এটি আমার ১০০-তম পোস্ট!
দেখতে দেখতে শততম ব্লগ হয়ে গেল। আহা......। শুরুর দিকে অনিয়মিত ছিলাম। পোস্ট দিতাম, অনেকের মন্তব্যের জবাব দিতাম না। কিন্তু দেখলাম, আমি প্রতিমন্তব্য না করলে-ও অনেকে পড়ে যাচ্ছেন (বিশেষ করে রাশেদ এবং মুকুল ভাই)। পরে গত গ্রীষ্মের ছুটির আগে থেকে নিয়মিত হওয়া শুরু করলাম; আজকাল নেশা হয়ে যাচ্ছে!
বাংলাতে ব্লগ লিখব আগে ধারণায় ছিল না। হয়ে গেল। আমরা কয়েকজন একসাথে আসতাম- আমি, সবাক, রেটিং, আসিফ আহমেদ; আমাদের আড্ডা হত অনেক রাতে- মাঝে মাঝে যোগ দিত তানিম ইরফান, নীলা (মেয়েটা হারিয়ে গেল!), কাঁকন, রাশেদ, নিহন। পুরানো লেখায় দেখলাম সবাকের সাথে তুই-তুকারি সম্পর্ক ছিল মাঝে
৫০-তম পোস্টে যাঁদের কথা বলেছি, তাঁদের কথা পুনব্যক্ত করে বাচালতা চর্চার প্রয়াস ত্যাগ করছি। যাঁদের কথা বলেছিলুম- রাশেদ, মানুষ, আসিফ আহমেদ, রেটিং, সবাক, মুকুল, চিটি, রাতিফ, উত্তরাধিকার, কালপুরুষ এবং প্রণবদা, এস্কিমো, কালবেলা, দেবদারু, ফারহান দাউদ, প্রচেত্য, হুনলুলু, তানিম ইরফান (
আমার প্রথম পোস্টে মন্তব্যকারীগণ- আবদুর রাজ্জাক শিপন, কেমিকেল আলী, ত্রিভুজ, সোনার বাংলা, অপহন্তা, আহমাদ মুজতবা, রাশেদ, প্রকৃতি প্রেমিক, মানবী, উদাসী স্বপ্ন, সাফায়েত, মানুষ, মেঘাচ্ছন্ন (পরে), কাঁকন (পরে)। প্রথম পোস্টে মন্তব্যগুলো ছিল অদ্ভুত! তখন নতুন ব্লগারদের তালিকা ছিল না, আমি জানি না মন্তব্যকারীগণ আমাকে কিভাবে খুঁজে পেয়েছিলেন! যাঁরা প্রথম পোস্টে মন্তব্যে করেছিলেন তাঁদের সাথে কখন-ও মনমালিন্য হওয়া থেকে দূরে থেকেছি (এজন্য ত্রিভূজকে-ও কিছু বলতে পারতাম না!)।
ব্লগে এসে বড়বোনসম দুইজনকে পেয়েছি। সাজি এবং নুশেরা।
দু'টো বজ্জাত
নিজের লেখালেখি যাই করি না কেন কবিতাই মুখ্য। গল্প দেয়ার জন্য নুশেরাবু, আফসার ভাই, মনির ভাই, লাবণ্যপ্রভা দায়ী
নিয়মিত পাঠের চেষ্টা করি সবার লেখা, সময়স্বল্পতার কারণে প্রায়শ হয়ে উঠে না।
মেঘাচ্ছন্ন, মমমম১২ এদের ভেবেছিলাম ছেলে
বিমার সাথে আগে বেশি ভাব ছিল না। শুধু গান পোস্ট করে। কতবার গানের জন্য আর ধন্যবাদ দেয়া যায়!
এছাড়া যারা মন্তব্য (পাঁচটি বা ততোধিক মন্তব্য) করে প্রীত করেছেন: আমি ও আমরা (যার নিরহংকার ভাব আমাকে মুগ্ধ করে), ছন্নছাড়ার পেন্সিল ( আমার খিচূড়ী পাওনা আছে; মেয়াউ
------------------------------
নামগুলো যেভাবে পোস্টে পেয়েছি বা মনে এসেছে সেভাবে দিলাম, কোন ক্রম অনুসরণ করা হয় নি। ৫০-তম পোস্টের পর যারা পাঁচ বা ততোধিক মন্তব্য করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করলাম।
------------------------------
ব্লগ সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের বানান বিষয়ক সচেনতা দরকার। ভুল হবে, কিন্তু সংশোধনের কাজ-ও করতে হবে। ভাষাটা আমাদের, আমরাই যদি সযত্নশীল না হয় তবে বিলুপ্ত হতে সময় বেশি লাগবে না। ভুলে যাওয়া উচিত নয় '৫২ কিংবা '৭১।
রাজাকার, জামাতী, ছাগুদের স্থান হবে না বাংলাদেশে, আমি স্বপ্ন দেখি। একদিন জয় হবেই, আমরা পারি- পারবো।
------------------------------
একটা ঘটনা বলি। দেশের বাড়িতে যাওয়া হতো বছরে তিন কি চারবার। তবে আমি সময় পেলে যাওয়ার চেষ্টা করতাম। একবার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলাম ঈদের ছুটিতে। আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে রিকশা করে বাস ইষ্টিশনে আসছিলাম আমি, দাদী, ছোট ভাই এবং আমার এক ফুপাতো ভাই রুবেল। বয়স আমার তখন তের কি চৌদ্দ সম্ভবত। যাই হোক, হঠাৎ আমাদের রিকশাচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেলেন; যথারীতি রিকশা নেমে গেল রাস্তার পাশের একটা পুকুরে (একটা বাড়ির পুকুর)। রিকশার যে ফোম অংশটায় বসি সেটা পানিতে ভাসছিল, তার নিচে আমার ছোট ভাই আটকা পড়েছে। আমি নিজে সাঁতার জানতাম না, আমি-ও পানি খেতে লাগলুম। দাদী কোন রকমে একটা গাছের শিকড় ধরে আছেন, তবে অতিসত্তর পতন অনিবার্য। সাঁতার জানত কেবল রুবেল ভাই। সেদিন আমাদের সকলকে মাঝ পুকুর থেকে উদ্দার করে বাসায় নিয়ে আসেন তিনি (আমার চেয়ে বছর তিনেক বড়)। সেদিন আমি মারা যেতে পারতাম কিংবা আমার ছোট ভাই। যে মানুষটি আমাকে বাঁচালেন গত বছর তিনি গত হয়ে গেলেন! ফুটবল খেলতে গিয়ে বুকে বল লাগে, এবং .....। আমি ঈশ্বরকে ক্ষমা করি নি।
হয়ত দেশে যাব, গ্রামের বাড়ির উঠানে আমার পা পড়বে আবার। কিন্তু গ্রীষ্মিয় কোন দুপুরে কেউ এসে বলবে না, 'চল, আজকে তোকে ডাবের শাঁস আর পানি খাওয়াব।' কিংবা গুলতি দিয়ে কেউ আমার জন্য আম পেড়ে আনবে না!
আমার ১০০-তম পোস্টের সমস্ত নির্যাসটুকু তাঁকে উৎসর্গ করলাম। একশ'টি হেমন্তপালক তোর হাতে দিলাম, ভাইয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



