একবার চিন্তা করছিলাম যাবো না । কারন সবগুলি তামিল। ( যদিও আমজাদ এবং আসাদ শ্রীলংকান কিন্তু তামিল মাতৃভাষা ) এরা এক হলে তামিল ছাড়া কিছুই বলে না। চিল্লালেও হয়তো বড়জোড় ১ মিনিট শোনে তার পর আবার শুরু। কিন্ত আমজাদ আর আসাদের জোড়াজুড়িতে যাইতেই হইছে। ট্যাক্সিতে উঠার আগপর্যন্ত ভালোই ইংরেজীতে কথা বলছিল ট্যাক্সিতে উইঠাই সাথে সাথে ভোল পাল্টায় গেল সবার। হায়রে তামিল ছাড়া কিছুই বলে না। চিল্লায়লে এমন ভাব দেখায় যে তামিল ছাড়া আর কিছুই জানে না। আবার আমার সাথে ওদের কোনো দরকার হলেই কি সুন্দর ইংরেজীতে কথা বলছে। আমি যে তামিল জানি তা দিয়া দুই চার লাইন হয়তো বুঝতে পারি কিন্তু কথা চালায় যাবার মতো পারি না। বিরক্ত হয়ে আমি শুরু করলাম বাংলা। যা বলে তাই বাংলায় উত্তর দেই। কি মজা। বান্দর গুলি এবার ইংরেজী বলে আর আমি বাংলায় বলি। সারা রাস্তা আমার মুখে বাংলা ছাড়া আর কোনো কথা নাই।
যাই হোক পরের দিন দুপুরে দাওয়াত ছিল ক্যাভিনের বাসায়। যেতে যেতে দুপুর গড়ায় প্রায় বিকেল। গাড়ি থেকে নামতেই অবাক । দেখি এক চাইনিজ পিচ্চি গেট ধরে দাড়ায় আছে। বড়জোড় ২/২.৫ বছর হবে। সাথে ওর চেয়ে বড় এক কুত্তা। কুত্তাটারে দেখেই জানে পানি নাই। যাই হোক আমার মাথায় কিছুতেই আসছে না কিভাবে ইন্ডিয়ান পরিবারে এই চাইনিজ পিচ্চিটার রাজত্ব?
পরে ক্যাভিনের মাকে বলতেই আন্টি বললেন তাদের দুই বাসা পরের পিচ্চি। বাবা মা দুই জনেই চাকুরী করে তাই পিচ্চিটা সবসময় তাদের বাসাতেই থাকে। মাঝে মাঝে পিচ্চিটা এক সপ্তাহেও তার বাবা মার কাছে যায় না। এই ইন্ডিয়ান ফ্যামেলিতে পুরা পুরি প্রিন্সেস এর মতোই বড় হচ্ছে পিচ্চিটা। নাম কি বলতেই বলল ইয়ামুনা। চাইনিজ একটা নাম আছে অবশ্য কিন্তু তারা এ নামেই ডাকে। খুব সম্ভবত নামটার বাংলা করলে হবে যমুনা।
একটু পর পর দেখি পিচ্চিটা আমাদের পাশে এসে ঘুরানি দিয়ে যাচ্ছে। পারত পক্ষে আমি পিচ্চি পাচ্চা এড়ায় চলি। ওরা ডানে থাকলে আমি বামে। কি মনে হতে পিচ্চিরে ডাকলাম....ভেংচি দিয়া গেল গিয়া। দেখি পর্দার আড়ালে থেকে উকি দিচ্ছে। এবার কাছে হাত বাড়ায়ে বলি baby come to me.....আমারে অবাক করে দিয়ে আধো আধো ইংরেজীতে বলছে call me sweet heart .... আমিতো পাইছি মজা। sweet heart বইলা হাত বাড়ায় দিতেই কোলের মধ্যে। গলা জড়ায় ধরে কাধে মাথা রেখে গুন গুন করে রাইম বলছে গান গাচ্ছে। যতটা সময় ক্যাভিনদের বাসায় ছিলাম পিচ্চি আর আমার কোল থেকে নামে নাই। সবাই তো অবাক। কারন তাদের কথা মতো পিচ্চিটা বেশ ফ্যাসী। কারো কাছে যাবে না ( ক্যাভিনের মা বাদে ) কারো কোলেও উঠবে না ... আর অপরিচিত হলেতো কথাই নাই।
আর পিচ্চি টাকে কোলে নেবার পর আমার অনুভুতিটা বলে বোঝাতে পারবো না। পুরা গায়ের মধ্যে মিশে আছে। ভালো লাগা যে এত ভালো কখনো হতে পারে। আসার সময় যখন পিচ্চটাকে ক্যাভিনের মায়ের কাছে দিলাম দেখি ওর চোখ পুরা ছলছল করছে।
আমিও চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসলাম......
ইয়ামুনার সাথে হয়তো আর কখনোই দেখা হবে না...কিন্তু পিচ্চিটার কাছ থেকে যে ভালোবাসাটা আমি পেয়েছি তা মনে থাকবে সারা জীবন।
তুমি সবসময় ভালো থেকো ইয়ামুনা। তোমার জন্য অনেক অনেক আদর।
( এখনো মাঝে মাঝে যখন ক্যাভিনের সাথে দেখা হয় বলি কেমন আছে পিচ্চিটা .... বলে এখন অনেক কথা বলে সব সময় পটপট করে। এই ছবিটা ইয়ামুনার না...নেট থেকে নেওয়া...ইয়ামুনার ছবি ফ্রেন্ডের ক্যামেরায় ছিল ... হারায় গেছে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



