঝতে পারে পাবার আনন্দকে সত্যিকার অর্থেই ছাপিয়ে উঠেছে হারানোর নিজস্ব ঐকান্তিক বেদনা ও দীর্ঘশ্বাস, আর প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস যখন তার প্রকৃত গোপন থেকে নিঃসরিত হয়, তখন মানুষের কেঁপে ওঠা ছাড়া আর গতি থাকে না। খুব আবছা দৃশ্য বা স্মৃতিগুলোও তখন প্রকট হয়ে ওঠে, আর একের পর এক বহুবিধ খন্ড খন্ড দীর্ঘশ্বাস একসাথে জড়ো হয়ে যখন একটি মহাপাপের ন্যায় আত্মা ও অস্তিত্বের উপর জেঁকে বসে খুঁজে পেতে চায় মুক্তি, পরিশুদ্ধি, তখন ‘পরিত্রাণ’, এই চরম শব্দটির বিপরীতে অলঙ্ঘনীয়ভাবে মূর্তিমান দাঁড়িয়ে থাকে সময়।

আমি জানি, এখনও আমি শুনতে পাই, আর যেসব শব্দ রোজ আমার শ্রবণশক্তির কার্যকারিতা ও বাস্তবিক অস্তিত্ব প্রমাণ করে চলেছে, সেইসব শব্দ বা শব্দসমষ্টির সবগুলোই বোবা ও বধির, যা কিনা আমাকে প্রতিদিন নতুনভাবে করে তুলছে আরও বেশি শব্দহীন ও সংশয়িত। একটা ডাক আমার কানে তারপরও বাজে, যদিও তা ক্ষীণ ও দূরের, তবুও ঠিক শুনতে পাই, আর আমাকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে আচমকা সেদিকে যে ছুট দেয়, তার প্রতিটি দ্রুত ও পূনঃ পূনঃ মাটিতে নেমে আসা খুদে পায়ের চরম বিশ্বাসী ও পুলকিত পদাঘাতের শব্দ আমার বুকের বামস্তনের কাছ ঘেষে বাজতে থাকে অনর্গল। চিনচিনে ব্যথা ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়তে থাকে সারা শরীরে, আর সীমাহীন ক্লান্তিতে চোখ এমনভাবে বুজে আসে, যেন নতুন এক চিরকাম্য ঘুম আমি পেতে চলেছি, এবং খুব শীঘ্রই তা আমাকে পৌঁছে দেবে স্বপ্ন রাজ্যের সেই অংশে, যেখানে বিশাল এক রূপোলি ডালার বাক্স আছে, যার মধ্যে লুকিয়ে রাখা আছে আমার হারিয়ে ফেলা সবকিছুই, এমনকী নদীটিও।

রাক্ষুসে ক্ষুধা আর পরম ভালবাসা নিয়েই আমি বছরের পর দেখেছি আমার নদীটাকে, যে আমার বাড়ির পাশ ঘেষেই এখনও বয়ে চলেছে আগের মতই, সেই একই রূপ আর উদরতা নিয়ে, যা দেখে আমি প্রতিদিনই বই হাতে স্কুল যাবার পথে থমকে দাঁড়াতাম সুইসগেটের কাছে। কিংবা স্কুলে জানালার ধার ঘেষে বসে তাকিয়ে থাকতাম একনাগাড়ে। আমি সেইসব অতি সৌভাগ্যবানদের একজন যাদের বাসস্থান ও বিদ্যালয় দুটোই ছিল নদীর পাড় ঘেষে, বছরের পর বছর। এমনকী আমি তাদেরও একজন যে, সামনের দিকে ঝুঁকে কাঁধ দিয়ে একধরনের নির্লিপ্ত অথচ চরম বিশ্বাসী ছন্দে দাঁড় টেনে নিয়ে যেতে থাকা রোদে পোড়া, ঘর্মাক্ত ও জীবন ছন্দে মুখর মানুষগুলোর পেছন পেছন অসংখ্যবার হেঁটে হেঁটে জেনেছে, নদী বা জলের কাছ ঘেষে যাদের জীবন, তাদের কাছেই প্রকৃত অর্থে রয়ে যায় জীবনের নিগূঢ় ও চরম পাঠ। স্কুল বা কলেজের বইগুলো এখন ক্রমশঃ আমার বোঝা মনে হয়, আর তা থেকে মুক্তি পেতে ছ’তলা থেকে হাক দিই, ‘এ্যাই শনপাপড়িওয়ালা’, আর তার কাছে সেগুলো নিশ্চিন্তমনে তুলে দিয়ে ভারহীন আমি ফিরে আসি হাতে করে পেঁজা, পেঁজা লোভনীয় তুলোর মেঘ নিয়ে, যার আংশিক মুখে পুরি, পুলকিত হই, আর হাওয়া বাঁচিয়ে পরমযত্নে আরেক হাত দিয়ে আড়াল করে রাখি তালুতে, পাছে উড়ে যায় কিংবা শুকিয়ে। একসময় শেষ হয় অথচ মুখের ভেতরের সবগুলো দেয়াল থেকে শুরু করে শরীরের যাবতীয় অলিগলি, এমনকী আত্মা ও অস্তিত্বের সবটুকুই পরিতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে পুনরায় হয়ে ওঠে লোভী, আর আমি বার বার খুঁজতে থাকি আরও কিছু পঠিত বা অপঠিত বই, আরও কিছু অবহনযোগ্য ভার, অথবা অসংখ্য টুকরো-টাকরা অবাঞ্ছিত, যা আমি জমা করেছি দিনের পর দিন, যার বিনিময়ে অনায়াসেই শোনা যেতে পারে কাঁসার ঘন্টার একটানা টিং টিং অপার্থিব ধ্বনি, আর সরল লোভে ছোটা যাবে অনাবিল স্বাদ আর পরিতৃপ্তির সেই অলীক রাজ্যে, যেখানে আমি ও আমার নদীটি বয়ে চলেছি একসাথে, মহাকালের নির্মম গতিপথের সবচেয়ে সহজ ও সুন্দর কক্ষপথে।

পারাপারের লোভ থেকে আমি কখনোই পারিনি বেরিয়ে আসতে, আর তাই সেই ছোট থেকে আজ অবদি যখনই নদীর কাছাকাছি হয়েছি, তখনই সবার আগে মনে হয়েছে পারাপারের কথা। আর বর্ষার সময় যখন নদী সত্যিই সত্যিই ঢুকে পড়ত স্কুলের ভেতর, বেঞ্চের তলায়, এমনকী পায়ের পাতায়, তখন আমার সীমাহীন আনন্দের সাথে সাথে এই শংকাও কাজ করে যেত সবসময়; তবে কি নদী কেবল ভরে উঠতে ও ভাসিয়ে নিতেই এভাবে বয়ে চলেছে অনন্তকাল? যেসব দুপুরে টিফিন পিরিয়ডে আমি সবাইকে ছেড়ে একা একা হেঁটে বেড়াতাম নদীর শুকিয়ে যাওয়া পাড় ঘেষে, আর যখন পায়ের নীচে একের পর এক পড়ত এঁটেল মাটি শুকিয়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য এবড়ো-খেবড়ো নুড়ি, তখন আমার সেই একাকী নিঃসঙ্গ চলার পথেও খরার নির্দয়তায় শুকিয়ে যাওয়া নদী তখনও খুব শান্তভাবেই বয়ে চলত পাশে-পাশেই, আর নির্বাক ভাষায় আমাকে জানাতে চাইত বার বার, এই আমিই জীবন, এবং এই আমিই তোমার অস্তিত্বের বাস্তব প্রতিরূপ, যে নির্বিকার এভাবেই বয়ে যাবে বছরের পর বছর, শতাব্দীর পর শতাব্দী, অনন্তকাল।

অপর পাড়ে হয়ত তখন কাশফুলের বনে দোল লেগেছে হাওয়ার, আর আমি বেছে বেছে পাঁচখানা ভাল নুড়ি কুড়িয়ে নিচ্ছি পকেটে, যা দিয়ে আমি ও বড়বোন খেলব, আর এমন সময়ই জলের ধার ঘেষে চোখ পড়ে যায় গতরাতের লাগিয়ে রাখা টাংনায়। কিছুটা চমকে উঠি যেন! দুপুরের যে নির্মম তাপ একসাথে পৃথিবীর বুকে নামিয়ে এনেছে আলোর ঝাঁঝ ও খাঁ খাঁ শূন্যতার শংকিত নির্জনতা, তার মধ্যেই আমি নির্বাক তাকিয়ে থাকি বড় বড়শি পিঠে গেঁথে পানির সমতলে ঝুলে থাকা টোপের ট্যাংরা মাছের মৃত শরীরের দিকে। কিছুক্ষণ কোন ভাবনাই কাজ করে না, শুধু ঐ বড় বড়শি আর মাছের মৃত শরীর আমার ভেতরে ছড়িয়ে যেতে থাকে একধরনের আঁশটে গন্ধ, যা থেকে বেরুতে বেরুতে টিফিনের ঘন্টা পড়ে যায়, আর সেই বিদঘুটে গন্ধ সমেত ফিরে আসি ক্লাসে। সবাই পড়তে থাকে আর আমি চুপচাপ ভাবতে থাকি সেই টাংনা, বড় বড়শি, আর তা পিঠে গেঁথে জলের সমান্তরালে ঝুলে থাকা মৃত মাছের কথা, যে কিছু ঘন্টা আগেও ছিল লোভনীয় জীবন্ত টোপ আর এখন নিজেই তার নির্মম শিকার। জানি বোয়াল মাছই ছিল এইসবকিছুর একমাত্র উদ্দ্যেক্তা, কিন্তু মাছ দিয়ে মাছ ধরার এই চিরাচরিত নির্দয় ও চতুর প্রলোভন কেন জানি আমাকে করে তুলেছিল সন্দিহান, যখন আমি খুব ভালভাবেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম নদী ও জলের সরল জীবন।

মূলত সুইসগেটের কাছেই বার বার ঘটে যেত আমার নতুন নতুন চিন্তার উত্তরণ। বিশেষ করে কোনো কোনো দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পথে যখন দেখতাম একদঙ্গল ছেলে তাদের সমস্ত উদ্দাম আর ফূর্তি জড়ো করে করে উঠে দাড়াচ্ছে সুইসগেটের বাঁধানো সিমেন্টের দেয়ালে, আর অনায়াস লাফিয়ে পড়ছে ঐ অত নীচের ঘোলাটে নদীর জলে। কিছুক্ষণ দেখা নেই, তারপর স্রোতের টানে এগিয়ে গিয়ে ভুস করে ভেসে উঠছে দূরে। সবাই ওভাবেই একের পর এক লাফিয়ে লাফিয়ে পড়ছে, আর দূরে ভেসে উঠে পুনরায় ফিরে আসছে নতুন লাফে উল্লাসিত হতে। ওদের সারাদুপুর জুড়ে এইভাবে লাফিয়ে পড়া ও দূরে ভেসে ওঠা দেখতে দেখতে আমার প্রতিরোধের সমস্ত বাঁধ ভেঙে পড়ত ওদেরই মত লাফিয়ে পড়ার চরম আনন্দে, অথচ এই ভয় থেকে কিছুতেই বেরুতে পারতাম না, জলের গভীরে কী আছে? আর যদি সত্যিই না পারি ভেসে উঠতে, যদি বাস্তবিক নদী আমাকে টেনে নেয় তার ভেতর? এইসব ভাবনার মধ্যেই একদিন সত্যি সত্যিই কোন এক কিশোর আমার চোখের সামনেই তার সমস্ত আনন্দ ও উল্লাস সমেত লাফিয়ে পড়ল, আর তলিয়ে গেল অতলে! কোন দূরেই সে আর ভেসে উঠল না, যখন আমিসহ আরও অজস্র চোখ অপেক্ষা করতে থাকল তার ভেসে ওঠার। কিছুক্ষণ পরেই চলে এসেছিলাম, কেননা সেদিন যে ব্যাপার ঘটেছিল আমার শৈশব আমির ভেতর, তা আমি ছাড়া আর কেউ জানে না, কেন না শুধু আমিই জানি, সেই থেকে আজ এতবছর আমি তাকিয়েই আছি জীবন উল্লাসে লাপিয়ে পড়া সেই বালকের পুনরায় ভেসে ওঠার আশায়।

নদীও হয় নির্দয়, আর তার নির্দয়তার মাঝেও রয়ে যায় পললের উদারতা। সে যতটা নেয়, ফিরিয়ে দেয় অধিক, আর সে জন্যই তার নির্দয়তার কোনো চিহ্নই কখনও প্রাণে সেভাবে রেখাপাত করে না। যেনবা সরল অংকগুলোর ভুল-ই আমাদের প্রকৃত অংককষা শিক্ষা ও উত্তর। কিন্তু আমাকে সে ফিরিয়ে দেয়নি কিছুই, শুধু নিয়েই গেছে যেন, আর আমার থেকে দূরে সরে যেতে যেতে এই কথাটিই জানাতে চেয়েছে বার বার, অন্তত তোমার সেই একজোড়া ঘুমহীন চোখ আমি রেখে যাচ্ছি তোমার কাছে যা দিয়ে দেখেছিলে পানিতে ফুলে ওঠা বেঢপ লাশ আর সেই শ্যাওলা ধরা ছেঁড়া লাল শাড়ি। হয়ত এখানেই সে তার প্রকৃত নির্দয়তার মাঝেও আমার অলক্ষ্যেই বার বার রেখে গেছে তার পললতা। যে সকাল না হলেই ভাল ছিল, যে দৌঁড় না দিলেই হয়ত আমাকে থমকে যেতে হত না কখনও, বরং তাজিম বাবার সেই বিশাল খেওয়া জালের জলের গভীরে ধীর ধীরে নেমে আসা, আর জল ছেঁকে তুলে আনা পুঁটি, চিংড়ি অথবা ফলি মাছের লাফা-লাফি, এইসব নিয়েই কাটিয়ে দেয়া যেত সমস্ত বেঁচে থাকা অথবা অপলক চেয়ে থাকা।

আমি জানি, জীবনে একবারই আমার নদীতে পাল তুলেছিল কোনো ভীনদেশী নৌকা। কী বিশাল সাদা পাল, যেনবা নদী বেয়ে নৌকা নয় বিশাল মেঘের দল ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে। কতদূর হেঁটেছিলাম সেই মেঘের পেছন পেছন মনে নেই। শুধু মনে আছে সত্যিকারের হারিয়ে যাওয়া আমার সেইদিনই ঘটেছিল, যা আর কখনোই হলো না। বছরের পর বছর যখন আমি শুধু নদীকেই অনুসরণ করার গোপন ইচ্ছে নিয়ে ক্রমশঃ এগিয়ে চলেছি পাল তোলা সেই নৌকার স্মৃতির মেদুরতায়, তখন নদী নিজেও আমারই গোপনে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ অনুসরণ করে গেছে আমার হারিয়ে যাওয়া। এসব ঘটে গেছে এতটাই অলক্ষ্যে যে, আমি টের পাইনি কখনোই, শুধু অন্য এক ভোরে টেংরা গিলে ছটফট করতে থাকা বোয়ালের চকচকে শরীরের উজ্জ্বল ঝিলিক সত্যি সত্যিই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, টোপ অথবা প্রলোভনের শিল্প, আর তাই শ্যাঁওলা ধরা লাল শাড়ি অথবা পানিতে ফুলে ওঠা লাশের শরীর থেকে কোনভাবেই সরিয়ে আনতে পারি না আমার সহপাঠিনীর মুখ, যে আমার অংক বইয়ের প্রথম পাতায় লিখেছিল তার নাম, আর পাশে যোগচিহ্ন সমেত রেখে গিয়েছিল সেই অমোঘ প্রশ্নবোধক চিহ্ন, যা ক্রমশঃ বড় হতে হতে ছেয়ে ফেলল আমার সমস্ত চরাচর, বিশ্ব ও স্বপ্ন।

’নদী’ এই নামটির পাশে কী যোগ হতে পারে, এর উত্তর খুঁজতে খুঁজতে আমি পরম উল্লাস আর আনন্দ নিয়েই উঠে দাঁড়াই সুইচগেটের সেই সিমেন্ট বাঁধানো দেয়ালের উপর, আর একবুক বিশ্বাস টেনে চোখ বুঝে নিশ্চিন্তে লাফিয়ে পড়ি নীচে, জলের সীমাহীন গভীরতায়। আমি জানতাম সত্যিই আমি তলিয়ে যাব, এবং নদী আমাকে ঠিক টেনে নেবে তার প্রকৃত সীমানায়, আর এক জোড়া অথবা অসংখ্য চোখ অপলক তাকিয়ে থাকবে আমার ভেসে ওঠার প্রতীক্ষায়। অথচ আমি ভাসব না কিছুতেই। সময় কেটে যাবে, পেরিয়ে যাবে ঢেউয়ের পর ঢেউ, আর একে একে অস্থির হয়ে উঠবে সবাই, আর ঠিক তখনই জলের দূর, বহুদূরের সীমানায় আমার পরিবর্তে ভুস করে ভেসে উঠবে লাল শাড়ি জড়ানো এক লাশ, নদী যার নাম।


অরণ্য
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
১লা সেপ্টেম্বর ২০১০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×