১
আমাদের ছিল ঘুম পাড়ানিয়া সময়,
জননীর মুখের ঠাকুরমার ঝুলির গল্প শুনে শুনে
নিরন্ন পেঠ অবোধ করার জ্ঞাত কৌশল;
আমাদের নক্ষত্র ছিল না; হারিকেনের লড়াকু
আলোয় আমরা নিরব অনেক স্বপ্ন বুনেছিলাম।
আমাদের অপত্য স্নেহগুলো ছিল আমাদের প্রতিপক্ষ,
মহীরুহ বটের নিচে কোন বৃক্ষের উন্মেষ হয়না।
শ্লীল, অশ্লীল ফুরিয়ে ছিল ঢের কাল আগেই,
দাক্ষিণ্যের চাল পেতে সেইসব মিথ্যে বক্তব্যে।
মাঝে মাঝে বুক উগড়ে দেয়াল এঁকে দিতাম প্রতারিত
কোন বুলি।
২
কৈশোরে আমি এক দেবী দেখেছিলুম, মৃন্ময়ী;
কলেজ রোড পেরিয়ে বাশু'দার ভাস্কর্যের মনোহরি দোকানে।
পথ চলতে চলতে আমি কতদিন থমকে গিয়েছিলাম,
সেই মূর্তি'র চম্বুকাকর্ষণে; মাঝরাত্রে ঘুম ভাঙানিয়া
জানালাভেদী একরাশ জোছনার অবলোকন।
আমি শ্যেনদৃষ্টি রাখতাম, কেউ কিনলে হয়ত ছিনিয়ে নিতুম,
মাইরি বলছি, বাশু'দা বলেছিল দশ কুড়ি দাম এর।
আমি সব জোছনা আর বৃষ্টির কদম বিক্রি করে
এসেছি ধার ক্ষয়ে যাওয়া পথে; বাশু'দার গাল ভর্তি
পাট ক্ষেতের মত দাঁড়ি এখন! অজস্র অশ্লীল টাকাও আমার।
'এই নিন।' নড়বড়ে বিবেকের মত ভাঙা পায়ার চৌপায়ায়
টাকা-কড়ি ছুঁড়ে দিয়ে আমি আমার দেবীকে টেনে নিলাম।
পিঠে বাশু'দার অবাক চাহনী আমি টের পেলুম,
এক পয়সাও গরমিল নেই; এই দেবীর দাম আমি
ভাতের কোমলতার মত জানি।
শহর পেরানো নদীর জলে নিজের কাপুরুষ মুখ দেখে
আমি গগণে তাকাই। বড়লোকী ঈশ্বরের দিকে
কটাক্ষ হেনে আমি গভীর জলে ছুঁড়ে মারি
মনাহত দেবী।
সব সুখ সবার যে সহ্য হয় না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

