somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শত বছর আগের আধুনিক চিন্তা...!!

১৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের বাড়িতে শত বছরের পুরানো কিছু জিনিস আছে,এর মাঝে একটি সিন্ধুক, কিছু কাঠা(ঝুড়ি) ইত্যাদি। ঝুড়িগুলো যেন কেমন অদ্ভুদ রকমের, না কাঠের না লোহার কিন্তু খুব আকর্ষনীয়। আমরা শীতকালে সকাল বেলায় ঐ কাঠা(ঝুড়ি)তে সরসের তেল দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে খেতাম। কৌতুহলবসত আমার দাদীর কাছে মাঝে মাঝে জানতে চাইতাম এই কাঠা কিভাবে তৈরী করা হয় ? তখন দাদী আমাকে বলত পড়ার সাথে বেশি বেশি লিখতে। তাহলে নাকি বেশি পড়তে হবে না, আর খুব তারাতারি কাঠা (ঝুড়ি) তৈরী হয়ে যাবে। আমি রহস্যের মাঝে থাকতাম! প্রায় বছরখানিক পর দাদী আমাকে ডেকে জানতে চাইলেন আমার নষ্ট করা খাতাগুলোর কথা। তখন গ্রামে কাগজওয়ালা খুব একটা যেতেননা বলল্লেই চলে। আমি আমার পুরানো খাতাগুলো দাদীর সামনে এনে দিলাম। দাদী আমাকে বলেন যে, তিনি আমাকে কাঠা (ঝুড়ি) বানানো দেখাবেন আমি তখন অনেক খুশি। দাদী আমাকে মজার এক কাজ করতে দিলেন, তা হল আমার নষ্ট করা খাতাগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাবে ছিরতে হবে। আমি খুব আনন্দের সাথে কাজটা শেষ করলাম। এর পর দাদী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ গুলোকে পানিতে ভিজিয়ে একটি পাত্রে রেখে দিলেন। প্রায় ১৫ দিন পার হয়ে গেল দাদী কাঠা (ঝুড়ি) তৈরী করে না আমি অপেক্ষার প্রহর গুনতে লাগলাম। একদিন দাদী আমাকে মার কাছে জানতে পাঠালেন যে ভাত রান্নার পর যে ফেন বের হয়েছে তা যেন ফেলে না দেয়া হয়। মা রান্নার পর ভাতের ফেন রেখে দিলেন। দাদী আমাকে পাঠালেন ঐ পাত্র নিয়ে আসতে যেখানে কাগজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ গুলোকে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে। আমি নিয়ে আসলাম। তারপর দাদী জের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ গুলোকে পানি থেকে উঠিয়ে, পাটাতে বেটে নিলেন। বাটা শেষে ভাতের ফেনের সাথে তা মাখিয়ে নিলেন। আমি অবাক হয়ে দাদীর কাজ দেখতে লাগলাম। মাখানো শেষে দাদী আমাকে বললেন যে ঘর থেকে নতুন একটি মাটির কলস নিয়ে আসতে। আমি নিয়ে আসলাম, তারপর দাদী ঐ কাগজের ভর্তা গুলো কলসের পিঠে লাগিয়ে রোদে শুকাতে দিলেন। ৭ দিন শুকানোর পর তা একটি কাঠা (ঝুড়ি) তে পরিনত হল।

এখন আমি বড় হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। দাদী পরকালে চলে গেছেন অনেকদিন হল, শুধু রয়ে গেছে স্মৃতি। যখন কম্পিউটার চালাই ডেস্কটপে দেখি রিসাইকেল বিন, তখন দাদীর কথা খুব মনে পরে। যারা শত বছর আগে নষ্ট করা খাতাগুলোর মাধ্যমে আকর্ষনীয় কিছু তৈরী করেছেন। তাদের কথা মনে হলে অনেক ভালো লাগে, অনেক আগে তারা কত আধুনিক চিন্তাধারার ছিলেন।

আমার মনে হয় আমাদের নষ্ট করা জিনিস বা ফেলে দেয়া জিনিস দিয়ে নতুন অনেক কিছু তৈরী করা সম্ভব। যেমন আমরা তাপ শক্তির কথা চিন্তা করি। এই তাপ শক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরী হচ্ছে। আমাদের দেশেও তাপ শক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরী হচ্ছে। এখানে কাঁচামাল হল ”কয়লা”। কয়লা আমাদের দেশের একটি প্রধান খনিজ সম্পদ। উন্নত বিশ্বে তাপ তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে নষ্ট করা জিনিস বা ফেলে দেয়া জিনিস ব্যবহার হচ্ছে।

এখানে আমার কথা হল ঐসব দেশে আমাদের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক কম। আমাদের জনসংখ্যা বেশি। আর জনসংখ্যা বেশি মানে নষ্ট করা জিনিস বা ফেলে দেয়া জিনিসের পরিমানও বেশি। যদি সরকার এইসব নষ্ট করা জিনিস বা ফেলে দেয়া জিনিস রিসাইকেল করার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আমাদের দেশের খনিজ সম্পদের উপর থেকে চাপটা কমবে। আর লোডসেডিং ও কমবে আশাকরা যায়।
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×